h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘সাহিত্য

800px-Lord_Shiva_Statue_at_Murdeshwara

শিব ও লিঙ্গ-০৭ : উত্তর-বৈদিক পুরাণ সাহিত্য
রণদীপম বসু

মানবসমাজ বিবর্তনের ধারায় আগুনের আবিষ্কার ও ব্যবহার যেমন নবদিগন্তের সূচনা করে, তেমনিভাবেই লোহার আবিষ্কারও (আনুমানিক দশম-নবম খ্রিস্টপূর্ব) আনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ফলে পুরাতনী সমাজব্যবস্থা নতুনভাবে বিন্যস্ত হতে থাকে। চাষাবাদ, ব্যবসাবাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতির সাথে সাথে সমাজের বৃত্তি বিভাজনও পুনর্বিন্যস্ত হতে থাকে। সমাজে অন্তর্দ্বন্দ্ব চিরকালই ছিল, এবং তা ছিল মূলত ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে আর্থিক বলে বলীয়ান বৈশ্য শ্রেণির উদ্ভব হলো। তারাও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি রূপে নিজেদের জড়িয়ে ফেললো। বস্তুত এই সময় থেকেই সনাতনী সমাজব্যবস্থা ধারাবাহিক অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে বিভিন্ন সংকটের মধ্যে পড়তে থাকে। এইসব আঘাতকে সামাল দিয়ে সমাজকে সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টাতেই বৈদিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বহুলভাবে সমৃদ্ধ ও ক্রমবিবর্তিত হতে থাকে, যার ফসল হলো বিপুল বৈদিক সাহিত্যসম্ভার ও বেদমূলক উত্তর-বৈদিক সাহিত্য– পুরাণ। আমাদের আলোচ্য বিষয়ের গভীরে যাওয়ার আগে পুরাণ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ ধারণা অবগত হওয়া আবশ্যক। Read the rest of this entry »

Advertisements

402c21f9c841d8925fba2b75f39961b8

শিব ও লিঙ্গ-০৬ : প্রাচীন সাহিত্যে শিব
রণদীপম বসু

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের পরবর্তী কালের যে সব সাহিত্যে রুদ্র ও শিবের উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে পাণিনির অষ্ট্যাধ্যায়ী ও পতঞ্জলির মহাভাষ্য প্রথমেই উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বলেন–
‘পাণিনি আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর বৈয়াকরণিক, পতঞ্জলি খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের।… পাণিনি তাঁহার ব্যাকরণগ্রন্থের এক সূত্রে (৪, ১, ৪৯) দেবতার এই কয় নামের কথা বলিয়াছেন, যথা– রুদ্র, ভব, শর্ব এবং মৃড়। ইহার সবগুলিই আমরা বৈদিক সাহিত্যে পাই (মৃড় নামটি যজুর্বেদোক্ত শতরুদ্রীয় স্তোত্রে রুদ্রের শত নামের অন্যতম)। এই তালিকায় শিবের নাম পাওয়া না গেলেও, আমরা শিবের নাম অপর এক সূত্রে পাই। পাণিনির ‘শিবাদিভ্যোন’ সূত্রে (৪, ১, ১১২) শিবের উল্লেখ রহিয়াছে। পতঞ্জলি তাঁহার মহাভাষ্যে রুদ্র ও শিবের নাম কয়েকবার করিয়াছেন। রুদ্র সম্বন্ধে তিনি দুইবার বলিয়াছেন যে দেবতার উদ্দেশে পশুবলি হইত; অপর দুই স্থলে রুদ্রের কল্যাণকর ভেষজের কথা বলা হইয়াছে (শিবা রুদ্রস্য ভেষজী)। শিবের উল্লেখও তিনি দুইবার করিয়াছেন। পাণিনির সূত্র ‘দেবতাদ্বন্দ্বে চ’ (৬, ৩, ২৬) ও ইহার কাত্যায়ন কৃত বার্তিক ‘ব্রহ্মপ্রজাপত্যাদীনাং চ’ এর ভাষ্যকালে তিনি দ্বন্দ্ব সমাসের তিনটি উদাহরণ দিয়াছেন, যথা ব্রহ্ম-প্রজাপতি, শিব-বৈশ্রবণৌ এবং স্কন্দ-বিশাখৌ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলিয়াছেন যে এইরূপ দেবতার নাম সম্বলিত দ্বন্দ্ব সমাস বেদে পাওয়া যায় না। এ উক্তি যথার্থ, কারণ প্রজাপতি ব্যতিরেকে অপর দেবতা কয়টি অবৈদিক। মহাভাষ্যকার এই প্রসঙ্গেই শিব, বৈশ্রবণ, স্কন্দ ও বিশাখ দেবতাদিগকে লৌকিক দেবতানিচয়ের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। পাণিনির অন্যতম সূত্র ‘জীবিকার্থে চাপণ্যে’ (৫, ৩, ৯৯)-র ভাষ্যকালে পতঞ্জলি স্কন্দ ও বিশাখের মূর্তির সহিত শিবের মূর্তির কথা বলিয়াছেন। পাণিনির আর এক সূত্রের (৫, ২, ৭৬) ব্যাখ্যানে তিনি শিবের ভক্তদিগেরও উল্লেখ করিয়াছেন।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৩০-৩১) Read the rest of this entry »

Mahadev-Shiva

শিব ও লিঙ্গ-০৫ : বৈদিক সাহিত্যে শিব ও তাঁর বিকাশ
রণদীপম বসু

বৈদিক যুগের প্রথম স্তরে অর্থাৎ বৈদিক সাহিত্যের প্রধান ও প্রাচীনতম সাহিত্য ঋগ্বেদে বস্তুত শিবকে পাওয়া যায় না। তাঁর প্রতিরূপ রুদ্রকে ঋগ্বেদের কয়েকটি সূক্তে স্তূয়মান হিসেবে পাওয়া যায়। অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথের মতে–
‘শিব’ শব্দ এই সময়ে কতিপয় বৈদিক দেবতার বিশেষণ রূপে ‘মঙ্গলদায়ক’ অর্থে ব্যবহৃত হইত। উত্তর বৈদিক সাহিত্যে যে ‘সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্’ পদ পাওয়া যায়, সেখানেও ইহা পরম ব্রহ্মের বিশেষণ রূপে একই অর্থে ব্যবহার করা হইয়াছে। বৈদিক সাহিত্যের শেষের দিক হইতে ইহা এক বিশেষ দেবসত্তাকে বুঝাইতে আরম্ভ করে।… কিন্তু রুদ্রই যে পৌরাণিক শিবের আদি বৈদিক প্রতিরূপ সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১২৫) Read the rest of this entry »

Cover-Tiplu-1 [Original Resolution].jpg

গ্রন্থ : টিপলু
(কভার-ফ্ল্যাপের বয়ান)
তোমরা যারা স্কুলে পড়, এই বইটি তাদের জন্য। আর যারা এক সময় স্কুলে যেত– এখন আর যায় না, বইটি পড়লে তাদেরও স্কুলের সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাবে। লেখকও তোমাদের মতো একসময় স্কুলে যেত, যাদের সাথে স্কুলে যেত, একসাথে পড়ত, কত্তো মজার মজার খেলা খেলত, কী আশ্চর্য, তারাও কিন্তু একটুও বদলায়নি আজও ! লেখকও নাকি বদলায়নি। আর বদলাবেই বা কেন ! কৈশোর কি হারায় কখনও ! একটুও না। এই বইয়ের গল্পগুলোও সেই বন্ধুদের নিয়ে, তোমাদের নিয়ে, এবং আমাদের সবাইকে নিয়ে। তোমরা যখন আমাদের বন্ধু টিপলুর সাথে পরিচিত হবে, দেখবে যে টিপলু আসলে তোমাদেরও বন্ধু। Read the rest of this entry »

11995958_594598114011580_5710530188629119763_n

শক্তি-সাধনা-০৬। বৈদিক দেবীরা কি মাতৃ-দেবতা?
রণদীপম বসু

ইতঃপূর্বে আমরা দেখেছি যে, প্রাক্-বৈদিক বা প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রত্নতত্ত্বগত নিদর্শনসমূহ থেকে শক্তি-উপাসনার প্রাচীনত্ব বিষয়ে যে সব ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা মোটেও অস্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রাচীন বৈদিক ও পরবর্তী কালের সাহিত্যে শক্তিপূজার যে ক্রমবিকাশমান রূপ বা মাতৃপ্রাধান্য আমরা দেখি তা মূলত পরবর্তীকালের বেদোত্তর সাহিত্যে। সেক্ষেত্রে বৈদিক সাহিত্য আমাদের কাছে কী নজির স্থাপন করে? এক্ষেত্রে প্রথমে শ্রীজিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসঙ্গিক বক্তব্যটি উপস্থাপন করে আমরা পরবর্তী পর্যালোচনায় মনোনিবেশ করতে পারি। তিনি বলছেন–
Read the rest of this entry »

12046764_600559070082151_1963163237259047425_n

শক্তি-সাধনা-০৪। প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম-সাধনা
রণদীপম বসু

প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুটি মূল ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়– একটি বৈদিক ধারা ও অপরটি বেদ-পূর্ব বা অবৈদিক ধারা। বৈদিক ধারাটি সুস্পষ্টভাবেই আর্যকেন্দ্রিক। আর যে অবৈদিক উপাদানগুলি তাদের স্বকীয় সত্তা নিয়ে কালক্রমে ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষত্বে ভিন্নমাত্রায় একাকার হয়ে আছে, তা হলো প্রাচীন সিন্ধু-সভ্যতা কেন্দ্রিক ধ্যান-ধারণা। ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসধারা বলতে এককালে প্রাচীন বৈদিক ধ্যান-ধারণাকেই বুঝাতো, যা বৈদিক সাহিত্যের বিপুল সম্ভারের মধ্যে মূর্ত হয়ে আছে। কিন্তু ১৯২২ সালে শ্রীযুক্ত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে (বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত) সিন্ধু-উপত্যকায় মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এক সুপ্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার সাক্ষ্য আবিষ্কারের মাধ্যমে সেই সাবেকী ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে ভারতীয় ইতিহাসের প্রাচীনত্ব হঠাৎ আরো কয়েক হাজার বছর বেড়ে যায়। সিন্ধু অঞ্চলে ১৯২২-২৭ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক নমুনা বিশ্লেষণ করে নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হলো যে, এই সভ্যতাকে অন্তত পাঁচ হাজার বছরের পুরানো বলতে হবে, এবং স্বীকার করতে হবে যে, সুমের আক্কাদ ব্যবিলন মিশর ও অ্যাসিরিয়ার মতো ভারতবর্ষও পৃথিবীতে প্রথম-সভ্যতার ইমারত গড়ে তুলতে অগ্রসর হয়েছিলো। এমনকি এটাও দেখা গেলো যে, কোন কোন দিক থেকে ভারতবর্ষের ওই প্রাচীন সভ্যতা সমসাময়িক মেসোপটেমিয়া এবং মিশরের তুলনায় উন্নততর ছিলো এবং পরিধির দিক থেকেও তা অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার চেয়ে ঢের বড়ো ছিলো। এবং সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে ইদানিং কেউ কেউ বলছেন যে, এই সভ্যতা ন্যুনতম আট হাজার বছরেরও প্রাচীন।
Read the rest of this entry »

529297_3219022308529_1055540337_32405453_145407568_n

| বাক্যের অখণ্ডতা, শব্দার্থবোধ, প্রেম ও তার সমাজ চেতনা |
রণদীপম বসু


(১)
‘সই, কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধুয়া আনবাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।’ চতুর্দশ শতকের বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের (আনুমানিক ১৪১৭-১৪৭৭ খ্রি) এই পঙক্তিবদ্ধ আকুতির সাথে উনিশ শতকের ত্রিশের দশকের (মতান্তরে তিন-এর দশকের) কবি জীবনানন্দ দাশের ‘সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি, বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে’-(আকাশলীনা) পঙক্তির আকুতির মধ্যে খুব একটা ভিন্নতা কি চোখে পড়ে? কিংবা ‘বৈষ্ণব কবিতা’য় বিদ্যাপতির (১৩৮০-১৪৬০) ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর, এ ভরা ভাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর’-এর সাথে বহুকাল পর আমাদের পল্লীকবি জসীমউদদীনের (১৯০৩-১৯৭৬) ‘প্রতিদান’ কবিতায় ‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।’–পঙক্তির হাহাকারের মধ্যেও যে চিরায়ত মানবিক বোধের অভিন্নতা, তা আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না। এই আকুতি, এই হাহাকার, এই যে বোধ, একে অনেক অনেক বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন বিভিন্ন জনে। কিন্তু ওই সব বিশেষ বিশেষ বিশেষণের সমন্বিত যে অনুভব, যাকে বিশ্লিষ্ট করলে শাশ্বত মানব-মনের বহু-বিচিত্র উপলব্ধির যে অবিমিশ্র ক্ষরণটিকে উপেক্ষা করার কোনো উপায় থাকে না, তারই নাম হয়তো প্রেম। বস্তুত যার কোনো সংজ্ঞাই হয়তো যথাযথ হয় না।
Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 429,838 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 123 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

সেপ্টেম্বর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 3 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements