h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘বৌদ্ধ

tantra-is-way-to-god

বৌদ্ধ-তন্ত্র-০৯ : বৌদ্ধ-তন্ত্রের পরিণতি
রণদীপম বসু

হীনযান, মহাযান, বজ্রযান প্রভৃতিকে পণ্ডিতেরা প্রথাগত ধর্ম না বলে বিশিষ্ট সাধনপদ্ধতি আখ্যা দিয়েছেন। কেননা তাঁদের মতে ধর্ম ব্যাপারটা সাধারণ গৃহী মানুষের জন্য। দর্শনতাত্ত্বিক যে সকল বিষয় নিয়ে হীনযানী সম্প্রদায়সূহের মধ্যে বিতর্ক বর্তমান সেগুলি সাধারণ মানুষের বিষয় নয়, একমাত্র মঠবাসী ভিক্ষুরাই এসকল বিষয়ে আকৃষ্ট হতে পারেন। এ-প্রসঙ্গে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন,–
‘মহাযানীরা এই সমস্যা সম্পর্কে কিছুটা ওয়াকিবহাল ছিলেন এবং বুদ্ধপূজার প্রবর্তন করে ও কিছু স্থানীয় দেবদেবীকে বৌদ্ধ পরিমণ্ডলের মধ্যে নিয়ে এসে সাধারণ মানুষের নিকট যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মহাযান মতের বিশেষত্বের জন্যেই সেক্ষেত্রে সাফল্য আসেনি। ধর্মশূন্যতা ও পুদ্গলশূন্যতার যুগপৎ উপলব্ধি, বা জগতকে ‘বন্ধ্যা নারীর কন্যার সৌন্দর্যের ন্যায় মিথ্যা’ হিসাবে উপলব্ধির ব্যাপারটা সাধারণ মানুষের এলাকায় আসে না। নিজেকে বুদ্ধ এবং সঙ্গিনীকে বুদ্ধের শক্তি হিসাবে কল্পনা করে প্রজ্ঞোপায়ের অদ্বয়ত্বের উপলব্ধির জন্য যুগনদ্ধ সাধনা সাধারণ গৃহী মানুষের কল্পনাতেও আসতে পারে না। এই কারণে এইগুলিকে ‘যান’ বা সাধনমার্গ বলা হয়েছে, যার সঙ্গে সর্বজনের পক্ষে সহজপালনীয় ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।’- (ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রাচীন ভারতীয় প্রেক্ষাপট/ পৃষ্ঠা-১১৮) Read the rest of this entry »

Advertisements

meditation.03

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৮ : হঠযোগ
রণদীপম বসু

ভারতবর্ষীয় প্রায় সকল উপাসক সম্প্রদায়ের মধ্যেই দৈহিক কায়সাধন প্রধানতম সাধনপ্রক্রিয়া হিসেবে স্বীকৃত। আর তান্ত্রিক সাধকদের মধ্যে কায়সাধনের উপায় হিসেবে যোগাভ্যাস চর্চাই সর্বাধিক গৃহীত এবং সাধক যোগীদের সাধনপন্থায় হঠযোগকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। হঠপ্রদীপিকা, দত্তাত্রেয়সংহিতা, গোরক্ষসংহিতা– এই তিন গ্রন্থে যোগী-সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠেয় যোগপ্রণালীর আসন প্রাণায়ামাদি সমুদায় অঙ্গের ও ষট্চক্র-সাধনের সবিশেষ বৃত্তান্ত বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। Read the rest of this entry »

12047189_599246366880088_2373356214468571482_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৭ : বৌদ্ধ-তন্ত্রসাধন
রণদীপম বসু

বজ্রযান, কালচক্রযান, সহজযান এই সবকটি বৌদ্ধ তান্ত্রিক-যানেরই নির্ভর মূলত যোগ-সাধনার উপর। বলা বাহুল্য, এদের সবারই দর্শনদৃষ্টির মূল যোগাচার ও মাধ্যমিক দর্শনে। একই ধ্যান-কল্পনা থেকেই এই তিন যান উদ্ভূত এবং ব্যবহারিক সাধনার ক্ষেত্রে এই তিন যানের মধ্যে পার্থক্যও খুব বেশি ছিলো না। এদের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা টানা বস্তুতই কঠিন। তাছাড়া একই সিদ্ধাচার্য একাধিক যানের উপর পুস্তক রচনা করেছেন, এমন প্রমাণও দুর্লভ নয়। তবে এই তিন যানের উদ্ভব যেখানেই হোক, তৎকালীন বাঙলা অঞ্চলেই এগুলো লালিত ও বর্ধিত হয়েছিলো । প্রধানত এই ত্রিযানপন্থী বাঙালি সিদ্ধাচার্যরাই এই বিভিন্ন গুহ্য সাধনার গ্রন্থাদি রচনা ও দেবদেবীর ধ্যান-কল্পনা গড়ে তুলেছিলেন। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায়ের অভিমত হলো, ‘বস্তুত এই তিন যানের ইতিহাসই পাল-চন্দ্র-কম্বোজ-পর্বের বাঙলার বৌদ্ধধর্মের ইতিহাস।’ Read the rest of this entry »

12072828_600311953440196_2795977796601605091_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৬ : বৌদ্ধ-তন্ত্রের ক্রমবিকাশ
রণদীপম বসু

মহাযান সাহিত্যে ধারণী বা রক্ষামূলক মন্ত্রশাস্ত্রের একটি বিশেষ ভূমিকা আছে। নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণে,–
‘অল্পাক্ষরাপ্রজ্ঞাপারমিতার মতো রচনা এই মন্ত্রশাস্ত্রের প্রাথমিক রূপ। ধারণী নামক বিশেষ পরিভাষাটি গোড়ার দিকে অবশ্য খুবই ব্যাপক অর্থে প্রযুক্ত হত। প্রজ্ঞাপারমিতা সূত্রসমূহ ছাড়াও অন্যান্য মহাযান সূত্রও কখনও কখনও ধারণী বলে উল্লিখিত হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে ধারণী বলতে বিশেষ করে দেবীদের উদ্দেশে নানাপ্রকার সঙ্কটের হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য ব্যবহৃত মন্ত্রাবলীকে বুঝিয়েছে। এই রকম একটি ধারণীর সঙ্কলনের নাম পঞ্চরক্ষা যার প্রথমটি পাপ, রোগ এবং অপরাপর অঘটনের প্রতিরোধ কল্পে মহাপ্রতিসরার উদ্দেশে, দ্বিতীয়টি ভূতপ্রেত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহাসহস্রপ্রমর্দিনীর উদ্দেশে, তৃতীয়টি সর্পবিষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহামায়ূরীর উদ্দেশে, চতুর্থটি প্রতিকূল গ্রহশান্তি, বন্য পশু ও বিষাক্ত কীটপতঙ্গ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য মহাসীতবতীর উদ্দেশে এবং পঞ্চমটি রোগশান্তির জন্য মহামন্ত্রানুসারিণীর উদ্দেশে রচিত। তিব্বতী তাঞ্জুর ও কাঞ্জুর গ্রন্থমালায়, চৈনিক ত্রিপিটকে এবং মহাযানের উপর রচিত নানা গ্রন্থে এই রকম অসংখ্য ধারণীর পরিচয় পাওয়া যায়। এই মন্ত্রশাস্ত্র মন্ত্র নয় বা মন্ত্রযানের পথিকৃৎ যা অবলম্বনে বজ্রযান প্রমুখ তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম গড়ে ওঠে। বৌদ্ধ তন্ত্র চার প্রকার– ক্রিয়াতন্ত্র যেখানে মন্দির নির্মাণ, মূর্তিস্থাপন ও নানাপ্রকার অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে, চর্যাতন্ত্র যা সাধনার ব্যবহারিক দিক্গুলিকে প্রদর্শন করায়, যোগতন্ত্র যা যৌগিক নানা প্রক্রিয়া শিক্ষা দেয় এবং অনুত্তরযোগতন্ত্র যা উচ্চতর অতীন্দ্রিয়বাদের কথা বলে।’ Read the rest of this entry »

3544_712780838774381_891299651_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৫ : তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্যগণ
রণদীপম বসু

বলার অপেক্ষা রাখে না, বৌদ্ধধর্মের আওতায় একটি বিশেষ ধরনের তান্ত্রিক জীবনচর্যার পুনরুজ্জীবন হয় যার মূল আদর্শ সিদ্ধি বা অলৌকিক ক্ষমতালাভ। এই আদর্শের ধারকেরা ছিলেন জাতিপ্রথা বিরোধী, অনেকেই ছিলেন নিম্নবর্ণের মানুষ, এবং এই আদর্শ কবীর-পন্থা, নাথ-পন্থা প্রভৃতি পরবর্তী লৌকিক ধর্মগুলিকে যথেষ্ট প্রভাবিত করেছিল। প্রাচীন বৌদ্ধধর্মে ঋদ্ধি বা অভিজ্ঞার কথা বলা হয়েছে, ব্রাহ্মণ্য শাস্ত্রেও অষ্টসিদ্ধির উল্লেখ আছে, যেমন– অনিমা, লঘিমা, মহিমা, প্রাকাম্য, প্রাপ্তি, বশিত্ব, ঈশিত্ব ও কামাবসায়িত্ব। Read the rest of this entry »

22886115_10212972919370576_6842653939649599503_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৪ : তান্ত্রিক-বৌদ্ধধর্মে দেবীবাদ
রণদীপম বসু

এ প্রসঙ্গে এমন প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে, বৌদ্ধদর্শনের মতো একটি নৈরাত্ম্যবাদী দর্শনের ছায়াতলে গড়ে ওঠা বৌদ্ধধর্মের পরম্পরায় এই যে আত্মা ও বিভিন্ন কাল্পনিক দেবসংঘের আবির্ভাব, তাকে কি প্রকৃতই বুদ্ধ অনুসারী সাধক-সম্প্রদায় বলা যায়? নাকি প্রাচীন কোনো লোকায়তিক ঘরানার গুহ্য সাধক-সম্প্রদায়ের সাধনপন্থার মধ্যে প্রাচীন হিন্দুতান্ত্রিক শাক্ত ধারণা ও মহাযানী বৌদ্ধমতের দার্শনিক প্রপঞ্চ মিলেমিশে নতুন কোনো সাধনপন্থার স্বতন্ত্র ধারা হিসেবে এগিয়ে গেছে? কিন্তু এই প্রশ্নের নিরসন আদৌ সহজসাধ্য নয় বলেই মনে হয়। কেননা, বৌদ্ধতন্ত্রগ্রন্থ সাধনমালায় উড্ডিয়ান (ধারণা করা হয় বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রাম), (অসমের) কামাখ্যা, সিরিহট্ট (বর্তমানের শ্রীহট্ট) ও পূর্ণগিরি এই চারটি তন্ত্রের মুখ্য পীঠস্থান বলে উল্লেখ আছে, যেগুলো বৌদ্ধদেবী বজ্রযোগিনীর পূজার জন্য বিখ্যাত ছিলো। তাছাড়া নালন্দা, বিক্রমশিলা, সারনাথ, ওদন্তপুরী, জগদ্দল ইত্যাতি প্রাচীন বৌদ্ধ বিদ্যাপীঠগুলোতে বজ্রযানের অনুশীলন হতো বলেও জানা যায়– Read the rest of this entry »

22883335_10212972927610782_366718309_n

বৌদ্ধ তন্ত্র-০৩ : বৌদ্ধ-তত্ত্বের বিবর্তন
রণদীপম বসু

বলা হয়ে থাকে যে, দুঃখতত্ত্বই বৌদ্ধধর্মের মূল তত্ত্ব এবং আদিতম বৌদ্ধধর্মের বিকাশ এই তত্ত্বকে আশ্রয় করেই হয়েছিল। পালি বৌদ্ধশাস্ত্রে বৌদ্ধধর্মের যে পরিচয় পাওয়া যায় তা রীতিমতো জটিল ও পল্লবিত। বুদ্ধকথিত চারটি আর্যসত্য হচ্ছে– দুঃখ আছে, দুঃখের কারণ আছে, দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব, এবং তার জন্য সঠিক পথ জানা চাই যাকে বলা হয় দুঃখ-নিবৃত্তি-মার্গ। এক্ষেত্রে এটাও বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার যে, সকল ভারতীয় দর্শনই এই দুঃখতত্ত্বকে অবলম্বন করে অগ্রসর হয়েছে। যেমন, সাংখ্যদর্শন অনুযায়ী দুঃখ তিন প্রকার– আধিদৈবিক, আধিভৌতিক ও আধ্যাত্মিক। বিদ্বান গবেষক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতে, কার্যকারণ সম্পর্কের প্রতি বুদ্ধের নির্ভরতা সম্ভবত তাঁর গুরু আঢ়ার কালামের নিকট সাংখ্যদর্শন পাঠের ফল, যার মূল কথা একই বস্তু কার্যে ও কারণে বিদ্যমান। কার্যে যা ব্যক্ত তা কারণে অব্যক্ত। বুদ্ধের প্রতীত্যসমুৎপাদ তত্ত্বের এটাই হচ্ছে ভিত্তি। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 214,062 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 88 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« নভে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check