h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘শব্দ

11999019_597640487040676_4191804527578047278_n

শক্তি-সাধনা-১০। শক্তিতত্ত্ব ও দর্শন 
রণদীপম বসু

শাক্ত দর্শনের মূল ভিত্তি সাংখ্য, যা গড়ে উঠেছিল প্রাচীনযুগের তন্ত্র থেকে উদ্ভূত প্রকৃতি পুরুষ তত্ত্বকে আশ্রয় করে। তান্ত্রিক পুঁথিসমূহের চেয়ে তন্ত্র অনেক বেশি প্রাচীন, যার মূল খুঁজতে গেলে আমাদেরকে বৈদিক যুগেরও অনেক পেছনে যেতে হবে। সেই সুদূর অতীতের মাতৃপ্রধান সমাজ থেকে প্রকৃতিপ্রাধান্যবাদের উদ্ভব হয়েছে, মাতৃকাদেবীকেন্দ্রিক সেই প্রাচীন জীবনচর্যাই আদি তন্ত্র। পরবর্তীকালের সাংখ্যদর্শন সেই প্রাচীন তন্ত্রকেই অবলম্বন করে গড়ে উঠেছিল। মাতৃ বা প্রকৃতিপ্রধান ধর্মব্যবস্থা, যার আবেদন ছিল মূলত সমাজের নিম্নস্তরে, বিশেষ করে কৃষিজীবী মানুষদের মধ্যে, বরাবরই সাধারণ মানুষের জীবনে বিশেষ প্রভাব সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছিল, এবং প্রভাবের পরিধি এতো বিস্তৃত যে, ভারতের অন্যান্য প্রধান প্রধান ধর্মগুলিও শাক্ত-তান্ত্রিক ধ্যানধারণার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। এই ধ্যানধারণাগুলি বিভিন্ন ধর্মকে প্রভাবিত করেই ফুরিয়ে যায়নি, গুপ্তোত্তর যুগ থেকে নতুনভাবে রূপ পরিগ্রহ করেছিল। আধুনিক শক্তিতত্ত্ব বলতে আমরা যা বুঝি তা বস্তুত গুপ্তযুগে পরিগৃহীত নতুন রূপ। Read the rest of this entry »

Advertisements

602621_499911806689708_410310815_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৭ : দর্শনে যুক্তিবাদ বা প্রমাণমিতি |
রণদীপম বসু

২.৪ : দর্শনে যুক্তিবাদ বা প্রমাণমিতি

‘প্রমাণ’ সংজ্ঞায় জ্ঞানের মাধ্যমকে বোঝায়। মানুষের জ্ঞানের বিস্তীর্ণ রাজ্যে যে যে বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি, দার্শনিক বিচারের পরিসরে আসার যোগ্যতা একমাত্র সেগুলিরই। যে প্রবেশপথকে আশ্রয় করে মানুষের অন্তর্লোকে জ্ঞানের ভাণ্ডারে বিষয়গুলির ক্রমিক সঞ্চয়, তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘প্রমাণ’ এই বিশেষ শব্দের দ্বারা। প্রমাণের বিচার বিষয়ে ভারতীয় দার্শনিকেরা বিশেষ তৎপর, কারণ তাঁরা মনে করেন যে জ্ঞানের সত্যাসত্য নির্ধারণের প্রস্তুতি রচিত হয় জ্ঞানের প্রবেশপথ বা প্রমাণের গুণাগুণ বিচারের মাধ্যমে। তাই যে প্রণালী দ্বারা প্রমা বা যথার্থজ্ঞান লাভ করা যায় তাকেই প্রমাণ বলা হয়।
ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন শাখায় প্রমাণকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি শ্রেণীকে বিশিষ্ট লক্ষণের সুনির্দিষ্ট বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ভারতীয় দর্শনগুলির মধ্যে প্রমাণের বিচার সর্বাধিক প্রাধান্যের দাবি রাখে ন্যায়দর্শন। এ কারণেই ভারতীয় দর্শন জগতে ‘প্রমাণশাস্ত্র’ হিসেবে ন্যায়ের পরিচিতি।
Read the rest of this entry »

IMG_1050_1 [1600x1200]

|বেদান্তদর্শন-অদ্বৈতবেদান্ত-০৮ : অদ্বৈত জ্ঞানতত্ত্ব|
রণদীপম বসু

৩.০ : অদ্বৈত জ্ঞানতত্ত্ব

যথার্থ জ্ঞান বুদ্ধির অধীন নয় বস্তুর অধীন, কিন্তু তত্ত্বজ্ঞান বস্তুর অধীন। যে বস্তু যেমন, সেরূপ জ্ঞানই তত্ত্বজ্ঞান। অদ্বৈতমতে পরমাত্মা ব্রহ্মই হলো নিত্য, আর জগৎ অনিত্য। একমাত্র ব্রহ্মেরই পারমার্থিক সত্তা আছে এবং পরাবিদ্যার সাহায্যেই ব্রহ্মজ্ঞান লাভ হয়। ব্রহ্মজ্ঞানই সত্যজ্ঞান বা পরাবিদ্যা। এ জ্ঞান নিরপেক্ষ জ্ঞান যাকে অনুভব করা যায়। বিচারবুদ্ধি অনুভবের একটি উপায়।

অদ্বৈতবেদান্তের প্রধান প্রবক্তা আচার্য শঙ্কর তাঁর শারীরকভাষ্যে পারমার্থিক সত্তা ও ব্যবহারিক সত্তার মধ্যে পার্থক্য দেখিয়েছেন। তাঁর মতে অবিদ্যার জন্যই জীব অনাত্মাকে আত্মার সঙ্গে অভিন্ন মনে করে। অবিদ্যা হলো ব্যবহারিক জ্ঞান। অবিদ্যায় জ্ঞান, জ্ঞেয় ও জ্ঞাতার পারস্পরিক ভেদ বর্তমান থাকে। শঙ্করের মতে ব্রহ্মেরই একমাত্র সত্তা আছে, ব্রহ্মের বাহিরে বা ভেতরে ব্রহ্ম ছাড়া আর কোন সত্তা নেই। ব্রহ্মের কোন প্রকার ভেদ নেই। পরাবিদ্যা সব রকমের ভেদরহিত জ্ঞান এবং নিরপেক্ষ জ্ঞান। আর অপরাবিদ্যা আপেক্ষিক জ্ঞান হলেও শঙ্করের মতে এ জ্ঞান পরাবিদ্যা বা অনপেক্ষ জ্ঞান লাভের সোপান স্বরূপ।

এই মতে, শ্রুতি থেকে ব্রহ্মের জ্ঞান হয়, তারপর যুক্তি-তর্কের সাহায্যে তার যৌক্তিকতা উপলব্ধ হয় এবং সর্বশেষ অনুভবের মাধ্যমে ব্রহ্মের সাক্ষাৎকার হয়। ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করার জন্য শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসন হলো তিনটি উপায়। শ্রুতি ছাড়া অন্য কোন কিছু থেকে জীব ও ব্রহ্মের অভেদ জ্ঞান লাভ হয় না। শ্রুতির প্রামাণ্য নিরপেক্ষ। বেদান্তসূত্রে মহর্ষি বাদরায়ণও বলেছেন-
Read the rest of this entry »

images_15.

| মীমাংসা দর্শন-১৩ : মীমাংসা তত্ত্ববিদ্যা- নীতি ও ধর্মতত্ত্ব |
রণদীপম বসু

৪.০ : মীমাংসা তত্ত্ববিদ্যা

৪.১ : মীমাংসাদর্শনে নীতি ও ধর্মতত্ত্ব


মীমাংসাশাস্ত্রে কর্মের অনুষ্ঠানকে সর্বাপেক্ষা প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মীমাংসকদের মতে যে কর্ম বেদ নির্দেশিত অর্থাৎ বেদ যে কর্মকে ইষ্টের সাধক বলে তাই-ই ধর্ম, এবং বেদ নিষিদ্ধ কর্ম অর্থাৎ বেদ যাকে অনিষ্টের সাধক বলে তা অধর্ম। এই মতে, স্মৃতি (অর্থাৎ ঋষিদের রচিত ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ) ও সদাচারও ধর্মে প্রমাণ বলে গৃহীত হতে পারে যদি বেদে তার বিরুদ্ধতা না পাওয়া যায়। কিন্তু তাকে বেদ থেকে পৃথক মনে করে ধর্ম বলে মানা যায় না, এইভাবেই শুধু মানা যেতে পারে যে এ রকম কোনো উক্তি পূর্বেই ছিলো যা থেকে স্মৃতি ও সদাচার তাকে গ্রহণ করেছে। বেদের বেশ কয়েকটি শব্দ লুপ্ত হওয়ায় এখন সেগুলি অপ্রাপ্য। এখানে ‘অপ্রাপ্য’ শব্দের এই অর্থ করতে হবে যে সেগুলির অভিব্যক্তি নেই, অন্যথায় নিত্য হওয়ার জন্য বেদের শব্দরাজি তো কোথাও না কোথাও সংরক্ষিত থাকবেই। Read the rest of this entry »

4565179933.

| মীমাংসা দর্শন-০৭ : শব্দ প্রমাণ |
রণদীপম বসু

(৪) শব্দ প্রমান :

মীমাংসাদর্শনের মূল উদ্দেশ্য হলো বৈদিক ক্রিয়াকান্ডের যাথার্থ্য ও উপযোগিতা ব্যাখ্যা করা। এবং বেদের প্রামাণ্য প্রতিষ্ঠা হলেই তা সম্ভব। সে কারণে মীমাংসকরা স্বীকৃত অন্যান্য প্রমানের চাইতে শব্দ-প্রমানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বেদে যাগযজ্ঞাদি কর্মের বিধান বহুল পরিমাণে বর্তমান। মীমাংসকদের মতে এই কর্মের বিধানই বেদবাক্যের প্রকৃত তাৎপর্য। বেদে যদিও সিদ্ধার্থ বাক্যও রয়েছে, কিন্তু সেগুলিরও উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল বাক্য দ্বারা প্রকাশিত তত্ত্বগুলির অস্তিত্ব ও স্বরূপ ব্যাখ্যা করে মানুষকে কর্মে প্রণোদিত করা।  Read the rest of this entry »

270046_10150394210027907_551847906_10611447_6399060_n

| সাংখ্য দর্শন-১১: সাংখ্য জ্ঞানতত্ত্ব |

রণদীপম বসু

.: সাংখ্য জ্ঞানতত্ত্ব

সাংখ্য দর্শনে মোক্ষউপযোগী বিবেকজ্ঞান ছাড়াও একপ্রকার ব্যবহারিক জ্ঞান স্বীকার করা হয়েছে। ঘটপট ইত্যাদি জাগতিক বিষয়ক যে জ্ঞানের দ্বারা আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার নিষ্পন্ন হয়, তাকেই ব্যবহারিক জ্ঞান বলা হয়। ন্যায়বৈশেষিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাংখ্য সম্প্রদায়ও এ বিষয়ে একমত যে, জ্ঞান মাত্রই সবিষয়ক। বিষয় বিহীন কোন জ্ঞানের অস্তিত্ব নেই। জ্ঞানের বিষয়কে বলা হয় জ্ঞেয় এবং জ্ঞানের কর্তাকে বলা হয় জ্ঞাতা। সাংখ্যমতে পুরুষই একমাত্র জ্ঞাতা হতে পারে। পুরুষ বা আত্মার বহুত্ব সাংখ্যশাস্ত্রে স্বীকৃত। পুরুষ ব্যতীত বাকি সকল তত্ত্বই অচেতন বলে প্রকৃতিজাত মহৎ ইত্যাদি যাবতীয় বস্তুই অচেতন ও কেবলমাত্র জ্ঞানের বিষয় বা জ্ঞেয় হতে পারে। Read the rest of this entry »

284016_10150394213072907_551847906_10611493_2536305_n

| সাংখ্য দর্শন-১: সাংখ্যমতে জগতের অভিব্যক্তি |

রণদীপম বসু

.: সাংখ্যমতে জগতের অভিব্যক্তি

সাংখ্য দার্শনিকরা হলেন পরিণামবাদী। তাঁদের মতে জগৎ হলো প্রকৃতির পরিণাম। প্রকৃতি হলো জগতের উৎপত্তির প্রতি উপাদান কারণ। অর্থাৎ, জগৎ ও জগতের প্রত্যেক বস্তু ও বিষয়ের মূল কারণ প্রকৃতি। বলা হয়, সৃষ্টির পূর্বে জগৎ প্রকৃতির মধ্যে অব্যক্ত অবস্থায় থাকে। পুরুষের সান্নিধ্যে প্রকৃতি ও পুরুষের সংযোগ হওয়ার ফলে জগতের অভিব্যক্তি হয়। সাংখ্যমতে একেই জগতের সৃষ্টি বলা হয়। এই সৃষ্টির পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়াও সাংখ্যশাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 346,259 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 113 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2018
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements