h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘বৈভাষিক

buddha

| অনাত্মবাদী বৌদ্ধদর্শন-০৮ : বৌদ্ধ ন্যায় বা প্রমাণতত্ত্ব |
-রণদীপম বসু

(…আগের পর্বের পর)

৫.০ : বৌদ্ধ প্রমাণতত্ত্ব

বৌদ্ধমত অনুযায়ী অবিদ্যা বা মিথ্যাজ্ঞান জরা-মরণাদির মূল কারণ। তাই নির্বাণার্থীর প্রথম কাজ হলো অবিদ্যা দূরীকরণ। আর সম্যক্ জ্ঞানের দ্বারাই অবিদ্যার নাশ হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই বৌদ্ধমতে সর্ববিধপুরুষার্থ লাভের একমাত্র উপায় হলো সম্যক্ জ্ঞান অর্জন। চারটি বৌদ্ধ সম্প্রদায় মাধ্যমিক, যোগাচার, সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক তাঁদের নিজ নিজ চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে বুদ্ধ-বচনের তাৎপর্য গ্রহণ করেছেন। এর ফলে কোন কোন বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে কোন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ই নিত্য স্থায়ী জ্ঞাতারূপে আত্মাকে স্বীকার করেননি।

বৌদ্ধ দর্শনের বিবর্তনের প্রথম পর্বে আমরা পাই সর্বাস্তিবাদী সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক সম্প্রদায়। এই দুই সম্প্রদায় বস্তুতান্ত্রিক হলেও স্থায়ীরূপে প্রতীত বস্তুকে পৃথক পৃথক ধর্মের দ্বারাই ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁদের মতে ধর্ম পৃথকভাবে সৎ, ধর্মের দ্বারা গঠিত স্থায়ী বস্তু অসৎ। যোগাচার ও মাধ্যমিক সম্প্রদায়ও এই ব্যাপারে একমত। মাধ্যমিক সম্প্রদায় পারমার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাগতিক বস্তুর জ্ঞানের মূল্যকে যদিও অস্বীকার করেছেন, তবুও ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে জাগতিক বস্তুর জ্ঞানের মূল্যকে অস্বীকার করেননি। জ্ঞানতত্ত্বে তাঁদের এই অবস্থান অদ্বৈত-বেদান্ত সম্প্রদায়ের জ্ঞানতত্ত্বের সঙ্গে তুলনীয়। অদ্বৈত বেদান্ত পারমার্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে জগৎকে মিথ্যা বলে মনে করলেও জাগতিক বিষয়ের জ্ঞানের ব্যাপারে ভাট্ট-মীমাংসাসম্মত জ্ঞানতত্ত্বকে স্বীকার করেছেন।

এ প্রেক্ষিতে বৌদ্ধ জ্ঞানতত্ত্বের বিচারে বৌদ্ধাচার্য বসুবন্ধু, দিঙনাগ, ধর্মকীর্তি, শান্তরক্ষিত ও কমলশীল প্রবর্তিত প্রমাণতত্ত্বই বৌদ্ধ প্রমাণতত্ত্ব রূপে গ্রহণ করা যায়। এই প্রমাণতত্ত্ব একাধারে যোগাচার-সৌত্রান্তিক-বৈভাষিক প্রমাণতত্ত্ব রূপে গৃহীত হয়েছে। বসুবন্ধুর ‘বাদবিধি’, দিঙনাগের ‘প্রমাণ-সম্চ্চুয়’, ধর্মকীর্তির ‘ন্যায়বিন্দু’ ও ‘প্রমাণবার্ত্তিক’, শান্তরক্ষিতের ‘তত্ত্বসংগ্রহ’ বৌদ্ধ প্রমাণতত্ত্বের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আকরগ্রন্থ।

বৌদ্ধমতে প্রমাণ
বৌদ্ধরা সম্যক্ জ্ঞানকেই প্রমাণ বলেছেন। সম্যক্ জ্ঞান হলো যথার্থ জ্ঞান। বৌদ্ধ দার্শনিক ধর্মকীর্তি তাঁর ‘ন্যায়বিন্দু’তে বলেছেন-
Read the rest of this entry »

Advertisements

4565179933

|বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-২৬: অ-ঋষিপ্রোক্ত নিরীশ্বরবাদী দর্শন-মত খণ্ডন|
রণদীপম বসু

(খ) নিরীশ্বরবাদী দর্শন খণ্ডন :

নিরীশ্বরবাদী দর্শনের মধ্যে বৈশেষিক, বৌদ্ধ এবং জৈনদর্শনের বিরুদ্ধেই বাদরায়ণ তাঁদের মত খণ্ডনে মনোযোগী হয়েছিলেন। তাঁর সময়ে হয়তোবা চার্বাক দর্শনের বিরোধিতা ক্ষীণ হয়ে আসায় সে বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, বৈশেষিকসূত্রকার কণাদকে যদিও পরে কপিলের মতো ঋষি বলে মেনে নেয়া হয়েছিলো, তবুও বাদরায়ণের যুগে হয়তো এমন অবস্থা ছিলো না যাতে তাঁকে ঋষি-শ্রেণীভুক্ত করা যেতো।

(১) বৈশেষিক দর্শন-মত খণ্ডন :
কণাদের বৈশেষিক মতে জগতের চরম অবস্থা হলো অণুময়ত্ব- এই জগতের সব বস্তুই বিভিন্ন প্রকার অণুর সমবায় মাত্র। এই অণু বা পরমাণু হলো সনাতন এবং জগতের মৌলিক কারণ। এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমান সমকালীন বিজ্ঞান-জ্ঞানস্তরে অণু ও পরমাণুর সংজ্ঞা ভিন্ন হলেও প্রাচীন ভারতীয় দর্শনজগতের বৈশেষিক দর্শনে অণু ও পরমাণু শব্দদ্বয়কে অভিন্ন অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। পরমাণুকে কণাদ ছয়টি পার্শ্বযুক্ত গোলাকৃতি কণা বলে মানতেন এবং বলেছিলেন যে, এই ছয়টি পার্শ্বযুক্ত দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে ছোট ছোট দ্ব্যণুক সৃষ্টি করে। পুনরায় তিনটি দ্ব্যণুক একত্র মিলিত হয়ে একটি ত্র্যণুকের (ত্রসরেণুর) সৃষ্টি করে, এবং চারটি দ্ব্যণুক একটি চতুরণুর সৃষ্টি করে এভাবে স্থূল অবয়ববিশিষ্ট বস্তুর সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পদার্থের স্ব-স্ব অণু-দ্ব্যণু হতে অনুরূপভাবে স্থূল আকারের সৃষ্টি হয়। এইসব ক্ষুদ্র গোলকাকৃতির অণু যুক্ত হয়ে বৃহৎ ও দীর্ঘ পরিমাণযুক্ত বস্তুর উৎপত্তি হয় তথা বিশ্ব সৃষ্টি হয়।

এই দার্শনিক মতবাদানুসারে একটি পরমাণু হলো অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম সত্তা, একটি দ্ব্যণুক হলো খুব সূক্ষ্ম এবং হ্রস্ব, এবং ত্র্যণুক হতে শুরু করে পরবর্তী সংমিশ্রিত বস্তুগুলি হলো মহৎ এবং দীর্ঘ। এখানে আপত্তি হলো- যদি অণু দুটি গোলাকারবৎ হয় এবং তারা যদি একটি দ্ব্যণুকের সৃষ্টি করে সেই দ্ব্যণুকটি হবে সূক্ষ্ম এবং হ্রস্ব, তাতে আর সেই অণুর গোলত্ব উৎপাদিত হবে না। অথবা যদি চারটি সূক্ষ্ম ও হ্রস্ব দ্ব্যণুক একটি চতুরণু পদার্থ সৃষ্টি করে যা মহৎ এবং দীর্ঘ- সেক্ষেত্রে নতুন সৃষ্ট এই বস্তুতে দ্ব্যণুকের সূক্ষ্মত্ব এবং হ্রস্বত্ব সঞ্চারিত হবে না। তা হতেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, কারণের সবগুলি গুণই কার্যে সঞ্জাত হয় না। তাই বাদরায়ণ বলেন, কারণের গুণ অনুসারে কার্যের গুণের উৎপত্তিকে বৈশেষিকেরা মানেন, কিন্তু অবয়বহীন পরমাণু থেকে সাবয়ব হ্রস্ব দ্ব্যণুকের উৎপত্তি অসম্ভব এবং (দীর্ঘ পরিমাণরহিত) হ্রস্ব পরিমণ্ডল (দ্ব্যণুক কণা) দ্বারা বৃহৎ, দীর্ঘ (পরিমাণ) যুক্ত পদার্থের উৎপত্তিও সম্ভব নয়।

জড় পরমাণুর মধ্যে যখন ক্রিয়া বা গতি থাকে তখনই সে বস্তুর উৎপাদনে সক্ষম হয়। কণাদের বৈশেষিক মতে জগৎ-সৃষ্টির জন্য অদৃষ্টের প্রেরণায় পরমাণুর মধ্যে ক্রিয়া উৎপন্ন হয়, যা দুটি পরমাণুকে পরস্পর সংযুক্ত করে দ্ব্যণুক নির্মাণ করে তা তার মধ্যে স্বীয় কর্মও প্রয়োগ করে; এই সংক্রমণ অগ্রসর হতে হতে জগৎ সৃষ্টি করে। এখন প্রশ্ন ওঠে- পরমাণুতে যে আদিম ক্রিয়া উৎপন্ন হচ্ছে, তা কি পরমাণুর (জড়ের) নিজের ভিতরকার অদৃষ্ট থেকে উৎপন্ন হয়, না কি চেতনার (আত্মার) অভ্যন্তর থেকে ? তাই বাদরায়ণ সিদ্ধান্ত করেন-
Read the rest of this entry »

.
| অনাত্মবাদী বৌদ্ধদর্শন-০৭ : সর্বাস্তিবাদ- সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক মত |
-রণদীপম বসু

(…আগের পর্বের পর)

৪.৩ : সর্বাস্তিবাদী বৌদ্ধ দর্শন : সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক মত (Buddhism: Soutrantik-Boibhashik
.
সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক মত হচ্ছে হীনযান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্তর্গত সর্বাস্তিবাদের দু’টি রূপ। এই দুই বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্ভব সর্বাস্তিবাদে এবং উভয়ের প্রাচীন নাম ছিলো সর্বাস্তিবাদ, যাঁরা হীনযান বৌদ্ধের আঠারোটি প্রাচীন সম্প্রদায়ের অন্যতম। বুদ্ধের পরিনির্বাণের (৪৮৩ খ্রিস্টপূর্ব) পরবর্তী চার বা পাঁচ শতক ধরে এই সর্বাস্তিবাদ বিকশিত ও পরিপুষ্ট হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। ‘সর্বাস্তি’ নামের আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে ‘সবকিছু আছে’, মানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত বা অনাগত এই তিন কালেই সমস্ত কিছু বিদ্যমান এরূপ ধারণা। সর্বাস্তিবাদ সম্প্রদায়টি বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ভারতে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে প্রভাব বিস্তার করেছিলো। Read the rest of this entry »
.
| অনাত্মবাদী বৌদ্ধদর্শন-০৪ : বৌদ্ধ দার্শনিক সম্প্রদায় |
-রণদীপম বসু

(…আগের পর্বের পর)

৪.০ : বৌদ্ধ দার্শনিক সম্প্রদায় (Schools of Buddhism)
.
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দিতে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের উপদেশকে ভিত্তি করে উত্তরপূর্ব ভারতে বৌদ্ধধর্ম ও দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়। শিষ্যদের মধ্যে বুদ্ধ মৌখিকভাবে উপদেশ দিতেন। জীবদ্দশায় তিনি বৌদ্ধসঙ্ঘ স্থাপন করেন। তবে বুদ্ধ নিজে কোন অধিবিদ্যা বা দার্শনিক আলোচনা পছন্দ করতেন না বলে দার্শনিক প্রশ্নের উত্তরে তিনি নীরব থাকতেন। তাঁর এই নীরবতা পরবর্তীকালের বৌদ্ধ দার্শনিকদের মধ্যে অনেক মতভেদের সৃষ্টি করেছিলো। ফলে বৌদ্ধদর্শনে বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়েছিলো। ধারণা করা হয় বুদ্ধের জীবদ্দশায় তাঁর অনুগামীদের মধ্যে দার্শনিক প্রশ্নে মতভেদ দেখা দিলেও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে বুদ্ধের পরিনির্বাণের (৪৮৭ খ্রিষ্টপূর্ব) পর। Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 441,804 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 124 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 4 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements