h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘বৌদ্ধ

800px-Indian_Kanauj_triangle_map.svg

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৮
-রণদীপম বসু

(৮)
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর গৌড় ও মগধের (বিহার) অধিকার নিয়ে প্রায় কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। মঞ্জুশ্রীমূলকের গ্রন্থকার মানব নামে শশাঙ্কের এক পুত্রের নাম করেছেন; এই পুত্র নাকি ৮ মাস ৫ দিন রাজত্ব করেছিলেন। অন্য কোনও সাক্ষ্যে এ তথ্যের উল্লেখ না থাকায় বিষয়টির ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত নয়। তবে, শশাঙ্কের মৃত্যুর পর পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ ও অবিশ্বাসে গৌড়তন্ত্র বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল, মঞ্জুশ্রীমূলকের এই সাক্ষ্য অবিশ্বাস্য নয় বলেই মনে হয়। জানা যায়, ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে য়ুয়ান-চোয়াঙ (হিউয়েন সাঙ) যখন বাঙলাদেশ ভ্রমণে আসেন তখন এই দেশ পাঁচটি বিভাগে বিভক্ত– কজঙ্গল, পুণ্ড্রবর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, তাম্রলিপ্তি ও সমতট। এই পাঁচটি জনপদের কোনোটিরই রাজা বা রাষ্ট্র সম্বন্ধে য়ুয়ান-চোয়াঙ কিছু বলেননি। পাঁচটি জনপদের মধ্যে এক সমতট ছাড়া আর বাকি চারটিই নিঃসন্দেহে শশাঙ্কের রাজ্যান্তর্গত ছিল। মনে হয়, তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রত্যেকটি জনপদই স্বাধীন ও স্বতন্ত্রপরায়ণ হয়ে উঠে। Read the rest of this entry »

kisspng-gupta-empire-vakataka-dynasty-india-map-kushan-emp-5be5c3303d4f70.0244606515417843682511

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৬
-রণদীপম বসু

(৬)
মৌর্য যুগে (মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ৩২২-৩৯৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) পুণ্ড্রবর্ধন বা উত্তরবঙ্গ যে মৌর্য-সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল এর সপক্ষে প্রমাণ হলো প্রাচীন জৈন এবং বৌদ্ধগ্রন্থ, মহাস্থানে প্রাপ্ত শিলাখণ্ডলিপি এবং য়ুয়ান্-চোয়াঙের সাক্ষ্য। য়ুয়ান-চোয়াঙ পুণ্ড্রবর্ধন ছাড়া প্রাচীন বাঙলার অন্যান্য জনপদেও (যথা কর্ণসুবর্ণ, তাম্রলিপ্তি, সমতট) মৌর্য-সম্রাট অশোক-নির্মিত বৌদ্ধস্তূপ ও বিহার দেখেছিলেন বা তাদের বিবরণ শুনেছিলেন বলে জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত মৌর্যযুগের ব্রাহ্মী অক্ষরে লিখিত ও প্রাকৃত ভাষায় রচিত এক শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, উত্তরবঙ্গ মৌর্য সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, কারণ মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য পুন্দনগলে (পুণ্ড্রবর্ধননগরে) একজন মাহামাত্র (কর্মচারী) অধিষ্ঠিত করেন। এই মহাস্থানলিপিতে দেখা যাচ্ছে, কোন এক অত্যায়িত কালে (দুর্ভিক্ষকালে?) রাজা পুন্দনগলের মাহামাত্রকে নির্দেশ দিচ্ছেন, প্রজাদের ধান্য এবং গণ্ডক ও কাকনিক মুদ্রা দিয়ে সাহায্য করবার জন্য, কিন্তু সুদিন ফিরে আসলে ধান্য ও মুদ্রা উভয়ই রাজভাণ্ডারে প্রত্যর্পণ করতে হবে, তাও বলে দিচ্ছেন। Read the rest of this entry »

98204774_3254355494588233_1683472440950259712_n

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৫
-রণদীপম বসু

(৫)
‘বাঙলা’ নামটির উদ্ভব হয়েছিল কবে? দিন তারিখ দিয়ে হয়তো তা বলা যাবে না। তবে তার কুল-ঠিঁকুজি ঠিকই খুঁজে নিয়েছেন গবেষকরা। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পূর্ব পর্যন্ত বাঙালির আবাসভূমিকে বলা হতো ‘বঙ্গদেশ’। ইংরেজিতে বলা হতো ‘বেঙ্গল’। ‘বেঙ্গল’ নামটা দিয়েছিল ইংরেজরা। তারা এটা নিয়েছিল পর্তুগীজদের দেওয়া ‘বেঙ্গালা’ শব্দ থেকে। ওই ‘বেঙ্গালা’ শব্দটি আবার ‘বঙ্গালহ’ শব্দের রূপান্তর মাত্র। ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ পাঠান সুলতানরাই ‘বঙ্গালহ’ শব্দের ব্যবহার শুরু করেন বলে জানা যায়। তবে তার আগেই ত্রয়োদশ শতাব্দীর দুজন বৈদেশিক পর্যটক মার্কো পোলো ও রশিদুদ্দিন তাঁদের ভ্রমণকাহিনীতে ‘বঙ্গাল’ নামটা ব্যবহার করেছিলেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর যখন বাঙলা অধিকার করেন তখন থেকে ‘বঙ্গাল’ শব্দটা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায় বলছেন– Read the rest of this entry »

Lord Shiva wallpapers

শিব ও লিঙ্গ-০৮ : পুরাণ-শাস্ত্রে শিব ও লিঙ্গ
রণদীপম বসু

আমরা দেখতে পাই, পৌরাণিক যুগে পরম শিব ও পরব্রহ্মতত্ত্ব প্রচারের পর থেকে লিঙ্গপূজার ব্যাপক প্রসার ঘটে। পণ্ডিতদের মতে এই সময়টা গুপ্ত যুগ। কারণ পরবর্তী কালের মন্দিরগুলিতে মূলতঃ লিঙ্গমূর্তিই প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে, যদিও কয়েকটি ক্ষেত্রে মানবাকার মূর্তিও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিষয়গত ধারণার লক্ষ্যে অধ্যায়ের শুরুতেই শিব ও লিঙ্গ বিষয়ে এ দুয়ের অদ্বয়ত্ব, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবনের জন্য শৈব মতানুসারী পুরাণগুলিতে উপস্থাপিত লিঙ্গের পূজা ও তার বৈচিত্র্য ও প্রকারভেদ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে বিধায় এখানে সেগুলোর পুনরুক্তির দরকার নেই। তবে এটা জানা যায় যে,–
‘কেবল ভারতবর্ষেই নয়, ভারতের সীমা ছাড়িয়ে কম্বোজ, চম্পা প্রভৃতি রাজ্যেও লিঙ্গ পূজার প্রচলন ঘটেছিল। নীলকণ্ঠ শাস্ত্রী তাঁর ‘South Indian Influences in the Far East’ গ্রন্থে কম্বোজ ও চম্পায় লিঙ্গরূপী শিবের উপাসনার কথা বলেছেন। ঐতিহাসিক ইলিয়টের মতে প্রায় ৫৫০ খৃষ্টাব্দের প্রথমার্ধে কম্বোডিয়ায় লিঙ্গপূজার প্রচলন ছিল। কম্বোডিয়া অউথিয়া, লোপচুরি প্রভৃতি অঞ্চল থেকে বৌদ্ধ দেবতাদের সঙ্গে সঙ্গে রাম, বিষ্ণু, শিব, গণেশ, স্কন্দ, উমা, লক্ষ্মী প্রভৃতি ব্রাহ্মণ্য দেবতার মূর্তিও আবিষ্কৃত হয়েছে। থাইল্যান্ড অঞ্চলে প্রাপ্ত শিবের ত্রিশূল, ঐ অঞ্চলে শৈব ধর্মের প্রসারের কথাই বলে।’– (ড. উদয়চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়/ ভূমিকা, লিঙ্গ পুরাণ, পৃষ্ঠা-১১) Read the rest of this entry »

tantra-is-way-to-god

বৌদ্ধ-তন্ত্র-০৯ : বৌদ্ধ-তন্ত্রের পরিণতি
রণদীপম বসু

হীনযান, মহাযান, বজ্রযান প্রভৃতিকে পণ্ডিতেরা প্রথাগত ধর্ম না বলে বিশিষ্ট সাধনপদ্ধতি আখ্যা দিয়েছেন। কেননা তাঁদের মতে ধর্ম ব্যাপারটা সাধারণ গৃহী মানুষের জন্য। দর্শনতাত্ত্বিক যে সকল বিষয় নিয়ে হীনযানী সম্প্রদায়সূহের মধ্যে বিতর্ক বর্তমান সেগুলি সাধারণ মানুষের বিষয় নয়, একমাত্র মঠবাসী ভিক্ষুরাই এসকল বিষয়ে আকৃষ্ট হতে পারেন। এ-প্রসঙ্গে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন,–
‘মহাযানীরা এই সমস্যা সম্পর্কে কিছুটা ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং বুদ্ধপূজার প্রবর্তন করে ও কিছু স্থানীয় দেবদেবীকে বৌদ্ধ পরিমণ্ডলের মধ্যে নিয়ে এসে সাধারণ মানুষের নিকট যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মহাযান মতের বিশেষত্বের জন্যেই সেক্ষেত্রে সাফল্য আসেনি। ধর্মশূন্যতা ও পুদ্গলশূন্যতার যুগপৎ উপলব্ধি, বা জগতকে ‘বন্ধ্যা নারীর কন্যার সৌন্দর্যের ন্যায় মিথ্যা’ হিসাবে উপলব্ধির ব্যাপারটা সাধারণ মানুষের এলাকায় আসে না। নিজেকে বুদ্ধ এবং সঙ্গিনীকে বুদ্ধের শক্তি হিসাবে কল্পনা করে প্রজ্ঞোপায়ের অদ্বয়ত্বের উপলব্ধির জন্য যুগনদ্ধ সাধনা সাধারণ গৃহী মানুষের কল্পনাতেও আসতে পারে না। এই কারণে এইগুলিকে ‘যান’ বা সাধনমার্গ বলা হয়েছে, যার সঙ্গে সর্বজনের পক্ষে সহজপালনীয় ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।’- (ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রাচীন ভারতীয় প্রেক্ষাপট/ পৃষ্ঠা-১১৮) Read the rest of this entry »

meditation.03

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৮ : হঠযোগ
রণদীপম বসু

ভারতবর্ষীয় প্রায় সকল উপাসক সম্প্রদায়ের মধ্যেই দৈহিক কায়সাধন প্রধানতম সাধনপ্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত। আর তান্ত্রিক সাধকদের মধ্যে কায়সাধনের উপায় হিসেবে যোগাভ্যাস চর্চাই সর্বাধিক গৃহীত এবং সাধক যোগীদের সাধনপন্থায় হঠযোগকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। হঠপ্রদীপিকা, দত্তাত্রেয়সংহিতা, গোরক্ষসংহিতা– এই তিন গ্রন্থে যোগী-সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠেয় যোগপ্রণালীর আসন প্রাণায়ামাদি সমুদায় অঙ্গের ও ষট্চক্র-সাধনের সবিশেষ বৃত্তান্ত বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। Read the rest of this entry »

12047189_599246366880088_2373356214468571482_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৭ : বৌদ্ধ-তন্ত্রসাধন
রণদীপম বসু

বজ্রযান, কালচক্রযান, সহজযান এই সবকটি বৌদ্ধ তান্ত্রিক-যানেরই নির্ভর মূলত যোগ-সাধনার উপর। বলা বাহুল্য, এদের সবারই দর্শনদৃষ্টির মূল যোগাচার ও মাধ্যমিক দর্শনে। একই ধ্যান-কল্পনা থেকেই এই তিন যান উদ্ভূত এবং ব্যবহারিক সাধনার ক্ষেত্রে এই তিন যানের মধ্যে পার্থক্যও খুব বেশি ছিলো না। এদের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা টানা বস্তুতই কঠিন। তাছাড়া একই সিদ্ধাচার্য একাধিক যানের উপর পুস্তক রচনা করেছেন, এমন প্রমাণও দুর্লভ নয়। তবে এই তিন যানের উদ্ভব যেখানেই হোক, তৎকালীন বাঙলা অঞ্চলেই এগুলো লালিত ও বর্ধিত হয়েছিলো । প্রধানত এই ত্রিযানপন্থী বাঙালি সিদ্ধাচার্যরাই এই বিভিন্ন গুহ্য সাধনার গ্রন্থাদি রচনা ও দেবদেবীর ধ্যান-কল্পনা গড়ে তুলেছিলেন। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায়ের অভিমত হলো, ‘বস্তুত এই তিন যানের ইতিহাসই পাল-চন্দ্র-কম্বোজ-পর্বের বাঙলার বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস।’ Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,479 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos