h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘ভাগবত

Lord-Shiva-Face-and--Shivling-with-Dark-Background-HD-Wallpaper
শিব ও লিঙ্গ-০৯/২ : কাপালিক, কালামুখ, মত্তময়ূর সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

শৈব-সম্প্রদায় প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ইতঃপূর্বে কেশীসূক্ত নামে পরিচিত ঋগ্বেদের একটি সূক্ত (ঋগ্বেদ-১০/১৩৬) তর্জমাসহ উদ্ধৃত করে তার উপর আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন যে, এই সূক্তে ধূলিমলিন পিঙ্গলবস্ত্র পরিহিত, দীর্ঘকেশযুক্ত, উন্মত্তপ্রায় একশ্রেণীর মুনির ইঙ্গিত আছে যাদের হয়তো পাশুপত ব্রতধারী রুদ্রশিব পূজকদের পূর্বসূরী হিসেবে গণ্য করা যায়, বিশেষ করে যখন এখানে কেশীমুনির সঙ্গে রুদ্রের বিষপানের ঐতিহ্যকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। তিনি আরও দেখিয়েছেন, পতঞ্জলি আয়ঃশূলিক (লৌহ-ত্রিশূলধারী) এবং দণ্ডাজিনিক (দণ্ডধারী ও পশুচর্ম পরিধানকারী) শিবভাগবতের ধর্মাচরণ সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন কটাক্ষপাত করেছেন, যে আচরণ পরবর্তীকালের লকুলীশ পাশুপত শৈবদের ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করেছি। ক্রাথন-স্পন্দন-মণ্ডন-শৃঙ্গারণ-অবিত্তকরণ-অবিতদ্ভাষণাদি পাশুপত চর্যাসমূহ সুস্পষ্টভাবেই কৌণ্ডিন্য কর্তৃক ব্রাহ্মণ্যকর্মবিরুদ্ধ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। Read the rest of this entry »

800px-Lord_Shiva_Statue_at_Murdeshwara

শিব ও লিঙ্গ-০৭ : উত্তর-বৈদিক পুরাণ সাহিত্য
রণদীপম বসু

মানবসমাজ বিবর্তনের ধারায় আগুনের আবিষ্কার ও ব্যবহার যেমন নবদিগন্তের সূচনা করে, তেমনিভাবেই লোহার আবিষ্কারও (আনুমানিক দশম-নবম খ্রিস্টপূর্ব) আনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ফলে পুরাতনী সমাজব্যবস্থা নতুনভাবে বিন্যস্ত হতে থাকে। চাষাবাদ, ব্যবসাবাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতির সাথে সাথে সমাজের বৃত্তি বিভাজনও পুনর্বিন্যস্ত হতে থাকে। সমাজে অন্তর্দ্বন্দ্ব চিরকালই ছিল, এবং তা ছিল মূলত ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে আর্থিক বলে বলীয়ান বৈশ্য শ্রেণির উদ্ভব হলো। তারাও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি রূপে নিজেদের জড়িয়ে ফেললো। বস্তুত এই সময় থেকেই সনাতনী সমাজব্যবস্থা ধারাবাহিক অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে বিভিন্ন সংকটের মধ্যে পড়তে থাকে। এইসব আঘাতকে সামাল দিয়ে সমাজকে সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টাতেই বৈদিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বহুলভাবে সমৃদ্ধ ও ক্রমবিবর্তিত হতে থাকে, যার ফসল হলো বিপুল বৈদিক সাহিত্যসম্ভার ও বেদমূলক উত্তর-বৈদিক সাহিত্য– পুরাণ। আমাদের আলোচ্য বিষয়ের গভীরে যাওয়ার আগে পুরাণ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ ধারণা অবগত হওয়া আবশ্যক। Read the rest of this entry »

314762_501240416556847_1950408058_n

|বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-২৫: অ-ঋষিপ্রোক্ত ঈশ্বরবাদী দর্শন-মত খণ্ডন|
রণদীপম বসু

৩.২ : অ-ঋষিপ্রোক্ত দর্শন খণ্ডন-

আর্য-সম্মানহীন দর্শনগুলিই মূলত অ-ঋষিপ্রোক্ত দর্শন। এসব দর্শনের প্রতিস্থাপক ঋষি-শ্রেণীভুক্ত নন। অ-ঋষিপ্রোক্ত দর্শনেও দুটি ভাগ রয়েছে- ঈশ্বরবাদী ও নিরীশ্বরবাদী।

(ক) ঈশ্বরবাদী দর্শন খণ্ডন :
আগেই বলা হয়েছে যে, সম্ভবত আর্যদের ভারতে আসার আগেই এতদঞ্চলে পাশুপত ও পাঞ্চরাত্র দর্শনের উদ্ভব। কিন্তু এ দর্শনগুলি ঈশ্বরবাদী হওয়া সত্ত্বেও অ-ঋষিপ্রোক্ত হওয়ায় সেগুলিকে বৈদিক আর্যক্ষেত্রে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখা হয়নি। কেননা, এগুলি অনার্য দর্শন। কিন্তু বাদরায়ণের সমকালীন ও লোকপরম্পরায় বহুল চর্চিত ও প্রচলিত দর্শন হিসেবে সেগুলিকে খণ্ডনের প্রয়োজন হয়েছিলো।

(১) পাশুপত মত খণ্ডন : শিবের আরেক নাম পশুপতি। পাশুপতরা শিব ও শিবলিঙ্গকেই ইষ্টদেবতা বলে মানতেন। শিব শব্দটি যদিও বৈদিক, কিন্তু যে লিঙ্গ চিহ্নকে (অর্থাৎ পুরুষ জননেন্দ্রিয়) সামনে রেখে শিবপূজা করা হয়, রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে- ‘তা মহেঞ্জোদড়ো যুগের (এখন থেকে ৫০০০ বছর পূর্বেকার) অনার্যকাল থেকে চলে আসছে; এবং এমন একটা সময়ও ছিল যখন লিঙ্গপূজা করার জন্য অনার্যদের ‘শিশ্নদেব’ বলে অপমানও করা হতো। কিন্তু যুগের হাওয়ায় যা এক সময় অপমানকর তা পরে সম্মানজনক বলে অভিহিত হতেও দেখা যায়। এই লিঙ্গ-পূজা-ধর্ম কালান্তরে পাশুপত (= শৈব) মতের রূপে বিকশিত হয়েছিল, এবং এর দার্শনিক সিদ্ধান্তও প্রস্তুত হয়েছিল। আজ যদিও শৈবগণ পাশুপতের অধিকারী, তথাপি দর্শনক্ষেত্রে তাঁরা শঙ্করের মায়াবাদী অদ্বৈতবাদেরই অনুসরণ করেছেন।’- (দর্শন-দিগদর্শন-২, পৃষ্ঠা-১৯০)।

বাদরায়ণের যুগে পাশুপতদের নিজস্ব এক দর্শন ছিলো, যার খণ্ডন করতে গিয়ে বাদরায়ণকে কয়েকটি সূত্র রচনা করতে হয়েছিলো। বর্তমানের আর্য-সমাজীদের মতো পাশুপতও ত্রৈতবাদ- জীব (মানে পশু), জগৎ ও ঈশ্বর (মানে পশুপতি)-কে মানতেন। বাদরায়ণের বেদান্ত মতে ব্রহ্ম (ঈশ্বর) হলেন জগতের নিমিত্ত ও উপাদান উভয় কারণ। কিন্তু পাশুপত মতে, পশুপতি (ঈশ্বর) হলেন জগতের নিমিত্ত কারণ এবং তিনিই প্রধান ও জীবাত্মাগুলির নিয়ন্তা, যাঁরা তাঁর থেকে ভিন্ন। তাই পাশুপত দর্শনের বিরুদ্ধে বাদরায়ণের প্রথম আপত্তি হলো যে তা বেদ বা শ্রুতি বিরুদ্ধ। এই মতবাদ গ্রহণীয় নয়। ফলে বেদান্তসূত্রে বাদরায়ণ বলেন-
Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,630 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos