h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘সমাজ

12042906_599938180144240_5375375480413254287_n

তন্ত্র-সাধনা-১৭ : সমাজে তন্ত্রের প্রভাব
রণদীপম বসু

হিন্দুর ধর্মানুষ্ঠানের বিপুলতা প্রকাশ করতে যে প্রবাদ-বাক্যটি আমাদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত, তা হলো– ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’। অথচ স্ত্রী-আচার ব্যতীত এই অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে যা কিছু করা হয়, তাতে বৈদিক পদ্ধতির সংস্রব অত্যন্ত কম। তান্ত্রিক ও পৌরাণিক পূজাপদ্ধতির প্রচলনই হিন্দুসমাজে সমধিক। নিত্য উপাসনার ক্ষেত্রেও ভারতবর্ষের সর্বত্র তন্ত্রেরই আদর বেশি পরিলক্ষিত হয়। এ প্রসঙ্গে শ্রী সুখময় শাস্ত্রী’র ভাষ্যে–
‘ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় এবং বৈশ্যগণ বৈদিক পদ্ধতিতে উপনীত হইয়াও পরে তান্ত্রিক দীক্ষা গ্রহণ করিয়া থাকেন। গায়ত্রীর উপাসনা অপেক্ষা তান্ত্রিক দীক্ষায় ইষ্টদেবতার উপাসনাতেই হিন্দুগণ বেশী সময় দিয়া থাকেন। ভয়-ভীতিতে গায়ত্রীর শরণ না লইয়া ইষ্টমন্ত্রকেই বেশী স্মরণ করেন।’
‘বিষ্ণুচক্রচ্ছিন্ন সতীদেহ একান্ন খণ্ডে বিভক্ত হইয়া বেলুচীস্থানের হিঙ্গুলাক্ষেত্র হইতে আসামের কামরূপ পর্যন্ত তান্ত্রিক পীঠস্থানে পরিণত হইয়াছে। একই দেবতা সমগ্র ভারতে পরিব্যাপ্ত হইয়া ভারতীয় হিন্দুর তান্ত্রিক উপাসনার প্রবৃত্তি জাগাইতেছেন।’- (তন্ত্রপরিচয়, পৃষ্ঠা-২০) Read the rest of this entry »

Advertisements

12011170_595804190557639_3476711958994281072_n

শক্তি-সাধনা-০৯। উর্বরতা-কেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাস
রণদীপম বসু

জাদুবিশ্বাস কী? জাদুবিশ্বাসমূলক যে সকল অনুষ্ঠান ভূমির উর্বরতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত, প্রাচীন মানুষের চিন্তায় সেগুলিকে মেয়েদের বিশেষ ব্যাপার বলে গণ্য করা হতো। পৃথিবীর ফলোৎপাদিকা শক্তিকে মেয়েদের সন্তান উৎপাদিকা শক্তির সঙ্গে অভিন্ন করে দেখার রীতি পৃথিবীর সর্বত্রই বিদ্যমান। সংস্পর্শ অথবা অনুকরণের দ্বারা একের প্রভাব অন্যের উপর সঞ্চারিত করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করা হতো। যে সকল পূর্ব শর্ত নারীকে ফলপ্রসূ করে তা পৃথিবীরূপী মাতৃদেবীকে ফলপ্রসূ করে। এই বিশ্বাসগত ধারণাই উর্বরতা-কেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাসের মৌল ধারণা। Read the rest of this entry »

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

শক্তি-সাধনা-০২। বাঙলার লৌকিক দেবতা
রণদীপম বসু

বাঙালির ধর্ম-কর্মানুষ্ঠানের গোড়ার কথা বলতে গেলে, তার পেছনে রয়েছে বস্তুত প্রাচীন জনগোষ্ঠীর উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে আদিম প্রজনন শক্তির মিশ্রণকল্পনায় সৃষ্ট কিছু লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান মাত্র। আর সেগুলি যে অবশ্যই কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সময়ের প্রবাহে বর্তমানে যান্ত্রিক নগরায়ণের প্রভাবে সেইসব আচার-অনুষ্ঠান ক্রমান্বয়ে লুপ্ত বা অনেকটাই চাপা পড়ে গেলেও বাংলার পল্লীগ্রামের কৃষিজীবনে মাঠে লাঙল চালনার প্রথম দিনে, বীজ ছড়ানোর, শালিধান বোনার, ফসল কাটার বা ঘরে গোলায় তোলার আগে নানান ধরনের আচারানুষ্ঠান বাংলার বিভিন্ন জায়গায় হয়তো এখনও প্রচলিত আছে। এই প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানই বিচিত্র শিল্পসুষমায় এবং জীবনের সুষম আনন্দে মণ্ডিত। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, তার কোনটিতেই সাধারণত কোনও ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতের প্রয়োজন হতো না বা এখনও হয় না। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সবাই এসব পূজানুষ্ঠানের অধিকারী। নবান্ন উৎসব বা নতুন গাছের বা নতুন ঋতুর প্রথম ফল ও ফসলকে কেন্দ্র করে যেসব পূজানুষ্ঠান এখনও প্রচলিত, তার মূলেও একই চিত্তধর্মের একই বিশিষ্ট প্রকৃতি সক্রিয়।
Read the rest of this entry »

ট্যাগ সমুহঃ , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,

529297_3219022308529_1055540337_32405453_145407568_n

| বাক্যের অখণ্ডতা, শব্দার্থবোধ, প্রেম ও তার সমাজ চেতনা |
রণদীপম বসু


(১)
‘সই, কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধুয়া আনবাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া।’ চতুর্দশ শতকের বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের (আনুমানিক ১৪১৭-১৪৭৭ খ্রি) এই পঙক্তিবদ্ধ আকুতির সাথে উনিশ শতকের ত্রিশের দশকের (মতান্তরে তিন-এর দশকের) কবি জীবনানন্দ দাশের ‘সুরঞ্জনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি, বোলো নাকো কথা ওই যুবকের সাথে’-(আকাশলীনা) পঙক্তির আকুতির মধ্যে খুব একটা ভিন্নতা কি চোখে পড়ে? কিংবা ‘বৈষ্ণব কবিতা’য় বিদ্যাপতির (১৩৮০-১৪৬০) ‘এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর, এ ভরা ভাদর মাহ ভাদর শূন্য মন্দির মোর’-এর সাথে বহুকাল পর আমাদের পল্লীকবি জসীমউদদীনের (১৯০৩-১৯৭৬) ‘প্রতিদান’ কবিতায় ‘আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর, আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।’–পঙক্তির হাহাকারের মধ্যেও যে চিরায়ত মানবিক বোধের অভিন্নতা, তা আমাদের দৃষ্টি এড়ায় না। এই আকুতি, এই হাহাকার, এই যে বোধ, একে অনেক অনেক বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন বিভিন্ন জনে। কিন্তু ওই সব বিশেষ বিশেষ বিশেষণের সমন্বিত যে অনুভব, যাকে বিশ্লিষ্ট করলে শাশ্বত মানব-মনের বহু-বিচিত্র উপলব্ধির যে অবিমিশ্র ক্ষরণটিকে উপেক্ষা করার কোনো উপায় থাকে না, তারই নাম হয়তো প্রেম। বস্তুত যার কোনো সংজ্ঞাই হয়তো যথাযথ হয় না।
Read the rest of this entry »

1908473_744382928977158_9020559613900978247_n

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-০৮ : ঋগ্বেদের সমাজ |
রণদীপম বসু

৩.১ : ঋগ্বেদের সমাজ

যে-কোনো সমাজ-সংগঠনের পরিপ্রেক্ষিতেই সেই সমাজের চিন্তাধারা প্রতিফলিত হয়। নৃতাত্ত্বিকদের মতে, সভ্যতার বিবর্তন ধারায় সব দেশে সব মানুষের উন্নতি সমান তালে ঘটেনি। আধুনিক সভ্য মানুষের পূর্বপুরুষেরা বহু যুগ আগে যে-অবস্থায় বাস করতো কোনো কোনো পিছিয়ে পড়া মানবগোষ্ঠী সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত সেই অবস্থায় আটকে থেকেছে। আর এই কারণেই আধুনিক পৃথিবীর ওই পিছিয়ে-পড়ে থাকা মানুষদের পরীক্ষা করে নৃতত্ত্ববিদরা প্রাগৈতিহাসিক অতীতের কথা অন্তত আংশিকভাবে অনুমান করে থাকেন। সে-বিচারে নৃ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে যে-কোনো আদিম পর্যায়ের সমাজ-সংগঠনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এক স্বতঃস্ফূর্ত গোষ্ঠীগত ঐক্য। এ-ঐক্য এমনই গভীর যে তাদের মধ্যে ব্যক্তি-স্বার্থ ও ব্যক্তি-বোধেরও ঐকান্তিক অভাব পরিলক্ষিত হয়। গোষ্ঠীর সামগ্রিক স্বার্থই প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থ, প্রত্যেকের সম্পদই গোষ্ঠির সামগ্রিক সম্পদ। প্রাচীন বৈদিক মানুষদের ক্ষেত্রে এরকম কোনো পর্যায় অনুমান করতে হলে এ-ক্ষেত্রেও অনুমানের অবকাশ থাকে যে, বৈদিক সমাজ-বিবর্তনের কোনো-এক পর্যায়েও এ-জাতীয় গোষ্ঠী-চেতনা ও সাম্য-ব্যবস্থার পরিচয় থাকা স্বাভাবিক। তার মানে অবশ্য এই নয় যে বৈদিক সাহিত্য রচনার সমগ্র যুগ ধরে আগাগোড়াই ওই আদিম সাম্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত ছিলো। উপনিষদের সমাজ, ব্রাহ্মণের সমাজ, এমনকি ঋগ্বেদে সংকলিত অপেক্ষাকৃত অর্বাচীন অংশে প্রতিফলিত সমাজও নিশ্চয়ই আদিম সাম্য-সমাজ নয়। বস্তুত– Read the rest of this entry »

su_blackwell

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-০৭ : বৈদিক সাহিত্যে সমাজ ও তার চিন্তাধারা |
রণদীপম বসু

৩.০ : বৈদিক সাহিত্যে সমাজ ও তার চিন্তাধারা

বৈদিক-যুগের সমাজ-সংস্কৃতির রূপটি কেমন ছিলো তা নিরূপণের প্রধানতম মাধ্যম হিসেবে খুব স্বাভাবিকভাবেই গবেষকরা ঋগ্বেদের উপরই নির্ভর করেছেন বেশি। এক্ষেত্রে সমগ্র ঋগ্বেদ জুড়েই যে সমর্থনটির দিকে গবেষকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তা হলো– যাঁরা বেদ রচনা করেছিলেন তাঁরা ছিলেন মূলতই পশুপালক। এমনকি তাঁরা ভালো করে কৃষিকাজও শেখেন নি; ধনসম্পদ বলতে তাঁদের কাছে প্রধানতই পশু। এ প্রেক্ষিতে খুবই উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, গোটা ঋগ্বেদ জুড়ে পশু হিসেবে ‘গো’ বা গরুর প্রাধান্য একচ্ছত্র। তবে বৈদিক মানুষদের কাছে ‘গো’ কেবল গরুই নয়, অনেক কিছুই। Read the rest of this entry »

314762_501240416556847_1950408058_n

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-০১ : প্রাচীন আর্য সমাজ ও সংস্কৃতি |
রণদীপম বসু

বৈদিক-যুগ এবং তার সাহিত্য, সমাজ ও চিন্তাধারা

ভারতবর্ষীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে দুইটি ধারা প্রবাহিত– বৈদিক ও অবৈদিক– ভারতীয় পণ্ডিতদের গভীর সংস্কার ও সনাতনপন্থী ধারণায় অবৈদিক ধারাটির বিশেষ কোনো গুরুত্ব স্বীকার করা হয়নি প্রত্নখননের মাধ্যমে সিন্ধু-সভ্যতা আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত। উত্তরকালের এতদঞ্চলীয় ধর্মীয় চিন্তা ও ধ্যানধারণার ক্ষেত্রে এই প্রাক্-আর্য সিন্ধু-যুগীয় অবৈদিক উপাদানের ব্যাপক প্রভাবের গুরুত্ব যতোই থাকুক না কেন, এ-সংস্কৃতির অপর যে বৈদিক-উপাদান তার গুরুত্বও কোন অংশে কম নয়। বরং পরবর্তীকালের চিন্তা-জগতে যে ধর্ম ও দার্শনিক ভাবনার বৈপ্লবিক উন্মেষ ঘটে তার অবদান মূলত আর্য-সভ্যতার বৈদিক-সংস্কৃতিকে ঘিরেই। এই বৈদিক-সংস্কৃতির বিকাশ এবং তার প্রভাব ও ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়েই  পরবর্তীকালে অন্যান্য মত-গোষ্ঠির মতোই লোকায়ত-চার্বাক মত-গোষ্ঠিরও জন্ম অনিবার্য হয়ে উঠেছিলো বললে হয়তো বা অত্যুক্তি হবে না। তাই ভারতীয় দর্শন-চিন্তার তথা চার্বাকী-ভাবনার সুলুক-সন্ধান করতে হলে বৈদিক সাহিত্যের মাধ্যমে আর্য-সভ্যতার বিশ্লেষণ নির্দ্বিধায় আবশ্যক বলা চলে। এ-প্রেক্ষিতে আমরা খানিকটা সে-প্রয়াস নিতে পারি। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 287,093 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 109 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

জুলাই 2018
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check
Advertisements