h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘মহাভারত

12046764_600559070082151_1963163237259047425_n

শক্তি-সাধনা-০৪। প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম-সাধনা
রণদীপম বসু

প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুটি মূল ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়– একটি বৈদিক ধারা ও অপরটি বেদ-পূর্ব বা অবৈদিক ধারা। বৈদিক ধারাটি সুস্পষ্টভাবেই আর্যকেন্দ্রিক। আর যে অবৈদিক উপাদানগুলি তাদের স্বকীয় সত্তা নিয়ে কালক্রমে ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষত্বে ভিন্নমাত্রায় একাকার হয়ে আছে, তা হলো প্রাচীন সিন্ধু-সভ্যতা কেন্দ্রিক ধ্যান-ধারণা। ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসধারা বলতে এককালে প্রাচীন বৈদিক ধ্যান-ধারণাকেই বুঝাতো, যা বৈদিক সাহিত্যের বিপুল সম্ভারের মধ্যে মূর্ত হয়ে আছে। কিন্তু ১৯২২ সালে শ্রীযুক্ত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে (বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত) সিন্ধু-উপত্যকায় মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এক সুপ্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার সাক্ষ্য আবিষ্কারের মাধ্যমে সেই সাবেকী ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে ভারতীয় ইতিহাসের প্রাচীনত্ব হঠাৎ আরো কয়েক হাজার বছর বেড়ে যায়। সিন্ধু অঞ্চলে ১৯২২-২৭ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক নমুনা বিশ্লেষণ করে নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হলো যে, এই সভ্যতাকে অন্তত পাঁচ হাজার বছরের পুরানো বলতে হবে, এবং স্বীকার করতে হবে যে, সুমের আক্কাদ ব্যবিলন মিশর ও অ্যাসিরিয়ার মতো ভারতবর্ষও পৃথিবীতে প্রথম-সভ্যতার ইমারত গড়ে তুলতে অগ্রসর হয়েছিলো। এমনকি এটাও দেখা গেলো যে, কোন কোন দিক থেকে ভারতবর্ষের ওই প্রাচীন সভ্যতা সমসাময়িক মেসোপটেমিয়া এবং মিশরের তুলনায় উন্নততর ছিলো এবং পরিধির দিক থেকেও তা অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার চেয়ে ঢের বড়ো ছিলো। এবং সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে ইদানিং কেউ কেউ বলছেন যে, এই সভ্যতা ন্যুনতম আট হাজার বছরেরও প্রাচীন।
Read the rest of this entry »

Advertisements

538724_525348140812741_1924954597_n

|চার্বাক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা-১৯ : বস্তুবাদ বনাম ভাববাদ|
রণদীপম বসু

। বস্তুবাদ বনাম ভাববাদ।

সাধারণ অর্থে ‘বস্তু’ বলতে বোঝায় ইন্দ্রিয়প্রত্যক্ষগ্রাহ্য পদার্থ বিশেষ। এই যে প্রত্যক্ষগ্রাহ্যতা এটাই জ্ঞান। কোনকিছুকে আমরা এভাবেই জানি। প্রত্যক্ষগ্রাহ্যতার সাথে অস্তিত্বশীলতার প্রশ্ন জড়িত। এই অস্তিত্বশীল বস্তুকে ভারতীয় দার্শনিক পরিভাষায় বলা হয় ‘সৎ-বস্তু’। আর অস্তিত্বহীন কোন বিষয়কে বলা যায় ‘অসৎ’। সেক্ষেত্রে বস্তুবাদ বলতে বোঝায় ইন্দ্রিয়াতীত কোন বিষয়কে স্বীকার না করা। অন্যদিকে ভাববাদ তার বিপরীত অবস্থানে। বাস্তব জীবনে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্তায় স্বীকার করেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহ হয়। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার বাইরে গিয়ে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যের অতীত কোন অতীন্দ্রিয় সত্তায় স্বীকার করার যে রহস্যময় ভাববাদী প্রবণতা, তা কী করে মানব-চেতনায় অনুপ্রবেশ করলো এটি একটি জটিল প্রশ্ন বৈকি। মানুষের সকল কর্মই উদ্দেশ্য বিধায়ক, কোন-না-কোন উদ্দেশ্য এতে থাকবেই। কবে কখন কোথায় কীভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে মানব-সভ্যতায় প্রথম এমন ভাববাদী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিলো তা নিশ্চয় করে বলার উপায় নেই। তবে সাধারণ দৃষ্টিতে তার একটি ব্যাখ্যা হাজির করা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

375676_503678702979685_483738966_n

| চার্বাক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা-১৬ : স্বভাববাদ খণ্ডন-প্রচেষ্টা |
রণদীপম বসু

। স্বভাববাদ খণ্ডন-প্রচেষ্টা।

স্বভাববাদ বিরোধীরা বলেন, দুটি ঘটনার একাধিক ক্ষেত্রে ক্রমিক সংঘটনের ব্যাপারে বিশ্লেষণ করলে উভয় ঘটনার আশ্রয় বস্তুগুরির অন্তর্নিহিত সামান্য ধর্মে অধিকাংশ সময়েই কার্যকারণভাবের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। অনুমানের ভিত্তি ব্যাপ্তিজ্ঞানের জনক হিসেবে এই কার্যকারণভাবের উল্লেখ করা যেতে পারে।
কিন্তু কার্যকারণভাবে অবিশ্বাসী চার্বাকেরা মনে করেন যে দুটি ঘটনার একত্র যোগাযোগ নেহাতই অহেতুক এবং এ থেকে ভবিষ্যতেও অতীতের এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি অনুমান করা যায় না। কারণ, অতীতে দৃষ্ট হয়নি এবং সেইজন্য আমাদের কল্পনাতেও আসেনি এমন অনেক বিষয়ের উপস্থিতিতে হয়তো ভবিষ্যতে ঘটনাগুলির ক্রমিকতা নষ্ট হতে পারে।
Read the rest of this entry »

MVI_0011

|চার্বাক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা-১৫ : স্বভাববাদ|
রণদীপম বসু

৩.০ : স্বভাববাদ

ইতঃপূর্বে দেহাত্মবাদের আলোচনায় ‘স্বভাব’ বা ‘স্বভাববাদ’ বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমে উত্থাপিত হয়েছে। কোন প্রসঙ্গে? চার্বাকমতে আগুন বাতাস জল মাটি বলে চৈতন্যহীন ভূতবস্তুরই কোনো একরকম বিশেষ পরিণামের ফলে চৈতন্যবিশিষ্ট দেহের উৎপত্তি হয়। কিন্তু কী করে হয়? আত্মপক্ষ সমর্থনে চার্বাক অবশ্যই দাবি করবেন এ জাতীয় বিশেষ পরিণামের ব্যাখ্যায় ভূতবস্তুগুলি ছাড়া আর কিছু মানার দরকার নেই, কেননা ভূতবস্তুগুলির ‘স্বভাব’ই ওই– অবস্থাবিশেষে তা দেহাকারে পরিণত হয়। কিন্তু, প্রশ্ন উঠবে, এইভাবে চার্বাকমত সমর্থন করার পক্ষে সত্যিই কি কোনো প্রমাণ আছে? কিংবা, যা একই কথা, চার্বাক কি বাস্তবিকই ‘স্বভাব’ বলে কিছু মানতেন? Read the rest of this entry »

314762_501240416556847_1950408058_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৮ : ঈশ্বরবাদ |
রণদীপম বসু

৩.০ : ঈশ্বরবাদ

ভারতীয় অধ্যাত্মদর্শনে নিশ্চয়ই ঈশ্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ। তাই ঈশ্বরবাদের ভূমিকা প্রসঙ্গেও কিছু আলোচনা আবশ্যক বলে মনে হয়। কেননা সাধারণ প্রবণতায় আস্তিকতার সঙ্গে সেশ্বরবাদকে অঙ্গাঙ্গীভাবে অনেকেই যুক্ত করে দেখেন এবং নাস্তিকদের একাত্ম করেন নিরীশ্বরবাদীদের সঙ্গে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেশ্বরবাদ ভারতীয় দর্শনে আস্তিকতার আবশ্যিক অঙ্গ হিসেবে কখনোই গণ্য হয়নি। লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে যে সনাতনপন্থীদের বিচারে বেদের প্রতি আনুগত্যই আস্তিকতার প্রধান মানদণ্ড হিসেবে নির্দেশিত হয়েছে। আর তাই বৌদ্ধ, জৈন এবং চার্বাক দর্শনের ‘নাস্তিক’ সংজ্ঞা হয়েছে এই মানদণ্ডেরই অনুসরণে; ঈশ্বরের প্রতি ঔদাসীন্য বা ঈশ্বরবিরোধিতাকে কেন্দ্র করে নয়। সে-কারণে ভারতীয় বহু দর্শন আস্তিক হলেও সেশ্বর হতে বাধ্য হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই ঈশ্বরের প্রতি ঔদাসীন্য ভারতীয় দর্শনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে। Read the rest of this entry »

1526408_699633360082001_1080703724_n

|প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগ-০৮ : উর্বরতা-কেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাস|
রণদীপম বসু

উর্বরতা-কেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাস :

প্রাচীন বিশ্বাস অনুসারে রক্তবর্ণ উর্বরতার প্রতীক। হয়তো আরো অনেক কিছুই প্রাচীন জাদুবিশ্বাসে উর্বরতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। কিন্তু রক্তরঙের প্রতীকটিকে প্রাচীন মানবগোষ্ঠির বিভিন্ন জাতি ও সমাজে তাৎপর্যময়রূপে উর্বরাশক্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা যায় বলে নৃতত্ত্ববিদেরা মনে করেন। কোথাও ডালিম প্রতীকে, কোথাও সিঁদুর প্রতীকে, কোথাও বা অন্যকিছু। এই ডালিম-ফলের তাৎপর্য প্রসঙ্গে অধ্যাপক জর্জ টমসনের বক্তব্যটি দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের লোকায়ত দর্শন গ্রন্থে পাওয়া যায়- Read the rest of this entry »

1044157_624033784318095_381795834_n.

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-০৪ : শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা |
রণদীপম বসু

১.৩ : শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :
.
বলা হয়, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী। এটি মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে সংক্ষেপে ভগবদ্গীতা বা শ্রীগীতা বা আরো সংক্ষেপে গীতা বলা হয়। ধর্মক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রের সমরাঙ্গনে কৌরবসৈন্য ও পাণ্ডবসৈন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধার্থে সজ্জিত হলে, যুদ্ধে প্রতিপক্ষে অবস্থানকারী আত্মীয়বর্গকে হত্যা করতে হবে ভেবে অন্যতম পাণ্ডব সেনাধ্যক্ষ ধনুর্ধর অর্জুন কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আত্মীয়হত্যা অসঙ্গত বিবেচনা করে ক্ষণিক বৈরাগ্যের মোহাক্রান্ত অর্জুন যুদ্ধে নিবৃত্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁর রথের সারথিরূপ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে বিশদ তত্ত্বসমৃদ্ধ উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে অর্জুনের মোহ দূর করে স্বকর্মে প্রবৃত্ত করেছিলেন, মুখ্যত তা-ই ভগবদ্গীতা। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 214,062 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 88 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« নভে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check