h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘বিবাহ

Fig.-3.-Farnese-Atlas-National-Archaeological-Museum-Naples-Italy

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০২ : মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা |
রণদীপম বসু

মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা :

পৃথিবীতে যতগুলো কথিত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে মনে হয় অন্যতম বর্বর, নীতিহীন, শঠতা আর অমানবিক প্রতারণায় পরিপূর্ণ গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘মনুস্মৃতি’ (Manu-smriti) বা ‘মনুসংহিতা’ (Manu-samhita)। ব্রাহ্মণ্যবাদের (Hinduism) আকর গ্রন্থ শ্রুতি বা ‘বেদ’-এর নির্যাসকে ধারণ করে যেসব স্মৃতি বা শাস্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে কথিত, তার শীর্ষে অবস্থান করছে মনুস্মৃতি বা মনুসংহিতা। তাই মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে আলাদা করে দেখার উপায় নেই। মনুসংহিতা মানেই ব্রাহ্মণ্যবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ মানেই মনুসংহিতা। এটাকে তৎকালীন বৈদিক আর্য সমাজ ও প্রচলিত হিন্দু সমাজের অবশ্য পালনীয় পবিত্র সংবিধান বা সামগ্রিক ও সম্পূর্ণ জীবনাচরণবিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বারোটি অধ্যায়ে প্রায় দুহাজার সাতশত শ্লোক সংবলিত এ গ্রন্থটির পাতায় পাতায় ধর্মীয় বিধানের নাম দিয়ে সংস্কৃত অক্ষরে অক্ষরে যে শ্লোকগুলো উৎকীর্ণ রয়েছে, অধিকাংশ শ্লোকের ভাবার্থকে যদি মনুষ্য সমাজে পালনীয় নীতি হিসেবে বিবেচনা করতে হয়, তাহলে মানুষের সমাজে কোন মানবিক বোধ আদৌ রয়েছে বা অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করাটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়। এ ব্যাপারে কোন বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না গিয়ে বরং মনুসংহিতা থেকে অনুবাদ ও ভাবার্থসহ কিছু শ্লোকের নমুনা-উদাহরণ টানলেই বিষয়গুলো আমাদের সামনে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে। Read the rest of this entry »

Advertisements

XRayOfPeaceblog_1207816722_1-MMMM

ছিদ্রান্বেষণ…!
রণদীপম বসু

.

দিনে দিনে ছিদ্রান্বেষণকারী মানুষের সংখ্যা যেই হারে বাড়িয়া যাইতেছে তাহা যে অতিশয় দুঃশ্চিন্তার কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে ইহা আমার দুঃশ্চিন্তার বিষয় নহে। দুঃশ্চিন্তা হইলো আমার আঁতেল বন্ধুটির। যে নাকি মুখ ভার করিয়া থাকিলেই বুঝিতে হয় যে গুরুতর কিছু ঘটিতে যাইতেছে। বলিলাম, কী হইয়াছে তোমার ? আমার মুখের দিকে কিয়ৎক্ষণ অন্যমনস্কভাবে তাকাইয়া থাকিয়া হঠাৎ যেই প্রশ্নটি করিয়া বসিল, তাহা শুনিয়া আমি ভ্যাবচেকা খাইয়া গেলাম ! ‘বলো তো , ছিদ্র মানে কী ?’ প্রশ্নের গুরুত্ব হেলাফেলা করিবার নয়। কেননা এই বন্ধুটির মধ্যে আমরা কস্মিনকালেও কোন তরল-স্বভাব জনিত পাতলা আচরণাদি প্রত্যক্ষ করি নাই। সেইহেতু উত্তরে বলিলাম বটে, ছিদ্র মানে তো ছিদ্রই ! কিন্তু বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না, বন্ধুটি হঠাৎ এইরকম ছিদ্রের অন্বেষণে ব্যস্ত হইয়া পড়িল কেন !

আমার উত্তরে আমি নিজেই সন্তুষ্ট নই, সে ইহাতে কীরূপে সন্তুষ্ট হইবে ! আমার অজ্ঞানতার গর্ত ভরাট করিতে বন্ধুপ্রবর নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া বলিতে শুরু করিল- ব্যাকরণাভিধানে বাঙালা ভাষায় অতি অল্প শব্দই রহিয়াছে যাহাদের একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী একাধিক অর্থ থাকিতে পারে। ‘ছিদ্র’ শব্দটিও সেইরূপ একটি শব্দ, বাঙালা অভিধানে যাহার অর্থ দেওয়া হইয়াছে (১) ফুটো, ফুটা, বিবর, ছেঁদা, বিঁধ, রন্ধ্র। (২) দোষ, ত্রুটি। (৩) অবকাশ। সেই ক্ষেত্রে বাঙালায় ‘ছিদ্রান্বেষণ’ শব্দটি তিন ধরনের অর্থবিশিষ্ট হইবার কথা। ছিদ্র খুঁজিয়া বেড়ানো, দোষ খুঁজিয়া বেড়ানো, কিংবা অবকাশ খুঁজিয়া বেড়ানো। অথচ কী আশ্চর্য দেখো, অভিধানে ছিদ্রান্বেষী শব্দটির একটি মাত্র অর্থকেই অনুমোদন করা হইয়াছে- যে অপরের দোষ খুঁজিয়া বেড়ায় ! শব্দটি কি অন্যায়ভাবে কেবলি একটি দুরভিসন্ধিমূলক নেতিবাচক ভাবকেই ধারণ করিয়া থাকিবে ? ইহার অন্যথা হইবে না কেন ? আমি যদি তোমাকে বলি, ওহে, এই নাও, সুইটির ছিদ্রান্বেষণ করো, তুমি কি তাহলে উহার পশ্চাৎদেশের ছিদ্র অন্বেষণ না করিয়া দোষ খুঁজিয়া বেড়াইবে ? না কি ছিদ্রটাকেই দোষ ভাবিয়া উৎফুল্ল হইয়া উঠিবে ?

আমার দিকে সে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি লইয়া তাকাইয়া থাকায় বুঝিলাম, আমার কাছেই উত্তর চাহিতেছে। বলিলাম, সুইয়ের পাছায় ছিদ্র থাকা দোষ হইবে কেন ? ছিদ্র না থাকিলেই বা ইহা সুই হইবে কী করিয়া ? বরং ছিদ্র না থাকাটাই তো ইহার দোষ হইবে !
তাহা হইলে আমরা কী বুঝিলাম ? পুনর্বার প্রশ্ন।
আমি কিছু বুঝিতে পারিলাম কিনা তাহাই বুঝিতে পারিলাম না। শুধু বলিলাম, হঠাৎ করিয়া তুমি ছিদ্রের পিছনে লাগিলে কেন ?
বলিল, ছিদ্রের পিছনে তো লাগি নাই ! লাগিয়াছি ছিদ্রান্বেষণের পিছনে।
মানে ?
জন্ম সংক্রান্ত জটিলতা। না, ভুল বলিলাম, জন্ম তারিখ সংক্রান্ত বিভ্রান্তির কথা বলিতেছি।
বুঝিলাম না, বন্ধুটি কিসের কথা বলিতেছে। বলিলাম, হঠাৎ জন্ম সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিল কেন তোমার ? এরূপ সন্দেহের হেতু ? আর এই ঘটনার সাথে ব্যাকরণ অভিধানের সম্পর্ক কোথায় ?
সে আশ্চর্য হইয়া বলিল, তুমি কি কোথাও সম্পর্ক দেখিতেছ না !
আমি কোন জবাব না দিয়া তাহার মুখের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিলাম। সে বলিতে লাগিল-
সম্পর্ক তো আছেই। সুইয়ের পিছনে তুমি কি ছিদ্র খুঁজিবে, না কি দোষ খুঁজিবে, সেইটাই প্রশ্ন !
আমি তাহার কথার কোন আগামাথা বুঝিলাম না। বলিলাম, তোমার সমস্যাটা কোথায় বল তো ?
সে বলিল, সার্টিফিকেটের সহিত বাস্তবে জন্ম তারিখ না মিলিলে কি সমস্যা জটিল হইয়া যায় ?
আমি বলিলাম, দেখো, স্কুলের সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ যাহা লিপিবদ্ধ হইয়াছে তাহা সঠিক নাও হইতে পারে। আমাদের অনেকেরই তো এইরূপ আছে। যেই তারিখে জন্ম হইয়াছিল পরবর্তী জীবনের বাস্তব অবস্থা কী হইতে পারে বিবেচনা করিয়া বয়স কমাইয়া রেজিস্ট্রেশান করানো হইয়াছে। এইটা তো আকছার ঘটিতেছে। ইহা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থারই নিদারুণ দূরাবস্থার চিত্র।
হাঁ, তোমার কথা মানিয়া নিলাম। এইবার বল তো দেখি, এই ক্ষেত্রে তুমি জন্মতারিখ কোনটি ব্যবহার করিবে ?
প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটে যাহা আছে তাহাই। আর রাশিফল বিচার করিতে হইলে প্রকৃত তারিখই ব্যবহার করিব।
বাহ্‌, সুন্দর বলিয়াছ তো ! রাশিফলের বিষয়টি তো আমার মাথায় আসে নাই !
তোমার মাথায় কী আসিয়াছে তাহাই বলিয়া ফেল।
বিবাহের ক্ষেত্রে কোন্‌ তারিখটি তুমি ব্যবহার করিবে ?
ইহা কী বলিলে ! তুমিও যে বোকার মতো প্রশ্ন করিতে পার তাহা তো আগে কখনো ভাবি নাই !
এইবার ভাবিয়া বলো !
যদি বিবাহ রেজিস্ট্রি করিতে হয় তাহা হইলে সার্টিফিকেটের তারিখটাই বলিব। আর যদি মন্ত্র পড়িয়া যজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহকার্য সম্পন্ন করিতে হয়, তাহা হইলে তো প্রকৃত তারিখটাই বলিতে হইবে। তাহা না করিলে যে শাস্ত্রীয় অকল্যাণ হইবে ! বৈবাহিক সম্পর্কটাকে তো আর ছোট করিয়া দেখিবার উপায় নাই।
বিদেশ গমনের বেলায় ?
তুমি কি আবারও নির্বোধের মতো পাসপোর্টের কথা বলিতেছ ?
হাঁ।
আমার মনে হয় এইবার তোমার মানসিক চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হইবে !
আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু তুমি দাও নাই।
মনে হইতেছে খুবই হতাশাজনক উপসর্গ। কিছুক্ষণ তার দিকে হা করিয়া তাকাইয়া তারপরে বলিলাম, সার্টিফিকেটের তারিখটাই দিব !
কিন্তু তাহার সাথে এইবার কথা বলিতেই আমার আর আগ্রহ হইতেছে না। আমাদের মধ্যকার মেধাবী বন্ধুটির হঠাৎ এ কী হইল ! তাহার জন্য খুবই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হইয়া পড়িতেছি। নিশ্চয়ই তাহার কোথাও একটা গণ্ডগোল হইয়াছে। কেন জানি সতর্ক হইয়া উঠিলাম। পাগলাটে লোকজন হইতে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। এদিকে তাহার পরের প্রশ্ন, তুমি কি জাতীয় পরিচয় পত্র করাইয়াছ ?
হাঁ করেছি।
উহাতে তারিখ কোনটা দিয়াছ ?
প্রশ্ন শুনিয়া এইবার আমি হতবাক হইয়া রহিলাম ! তাহার উত্তর দিতেই আমার রুচিতে বাঁধিল। অত্যন্ত রুষ্ট হইয়া বলিলাম, তুমি কি আমাকে ছাগল পাইয়াছ !
কিন্তু এদিকে তাহার ভ্রুক্ষেপই নাই।
মনে করো তুমি নির্বাচনে প্রার্থী হইলে। নমিনেশন ফরমে কোন্‌ তারিখখানা উল্লেখ করিবে ?
এহেন উন্মাদের মতো প্রশ্ন শুনিয়া এইবার আর ধৈর্য্য সংবরণ করিয়া রাখাটাই দায় হইয়া পড়িল। তৎক্ষণাৎ বিনা বাক্য ব্যয়ে উঠিয়া দাঁড়াইলাম। উন্মাদ না হইলে এইরকম পাগলের প্রলাপ কাহারো মুখ দিয়া বাহির হইতে পারে ! অমনি হাঁটা ধরিলাম। কিন্তু তাহার আগেই আমার শার্টের কাছা টানিয়া ধরিল সে- আহা, ক্ষেপিয়া যাইতেছ কেন ! আর একটি মাত্র প্রশ্ন করিব। কেবল এই প্রশ্নটির উত্তর পাইলেই আমার চলিবে।
আমি তখন তাহার মুষ্ঠি হইতে নিজেকে ছাড়াইতে ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। কিন্তু কিছুতেই ছাড়াইতে পারিতেছি না। শুনিয়াছি পাগলের দেহ নাকি প্রচণ্ড শক্তি ধরিয়া থাকে। ততক্ষণে শরীর আমার কাঁপিতে লাগিল। বাহিরে প্রকাশ না করিলেও মনে মনে ভীত হইয়া উঠিলাম। উদ্ধার পাইবার উপায় খুঁজিতেছি। সেই মুহূর্তে তাহার সর্বশেষ প্রশ্নটি শুনিয়া আমার উত্থিত সমস্ত উপসর্গই আচমকা বদলাইয়া গেলো-
এই যে তুমি এতগুলি জায়গায় জন্ম তারিখ ব্যবহার করিয়াছ, প্রতিটি জায়গায় কি ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ হইতে পারে না ?

বিলক্ষণ বুঝিতেছি, একটা দুরারোগ্য পাগলের শক্ত মুষ্ঠিতে আটকা পড়িয়া প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীন আমি একটু একটু করিয়া মূর্চ্ছা যাইবার পথে। বহু দূর হইতে সর্বশেষ যে বাক্যটি মৃদুস্বরে কানে আসিল- বুঝিয়াছি, তুমি অদ্যকার পত্রিকাখানা পড়িয়া দেখ নাই। বদ্ধ পাগলও আজ পাগলামীতে হারিয়া গিয়াছে… ! হা হা হা !
(০১-১২-২০০৮)
…………………………………………………..

সোমবার ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪১৫
১ ডিসেম্বর ২০০৮
সমকাল (শেষপৃষ্ঠা ৭ এর কলামে নিউজ)

[সমকাল প্রতিবেদক]
জন্ম তারিখ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মক্কেল সুপ্রিম কোর্টের অপর এক আইনজীবী ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির পক্ষ থেকে নোটিশটি পাঠিয়েছেন। এতে দাবি করা হয়েছে, খালেদা জিয়া ২৯ নভেম্বর ২০০৮ নিজ নাম ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন। এতে তিনি জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘প্রয়োজ্য নয়’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উকিল নোটিশে বলা হয়, খালেদা খানম, পিতা-মোঃ ইস্কান্দার, দিনাজপুর সদর গার্লস স্কুল থেকে ১৯৬১ সালের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তার রোল নম্বর ছিল ‘দিন-রোল-এফ ৭৯২’। ফরমে জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তথ্য অধিদপ্তর থেকে ১৯৯৭ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মকবুল আহমেদের লিখিত চিঠির জবাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র শিক্ষা বোর্ড) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ তথ্য সরবরাহ করেন।
নোটিশে বলা হয়, খালেদা জিয়া ভোটার নিবন্ধনে জন্ম তারিখ ‘১৫ আগস্ট ১৯৪৭’ লিখেছেন, যা উদ্দেশ্যমূলক। জাতির জনকের মৃত্যুদিবসকে তিনি নিজের জন্মদিন হিসেবে দাবি করছেন জেনেশুনে এবং অসদুদ্দেশ্যে।
আরো বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়া পাসপোর্টের জন্য যে আবেদন করেন তাতে জন্মদিনের ঘরে কোনো তারিখ উল্লেখ না করে লিখেছিলেন ‘সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে’। আবার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ের কাবিনে জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ৯ আগস্ট উল্লেখ আছে।
উকিল নোটিশে মিথ্যা তথ্য প্রদানের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, অন্যথায় নোটিশ প্রদানকারী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবেন।

——————

.
[sachalayatan]

TC1029~Mind-and-Body-Posters
ছেঁদা … (প্রাপ্তবয়স্ক কৌতুকালেখ্য)
রণদীপম বসু

[নাবালক বয়সে শুনা সাবালকী কৌতুকের তৈরি গল্পরূপ]

বিবাহের বয়স পার হইয়া যাইতেছে, কিন্তু ছেদন মিয়ার জন্য যোগ্য পাত্রীর সন্ধান পাওয়া যাইতেছে না। পরিবার পরিজন তো আছেই, পাড়া-প্রতিবেশীসহ আশে পাশের কাছে দূরের ময়-মুরব্বী পরিচিত অপরিচিত সবাইকেই প্রায় খবর দেওয়া হইয়া গেছে ছেদনের জন্য একটি রূপসী, বিদূষী, সর্বগুণে গুণান্বিতা, সকল কাজে পারদর্শি এবং যোগ্য একটি পাত্রীর সন্ধান করিয়া দিতে। কিন্তু কেহই সুবিধা করিয়া উঠিতে পারিতেছে না। কারণ, পৌরুষ যতই থাকুক, পুরুষের স্বাভাবিক দেহাবয়বের চাইতেও ছেদনের আকার অতিশয় ছোট এই সংবাদ জানিবামাত্রই পুঁচকে অসভ্য মেয়েগুলো এককথায় বাঁকিয়া বসিতে লাগিল। স্বচ্ছল পিতা-মাতার একমাত্র পুত্রসন্তান হিসাবে আল্লাহর দেয়া সহায়-সম্পদও কিছুমাত্র কম নহে। প্রাকৃতিক জ্ঞানের বহরে তাহাকে গ্রামের সকলেই তোয়াজ করিয়া চলিতে হয়। চার টাকা তিন আনা সের দরে সোয়া তিন সের দুধের পাঁচ বণ্টনে প্রত্যেকের ভাগে কত করিয়া মূল্য পরিশোধ করিতে হইবে খাতার দেড় পৃষ্ঠা ভরিয়া কী সব হিসাব নিকাশ আর আড়াই ঘণ্টা ব্যয় করিয়া পাই-পয়সা সহযোগে যে ব্যাপক ধৈর্য্য সহযোগে বলিয়া দিতে পারে, তাহাকে তোয়াজ না করিয়া উপায় আছে ! কিন্তু এইসব কারণ গৌন হইয়া সেই আকৃতিগত ছোট্ট একটা কারণই বড় হইয়া দেখা দিলো ! পড়ালেখায় তাহার আন্তরিকতায় এতটুকু ঘাটতিও কেউ কখনোই দেখে নাই। তথাপি প্রতিবারেই পরীক্ষা পূর্ণ হইবার আগেই ভাগ্যবিড়ম্বনায় অপরের দোষ ঘাড়ে লইয়া নকল করিবার দায়ে পরীক্ষার হল হইতে বহিষ্কার হইয়া গেলেও পঞ্চমবার ঠিকই মেট্রিক পরীক্ষাটি সম্পূর্ণভাবে দিতে পারিল বটে। কিন্তু পরীক্ষার খাতাকেই কেবল জ্ঞানের প্রকাশিত ক্ষেত্র হিসাবে অদূরদর্শী বিবেচনায় যাহারা অবমূল্যায়ন করিয়া অভ্যস্ত, তাহারা ছেদনের প্রতিভার সাক্ষাৎ পাইবে কী করিয়া। ফলে মেট্রিকে যে অকৃতকার্য হইবেই তাহা কি আর বলিবার বাকী থাকে ! এইসব বুঝিয়া শুনিয়া তাই বৃথা চেষ্টা আর না বাড়াইয়া ছেদন মিয়া অবশেষে প্রকৃতিকেই জ্ঞানার্জনের শ্রেষ্ঠতম উৎস হিসাবে বাছিয়া লইলো। অতএব প্রকৃতি-শিক্ষকের নিকট হইতে লব্ধ জ্ঞানের ব্যাপক চর্চার মাধ্যমে ছেদনের জ্ঞানের চতুর্মুখী সাম্রাজ্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। কিন্তু প্রকৃতি হইতে প্রত্যক্ষ বৈবাহিক জ্ঞান অর্জন এবং তৎপরবর্তী ফলাফল হাতে-নাতে পাইবার কোন উপায় ছেদনের জানা না থাকায় বাধ্য হইয়াই সে বিবাহ করিবার সিদ্ধান্ত লইয়াছে।

চারিদিক হইতে কেবল নৈরাশ্য আর হতাশার সংবাদ পাইতে পাইতে সবাই যখন হতোদ্যম হইয়া পড়িতেছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি পাত্রীর সন্ধান পাওয়া গেল। এই পাত্রীও কখন আবার বাঁকিয়া বসে, তাই কালবিলম্ব না করিয়া একপায়ে খাড়া ছেদন তাৎক্ষণিক বিবাহ করিয়া ফেলিল এবং ধুমধাম করিয়া কন্যা লইয়া গ্রামে ফিরিল। সে নিজেও হয়তো ভাবিতে পারে নাই যে এইরকম সুশ্রী স্বাভাবিক আকারের একটি পাত্রী সে অকস্মাৎ পাইয়া যাইবে। কন্যা দেখিতে গ্রামের সবাই ভাঙিয়া পড়িল। কেহই আর উপস্থিত হইতে বাকী রহিল না। বরের পাশে কন্যাকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখিয়া সবাই কন্যার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হইয়া উঠিতে লাগিলো। কিন্তু একই সাথে সবার মুখে হঠাৎ করিয়া একটি আফসোসও ঝরিয়া পড়িল- আহা, কন্যা তো ঠিকই আছে, কিন্তু ছেদা যে ছোট !

ময়-মুরব্বী যে-ই দোয়া-আশির্বাদ করিতে আসিল, সেই আফসোসটাও ধ্বনিত হইতে থাকিল, কন্যা তো ঠিকই আছে কিন্তু ছেদা যে ছোট ! প্রথমে তাহার নাক-মুখ-চোখ লজ্জায় রক্তিম হইয়া অতঃপর ধীরে ধীরে তাহার সর্বাঙ্গ রাগে লাল হইয়া উঠিতে লাগিল। এই কোথাকার বর্বর দেশে আসিয়া পড়িয়াছে সে ! তাহাদের কাহারো জিহ্বার লাগাম তো নাই-ই, বুঝিতে পারিতেছে না স্রষ্টা ইহাদের চোখ দুইটিকে কী উপাদান দিয়া বানাইয়া পাঠাইয়াছে ! বিবাহপূর্ব জীবনে স্পষ্টভাষিণী উপাধিধারী মেয়ে হইয়া এইরকম সর্বৈব মিথ্যা অপবাদ সে সহ্য করিবে কী করিয়া ! ধৈর্য্যরে বাধ ভাঙিতে ভাঙিতে শেষ কাণায় আসিয়া ঠেকিয়াছে। ঠিক সেই মুহূর্তে গ্রামের দাদী সম্পর্কীয়া বৃদ্ধাটিও যখন তাহাকে নাড়িয়া-চাড়িয়া সামনে পিছনে ডানে বামে হইতে ভালো করিয়া যাচাই বাছাই করিয়া অবশেষে বলিয়া উঠিল- আহা, কন্যা তো সুন্দর, সবকিছুই ঠিক-ঠাক আছে, কিন্তু এই তুলনায় ছেদা তো ছোট ! কন্যা আর সহ্য করিতে পারিল না।

গ্রামবাসী যে ছেদন মিয়াকে আদর করিয়া ছেদা বলিয়া ডাকিতো, এই কথা নববধুকে না জানাইলে সে জানিবে কী করিয়া ! অতএব ছেদন মিয়ার বিবাহভাগ্য শেষপর্যন্ত পূর্বের সেই প্রাকৃতিক অবস্থাতেই রহিয়া গেল।

[sachalayatan]


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 188,604 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 72 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

সেপ্টেম্বর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check