h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘মোক্ষ

tumblr_oyn2ikgd911sjjdtyo1_500
শিব ও লিঙ্গ-৯/৮ : কাশ্মীর শৈববাদ
রণদীপম বসু

খ্রিস্টীয় নবম শতকে উত্তর ভারতের কাশ্মীর প্রদেশে একদল শৈবাচার্যের আবির্ভাবের মাধ্যমে কাশ্মীর শৈববাদের উদ্ভব বলে মনে করা হয়। এই আচার্যদের অন্তরস্থ শিবপ্রেম দার্শনিক তত্ত্বের আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। এই আচার্যগোষ্ঠী প্রচারিত শৈবদর্শন এবং ধর্মাচরণ সম্পূর্ণভাবে উগ্রতা ও অতিমার্গিতা দোষ থেকে মুক্ত ছিল। এই মতবাদ বেদ প্রামাণ্য স্বীকার করে না, জাতিভেদও নয়। ত্রিক, স্পন্দ ও প্রত্যভিজ্ঞা– এই তিনটি আদর্শ কাশ্মীর শৈববদাকে চিহ্নিত করেছে, এবং তিনটি নামেই এই মতবাদকে বোঝানো হয়। যদিও প্রত্যভিজ্ঞাদর্শন, স্পন্দবাদ, ত্রিকশাস্ত্র, ষড়র্দ্ধশাস্ত্র, শৈবাদ্বৈতবাদ, আভাসবাদ, কাশ্মীরীয় শৈবাগম– এই কয়েকটি নামে আলোচ্য মতবাদটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। Read the rest of this entry »

Advertisements

22883335_10212972927610782_366718309_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৩ : বৌদ্ধ-তত্ত্বের বিবর্তন
রণদীপম বসু

বলা হয়ে থাকে যে, দুঃখতত্ত্বই বৌদ্ধধর্মের মূল তত্ত্ব এবং আদিতম বৌদ্ধধর্মের বিকাশ এই তত্ত্বকে আশ্রয় করেই হয়েছিল। পালি বৌদ্ধশাস্ত্রে বৌদ্ধধর্মের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা রীতিমতো জটিল ও পল্লবিত। বুদ্ধকথিত চারটি আর্যসত্য হচ্ছে– দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব, এবং তার জন্য সঠিক পথ জানা চাই যাকে বলা হয় দুঃখ-নিবৃত্তি-মার্গ। এক্ষেত্রে এটাও বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার যে, সকল ভারতীয় দর্শনই এই দুঃখতত্ত্বকে অবলম্বন করে অগ্রসর হয়েছে। যেমন, সাংখ্যদর্শন অনুযায়ী দুঃখ তিন প্রকার– আধিদৈবিক, আধিভৌতিক ও আধ্যাত্মিক। বিদ্বান গবেষক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতে, কার্যকারণ সম্পর্কের প্রতি বুদ্ধের নির্ভরতা সম্ভবত তাঁর গুরু আঢ়ার কালামের নিকট সাংখ্যদর্শন পাঠের ফল, যার মূল কথা একই বস্তু কার্যে ও কারণে বিদ্যমান। কার্যে যা ব্যক্ত তা কারণে অব্যক্ত। বুদ্ধের প্রতীত্যসমুৎপাদ তত্ত্বের এটাই হচ্ছে ভিত্তি। Read the rest of this entry »

12039374_596710877133637_3107122657114716968_n

তন্ত্র-সাধনা-০৯ : তন্ত্রের সপ্ত-আচার
রণদীপম বসু

আচার বলতে শাস্ত্রবিহিত অনুষ্ঠেয় কতকগুলি কার্যকে বোঝায়। অর্থাৎ শাস্ত্রে যে কার্যগুলি বিধেয় বলে নির্দিষ্ট আছে এবং অবশ্যই যার অনুষ্ঠান করতে হবে, তাকেই আচার বলে। আবার শাস্ত্রবিধি-বিগর্হিত কার্যকেও আচার বলে, কিন্তু তা কদাচার। অতএব আচার বলতে শাস্ত্রবিধিবিহিত অনুষ্ঠেয় কার্যসমষ্টিকেই বুঝিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বক্তব্য হলো–
‘তন্ত্রে সাতটি আচারকে স্বীকার করা হয়, কুলার্ণব মতে সেগুলি হল বেদ, বৈষ্ণব, শৈব, দক্ষিণ, বাম, সিদ্ধান্ত ও কৌল। প্রথম তিনটি পশুভাবের মানুষদের জন্য, চতুর্থ ও পঞ্চমটি বীরভাবের মানুষদের জন্য, ষষ্ঠ ও সপ্তমটি দিব্যভাবের মানুষদের জন্য। প্রথম আচারটি হল দেহ ও মনের শুচিতার জন্য, দ্বিতীয়টি ভক্তির জন্য, তৃতীয়টি জ্ঞানের জন্য, চতুর্থটি প্রথম তিনটির সমন্বয়, পঞ্চমটি ত্যাগের জন্য, ষষ্ঠটি ত্যাগের উপলব্ধির জন্য এবং সপ্তমটি মোক্ষের জন্য নির্দিষ্ট। পরশুরামকল্পে বলা হয়েছে প্রথম পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুর সাহচর্য ও নির্দেশ লাগে, কিন্তু শেষ দুটি ক্ষেত্রে সাধক স্বাধীন। আচারের এই সাতটি স্তরকে অন্যভাবে বলা হয় আরম্ভ, যৌবন, প্রৌঢ়, প্রৌঢ়ান্ত, উন্মনী ও অনবস্থা। সৌন্দর্যলহরীর টীকাকার লক্ষ্মীধর আবার অন্যরকম উপাসক ভাগ করেছেন– সময়াচার, মিশ্রাচার এবং কৌলাচার।’- (ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রাচীন ভারতীয় প্রেক্ষাপট/ পৃষ্ঠা-১৬৮) Read the rest of this entry »

ancient-philosopher

| চার্বাক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা-১৭ : চার্বাকী বস্তুবাদ |
রণদীপম বসু

৪.০ : চার্বাকী বস্তুবাদ

চার্বাক সিদ্ধান্তের আলোচনার সময় প্রথমেই আমাদের যে বিষয়টি মনে রাখা আবশ্যক তা হলো, চার্বাককে দেখা উচিত ভারতীয় একটি দর্শন হিসেবেই এবং এই চার্বাক দর্শনের সামগ্রিক চিত্রায়ণ ভারতীয় দর্শনের সাধারণ ধারার পরিপ্রেক্ষিতেই করা উচিত। সে বিবেচনায়, আমরা আগেই দেখেছি যে কেবল থিওরি বা মতবাদের মধ্যে ভারতের কোন দর্শনই আসলে সম্পূর্ণভাবে রূপায়িত নয়। আর তাই ব্যবহারিক ক্ষেত্রে দর্শনটি যে আকারে প্রতিভাত, দর্শনের সম্পূর্ণ রূপরেখার বিচারে তার আলোচনাও আবশ্যক বৈকি। Read the rest of this entry »

548528_3319765507046_1055540337_32441646_1431643661_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৬ : অবিদ্যা |
রণদীপম বসু

২.৩ : অবিদ্যা

ইতোমধ্যেই আমরা যোগশাস্ত্রের পরিভাষায় অন্তর্ভুক্ত ‘ক্লেশ’ শব্দটির সাথে পরিচিত হয়েছি। যোগমতে একমাত্র এই ক্লেশের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমেই কৃত কর্মের ফলাবহী হওয়া সম্ভব। যোগসূত্র অনুযায়ী ক্লেশ পাঁচ রকম– অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ ও অভিনিবেশ। যেমন–

‘অবিদ্যাস্মিতারাগদ্বেষাভিনিবেশাঃ ক্লেশাঃ।’- (যোগসূত্র-২/৩)
অর্থাৎ : অবিদ্যা, অস্মিতা, রাগ, দ্বেষ এবং অভিনিবেশই পঞ্চপ্রকার ক্লেশের পঞ্চনাম।

Read the rest of this entry »

603577_517426961604859_212592864_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৫ : কর্মফল ও জন্মান্তরবাদ |
রণদীপম বসু

২.২ : কর্মফল ও জন্মান্তরবাদ

যে মোক্ষ বা নির্বাণ ভারতীয় অধ্যাত্মদর্শনে চরম লক্ষ্য হিসেবে নির্দেশিত, তাকে বিশেষ কোন জন্মমৃত্যুর পরিসরে আবদ্ধ জীবনে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। ফলে এই লক্ষ্যে উপনীত হবার প্রস্তুতি হিসেবেই স্বীকৃত হয়েছে নির্দিষ্ট কোন জীবনের আগে এবং পরে জীবের আরও বিভিন্ন জন্ম-পুনর্জন্মের অস্তিত্ব। এই জন্মগুলিতে ভোগের মাধ্যমে প্রারব্ধ কর্ম ক্ষয় করে জীবকে যেতে হয় মোক্ষের দ্বারপ্রান্তে এবং জন্ম থেকে জন্মান্তরের এই সুদীর্ঘ পথের অতিক্রমণে যাত্রী হলো জীবের দেহাতীত সত্তা। এ প্রসঙ্গে কর্মফলবাদেরও উল্লেখ করতে হয়। কারণ প্রকৃতপক্ষে জন্মান্তরবাদ এবং কর্মফলবাদ– এ দুটি ধারণা পরস্পরের পরিপূরক। এই জন্মান্তর আর কর্মফলের স্বীকৃতির ভিত্তির উপর ভারতীয় দর্শনের যে বিশাল সৌধ দণ্ডায়মান, তার প্রাথমিক ধারণার ঔপনিষদিক উন্মেষও ঘটেছিলো উপনিষদীয় ঋষির কোন এক কৌতুহল-মুহূর্তে। অবশ্যই উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয় যে, প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যের মধ্যে প্রথমকালের অন্যতম প্রাচীন উপনিষদ ছান্দোগ্যই সর্বপ্রথম পুনর্জন্ম বিষয়ক ধারণার অবতারণা করে। ছান্দোগ্য উপনিষদে প্রচারিত পুনর্জন্ম সম্বন্ধে সেই সর্বপ্রাচীন উক্তিটি হলো–

‘তদ্য ইহ রমণীয়চরণা অভ্যাশো হ যত্তে রমণীয়াং যোনিম্ আপদ্যেরন্ । ব্রাহ্মণযোনিং বা ক্ষত্রিয়াযোনিং বা বৈশ্যযোনিং বাথ য ইহ কপূয়চরণা অভ্যাশো হ যত্তে কপূয়াং যোনিম্ আপদ্যেরন শ্বযোনিং বা সূকরযোনিং বা চন্ডালযোনিং বা।। (ছান্দোগ্য-৫/১০/৭)।।
অর্থাৎ :
তাদের মধ্যে যারা (পূর্বজন্মে) রমণীয় আচরণ বা পুণ্যকর্ম করে তারা দেহান্তরে শীঘ্রই ব্রাহ্মণযোনিতে বা ক্ষত্রিয়যোগিতে বা বৈশ্যযোনিতে জন্মলাভ করে। আবার যারা (পূর্বজন্মে) কপূয়াচরণ অর্থাৎ কুৎসিত বা অশুভ কর্ম করে তাদের শীঘ্রই কুকুরযোনিতে বা শূকরযোনিতে বা চণ্ডালযোনিতে পুনর্জন্ম হয়।

Read the rest of this entry »

552603_502923003058623_1256239778_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৪ : পরমার্থ মোক্ষ |
রণদীপম বসু

২.১ : পরমার্থ মোক্ষ

যেহেতু বৈদিক ষড়দর্শনগুলির নিজস্ব স্বীকৃতি অনুযায়ী এগুলি উপনিষদের অনুগামী, তাই ভারতীয় অধ্যাত্মদর্শনের মূলগত ঐক্যের বীজের সন্ধানও প্রকৃতপক্ষে উপনিষদেই করা চলে। এবং আরও দেখা যায়, ‘নাস্তিক’ সংজ্ঞায় চিহ্নিত বৌদ্ধ এবং জৈন দর্শন দুটির মধ্যেও একই উপনিষদীয় চিন্তার প্রবাহ দুটি পৃথক ধারায় প্রবহমান। যেমন উপনিষদের অনুগামী সাংখ্যদর্শনের মধ্যে জাগতিক সব রকম দুঃখের কবল থেকে অব্যাহতির জন্য তীব্র ব্যাকুলতার প্রকাশ দেখা যায়–

Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 440,797 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 124 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 4 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements