h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘ব্রহ্মা

Lord Shiva wallpapers

শিব ও লিঙ্গ-০৮ : পুরাণ-শাস্ত্রে শিব ও লিঙ্গ
রণদীপম বসু

আমরা দেখতে পাই, পৌরাণিক যুগে পরম শিব ও পরব্রহ্মতত্ত্ব প্রচারের পর থেকে লিঙ্গপূজার ব্যাপক প্রসার ঘটে। পণ্ডিতদের মতে এই সময়টা গুপ্ত যুগ। কারণ পরবর্তী কালের মন্দিরগুলিতে মূলতঃ লিঙ্গমূর্তিই প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে, যদিও কয়েকটি ক্ষেত্রে মানবাকার মূর্তিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিষয়গত ধারণার লক্ষ্যে অধ্যায়ের শুরুতেই শিব ও লিঙ্গ বিষয়ে এ দুয়ের অদ্বয়ত্ব, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনের জন্য শৈব মতানুসারী পুরাণগুলিতে উপস্থাপিত লিঙ্গের পূজা ও তার বৈচিত্র্য ও প্রকারভেদ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে বিধায় এখানে সেগুলোর পুনরুক্তির দরকার নেই। তবে এটা জানা যায় যে,–
‘কেবল ভারতবর্ষেই নয়, ভারতের সীমা ছাড়িয়ে কম্বোজ, চম্পা প্রভৃতি রাজ্যেও লিঙ্গ পূজার প্রচলন ঘটেছিল। নীলকণ্ঠ শাস্ত্রী তাঁর ‘South Indian Influences in the Far East’ গ্রন্থে কম্বোজ ও চম্পায় লিঙ্গরূপী শিবের উপাসনার কথা বলেছেন। ঐতিহাসিক ইলিয়টের মতে প্রায় ৫৫০ খৃষ্টাব্দের প্রথমার্ধে কম্বোডিয়ায় লিঙ্গপূজার প্রচলন ছিল। কম্বোডিয়া অউথিয়া, লোপচুরি প্রভৃতি অঞ্চল থেকে বৌদ্ধ দেবতাদের সঙ্গে সঙ্গে রাম, বিষ্ণু, শিব, গণেশ, স্কন্দ, উমা, লক্ষ্মী প্রভৃতি ব্রাহ্মণ্য দেবতার মূর্তিও আবিষ্কৃত হয়েছে। থাইল্যান্ড অঞ্চলে প্রাপ্ত শিবের ত্রিশূল, ঐ অঞ্চলে শৈব ধর্মের প্রসারের কথাই বলে।’– (ড. উদয়চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়/ ভূমিকা, লিঙ্গ পুরাণ, পৃষ্ঠা-১১) Read the rest of this entry »

Advertisements

800px-Lord_Shiva_Statue_at_Murdeshwara

শিব ও লিঙ্গ-০৭ : উত্তর-বৈদিক পুরাণ সাহিত্য
রণদীপম বসু

মানবসমাজ বিবর্তনের ধারায় আগুনের আবিষ্কার ও ব্যবহার যেমন নবদিগন্তের সূচনা করে, তেমনিভাবেই লোহার আবিষ্কারও (আনুমানিক দশম-নবম খ্রিস্টপূর্ব) আনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ফলে পুরাতনী সমাজব্যবস্থা নতুনভাবে বিন্যস্ত হতে থাকে। চাষাবাদ, ব্যবসাবাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতির সাথে সাথে সমাজের বৃত্তি বিভাজনও পুনর্বিন্যস্ত হতে থাকে। সমাজে অন্তর্দ্বন্দ্ব চিরকালই ছিল, এবং তা ছিল মূলত ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের ক্ষমতা দখলের লড়াই-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির সাথে সাথে আর্থিক বলে বলীয়ান বৈশ্য শ্রেণির উদ্ভব হলো। তারাও ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি রূপে নিজেদের জড়িয়ে ফেললো। বস্তুত এই সময় থেকেই সনাতনী সমাজব্যবস্থা ধারাবাহিক অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে বিভিন্ন সংকটের মধ্যে পড়তে থাকে। এইসব আঘাতকে সামাল দিয়ে সমাজকে সুসংহত ও ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টাতেই বৈদিক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বহুলভাবে সমৃদ্ধ ও ক্রমবিবর্তিত হতে থাকে, যার ফসল হলো বিপুল বৈদিক সাহিত্যসম্ভার ও বেদমূলক উত্তর-বৈদিক সাহিত্য– পুরাণ। আমাদের আলোচ্য বিষয়ের গভীরে যাওয়ার আগে পুরাণ সম্পর্কিত কিছু সাধারণ ধারণা অবগত হওয়া আবশ্যক। Read the rest of this entry »

402c21f9c841d8925fba2b75f39961b8

শিব ও লিঙ্গ-০৬ : প্রাচীন সাহিত্যে শিব
রণদীপম বসু

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের পরবর্তী কালের যে সব সাহিত্যে রুদ্র ও শিবের উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে পাণিনির অষ্ট্যাধ্যায়ী ও পতঞ্জলির মহাভাষ্য প্রথমেই উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বলেন–
‘পাণিনি আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর বৈয়াকরণিক, পতঞ্জলি খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের।… পাণিনি তাঁহার ব্যাকরণগ্রন্থের এক সূত্রে (৪, ১, ৪৯) দেবতার এই কয় নামের কথা বলিয়াছেন, যথা– রুদ্র, ভব, শর্ব এবং মৃড়। ইহার সবগুলিই আমরা বৈদিক সাহিত্যে পাই (মৃড় নামটি যজুর্বেদোক্ত শতরুদ্রীয় স্তোত্রে রুদ্রের শত নামের অন্যতম)। এই তালিকায় শিবের নাম পাওয়া না গেলেও, আমরা শিবের নাম অপর এক সূত্রে পাই। পাণিনির ‘শিবাদিভ্যোন’ সূত্রে (৪, ১, ১১২) শিবের উল্লেখ রহিয়াছে। পতঞ্জলি তাঁহার মহাভাষ্যে রুদ্র ও শিবের নাম কয়েকবার করিয়াছেন। রুদ্র সম্বন্ধে তিনি দুইবার বলিয়াছেন যে দেবতার উদ্দেশে পশুবলি হইত; অপর দুই স্থলে রুদ্রের কল্যাণকর ভেষজের কথা বলা হইয়াছে (শিবা রুদ্রস্য ভেষজী)। শিবের উল্লেখও তিনি দুইবার করিয়াছেন। পাণিনির সূত্র ‘দেবতাদ্বন্দ্বে চ’ (৬, ৩, ২৬) ও ইহার কাত্যায়ন কৃত বার্তিক ‘ব্রহ্মপ্রজাপত্যাদীনাং চ’ এর ভাষ্যকালে তিনি দ্বন্দ্ব সমাসের তিনটি উদাহরণ দিয়াছেন, যথা ব্রহ্ম-প্রজাপতি, শিব-বৈশ্রবণৌ এবং স্কন্দ-বিশাখৌ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলিয়াছেন যে এইরূপ দেবতার নাম সম্বলিত দ্বন্দ্ব সমাস বেদে পাওয়া যায় না। এ উক্তি যথার্থ, কারণ প্রজাপতি ব্যতিরেকে অপর দেবতা কয়টি অবৈদিক। মহাভাষ্যকার এই প্রসঙ্গেই শিব, বৈশ্রবণ, স্কন্দ ও বিশাখ দেবতাদিগকে লৌকিক দেবতানিচয়ের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। পাণিনির অন্যতম সূত্র ‘জীবিকার্থে চাপণ্যে’ (৫, ৩, ৯৯)-র ভাষ্যকালে পতঞ্জলি স্কন্দ ও বিশাখের মূর্তির সহিত শিবের মূর্তির কথা বলিয়াছেন। পাণিনির আর এক সূত্রের (৫, ২, ৭৬) ব্যাখ্যানে তিনি শিবের ভক্তদিগেরও উল্লেখ করিয়াছেন।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৩০-৩১) Read the rest of this entry »

Fig.-3.-Farnese-Atlas-National-Archaeological-Museum-Naples-Italy

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০২ : মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা |
রণদীপম বসু

মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা :

পৃথিবীতে যতগুলো কথিত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে মনে হয় অন্যতম বর্বর, নীতিহীন, শঠতা আর অমানবিক প্রতারণায় পরিপূর্ণ গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘মনুস্মৃতি’ (Manu-smriti) বা ‘মনুসংহিতা’ (Manu-samhita)। ব্রাহ্মণ্যবাদের (Hinduism) আকর গ্রন্থ শ্রুতি বা ‘বেদ’-এর নির্যাসকে ধারণ করে যেসব স্মৃতি বা শাস্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে কথিত, তার শীর্ষে অবস্থান করছে মনুস্মৃতি বা মনুসংহিতা। তাই মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে আলাদা করে দেখার উপায় নেই। মনুসংহিতা মানেই ব্রাহ্মণ্যবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ মানেই মনুসংহিতা। এটাকে তৎকালীন বৈদিক আর্য সমাজ ও প্রচলিত হিন্দু সমাজের অবশ্য পালনীয় পবিত্র সংবিধান বা সামগ্রিক ও সম্পূর্ণ জীবনাচরণবিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বারোটি অধ্যায়ে প্রায় দুহাজার সাতশত শ্লোক সংবলিত এ গ্রন্থটির পাতায় পাতায় ধর্মীয় বিধানের নাম দিয়ে সংস্কৃত অক্ষরে অক্ষরে যে শ্লোকগুলো উৎকীর্ণ রয়েছে, অধিকাংশ শ্লোকের ভাবার্থকে যদি মনুষ্য সমাজে পালনীয় নীতি হিসেবে বিবেচনা করতে হয়, তাহলে মানুষের সমাজে কোন মানবিক বোধ আদৌ রয়েছে বা অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করাটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়। এ ব্যাপারে কোন বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না গিয়ে বরং মনুসংহিতা থেকে অনুবাদ ও ভাবার্থসহ কিছু শ্লোকের নমুনা-উদাহরণ টানলেই বিষয়গুলো আমাদের সামনে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে। Read the rest of this entry »

.
| চার্বাক সাহিত্য-০২ : চার্বাক নামের উৎস |
রণদীপম বসু
২.০ : চার্বাক নামের উৎস

ভারতীয় দর্শন সাহিত্যে বস্তুবাদী দর্শনটির নজির যত প্রাচীনই হোক-না কেন, এ মতবাদের চার্বাক নামকরণ সে তুলনায় অর্বাচীন। অষ্টম-নবম শতকের আগে দর্শন সাহিত্যে এ নামের কোন উল্লেখযোগ্য নিদর্শন চোখে পড়ে না। প্রাচীনেরা এ মতটিকে প্রধানত লোকায়ত নামেই উল্লেখ করেছেন। ওই অষ্টম-নবম শতক থেকেই বস্তুবাদী অর্থে লোকায়ত বা চার্বাক মতের সমালোচনায় বিশিষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যায় বিভিন্ন মতের দার্শনিকগণকে। এদের মধ্যে নবম শতকের ন্যায় দার্শনিক জয়ন্ত ভট্ট প্রধানতম। অন্যরা হলেন অষ্টম শতকের বৌদ্ধ আচার্যদ্বয় শান্তরক্ষিত ও কমলশীল এবং জৈন দার্শনিক হরিভদ্র সূরী। Read the rest of this entry »
.
| অনাত্মবাদী বৌদ্ধদর্শন-০৩ :  বৌদ্ধমতের দার্শনিক সিদ্ধান্ত |
-রণদীপম বসু

(…আগের পর্বের পর)

.০ : বৌদ্ধমতের দার্শনিক সিদ্ধান্ত (Buddhism and Its Philosophy)
.
“অনিত্য, দুঃখ, অনাত্ম” (অঙ্গুত্তরনিকায়: ৩/১/৩৪)- এই একটিমাত্র সূত্রেই বুদ্ধের সমস্ত দর্শন গ্রথিত আছে বলে পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়নের অভিমত। এই সূত্রের মূল বক্তব্য হচ্ছে- 
‘সর্বং অনিচ্চং, সর্বং দুক্খং, সর্বং অনাত্মং।’ (অঙ্গুত্তরনিকায়-৩/১/৩৪)
অর্থাৎ : যা কিছু সমস্তই অনিত্য, সমস্তই দুঃখ, সমস্তই অনাত্ম।
.
বুদ্ধমতে অনিত্য, দুঃখ ও অনাত্ম এই তিনটি বিষয়ে সম্যক জ্ঞান না থাকাই হচ্ছে অবিদ্যার লক্ষণ। অতএব, বৌদ্ধদর্শনের প্রতিপাদ্য বিষয়ই হলো এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণ। তবে বুদ্ধের মতবাদের দার্শনিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা দরকার যে, গৌতম বুদ্ধ কোন অধিবিদ্যা বা আধ্যাত্মবাদের দার্শনিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন নি। তিনি সংসারের ক্লেশকর প্রপঞ্চগুলো থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় হিসেবে কিছু আচারমার্গের নীতিপন্থা প্রচারেই আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দার্শনিক তত্ত্বকে তিনি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে পারেননি। কেননা নৈতিক ও ধর্মীয় উপদেশেরও দার্শনিক ভিত্তি বর্তমান। দার্শনিক ভিত্তি ছাড়া নৈতিক ও ধর্মীয় উপদেশ যুক্তিহীন স্তোকবাক্যে পরিণত হয়। তাই সাগ্রহে না হলেও বুদ্ধ কতকগুলি দার্শনিক তত্ত্ব-বিষয়ে তাঁর স্বাধীন ও স্বকীয় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। বলাই বাহুল্য যে, তাঁর দার্শনিক মত অত্যন্ত দুরূহ ও অনন্যসাধারণ। তাঁর অনেক সিদ্ধান্তই সাধারণ মানুষের সংস্কারকে রীতিমতো বিচলিত করে।
তার উপর ভিত্তি করেই বর্তমানে তাঁর সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী ধর্মমতের মধ্যে দার্শনিক প্রপঞ্চের যে সন্ধান আমরা পাই তা মূলত বুদ্ধের অনুসারী পরবর্তীকালের মেধাবী দার্শনিকদেরই অবদান। তাঁদের মাধ্যমেই বৌদ্ধদর্শন প্রকৃতপক্ষে দর্শনের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 279,368 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 108 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

জুন 2018
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check
Advertisements