h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘যোগিনী

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

তন্ত্র-সাধনা-১৬ : তন্ত্রের জ্ঞানতত্ত্ব
রণদীপম বসু

তন্ত্র বিষয়ে এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হয়েছে তার সবই তান্ত্রিক সাধনার কর্ম-কাণ্ড বা সাধন-কাণ্ড বিষয়ক। এবার তন্ত্র-শাস্ত্রের জ্ঞান-কাণ্ড বা দার্শনিক ভাগেরও কিছুটা আলোকপাতের প্রয়োজন রয়েছে।
কর্ম-কাণ্ডের প্রকরণে দেখা যায়, অতি নিম্ন স্তরের উপাসক যেমন দেখতে পান তাঁর উপযোগী উপাসনার পদ্ধতি তন্ত্র-শাস্ত্রে রয়েছে, তেমনি অতি উচ্চ স্তরের সাধকও দেখতে পান যে তাঁর উপযোগী উপদেশও তন্ত্রে কম নেই। হিন্দুশাস্ত্রের অভিনবত্ব এখানেই যে তা কখনও কাউকেও নিরাশ করে না। সব-ধরনের অধিকারীকেই কোলে স্থান দেয়। অধিকারী-ভেদে শাস্ত্রের বিভিন্ন অনুশাসন প্রযুক্ত হয়ে থাকে। অতি সাধারণের ইতু-পুজা, সুবচনীর ব্রত প্রভৃতি কর্ম থেকে কৌল জ্ঞানীর ব্রহ্ম-তত্ত্ব পর্যন্ত সবকিছুই অধিকারী-ভেদে গ্রাহ্য হয়ে থাকে। হিন্দুর তেত্রিশ কোটি দেবতার তাৎপর্যও বোধকরি এখানেই। কেননা, হিন্দুর বহু-দেবতাবাদ ও একেশ্বরবাদকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, অসংখ্য দেবতাকে স্বীকার করেও চরম তত্ত্ব অর্থাৎ ‘একমেবাদ্বিতীয়ম্’ শ্রুতির সাথে কোন বিরোধ ঘটে না। একইভাবে এই সমন্বয় বুদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে তন্ত্র-শাস্ত্রের উপাসনা-প্রণালীর বিচার করলেও সেই চরম তত্ত্বের অন্যথা হয় না। উপাসনা-প্রণালীর মধ্যে পঞ্চোপাসক তথা শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর ও গাণপত্য সাধকের ভেদ কল্পিত-মাত্র বলেই মনে হয়। পথের বিভিন্নতায় গন্তব্য স্থল ভিন্ন হয়ে যায় না। সবারই চরম উপেয় এক, অর্থাৎ অভিন্ন। ব্যবহারিক ভেদের দ্বারা তাত্ত্বিক অভেদ কখনও ক্ষুন্ন হয় না। Read the rest of this entry »

22886115_10212972919370576_6842653939649599503_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৪ : তান্ত্রিক-বৌদ্ধধর্মে দেবীবাদ
রণদীপম বসু

এ প্রসঙ্গে এমন প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে, বৌদ্ধদর্শনের মতো একটি নৈরাত্ম্যবাদী দর্শনের ছায়াতলে গড়ে ওঠা বৌদ্ধধর্মের পরম্পরায় এই যে আত্মা ও বিভিন্ন কাল্পনিক দেবসংঘের আবির্ভাব, তাকে কি প্রকৃতই বুদ্ধ অনুসারী সাধক-সম্প্রদায় বলা যায়? নাকি প্রাচীন কোনো লোকায়তিক ঘরানার গুহ্য সাধক-সম্প্রদায়ের সাধনপন্থার মধ্যে প্রাচীন হিন্দুতান্ত্রিক শাক্ত ধারণা ও মহাযানী বৌদ্ধমতের দার্শনিক প্রপঞ্চ মিলেমিশে নতুন কোনো সাধনপন্থার স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে এগিয়ে গেছে? কিন্তু এই প্রশ্নের নিরসন আদৌ সহজসাধ্য নয় বলেই মনে হয়। কেননা, বৌদ্ধতন্ত্রগ্রন্থ সাধনমালায় উড্ডিয়ান (ধারণা করা হয় বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রাম), (অসমের) কামাখ্যা, সিরিহট্ট (বর্তমানের শ্রীহট্ট) ও পূর্ণগিরি এই চারটি তন্ত্রের মুখ্য পীঠস্থান বলে উল্লেখ আছে, যেগুলো বৌদ্ধদেবী বজ্রযোগিনীর পূজার জন্য বিখ্যাত ছিলো। তাছাড়া নালন্দা, বিক্রমশিলা, সারনাথ, ওদন্তপুরী, জগদ্দল ইত্যাতি প্রাচীন বৌদ্ধ বিদ্যাপীঠগুলোতে বজ্রযানের অনুশীলন হতো বলেও জানা যায়– Read the rest of this entry »

12011162_599224543548937_1320819162422014148_n

বৌদ্ধ তন্ত্র ও তার দেবদেবী-০১ : ভূমিকা
রণদীপম বসু

তন্ত্রের সাথে যে কল্পিত দেবীশক্তির সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এ-বিষয়ে মনে হয় সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। আর দেবীসাধনা মানেই তো দেবীপূজা। তার মানে এখানে যে শাক্ত-প্রভাব প্রবল এটা বোধকরি অস্বীকার করা যায় না। আবার একই নামের বা বৈশিষ্ট্যের দেবীর হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় তান্ত্রিক ধর্মে উপস্থিতি থাকায় হিন্দু তন্ত্র-পুরাণাদিতে গৃহীত বহু দেবীকে বৌদ্ধ দেবী বলেও সন্দেহ করা হয়। যেমন, হিন্দু-দেবী তারাকে বহুরূপে হিন্দু উপপুরাণ-তন্ত্রাদির মধ্যে পাওয়া যায়। এই তারা-দেবী যে বৌদ্ধ তারা বা উগ্রতারা বা একজটা দেবী, সেকথাও আজ প্রায় স্বীকৃত। এ ছাড়াও– Read the rest of this entry »

12003326_595367053934686_3088831673279228900_n

তন্ত্র-সাধনা-০৩ : তন্ত্রের প্রাচীনত্ব
রণদীপম বসু

তান্ত্রিক ধর্মচর্যা ও তার প্রাচীনত্ব ইত্যাদি সম্বন্ধে নির্দিষ্ট সন তারিখ দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য যদিও এখনও আমাদের হাতে নেই, তবু কিছু কিছু সাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যে তান্ত্রিকতার প্রাচীনত্ব নির্দেশ করে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। সুখময় শাস্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী– ‘মেদিনী-কোষে দেখা যায়, তন্ত্র শব্দের অন্যতম অর্থ শ্রুতির শাখাবিশেষ। সাধারণতঃ তন্ত্রশব্দ শাস্ত্র-বাচক। বিশেষ অর্থে আগম-শাস্ত্র বা সাধন-শাস্ত্রকে বুঝায়। তন্ত্রশাস্ত্রের প্রাচীনতার অনুকূলে আরও একটি কথা বলিবার আছে। স্মৃতিসংহিতা এবং পুরাণাদিতে কোথাও স্পষ্টতঃ, কোথাও বা ভাবতঃ তন্ত্রশাস্ত্রের উল্লেখ আছে। কিন্তু কোনও তন্ত্রগ্রন্থে স্মৃতি বা পুরাণের নাম গৃহীত হয় নাই।’- (তন্ত্রপরিচয়, পৃষ্ঠা-১৮)

         বৃহৎসংহিতাকার (আনুমানিক খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতক) বরাহমিহির যে অতি অল্প কথায় মাতৃকাগণের মণ্ডলক্রমানুযায়ী ধর্মানুষ্ঠানের বিষয়ে বলেছেন তা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তার শতাব্দীকাল পরে (সপ্তম শতকের প্রথমভাগে) ভারত পরিভ্রমণকারী চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তাঁর সি-ইউ-কি গ্রন্থে গান্ধার পরিক্রমার বিবরণ প্রসঙ্গে লিখেছেন যে–
‘প্রাচীন গান্ধার প্রদেশের (ভারত সম্বন্ধীয় বৈদেশিক লেখকগণের মতানুযায়ী এটি বর্তমান পশ্চিম পাকিস্তানের পেশোয়ার জেলার প্রাচীনকালে প্রচলিত নাম) মধ্যস্থলে ভীমাদেবী পর্বত নামে একটি বৃহৎ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। তার উপরে মহেশ্বরের পত্নী ভীমাদেবীর গাঢ় নীলবর্ণের প্রস্তরের এক প্রতিকৃতি ছিল। স্থানীয় জনগণের মতে দেবীর প্রতিকৃতিটি অকৃত্রিম এবং তাঁর মন্দির ভারতের সকল অংশের দেবীপূজকদের পবিত্র গন্তব্য বা দ্রষ্টব্য স্থান ছিল। পর্বতের সানুদেশে মহেশ্বরদেবের এক মন্দির ছিল; এখানে ভস্মলিপ্ত তীর্থিকগণ (এরা পাশুপত সম্প্রদায়ভুক্ত বলে ধারণা করা হয়) বিশেষ পূজা করতেন।’ (সূত্র: পঞ্চোপাসনা) Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,626 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos