h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘যুগ

Mukhalinga

শিব ও লিঙ্গ-০৪ : মানববিকাশের নৃতাত্ত্বিক ধারায় লিঙ্গোপাসনার পটভূমি
রণদীপম বসু

ইতঃপূর্বে আমরা যদিও পর্যায়ক্রমিক আলোচনায় মাঝেমধ্যে নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি-প্রসূত কিছু কিছু প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি টেনেছি, তবুও আলোচনার স্পষ্টতার জন্যে মানবসভ্যতার বিবর্তন ধারার প্রাথমিক আরও কিছু আলোচনা বোধ করি অপ্রাসঙ্গিক হবে না। বিষয়গত ধারণার স্পষ্টতার লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক অনুমানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বিদ্বান লেখকদের পূর্বাপর নৃতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার একটা সমন্বিত সার-সংক্ষেপ এখানে বিবৃত করার চেষ্টা করা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

8789_557895800891308_559927591_n

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৮ : উপসংহার |
রণদীপম বসু

৩.৮ : উপসংহার

বৈদিক সাহিত্যের এ-পর্যন্ত আলোচনা থেকে একটা বিষয় আমাদের কাছে পরিস্ফুট হয় যে, প্রাচীনতর রচনাগুলিতে প্রাচীন কবিদের একান্ত বস্তুকেন্দ্রিক পার্থিব চাওয়া-পাওয়া ও নিরাপত্তার কামনাকে কেন্দ্র করেই তাতে আদিম যৌথ-জীবন ও তার সরল স্বীকারোক্তিমূলক উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। তাতে যুক্ত হয়েছে প্রাচীন বৈদিক ঋষিদের আদিম জাদু-বিশ্বাস, অন্নচিন্তা-সর্বস্ব চেতনায় আদিম পৌরাণিক কল্পনা ও দেব-পরিকল্পনা, এমনকি আদিম সাম্য সম্পর্কের অমোঘ নিয়মানুবর্তিতার অনুরূপে বিশ্বের অমোঘ নিয়মানুবর্তিতার আভাস। কিন্তু স্বাভাবিক কারণেই এ-সবই চিন্তা-দৈন্যেরও পরিচায়ক। কেননা অতীতের ওই জীবন আদিম অভাবের জীবন এবং এই অভাব শুধুমাত্র জাগতিক সম্পদেরই অভাব নয়, চিন্তাচেতনারও চরম অভাবের জীবন। ইতিহাসের নিয়মেই উৎপাদন-পদ্ধতির উন্নতির ফলে আদিম জীবনের অবসান অনিবার্য। ফলে শ্রেণীবিভক্ত সমাজের দিকে ধাবমান সমাজ-কাঠামোর আদিম সাম্যের ভঙ্গুর অবস্থাতে পুরনো অভ্যন্ততার মায়া সহজে কাটিয়ে ওঠাও কঠিন বৈকি। আর তাই ঋত-হীন এক নতুন পরিস্থিতি থেকে পুরনো এক ঋত-যুক্ত অতীতকে ফিরে পাবার আকুতিও পরবর্তীকালের প্রাচীন রচনায় পরিদৃষ্ট হয়। কিন্তু সময় যেহেতু পেছনে গড়ায় না, সভ্যতার পরবর্তী স্তরে উন্নীত হবার ঐতিহাসিক মূল্য হিসেবে অবসান ঘটেছে সকল স্বতঃস্ফুর্ত নৈতিক চেতনারও। এই নিয়মে বৈদিক সমাজ-বিবর্তনের সাথে চিন্তা-চেতনার বিবর্তনও অবশ্যম্ভাবী ছিলো। আর তাই এই বিবর্তনগুলি বোঝবার ক্ষেত্রে ঋগ্বেদের প্রাচীনতর অংশে সংরক্ষিত বৈদিক সমাজ ও জীবন-যাত্রার স্মারকগুলিকে কোনভাবেই অবহেলা করা সমীচীন হবে না। Read the rest of this entry »

flyingmachine3negative

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৭ : ব্রহ্মন্ ও মায়া |
রণদীপম বসু

৩.৭ : ব্রহ্মন্ ও মায়া

ঋত-র আলোচনায় আমরা দেখেছি, ঋগ্বেদের প্রাচীন দেবতা বরুণ হলেন ঋত বা সত্য ও ন্যায়ের রক্ষক। কিন্তু প্রাচীন বৈদিক কবিদের রচনায় বরুণ শুধু ঋত-যুক্ত ও ঋত-র পালকই নন, তিনি মায়া-যুক্ত বা মায়াবীও। স্বভাবতই, এই মায়ার সঙ্গে ঋত-র সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় বলেই অনুমান হয়। ঋগ্বেদে বলা হচ্ছে, চন্দ্রালোকের ঔজ্জ্বল্য যেমন দ্যাবাপৃথিবীর সর্বত্র প্রবেশ করে মিত্রাবরুণের মায়াও সেইরূপ ঋত-র মূলে প্রবেশ করে। যেমন–

ঋৃতস্য বুধ্নঃ ঊষসামিষণ্যন্বৃষা মহী রোদসী আ বিবেশ।
মহীমিত্রস্য বরুণস্য মায়া চন্দ্রেব ভানুং বি দথে পুরুত্রা।। (ঋগ্বেদ-৩/৬১/৭)।
ধর্মণা মিত্রাবরুণা বিপশ্চিতা ব্রতা রক্ষেথে অসুরস্য মায়য়া।
ঋতেন বিশ্বং ভুবনং বি রাজথঃ সূর্যমা ধত্থো দিবি চিত্র্যং রথম্ ।। (ঋগ্বেদ-৫/৬৩/৭)।
অর্থাৎ :
ঊষাগুলিকে প্রেরণ করতে ইচ্ছুক হয়ে ঋতের মূল বৃষ্টির সাহায্যে স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যে প্রবেশ করেছিল; মিত্র ও বরুণের মহতী মায়া চন্দ্রের ন্যায় নিজপ্রভা বহুলভাবে প্রসারিত করেছিল। (ঋক-৩/৬১/৭)।।  হে প্রাজ্ঞ মিত্রাবরুণ! তোমরা ধর্মদ্বারা ও অসুরের মায়াদ্বারা যজ্ঞসমূহ রক্ষা কর, ঋতদ্বারা এই বিশ্বভুবনকে দীপ্যমান কর; সুর্যকে তার বিচিত্র রথসহ ধারণ করে থাক। (ঋক-৫/৬৩/৭)।।

Read the rest of this entry »

BLACK_FOREST

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৬ : যজ্ঞ |
রণদীপম বসু

৩.৬ : যজ্ঞ

ঋগ্বেদে অবশ্যই যজ্ঞ, যজমান, ঋত্বিক প্রভৃতির প্রচুর উল্লেখ রয়েছে; এমন কি এতে উত্তর-সাহিত্যে– যজুর্বেদ এবং ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থে– বর্ণিত কোনো কোনো বিশিষ্ট যজ্ঞের পরিচয়ও পাওয়া যায়। যেমন, অধ্যাপক কীথ্ বলছেন– ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১৬২ ও ১৬৩ সূক্ত অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই অশ্বমেধ যজ্ঞের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত। মূলত ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের উল্লিখিত সূক্তগুলিরই পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায় তৈত্তিরীয়-সংহিতা বা কৃষ্ণযজুর্বেদের চতুর্থ কাণ্ডের ষষ্ঠ প্রপাঠকের মন্ত্রগুলিতে, যেগুলি অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে পঠিত হয়। কিন্তু উত্তর-সাহিত্যে অর্থাৎ যজুর্বেদ ও ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থে বৈদিক যজ্ঞকে যে-জটিল ও পল্লবিতরূপে দেখা যায় ঋগ্বেদে নিশ্চয়ই তার পরিচয় নেই। এর থেকে অনুমান করা হয় যে, ঋগ্বেদের যুগে যজ্ঞ পরবর্তীকালের মতো ছিলো না। তার মানে, বিদ্বান গবেষকদের দৃষ্টিতে, যজ্ঞের আদি-রূপ ও উত্তর-রূপ এক নয়। অর্থাৎ, পরবর্তী কালে যজ্ঞ বলতে আমরা যা বুঝতে অভ্যস্ত হয়েছি আদিতে যজ্ঞ বলতে ঠিক তা বোঝাতো না। Read the rest of this entry »

daynight

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৫ : ঋত |
রণদীপম বসু

৩.৫ : ঋত

অথর্বন্-দের সঙ্গে যে-অঙ্গিরস্-দের নাম থেকে অথর্ববেদের আদি-নামকরণ, ঋগ্বেদের প্রাচীন অংশের কবিরাও তাঁদের সুদূর অতীতের অসীম শক্তিশালী জাদুকর বলে স্মরণ করেছেন এবং সেই সঙ্গেই স্মরণ করেছেন যে তাঁরা ছিলেন ঋত-বান বা ঋত-যুক্ত। যেমন–

ত ইন্দেবানাং সধমাদ আসন্নৃতাবানঃ কবয়ঃ পূর্ব্যাসঃ।
গূড়্হং জ্যোতিঃ পিতরো অন্ববিন্দন্ত্সত্যমন্ত্রা অজনয়ন্নুষাসম্ ।। (ঋগ্বেদ-৭/৭৬/৪)।
সমান ঊর্বে অধি সঙ্গতাসঃ সং জাততে ন যতন্তে মিথস্তে।
তো দেবানাং ন মিনন্তি ব্রতান্যমর্ধন্তো বসুভির্যাদমানাঃ।। (ঋগ্বেদ-৭/৭৬/৫)।
অর্থাৎ :
যে ঋতবান অঙ্গিরাগণ কবি, পূর্বকালীন পিতা ও যাঁরা গূঢ় জ্যোতি লাভ করেছিলেন এবং অবিতথ মন্ত্রদ্বারা ঊষাকে প্রাদুর্ভূত করেছিলেন, তাঁরাই দেবগণের সঙ্গে একত্রে প্রমত্ত হতেন। (ঋক-৭/৭৬/৪)।।  তাঁরা সাধারণ গো-সমূহের জন্য সঙ্গত হয়ে একবুদ্ধি (পরস্পর সমান) হয়ে ছিলেন। তাঁরা কি পরস্পর যত্ন করেন নি? তাঁরা দেবগণের কর্ম হিংসা করেন না। তাঁরা হিংসারহিত বাসপ্রদ কিরণের দ্বারা গমন করেন। (ঋক-৭/৭৬/৫)।।

Read the rest of this entry »

Perseus

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৪ : দেবতা ও মানব– ইন্দ্র, বরুণ ও মরুৎগণ |
রণদীপম বসু

৩.৪ : দেবতা ও মানব– ইন্দ্র, বরুণ ও মরুৎগণ

ঋগ্বেদের প্রধান দেবতা বলতে অবশ্যই বরুণ ও ইন্দ্র। এবং প্রধানতম বলেই, বিদ্বান গবেষকদের মতে, এঁদের সূত্র অনুসরণ করে বৈদিক সমাজ ও বৈদিক চিন্তার অত্যন্ত মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং বিবর্তন বোঝবার সুযোগ হতে পারে। তবে বর্তমান আলোচনার প্রাসঙ্গিক হিসেবে বৈদিক দেবতাদের প্রকৃতি বোঝার আশায় কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিচার করা যেতে পারে। এবং পর্যালোচনার সুবিধার্থে এক্ষেত্রে আমরা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ভারতীয় দর্শন’ গ্রন্থের আলোচনা-রীতির অনুসরণ করতে পারি। Read the rest of this entry »

shadowknight_coverart

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৩ : পৃথিবী স্থানের দেবতা |
রণদীপম বসু

(গ) পৃথিবী স্থানের দেবতা

ঋগ্বেদে পৃথিবী স্থানের প্রধান দেবতারা হলেন অগ্নি, সোম, বৃহস্পতি এবং পৃথিবী। বৈদিক কবিদের কল্পনায় তাঁদের বর্ণনা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। এ-প্রেক্ষিতে এই দেবতাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেখা যাক। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 453,076 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 125 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

নভেম্বর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 5 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos