h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘poem

ছবি: নূরজাহান চাকলাদার

ছবি: নূরজাহান চাকলাদার

কবি ও অকবি’র পার্থক্য নির্ণায়ক কারা ?

রণদীপম বসু

প্রিয় পাঠক, আলোচ্য প্রসংগে প্রবেশের আগে বিষয় সংশ্লিষ্টতার কারণেই প্রথমে আমরা একটি কবিতার মধ্য দিয়ে ঘুরে আসতে চাই । এবং ব্যবচ্ছিন্ন পঙক্তিগুলোও কবিতার অনিবার্য অংশ হিসেবে ধরে নিয়ে কবিতা-ভ্রমণ সম্পন্ন করুন –

‘এখানে যে ভাঙাচোরা মানুষগুলো একত্রিত হয়েছেন,
প্রত্যেকেই অসম্পূর্ণ-
এক অদ্ভুত জৈবিক মোহে তাড়িত সবাই;
অথচ ভুলেও উচ্চারণ করবেন না সে কথা।
নিজেকে আবৃত রেখে
অন্যের নগ্নতা দেখায়কতোটা আগ্রহী হলে
কামার্ত ষাঁড়ের জিহ্বার মতো
মানুষের চোখে চোখে নেচে ওঠে আঠালো অক্ষরের ক্ষত-
নিরন্তর চোখাচোখি করে কেউ কেউ জেনে যাবেন ঠিকই।
এবং এ কথাগুলো জেনে গেলে
হয়তো অপাঙ্গে কেউ নিজকেই খুঁজবেন আবার, দেখে নিতে-
পোশাকের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাকতোটা অটুট এখনো।
.
সংজ্ঞাহীন তুলনামূলক প্রাণীর কোন অবয়ব থাকে না;
মানুষের ভেতরেও তাই মানুষের ছবি নেই-
একগাদা প্রাণী আর অপ্রাণীর ব্যাখ্যাহীন স্বভাব নিয়ে
নিরন্তর ছুটাছুটি শুধু।
.
এখানে এসেছেন যারা-
সবাই পকেটে ভরে এনেছেন কিছু না কিছু;
জোনাকির গুঞ্জন নিয়ে এসেছেন কেউ-
নীরবতার নতুন কোন অর্থ খোঁজবেন এরা;
কারো বা পকেটে আছে ভ্রুণ হত্যার বৈধ প্রত্যয়ন।
এইমাত্র খুন হলো যার অবারিত শৈশব
কিংবা যে কিনা অজান্তেই ফিরে গেছে কোন এক ভুল কৈশোরে
তারুণ্যের হৈ চৈ চোখে এসে গেছে সেও
সঙ্গী শরীরীর খোঁজে।

এমনো আছেন কেউ- নিজস্ব পকেট ভুলে

নির্দ্বিধায় ঢুঁ দেবেন অন্য কারো পকেটে পকেটে;
এবং
আমার মতো নির্বোধ এসেছেন যারা- এখনো সত্যিই পকেটহীন,
সদ্যজাত নগ্নতার ভাবার্থ খুঁজে খুঁজেই কাটাবেন আরো কিছুকাল।
আর যারা রয়েছেন পকেটের অজ্ঞাত খবর নিয়ে-
হতে পারে কোন এক মাহেন্দ্র-মুহূর্তে
ঝাঁপি খুলে চমকে দেবেন!
.
তবে সবারই ল্যক্ষ আজ
মাননীয় প্রধান অতিথির সুদৃশ্য পকেটের ভাজে-
যেখানে এক অভূতপূর্ব দক্ষতায়
মানুষের বিবিক্ত অনুবাদ হবে!

যদি একান্তই এসে পড়েন তিনি-
সময়ের দুষ্ট-পেনে ঘৃণা করতে করতে
উঠে আসবেন মঞ্চে
এবং একযোগে অবাক হয়ে দেখবে সবাই
মাননীয় অতিথির বুকে- কোথায় সে পকেট?
ওখানে বিশাল ক্ষত!
কারণ, এরই মধ্যে সর্বত্র গুঞ্জন হচ্ছে-
তিনি নাকি এখন এক তুমুল ছিনতাইয়ের কবলে!

অতএব আজকের এ সমাবেশ অসমাপ্ত রইলেও
যারা এসেছেন আজ-
অন্তত জেনে যাবেন এটুকুই-
মানুষের পরিচয় একমাত্র মানুষই ছিনতাই করে।’ #

(একটি অসমাপ্ত সমাবেশ/ রণদীপম বসু)


০১ তারিখ শুক্রবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে বিকেল ৩.০০টা থেকে শুরু হয়েছে প্রথম পর্বের কবিতা পাঠ। অনুষ্ঠান-মঞ্চের দিকেই যাচ্ছি। দূর থেকে লাউড স্পীকারে ভেসে আসছে বিভিন্ন কণ্ঠের বিচিত্র ভঙ্গিতে বিভিন্ন প্রকারের শব্দ-বাক্য প্রপেনের নরম-গরম আওয়াজ। কিছু কিছু ভালো কবিতা পাঠের আগে পরে কবিতার নামে কবিতার বারোটা বাজানো অনেক শব্দপাঠও শুনা যাচ্ছিলো। আমার পাশেই ছিলেন কিশোরকবিতা অঙ্গনের মেধাবী কবি জুলফিকার শাহাদাৎ। কী মনে করে যেন হঠাৎ তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ওই মঞ্চে তিনি কবিতা পাঠ করবেন না। কবিতা পাঠের জন্য আমার মতো তিনিও একজন নিবন্ধিত কবি। উত্তরে তার মতামত হলো- যে মঞ্চে কবিতার নামে কবিতার শ্রাদ্ধ হচ্ছে, ওখানে তিনি কবিতা পড়বেন কেন? অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে সম্মত করালাম যে, সমাগত দর্শক শ্রোতাদের আকাক্সার সাথে সঙ্গতি রেখে সবারই অধিকার আছে কবিতা পড়ার এবং, যা কিছুই হোক, অন্তত গুটিকয় ভালো কবিতা শোনার। এজন্যেই তাঁরা এখানে আসেন, ধৈর্য্য ধরে বসেও থাকেন। গৌন কবিদের প্রাধান্যের যুগে কিছু ভালো কবিতার ঝংকার না বাজলে কবিতা ও অকবিতার পার্থক্য পাঠ বিমুখ করে তোলা সাধারণ শ্রোতারা বুঝবেন কী করে?
.
জাতীয় কবিতা উৎসব ২০০৮-এ এবারের উপজীব্য শ্লোগান ছিলো ‘কবিতার মন্ত্র জয় গণতন্ত্র’। গত ০১ ও ০২ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে অনুষ্ঠিত এবারের উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের সদ্য প্রয়াত ব্যক্তিত্ব মাহবুব উল আলম চৌধুরী, শামসুল ইসলাম, সেলিম আল দীন, দুলাল জুবাইদ ও শিমুল মোহাম্মদ-কে। উৎসব উদ্বোধন করেন সব্যসাচী লেখক হিসেবে পরিচিত কবি সৈয়দ শামসুল হক।
.
স্বৈরাচার বিরোধী চেতনাকে ধারণ করে গোটা দেশের কবিদের সংগঠিত করে একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলন চাঙা করে তোলার অভিপ্রায়ে সেই ১৯৮৭ সাল থেকে প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের হাত ধরে প্রথম যে উৎসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিতা পরিষদের যাত্রা শুরু, তারই ধারাবাহিকতায় এবারের দ্বাবিংশতিতম জাতীয় কবিতা উৎসব। শুরু থেকে এর নেতৃত্বে সংগঠন-সংঘটনে যাঁরা  (who)  ধারাবাহিক দায়িত্বে ছিলেন, ঘুরে ফিরে এরাই এর কাণ্ডারী-ভূমিকায় এখনো আছেন। কেউ কেউ আজ প্রয়াত। আবার নতুন করে দু-একজন এসে যুক্তও হয়েছেন। এরা সবাই নিজেদের নিরঙ্কুশ যোগ্যতা অভিজ্ঞতা দিয়েই হয়তো এ দায়িত্ব পালন করছেন। এমনিতেই যোগ্য লোকের সঙ্কট আমাদের দেশের জন্য একটা চলমান বাস্তবতা। তার উপরে কবি হলে তো কথাই নেই। কবি  (poet)  কি আর হাটে মাঠে মেলে?
.

মাঝখানে একবার  কবি শামসুর রাহমান তাঁর স্মিত-স্বভাব দিয়ে নিজেকে এই পরিষদ থেকে সযত্নে সরিয়ে নিলে ‘কবিতা না কি নেতৃত্ব’ এ ধরনের একটা আলোচিত বিতর্ক সে সময়ে শাখা বিস্তার করলেও সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। জাতীয় কবিতা উৎসবের পাল্টা হিসেবে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এশিয় কবিতা উৎসব জাতিয় আরেকটা রাজকীয় উৎসবের প্রবর্তন হলেও স্বৈরাচার পতনের পর ওটার কোন সক্রিয়তা পরবর্তীতে আর আমরা খুঁজে পাই না। আমার আজকের প্রসঙ্গ এসব নিয়ে নয়। প্রত্যভাবে সংশ্লিষ্ট যারা, তারাই হয়তো এ নিয়ে আলোচনা সমালোচনার যোগ্যতা রাখেন। আমি শুধু এবারের উৎসবে আমার ছোট্ট দু-একটা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। এবং এর মাধ্যমে নিজস্ব ভাবনার আলোকে সৃষ্ট গুটিকয় প্রশ্নের যৌক্তিকতাটুকুও যাচাই করে নিতে চাচ্ছি।
.
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য যে, পূর্ণ ইচ্ছা থাকা সত্বেও কখনোই আমার এ উৎসবে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি। কিন্তু এবার আমার ঢাকায় অবস্থান এবং উৎসবটাও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হওয়ায় অংশগ্রহণের নিশ্চিৎ সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো। যথানিয়মে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) স্থাপিত উৎসব আহ্বায়ক পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে নির্ধারিত একশ’ টাকা চাঁদা জমা দিলাম। এবং নির্দিষ্ট কবিতা জমা দিয়েই কেবল নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হলো। ফলে পকেটে রাখা উপরে উদ্ধৃত ‘একটি অসমাপ্ত সমাবেশ’ শিরোনামের কম্পোজ করা দু’পাতার কবিতাটাই  (poem) ওখানে জমা দেয়া হলো। প্রশ্ন হলো, কবিতার মন্ত্র যদি জয় গণতন্ত্র হয়, তবে আগেভাগেই কবিতাকে খাচায় পুরে ফেলার কারণ কী? হতে পারে পাঠের যোগ্য কি না তা যাচাই বাছাই করে তবেই ছাড় দেয়া। খুবই ভালো কথা; অবশ্যই যুক্তিসঙ্গত । পরিষদ সদস্যদের কাছে মুখে-আদলে চেনা-জানার বাইরে বাংলার হাটে মাঠে ঘাটে এতো এতো কবি যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তাদের বিশাল অভিভাবকত্বের দায়িত্ব স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নেয়া, তা কি চাট্টিখানি কথা! যেখানে যা লেখার লিখে কাজ সেরে পরম আস্থা ও স্বস্তি নিয়ে অত্যন্ত হৃষ্ট-মনে ফিরে এলাম।
.

অতঃপর ০১ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠানস্থলে আসা। চারদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তাজা ছাত্র-ছাত্রী, সাহিত্য অনুরাগি ও নানা বয়সের উপস্থিতি আর সারাদেশ থেকে ছুটে আসা কবিদের মুখরতায় জমজমাট এক সমাবেশ। একদিকে কলকোলাহল আর অন্যদিকে কবিতার আসর, এই বিচিত্র মিলন মেলায় আমার জন্যে যে অভূতপূর্ব চমক অপোক্ষ করছিলো, তা কি জানতাম? না কি প্রস্তুত ছিলাম? নিবন্ধন স্লীপ জমা দেয়ার পর অঞ্চলভিত্তিক ফাইল থেকে নম্বর মিলিয়ে অবশেষে সম্পাদনা-উত্তর কবিতা নামের যে বিশেষ বস্তুটি আমাকে ধরিয়ে দেয়া হলো তা দেখে তো আমার চুক্ষই ছানাবড়া! এটা কি আমার কবিতা! যা সেদিন নিবন্ধন করতে আমি নিজ হাতে জমা দিয়েছিলাম! কাব্যের ন্যূনতম শিল্প-ব্যাকরণ বুঝেন এমন কোন কবির কাজ এটা হতে পারে! তা বিশ্বাস করার আগে ‘বিশ্বাস’ শব্দটাই অভিধান থেকে মুছে ফেলা ভাষার জন্যে অত্যন্ত মঙ্গলকর বলেই মনে হলো। তৎক্ষণাৎ তীব্র আপত্তি জানালাম এই উদ্ভট বালখিল্য প্রবণতার জন্য। কিন্তু কী আশ্চর্য! আমাকে বলা হলো- যে ভাবে আছে সে ভাবেই পড়তে হবে। আমি হাসবো না কি কাঁদবো? এমন নির্বিকার উক্তি যাদের মুখ থেকে বেরুলো, বিশ্বাস করুন পাঠক, অভাবিত বিস্ময়ে তাদের চোখের মুখের দিকে ভালো করে তাকালাম; কবিতা দূরে থাক, একটা অক্ষরের উদ্ভাসও চোখে পড়লো না তাদের বিজ্ঞ (!) চেহারায়। মুহূর্তেই নিশ্চিৎ হলাম, এখনি এক-কথায় শুরু করে দিলেও আলু-পটলের ব্যবসায় প্রচুর শাইন করবেন তারা। কিন্তু আতঙ্কিত হলাম, ওই ব্যবসায় নামবার আগ পর্যন্ত তাদের হাতে পড়ে বাংলা কবিতার আগাম চেহারা দেখে!
.
কী তার চেহারা? আমার মতো আর কেউ যদি এই ভয়াবহ চেহারা দেখতে চান তবে এ লেখার শুরুতেই যে কবিতাটি পেরিয়ে এসেছি আমরা, আবার ওখানেই ফিরে যেতে হবে। এটা ছিলো আমার জমা দেয়া কবিতাটার প্রাথমিক অবয়ব। অতঃপর বাংলাদেশের এতিম কবিদের বর্তমান মা-বাপ অর্থাৎ জাতীয় কবিতা পরিষদের ‘কবিতা সাইজ করা’ সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক ‘সাইজকৃত’ হয়ে যখন আমার হাতে তা ফিরে এলো, এর দু’পাতার শেষ পাতাটি কবিতার সর্বশেষ ষোলটি চরনসহ বেমালুম গায়েব! বাকি যে প্রথম পাতাটি রইলো ওখান থেকে আবার কবিতার হার্ট বা চুম্বক-অংশ বলতে যা বোঝায় তাও উপ্ড়ে ফেলা। উপরে উদ্ধৃত কবিতাটিতে বাদ পড়া কর্তিত অংশগুলো মুক্তমনা পাঠকদের বুঝার সুবিধার্থে শব্দ ও বাক্যের পেট বরাবর টানারেখা (ব্রেক-লাইন) এঁকে চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছে। অতএব এই চিহ্নিত অংশগুলো বাদ দিয়ে শেষপর্যন্ত শেয়াল-শকুনে খাওয়ার পর কবিতাটির যে খণ্ডিত মৃতদেহটি পড়ে রইলো, তা জাতীয় পর্যায়ের এতো বড়ো এক সচেতন সমাবেশে কবিতাপাঠের নামে উপবেশনের কথা আকাট মূর্খ আর উন্মাদগ্রস্ত ছাড়া কেউ কি বলতে পারে! লাউড-স্পীকারে বার কয়েক নাম ঘোষণা হলেও তা প্রত্যাখানের নিরূপায় প্রতিবাদ ছিলো আমার ক্ষুব্ধ ব্যথিত হয়ে অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে আসা। কিন্তু দর্শক-শ্রোতারা কি তা জানলেন?
.

অ্যারিস্টটল বলতেন- মাঝ সাগরে দিগ্ভ্রান্ত নাবিককে যদি আরোহী যাত্রিদের ভোট নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে দিক নির্ণয় করতে হয়, তাহলে সে জাহাজের সলিল সমাধি নির্ধারিত। অ্যারিস্টটল হয়তো জনগণতন্ত্রে খুব একটা বিশ্বাসী ছিলেন না। তবে আমরা তো গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আর তাই আমাদের জাতীয় কবিতা উৎসবের সম্পাদনা পরিষদ এই জনগণতান্ত্রিক উপায়েই কবিতার বক্তব্য ও অবয়ব নির্ধারণ করেন কি না আমার জানা নেই। শুধু যেটুকু জানি সেটা হলো- হুমায়ুন আজাদের সেই বিখ্যাত প্রবচনগুচ্ছের চুরাশি নম্বরের প্রবচনটি, যাতে বলা আছে- ‘স্তবস্তুতি মানুষকে নষ্ট করে। একটি শিশুকে বেশি স্তুতি করুন, সে কয়েক দিনে পাক্কা শয়তান হয়ে উঠবে। একটি নেতাকে স্তুতি করুন, কয়েক দিনের মধ্যে দেশকে সে একটি একনায়ক উপহার দেবে।’ কিন্ত অতিরিক্ত স্তুতি পেলে কবিরা যে কী জিনিস হয়ে ওঠে, তা তিনি বলেন নি। সেটা বলা একান্তই অনিবার্য ছিলো। এ জন্যে কি আমাদেরকে আরেকজন হুমায়ুন আজাদের অপোক্ষয় থাকতে হবে ? #


[mukto-mona]
[satrong]

Advertisements

কবি-কবিতা-ছড়া-শিল্প-বিভ্রম…
রণদীপম বসু


গুরুচণ্ডালিকা
আলোচনার কান ধরে টান দিলে কবিতা  (poem)  এসে যেতেই পারে। তাই প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে এটা কোন কবিতার কাশ বা কাব্য আলোচনা নয়। স্রেফ অভিজ্ঞতা বিনিময়। আপ্তজনদের গপ্পোসপ্পো থেকে শিক্ষার্থী হিসেবে কিছু শিখতে চাওয়াজনিত যে বদহজমের সূত্রপাত, সেটাকে খালাস না করা অব্দি স্বাচ্ছন্দ্যের দেখা পাচ্ছি কই ! তাছাড়া শেখা বা জানার প্রক্রিয়াগত ভিন্নতা ব্যক্তিমাত্রেই স্বতন্ত্র এবং নিজস্ব মেধা, বোধ ও সীমাবদ্ধতার স্কেলে নিয়ন্ত্রিত বলে রহিমকে রাম বানিয়ে ফেলা বা শিল্পের কলা’কে হস্তী-ভক্ষ্য কদলীবৃক্ষ বানিয়ে গিলে ফেলার সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেয়ার নয়। এমন দুর্যোগ ঘনীভূত হলে হাত তোলে জানান দেয়ার স্বাধীনতা সবারই রয়েছে, যে, আর্ট  (art) আর অষ্টকদলী একই বস্তু নয় !

দুর্দান্ত সব কবিতা উপহার দিয়েও বোহেমিয়ান শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের মতো শক্তিমান কবি  (poet) যখন নিজেকে পদ্যকার হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কৌতুক আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন, তখন সত্যিকারের কবিরা নিজ নিজ কৃতকর্মগুলো হাতে নিয়ে একটু নড়েচড়ে বসেন বৈ কি। কবি শব্দের আগে একটা ‘সত্যিকারের’ শব্দ বসানো মানেই যুক্তিবিদ্যার আরোহী পদ্ধতি অনুযায়ী কাল্পনিকভাবে হলেও প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্টো স্বভাবের আরেকটা সত্তার অস্তিত্বকে স্বীকার করে নেয়া হয়। তাহলে কি মিথ্যাকারের কবিও রয়েছে ! রয়েছে বৈ কি ! নইলে কবি জীবনানন্দ দাশ কেনই বা সাধ করে ‘কবিতা লিখে অনেকেই, কেউ কেউ কবি’ উক্তি করে এমন ল্যাঙ মারতে গেলেন !

জীবনানন্দের এই উক্তিটাতে যে অবশ্যই জটিল একটা বিভ্রম লুকিয়ে আছে তা অস্বীকার করার জো নেই। তাই উক্তিটাকে খুব সরলভাবে নেয়ারও উপায় নেই। এ কারণেই কৌতুহলটা উচ্চকিত হয়ে ওঠে, বিভ্রমটা কী ? তাঁর উক্তির প্রথম অংশটা আবারো আমরা খেয়াল করি, ‘কবিতা লিখে অনেকেই…’। হাঁ, লিখতেই পারে ! তাতে কী হয়েছে ? হয়েছে বা হচ্ছে অনেক কিছুই, আবার কিছুই না। যে কোনো কাজের অনিবার্য ফলাফলের মতোই কিছু সম্ভাব্যতাকে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, এদের ‘কেউ কেউ কবি’ বলে। কিন্তু উক্তির প্রথম অংশে কাজের ডিটেইলসটা কিন্তু স্পষ্ট নয়। এখানেও কতকগুলো সম্ভাব্যতার অনির্দেশ্যতা দেখতে পাই আমরা। যেহেতু অনেকেই কবিতা লিখেন, তাহলে অনেকে আবার অকবিতাও লিখেন। আবার অনেকে কবিতাই লিখেন না। অকবিতা লিখলে কবি হওয়া যায় কিনা, সে বিষয়টা এখানে অপ্রযোজ্য হয়ে আছে। অকবিতা লিখা এবং কবিতা না লিখা আবার দুটো ভিন্ন বিষয়। আমাদের অনেকেই যে প্রশ্নটি করতে দ্বিধা করেন তা হলো, কবিতা না লিখলে কি কবি হওয়া যায় না ? প্রশ্নটাকে অর্থহীন ভেবে উড়িয়ে দেয়ার কোন কারণ নেই। জীবনানন্দের ভাষায় কেবল কবিতা লিখলেই যদি কবি হওয়া না যায়, তাহলে উল্টো যুক্তিতে যদি বলি, কবিতা না লিখেও কেউ কেউ কবি, এটাকে কি ফ্যালাসি বলবো ? মোটেও ফ্যালাসি নয় তা।

যুক্তিবিদ্যার পরিভাষায় ফ্যালাসি হচ্ছে অর্থহীন প্রতিতুলনা দিয়ে কোন উদ্ভট সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। যেমন, আমার দাঁড়ি আছে, ছাগলেরও দাঁড়ি আছে, অতএব আমি ছাগল এইরকম। তাই বিষয়টা ফ্যালাসি না হলেও ফ্যালাসির মতো মনে হতে পারে। কেননা জীবনানন্দের উক্তি থেকে এটা অন্তত স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কবিতা লেখাটা কবি হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোন ফ্যাক্টর বা শর্ত নয়। তাহলে কী সেই শর্ত ? আলোচনার এই উন্মুক্ততায় এসে এখানেই আমরা থমকে যাই। সেরকম কোন শর্ত এখনো স্বতঃসিদ্ধতা পায় নি বলেই অনুমিত একটা ধারণা থেকে আমরা এটা বুঝে নেই যে, কবি একটি অন্তর্গত সত্তার নাম। একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে গেলে যে সব সৎ-গুণাবলী ও সুকৃতি থাকতে হয়, একজন কবির সত্তায় তা তো থাকবেই, বরং মেধা মনন আর সৃজনশীলতায় মাখানো আরো কিছু উপলব্ধির অনুরণনও সেখানে থাকতে হয়।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসবে, আমরা কী করে বুঝবো ‘তিনি’ একজন কবি ? বুঝার কি কোনো কায়দা আছে ? এ ক্ষেত্রে আবারো যুক্তির সিঁড়িকেই মাধ্যম করে নেয়া ছাড়া উপায় নেই। একবাক্যে যেহেতু জগতের সবাইকে বাছবিচারহীনভাবে কবি বলে স্বীকৃতি দেয়াটা বালখিল্য উদ্ভটতা হিসেবে গণ্য হবে, তাই উল্টোভাবে ‘কেউ কবি নয়’ থেকে পর্যায়ক্রমে সামনে কবি হওয়ার দিকে আগানোটাই যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া বলে মনে হয়। অর্থাৎ ধীরে ধীরে একজন কবি তৈরি হয়ে ওঠেন। সুকৃতি আর মানবিক গুণাবলীর সমন্বয়েই এই হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটা আগাতে থাকে। যাঁর মধ্যে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার মানবিক গুণাবলীরই ঘাটতি রয়েছে, তিনি যদি মানুষই হয়ে ওঠতে না পারলেন, কবি হবেন কী করে ! এখানে আবার প্রশ্ন, মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ একজন পরিপূর্ণ মানুষ আর কবির মধ্যে তফাৎটা কোথায় তাহলে ? পরিপূর্ণ একজন মানুষ হওয়ার পরও কবি হয়ে ওঠতে বাকি যে মেধা মনন বোধ উপলব্ধি ও সৃজনশীল সুকৃতিটুকু দরকার, মূলতঃ সেটাই তফাৎ। এবং খুব সঙ্গতভাবেই, যেহেতু প্রসঙ্গ কবি হওয়ার, তাই শেষ পর্যন্ত কবিতা বা কাব্যবোধের বিষয়টা অনিবার্যভাবে চলে আসাটাই তো স্বাভাবিক এবং যুক্তিযুক্ত।

জীবনানন্দের কথাতেই ফিরে যাই আবার- কবিতা লিখে অনেকেই, কেউ কেউ কবি। এখন মনে হয় কথাটার অন্তর্গত ভাবের আরেকটু কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা। আমাদের উপলব্ধিবোধটাকে একটু অন্তর্মুখী করে কয়েকটা বিষয় এবার মিলিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। ধরে নেই প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় অগ্রগামী, ব্যক্তিক স্বভাব, রুচি, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সার্বিক জীবনাচারে মানবিক বিবেচনাবোধে উত্তীর্ণ একজন ‘তিনি’ যে চমৎকার একজন মানুষ হিসেবে স্বীকৃত হতেই পারেন তাতে আমাদের দ্বিমত নেই। কিন্তু স্রষ্টা হিসেবে তাঁর রচনায় যদি সৃজনশীল কাব্যবোধের প্রকাশ না ঘটে, তাহলে কবি পরিচয়ের প্রাসঙ্গিকতা এখানে কতোটা প্রযোজ্য হবে ?

আবার অন্যদিকে একটি রচনা কবিতা হয়ে ওঠতে যে সব শর্তাবলী প্রয়োগ আবশ্যক, সেই সব কিছু ঠিক রেখেই ‘তিনি’ উৎকর্ষ কাব্যসাধনায় মগ্ন রয়েছেন ঠিকই। কিন্তু ব্যক্তি জীবনে তিনি অসৎ, সামাজিক জীবনে অসদাচারী এবং সামষ্টিকভাবে তিনি মানবতার বিরুদ্ধ অবস্থানে নিজেকে জড়িত রেখেছেন বা পশ্চাৎপদ মানসিকতায় তিনি প্রগতির বিপক্ষ-কাতারে নিজেকে দাঁড় করিয়ে রাখেন, তাঁকে কি আমরা কবি বলতে পারি ?

‘কবিতা লিখে অনেকেই, কেউ কেউ কবি ’, জীবনানন্দের কথাটিকে এসব শ্রেয়বোধ দিয়ে যদি বিশ্লেষণ করি আমরা, তাহলেই হয়তো অনেকগুলো বিভ্রমের পর্দা আমাদের চোখের সামনে থেকে নির্দ্বিধায় অপসৃত হয়ে যাবে। আমরা কি আদৌ করবো তা ? গুটিকয় পঙক্তি বা বাক্য রচনা করেই আমরা বুঝে না বুঝে নিজের বা অন্যের নামের আগে ‘কবি’ উপাধীর সুদৃশ্য যে তকমাটি অনায়াসে বসিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করছি না, এটা কি আমাদের বাছবিচারহীন উদারতার মূর্খামী, না কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বুদ্ধিবৃত্তিক বালখিল্যতা, এই আত্মবিশ্লেষণটা কি এখন জরুরি নয় ?


অতঃপর ছড়াকার-ছড়াশিল্পী সমাচার
ছড়াসাহিত্যেও ইদানিং মনে হয় একটা পরিচিতি সংকট ক্রমেই দৃষ্ট হয়ে ওঠছে। রচনার মূল যে অভিক্ষেপ ছড়া, সেটা কি হচ্ছে নাকি হচ্ছে না সে বিষয়টা খুব সচেতনভাবে আমরা এড়িয়ে তো যাচ্ছিই, বরং কেউ কেউ আবার এতদিনকার ‘ছড়াকার’ পরিচয়টাকে নিজের জন্য অতি অপ্রতুল বিবেচনায় আকর্ষণীয় নতুন তকমা ধারণ করতে চাচ্ছি ‘ছড়াশিল্পী’ নামে ! ছড়াকে যেনতেন একটা আকার হয়তো দিয়ে দিচ্ছি আমরা, কিন্তু এই ছড়াকে  (rhyme)  শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত করতে নিজস্ব মন ও মননে কতটুকু সৃজনশীল শিল্পসত্তা ধারণ করতে হয়, তা কি আদৌ ভাবি আমরা ?

যারা এই অল্পতে তুষ্ট নন, তাঁদেরকে বিনীতভাবে বলি, একজন ব্যক্তি ক্রমে ক্রমে শিল্পী হয়ে ওঠলে এটা সমাজের জন্য সংস্কৃতির জন্য অবশ্যই গৌরবের ব্যাপার। এতে সমাজ সংস্কৃতি ঋদ্ধ হয়ে ওঠে। আমরাও তো এই উত্তরণই চাই। কিন্তু চিন্তাভাবনায় ঘাটতি রেখে এমন স্বেচ্ছামুকুট ধারণ করার আগে অন্ততঃ এক হাজারবার ভাবা জরুরি নয় কি যে, অন্যের কথা বাদ দিলেও নিজের কাছেই নিজেকে যেন জবাবদিহিতায় পড়তে না হয় ? কারণ তিনিই শিল্পী যিনি নিজের মধ্যে শিল্পের কলাকৈবল্যসমেত এক মহৎ কবিসত্তা ধারণ করেন।

আমাদের লোকছড়া নিয়ে ব্যাপক সন্ধান ও গবেষণা থাকলেও আধুনিক ছড়া সাহিত্যের গবেষণাকর্ম খুঁজতে এখনো আমাদেরকে দূরবীণ আর অনুবীক্ষণযন্ত্র হতে নিয়েই বেরোতে হয়। ঘাড় ফেরালেই যেদিন এই চর্মচক্ষে আধুনিক ছড়াসাহিত্যের প্রয়োজনীয় গবেষণাকর্ম অনায়াসলব্ধ হয়ে ওঠবে, সেদিনই হয়তো ছড়াসাহিত্যের এরকম বহু অনর্থক সংকটও অনেকাংশে কেটে যাবে। আমাদেরকে সেদিনের প্রতীক্ষায়ই থাকতে হবে বৈ কি…।
(১৭/০১/২০০৯)

(Image:Sculpture ‘the thinker’ by Rodin)

কবিতার ভাষান্তর, আদৌ কি অনুবাদ সম্ভব ?
রণদীপম বসু


(১)

কবিতা কেন কবিতা, তা নিয়ে কাব্য-সাহিত্যের নন্দনতত্ত্বে বিস্তর আলোচনা বাদানুবাদ হয়েছে, হচ্ছে এবং আগামীতেও হবে। সাহিত্যের বিচিত্র প্রবাহে নিত্য-নতুন বৈচিত্রের জন্যেই এর আবশ্যকতা অনস্বীকার্য। কিন্তু কবিতার ভাষান্তর বা অনুবাদ আদৌ সম্ভব কি না, এ প্রসঙ্গ চলে এলে ‘কবিতা কী’, সে প্রসঙ্গও এড়িয়ে যাওয়ার আর উপায় থাকে না। তাহলে কবিতা কী ?

কবিতা কী ? নানা মুনির নানা মতে হাবুডুবু খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত কবিতা যে আসলে শিল্পোপলব্ধির এক মায়াবী রসের নাম, তা আর বুঝতে বাকী থাকে না। কাব্যরসে নিমগ্ন রসজ্ঞরা বলেন – ‘ভাব থেকেই কবিতার জন্ম।’ কিন্তু ‘ভাব’ তো একটা বিমূর্ত ধারণা মাত্র। আর যেহেতু কবিতা হচ্ছে একপ্রকার শব্দশিল্প, তাই আমরা বলতে পারি ভাবযুক্ত শব্দরচনাই কবিতা। আবার শব্দই যেহেতু ভাবের মাধ্যম এবং অর্থহীন বা ভাবহীন কোন শব্দ বাস্তবে অস্থিত্বহীন, তাই শব্দ মাত্রেই কোন না কোন বস্তু বা ভাবের প্রতীকী প্রকাশ। তবু মালার্মে কথিত ‘ শব্দই কবিতা ’ সংজ্ঞাটিকে ভাবগত অর্থে মেনে নিলেও কবিতার পরিপূর্ণ সংজ্ঞা আদতে তৈরি হয় না। এজন্যেই ইংরেজ কবি কোলরিজের ‘শ্রেষ্ঠ শব্দের শ্রেষ্ঠ বিন্যাস’ সংজ্ঞাটিকে অধিকতর অর্থবহ মনে হয়। কিন্তু এখানেও বিপত্তিটা দেখা দেয় কবিতার সাথে একটা চমৎকার সফল গদ্যের পার্থক্য নিরূপন করতে গিয়ে। কিন্তু দান্তে যখন বলেন -‘সুরে বসানো কথাই হলো কবিতা’ তখন কি সংগীত প্রাধান্য কবিতাকে আলাদাভাবে বিশিষ্ট হতে দেয়? এদিকে ছন্দ-অন্ত-প্রাণ কবি বলেই হয়তো শঙ্খ ঘোষের ‘ছন্দে সমর্পিত শব্দেরই নাম কবিতা’ কথাটিকে মেনে নিতে গেলেও প্রশ্ন ওঠে – তবে ছড়া বা পদ্য কেন কবিতা নয়? তাই বুঝি শেষ পর্যন্ত আমাদের অগতির গতি রবীন্দ্রনাথেই ফিরে যেতে হয়-‘রূপের মধ্যে অরূপের সন্ধানই কবিতা।’ এটাকেই যথার্থ সংজ্ঞা বলে মনে হয়। প্রয়োজনীয় শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে যে অপরূপ শব্দচিত্র বা দৃশ্য আঁকা হয় তার মধ্যে অরূপের সন্ধান অর্থাৎ অন্তর্গত অনুভূতির রসে ভিন্ন কোন অর্থের আবহ তৈরি করাকে কবিতা বলা যায়।

Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 441,806 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 124 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 4 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements