h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘সভ্যতা

Mother Goddes Durga

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৪
-রণদীপম বসু

(৪)
বলার অপেক্ষা রাখে না, সিন্ধুসভ্যতার এক প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মাতৃদেবীর ও আদি-শিবের পূজা। ভারতের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় মাতৃদেবীর পূজার প্রাবল্য বাঙলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। এটা মহেঞ্জোদারো-হরপ্পার যুগ থেকে চলে এসেছে। মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা প্রভৃতি নগরে প্রত্নখননের মাধ্যমে মাতৃদেবীর পূজার নিদর্শনস্বরূপ বহু মাটির ক্ষুদ্রকায়া মাতৃকামূর্তি পাওয়া গেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অনুরূপ মূর্তি বাঙলাদেশেও বর্তমান কাল পর্যন্ত তৈরি হয়ে আসছে। তবে এগুলি সাধারণত বাচ্চাদের খেলার পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ড. অতুল সুর বলেন, এরূপ পুতুলগুলিকে ‘কুমারী পুতুল’ বলা হয়। এ নামটা খুব অর্থপূর্ণ। কেননা মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা ও সমসাময়িক সভ্যতার কেন্দ্রসমূহে মাতৃদেবী ‘কুমারী’ (virgin goddess) হিসাবে পূজিতা হতেন। শারদীয়া দুর্গাতিথির মহাষ্টমীর দিন বাঙালি সধবা মেয়েদের ‘কুমারী পূজা’ তার স্মৃতি-নিদর্শন। যদিও তাম্রাশ্মযুগে মাতৃদেবী কুমারী হিসেবে পরিকল্পিত হতেন, তথাপি তাঁর ভর্তা ছিল। এই ভর্তার প্রতিকৃতি মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে। তাঁকে পশুপতি শিবের আদিরূপ বলা হয়েছে। শিব যে প্রাগার্য দেবতা, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ-সম্পর্কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, বাঙলায় শৈবধর্মের প্রাধান্য। বস্তুত বাঙলায় যত শিবমন্দির দেখতে পাওয়া যায়, তত আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। সুতরাং শিব ও শক্তিপূজা যে মহেঞ্জোদারো হরপ্পার কাল থেকেই চলে এসেছে সে-বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সুমেরীয় সভ্যতাও তার সাক্ষ্য হতে পারে। Read the rest of this entry »

Mohenzodaro-Horoppa

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০১
রণদীপম বসু

(১)
ভূতত্ত্বের নিরিখে অতি প্রাচীন এই বঙ্গদেশ। বঙ্গদেশের ভূমিরূপ গড়ে উঠেছে আজ থেকে প্রায় পঁচিশ লক্ষ বছর আগে প্লাইস্টোসিন যুগে। যখন পৃথিবীর বুকে বিবর্তনের ধারায় প্রায়-মানবের মতো নরাকার জীবের উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়। প্লাইস্টোসিন যুগের মানুষের কোনও কঙ্কাল ভারতবর্ষে পাওয়া যায়নি। ড. অতুল সুরের মতে–
‘যদিও প্লাইস্টোসীন যুগের মানুষের কোনও নরকঙ্কাল আমরা ভারতে পাইনি, তবুও তার আগের যুগের অনু-নর জীবের কঙ্কাল আমরা এশিয়ার তিন জায়গা থেকে পেয়েছি। জায়গাগুলি হচ্ছে ভারতের উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রস্থ শিবালিক গিরিমালা, জাভা ও চীনদেশের চুংকিঙ। এই তিনটি বিন্দু সরলরেখা দ্বারা সংবদ্ধ করলে যে ত্রিভুজের সৃষ্টি হয়, বাঙলাদেশ তার কেন্দ্রস্থলে পড়ে। সুতরাং এরূপ জীবসমূহ যে সেযুগে বাঙলাদেশের ওপর দিয়েই যাতায়াত করত সেরূপ অনুমান করা যেতে পারে।’- (ড. অতুল সুর, বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন, পৃষ্ঠা-৫৬) Read the rest of this entry »

coronavirus_structure_large
করোনা-পরবর্তী পৃথিবীটা কেমন দেখতে চাই…
রণদীপম বসু

করোনা-পরবর্তী পৃথিবীকে কেমন দেখতে চাই– প্রশ্নটা শুনে প্রথমে এমন আশঙ্কা জাগতে পারে যে, তবে কি আমরা মানব-সভ্যতার কোন ক্রান্তিকালে এসে দাঁড়িয়েছি! এবং তখনই হঠাৎ অবাক বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করতে হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে সভ্যতার সন্তোষজনক পর্যায়ে অবস্থান করেও বর্তমানে আমরা যেন সত্যিই মানব সভ্যতার এক ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়ে গেছি। গোটা পৃথিবীর মানুষ আমরা ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, গোত্র নির্বিশেষে এমনই অভিন্ন এক কল্পনাতীত শক্তিশালী ছায়াশত্রুর বিরুদ্ধে একযোগে লড়ে যাচ্ছি, এখন পর্যন্ত যার কোনো প্রতিষেধক আমাদের হাতে নেই। Read the rest of this entry »

mother goddess

শক্তি-সাধনা-০২ : আদিম মানব ও তার ধর্ম
রণদীপম বসু

নৃতাত্ত্বিকেরা হাতিয়ারের ক্রমবিকাশের ধারা অনুশীলন করে মানবসভ্যতার বিকাশের ঐতিহাসিক যুগের যে ধারা চিহ্নিত করেছেন তা হলো যথাক্রমে– প্রস্তর যুগ, তাম্র যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ এবং লৌহ যুগ। কেননা এই হাতিয়ারের ক্রমবিকাশের ধারা অনুশীলন করলেই ব্যবহারকারীদের ক্রমবিবর্তন অনুশীলন করা যায়। আর প্রগৈতিহাসিক প্রত্ন-প্রাচীন প্রস্তর যুগকে আবার উপবিভাগে ভাগ করা হলো– প্রত্নপ্রস্তর বা আদি-প্রস্তর যুগ, মধ্য-প্রস্তর যুগ ও নব বা নব্য-প্রস্তর যুগ। কিন্তু হাতিয়ার তৈরি ছাড়াও শিকারের প্রয়োজনে মানুষ জোট বাঁধতে বাধ্য হলো। ফলে, ভাবের আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তা থেকে শুরু হলো ভাষার ব্যবহার। জোটবদ্ধ জীবনে প্রথমে জৈবিক প্রয়োজনে, তারপর ধীরে ধীরে দেখা দিলো পরিবারের প্রয়োজনীয়তা। প্রকৃতির সাথে নিয়ত সংগ্রামশীল মানুষ পর্যায়ক্রমে শিখলো কাঁচা ও পোড়া মাটির ব্যবহার। তারপর একে একে আয়ত্ত করলো তামা, ব্রোঞ্জ ও সবশেষে লোহার ব্যবহার। ‘এরমধ্যে যেসব জিনিস বিনষ্ট হওয়ার তা কালের প্রভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। আর যা নষ্ট হওয়ার নয় তা চাপা পড়ে রইলো– মাটির তলায় বা পৃথিবীর পাঠশালায়, কালের লিখন হয়ে।’ Read the rest of this entry »

Mukhalinga

শিব ও লিঙ্গ-০৪ : মানববিকাশের নৃতাত্ত্বিক ধারায় লিঙ্গোপাসনার পটভূমি
রণদীপম বসু

ইতঃপূর্বে আমরা যদিও পর্যায়ক্রমিক আলোচনায় মাঝেমধ্যে নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি-প্রসূত কিছু কিছু প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি টেনেছি, তবুও আলোচনার স্পষ্টতার জন্যে মানবসভ্যতার বিবর্তন ধারার প্রাথমিক আরও কিছু আলোচনা বোধ করি অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বিষয়গত ধারণার স্পষ্টতার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক অনুমানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বিদ্বান লেখকদের পূর্বাপর নৃতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার একটা সমন্বিত সার-সংক্ষেপ এখানে বিবৃত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

Stone_of_Destiny_Siva_Lingam_Ireland

শিব ও লিঙ্গ-০৩ : শিবলিঙ্গের প্রাক্-বৈদিক নিদর্শন
রণদীপম বসু

বিজ্ঞানীরা মনে করেন জীব বিবর্তনের এক ও একমাত্র কারণ হলো– প্রকৃতি, যা নিত্য পরিবর্তনশীল। তার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের স্রোতে এগিয়ে চলার ইতিহাসই মানবসভ্যতার ইতিহাস। ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি অতি সুপ্রাচীন কাল থেকে বেশ কয়েকটা অধ্যায়ে ক্রমবিবর্তিত হতে হতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। এগুলোকে যদি কালের নিরিখে পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়, তা হলে শুরু করতে হয় প্রাগৈতিহাসিক পর্ব থেকে– আদি প্রস্তর যুগ, মধ্য প্রস্তর যুগ ও নব প্রস্তর যুগ। এরপরে ঐতিহাসিক যুগের সূচনা– তাম্র-প্রস্তর যুগ, তাম্র যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ ও লৌহ যুগ। লৌহ যুগেই সমাজ জীবনে আসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন, যার ফলশ্রুতিতে আজও আমরা বহুবিবর্তিত হয়েই চলেছি। ভারতবর্ষে তাম্র-প্রস্তর থেকে ব্রোঞ্জ যুগ অবধি সভ্যতাকে বলা হয় হরপ্পা বা সিন্ধু সভ্যতা। আর এরপরে বৈদিক সভ্যতা, যার সূচনা তাম্র সভ্যতা থেকে শুরু করে লৌহযুগ অবধি বিস্তৃত। Read the rest of this entry »

12033025_596767023794689_6134986862463680606_n

শক্তি-সাধনা-০৬। সিন্ধু-সভ্যতায় মাতৃপ্রাধান্য
রণদীপম বসু

শাক্তধর্মের প্রধান উপাদান হচ্ছে তার ধ্যান-ধারণা, সমাজ ও ধর্মকর্মব্যবস্থায় মাতৃপ্রাধান্যতা। সেক্ষেত্রে প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগের দেবীপ্রধান বা মাতৃপ্রধান ধর্ম-বিশ্বাসে সিন্ধুবাসীরা যে মাতৃ-প্রকৃতির শক্তি-সাধনায় বিশ্বাসী ছিলেন তা নির্ভরযোগ্য প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসবিদদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা থেকেও অবগত হওয়া যায়। এ প্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় আমরা সেসব-আলোচনার কিছুটা সহায়তা নিতে পারি।
Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,624 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos