h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘শিষ্য

12047189_599246366880088_2373356214468571482_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৭ : বৌদ্ধ-তন্ত্রসাধন
রণদীপম বসু

বজ্রযান, কালচক্রযান, সহজযান এই সবকটি বৌদ্ধ তান্ত্রিক-যানেরই নির্ভর মূলত যোগ-সাধনার উপর। বলা বাহুল্য, এদের সবারই দর্শনদৃষ্টির মূল যোগাচার ও মাধ্যমিক দর্শনে। একই ধ্যান-কল্পনা থেকেই এই তিন যান উদ্ভূত এবং ব্যবহারিক সাধনার ক্ষেত্রে এই তিন যানের মধ্যে পার্থক্যও খুব বেশি ছিলো না। এদের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা টানা বস্তুতই কঠিন। তাছাড়া একই সিদ্ধাচার্য একাধিক যানের উপর পুস্তক রচনা করেছেন, এমন প্রমাণও দুর্লভ নয়। তবে এই তিন যানের উদ্ভব যেখানেই হোক, তৎকালীন বাঙলা অঞ্চলেই এগুলো লালিত ও বর্ধিত হয়েছিলো । প্রধানত এই ত্রিযানপন্থী বাঙালি সিদ্ধাচার্যরাই এই বিভিন্ন গুহ্য সাধনার গ্রন্থাদি রচনা ও দেবদেবীর ধ্যান-কল্পনা গড়ে তুলেছিলেন। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায়ের অভিমত হলো, ‘বস্তুত এই তিন যানের ইতিহাসই পাল-চন্দ্র-কম্বোজ-পর্বের বাঙলার বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস।’ Read the rest of this entry »

Advertisements

11998833_594748200663238_4185119916753413662_n

তন্ত্র-সাধনা-০৭ : তন্ত্রে দীক্ষা ও অভিষেক
রণদীপম বসু

আচার্য অভিনবগুপ্ত দীক্ষা সম্বন্ধে তাঁর তন্ত্রালোকে গুটিকয় অভিনব সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত করে বলেছেন যে,– ‘মুক্তির হেতুভূত বুদ্ধিনিষ্ঠ জ্ঞানও শাস্ত্রজ্ঞান ব্যতীত জন্মিতে পারে না। যে-সকল শাস্ত্র এই তত্ত্বের প্রদর্শক নহে, সেই সকল শাস্ত্র হইতে আগম-শাস্ত্র শ্রেষ্ঠ। শাস্ত্র বলিতেছেন, দীক্ষা গ্রহণ করিলেই পৌরুষ (আত্মনিষ্ঠ) অজ্ঞান নিবৃত্ত হইয়া যায়। দীক্ষার এইরূপ অনির্বচনীয় শক্তি। পৌরুষ অজ্ঞান বিনষ্ট হইলেও বুদ্ধিনিষ্ঠ অজ্ঞান নিবৃত্ত হয় না। বুদ্ধিগত অজ্ঞান নিবৃত্ত না হওয়া পর্যন্ত আত্মা সম্পূর্ণ মুক্ত হইতে পারেন না। দীক্ষা গ্রহণমাত্রই পৌরুষ অজ্ঞান নিবৃত্ত হয় বলিয়া দেহ-নাশের পর মুক্তির পথে আর কোন প্রতিবন্ধক থাকে না। অর্থাৎ প্রত্যেক দীক্ষিত ব্যক্তিরই মুক্ত অবধারিত। শ্রীমন্নিশাটন-শাস্ত্রে ধাতা এই কথা বলিয়াছেন। (তন্ত্রালোক-১/৫০-৫১) (সূত্র: তন্ত্রপরিচয়, পৃষ্ঠা-৩৩) Read the rest of this entry »

12072728_600732200064838_8523909700116422764_n

তন্ত্র-সাধনা-০৬ : তন্ত্রে মন্ত্রার্থ ও মন্ত্রচৈতন্য
রণদীপম বসু

তন্ত্রে মন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ইতঃপূর্বেই বলা হয়েছে যে, দীক্ষা গ্রহণকালে শিষ্য গুরুর নিকট থেকে তাঁর ইষ্টদেবতার পরিচায়ক বীজমন্ত্র প্রাপ্ত হন। কিন্তু এই অসাধারণ মন্ত্রগুলি অতীব গুহ্য, গুহ্যাতিগুহ্য এবং তার প্রকৃত অর্থ দুর্বোধ্য। এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য গুরুর নিকট থেকেই শিখে নিতে হয়। কেননা তন্ত্রকারেরা তা গোপনে রাখবার উদ্দেশ্যে কতকগুলি নতুন শব্দ এবং অন্য কতকগুলো শব্দের নতুন অর্থ সৃষ্টি করেছেন। সেই সেই শব্দের সেইরূপ অর্থ তন্ত্র ছাড়া অন্য কোন শাস্ত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। তন্ত্রের এই যে মন্ত্ররহস্য, এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য বলে মনে করি–
‘তন্ত্রে মন্ত্রের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রের দু’রকম শক্তি, বাচক ও বাচ্য, প্রথমটি দ্বিতীয়টির স্বরূপ প্রকাশ করে। দ্বিতীয়টি জ্ঞাতব্য, প্রথমটি জানার পদ্ধতি। মন্ত্রের বাচক সত্তা বাক্যের দ্বারা গঠিত, বাক্য শব্দের দ্বারা, শব্দ ধ্বনির দ্বারা। ধ্বনির সূক্ষ্মতর ও সূক্ষ্মতম পর্যায় দুটির নাম বিন্দু ও নাদ। ধ্বনির প্রকাশ হয় বর্ণে বা অক্ষরে, তাই বর্ণ বা অক্ষরই বীজ। বর্ণই ভাব ও রূপের স্রষ্টা ও তাদের থেকেই সিদ্ধ বীজমন্ত্রের বোধ বা জ্ঞান হয়। হ্রীং, ক্রীং, ঐং, শ্রীং, ক্লীং প্রভৃতি বীজ। বৃহৎ বটবৃক্ষ যেমন একটি ক্ষুদ্র বীজের মধ্যে সুপ্ত থাকে সেইরূপ সমুদয় তত্ত্ব ওই একাক্ষর বীজের মধ্যে বর্তমান। বর্ণমালাই মাতৃকা। পঞ্চাশটি বর্ণ মাতৃকাবর্ণ, দেবী সরস্বতীর অক্ষমালা বা দেবী কালীর মুণ্ডমালা। ধ্বনির গঠনকারী বিন্দু ও নাদের প্রকাশিত দিকটিই হচ্ছে বীজ, আর এই তিন একত্রে মিলেই শব্দব্রহ্ম, যা সর্বজীবাশ্রয়ী বস্তু ও চৈতন্য, তন্ত্রের বিশেষ ভাষায় যা ব্যাপিকাশক্তি কুণ্ডলিনী অথবা কুণ্ডলীরূপা কামকলা। বিন্দু হচ্ছে শিবের প্রতীক, বীজ হচ্ছে শক্তির প্রতীক আর নাদ হচ্ছে শিব-শক্তি সামরস্য (শারদাতিলক ২/১০৮-১১) Read the rest of this entry »

12032958_598706690267389_7077705607293271215_n

তন্ত্র-সাধনা-০৫ : তন্ত্রের মন্ত্র-সঙ্কেত
রণদীপম বসু

তন্ত্রসারে সংক্ষেপে দীক্ষা, পঞ্চায়তনী দীক্ষা প্রভৃতি কয়েক প্রকার দীক্ষাবিধির কথা বলা আছে। দীক্ষাদানের নানাবিধ পদ্ধতি তন্ত্রশাস্ত্রে দৃষ্ট হয়। স্থান, কাল, পাত্রেরও বিচার আছে। তবে দীক্ষাগ্রহণ বা দীক্ষাপ্রদান ইষ্টদেবতা অনুসারে ও গুরু-শিষ্য-প্রণালী ভেদে নানারকমের হয়ে থাকে। এখানে তার বর্ণনা বাহুল্য। দীক্ষা গ্রহণকালে শিষ্য গুরুর নিকট থেকে তাঁর ইষ্টদেবতার পরিচায়ক বীজমন্ত্র প্রাপ্ত হন। এই অসাধারণ মন্ত্রগুলি অতীব গুহ্য, গুহ্যাতিগুহ্য এবং তার প্রকৃত অর্থ দুর্বোধ্য। কেননা তন্ত্রকারেরা তা গোপনে রাখবার উদ্দেশ্যে কতকগুলি নতুন শব্দ এবং অন্য কতকগুলো শব্দের নতুন অর্থ সৃষ্টি করেছেন। সেই সেই শব্দের সেইরূপ অর্থ তন্ত্র ছাড়া অন্য কোন শাস্ত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। Read the rest of this entry »

12042606_598648876939837_4014857095877206038_n

তন্ত্র-সাধনা-০৪ : তন্ত্রে গুরুবাদ
রণদীপম বসু

দীক্ষা গ্রহণ না করলে তান্ত্রিক কাজে অধিকার জন্মে না। উপযুক্ত গুরুর নিকট থেকে তান্ত্রিক দীক্ষা গ্রহণ করতে হয়। যোগিনী-তন্ত্রে বলা হয়েছে–

দায়িতে জ্ঞানমত্যর্থং ক্ষীয়তে পাশবন্ধনম্ ।
অতো দীক্ষেতি দেবেশি কথিতা তত্ত্বচিন্তকৈঃ।।
অর্থাৎ : দেবেশি! তত্ত্বজ্ঞানীরা বলেন, পরম জ্ঞানের হেতু এবং ভবপাশচ্ছেদনের অনুকূল কর্ম-বিশেষ হলো দীক্ষা।

পরমানন্দ-তন্ত্রে উক্ত হয়েছে– Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 333,349 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 112 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

নভেম্বর 2018
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements