h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘প্রাচীন

402c21f9c841d8925fba2b75f39961b8

শিব ও লিঙ্গ-০৬ : প্রাচীন সাহিত্যে শিব
রণদীপম বসু

শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের পরবর্তী কালের যে সব সাহিত্যে রুদ্র ও শিবের উল্লেখ পাওয়া যায় তার মধ্যে পাণিনির অষ্ট্যাধ্যায়ী ও পতঞ্জলির মহাভাষ্য প্রথমেই উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বলেন–
‘পাণিনি আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর বৈয়াকরণিক, পতঞ্জলি খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের।… পাণিনি তাঁহার ব্যাকরণগ্রন্থের এক সূত্রে (৪, ১, ৪৯) দেবতার এই কয় নামের কথা বলিয়াছেন, যথা– রুদ্র, ভব, শর্ব এবং মৃড়। ইহার সবগুলিই আমরা বৈদিক সাহিত্যে পাই (মৃড় নামটি যজুর্বেদোক্ত শতরুদ্রীয় স্তোত্রে রুদ্রের শত নামের অন্যতম)। এই তালিকায় শিবের নাম পাওয়া না গেলেও, আমরা শিবের নাম অপর এক সূত্রে পাই। পাণিনির ‘শিবাদিভ্যোন’ সূত্রে (৪, ১, ১১২) শিবের উল্লেখ রহিয়াছে। পতঞ্জলি তাঁহার মহাভাষ্যে রুদ্র ও শিবের নাম কয়েকবার করিয়াছেন। রুদ্র সম্বন্ধে তিনি দুইবার বলিয়াছেন যে দেবতার উদ্দেশে পশুবলি হইত; অপর দুই স্থলে রুদ্রের কল্যাণকর ভেষজের কথা বলা হইয়াছে (শিবা রুদ্রস্য ভেষজী)। শিবের উল্লেখও তিনি দুইবার করিয়াছেন। পাণিনির সূত্র ‘দেবতাদ্বন্দ্বে চ’ (৬, ৩, ২৬) ও ইহার কাত্যায়ন কৃত বার্তিক ‘ব্রহ্মপ্রজাপত্যাদীনাং চ’ এর ভাষ্যকালে তিনি দ্বন্দ্ব সমাসের তিনটি উদাহরণ দিয়াছেন, যথা ব্রহ্ম-প্রজাপতি, শিব-বৈশ্রবণৌ এবং স্কন্দ-বিশাখৌ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলিয়াছেন যে এইরূপ দেবতার নাম সম্বলিত দ্বন্দ্ব সমাস বেদে পাওয়া যায় না। এ উক্তি যথার্থ, কারণ প্রজাপতি ব্যতিরেকে অপর দেবতা কয়টি অবৈদিক। মহাভাষ্যকার এই প্রসঙ্গেই শিব, বৈশ্রবণ, স্কন্দ ও বিশাখ দেবতাদিগকে লৌকিক দেবতানিচয়ের অন্তর্ভুক্ত করিয়াছেন। পাণিনির অন্যতম সূত্র ‘জীবিকার্থে চাপণ্যে’ (৫, ৩, ৯৯)-র ভাষ্যকালে পতঞ্জলি স্কন্দ ও বিশাখের মূর্তির সহিত শিবের মূর্তির কথা বলিয়াছেন। পাণিনির আর এক সূত্রের (৫, ২, ৭৬) ব্যাখ্যানে তিনি শিবের ভক্তদিগেরও উল্লেখ করিয়াছেন।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৩০-৩১) Read the rest of this entry »

12033025_596767023794689_6134986862463680606_n

শক্তি-সাধনা-০৬। সিন্ধু-সভ্যতায় মাতৃপ্রাধান্য
রণদীপম বসু

শাক্তধর্মের প্রধান উপাদান হচ্ছে তার ধ্যান-ধারণা, সমাজ ও ধর্মকর্মব্যবস্থায় মাতৃপ্রাধান্যতা। সেক্ষেত্রে প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগের দেবীপ্রধান বা মাতৃপ্রধান ধর্ম-বিশ্বাসে সিন্ধুবাসীরা যে মাতৃ-প্রকৃতির শক্তি-সাধনায় বিশ্বাসী ছিলেন তা নির্ভরযোগ্য প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসবিদদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা থেকেও অবগত হওয়া যায়। এ প্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় আমরা সেসব-আলোচনার কিছুটা সহায়তা নিতে পারি।
Read the rest of this entry »

12046764_600559070082151_1963163237259047425_n

শক্তি-সাধনা-০৩। প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম-সাধনা
রণদীপম বসু

প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুটি মূল ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়– একটি বৈদিক ধারা ও অপরটি বেদ-পূর্ব বা অবৈদিক ধারা। বৈদিক ধারাটি সুস্পষ্টভাবেই আর্যকেন্দ্রিক। আর যে অবৈদিক উপাদানগুলি তাদের স্বকীয় সত্তা নিয়ে কালক্রমে ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষত্বে ভিন্নমাত্রায় একাকার হয়ে আছে, তা হলো প্রাচীন সিন্ধু-সভ্যতা কেন্দ্রিক ধ্যান-ধারণা। ভারতীয় সংস্কৃতির উৎসধারা বলতে এককালে প্রাচীন বৈদিক ধ্যান-ধারণাকেই বুঝাতো, যা বৈদিক সাহিত্যের বিপুল সম্ভারের মধ্যে মূর্ত হয়ে আছে। কিন্তু ১৯২২ সালে শ্রীযুক্ত রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে (বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত) সিন্ধু-উপত্যকায় মহেঞ্জোদারোর ধ্বংসস্তুপের মধ্যে এক সুপ্রাচীন প্রাগৈতিহাসিক সভ্যতার সাক্ষ্য আবিষ্কারের মাধ্যমে সেই সাবেকী ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে ভারতীয় ইতিহাসের প্রাচীনত্ব হঠাৎ আরো কয়েক হাজার বছর বেড়ে যায়। সিন্ধু অঞ্চলে ১৯২২-২৭ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যে প্রাপ্ত প্রাগৈতিহাসিক নমুনা বিশ্লেষণ করে নিঃসংশয়ে প্রমাণিত হলো যে, এই সভ্যতাকে অন্তত পাঁচ হাজার বছরের পুরানো বলতে হবে, এবং স্বীকার করতে হবে যে, সুমের আক্কাদ ব্যবিলন মিশর ও অ্যাসিরিয়ার মতো ভারতবর্ষও পৃথিবীতে প্রথম-সভ্যতার ইমারত গড়ে তুলতে অগ্রসর হয়েছিলো। এমনকি এটাও দেখা গেলো যে, কোন কোন দিক থেকে ভারতবর্ষের ওই প্রাচীন সভ্যতা সমসাময়িক মেসোপটেমিয়া এবং মিশরের তুলনায় উন্নততর ছিলো এবং পরিধির দিক থেকেও তা অন্যান্য প্রাচীন সভ্যতার চেয়ে ঢের বড়ো ছিলো। এবং সর্বশেষ গবেষণালব্ধ ফলাফল থেকে ইদানিং কেউ কেউ বলছেন যে, এই সভ্যতা ন্যুনতম আট হাজার বছরেরও প্রাচীন।
Read the rest of this entry »

734567_515445601835052_692247407_n

| প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগ ও তার ধ্যান-ধারণা-০১ : ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাচীন ধারা |
রণদীপম বসু

১.০    : ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাচীন ধারা

প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দুটি মূল ধারা প্রবাহিত হতে দেখা যায়- একটি বৈদিক ধারা ও অপরটি বেদ-পূর্ব বা অবৈদিক ধারা। বৈদিক ধারাটি সুস্পষ্টভাবেই আর্যকেন্দ্রিক। আর যে অবৈদিক উপাদানগুলি তাদের স্বকীয় সত্তা নিয়ে কালক্রমে ভারতীয় সংস্কৃতির বিশেষত্বে ভিন্নমাত্রায় একাকার হয়ে আছে, তা হলো প্রাচীন সিন্ধু-সভ্যতা কেন্দ্রিক ধ্যান-ধারণা।
Read the rest of this entry »

.
| চার্বাক সাহিত্য-০১ : ভারতীয় সাহিত্যে চার্বাক |
রণদীপম বসু
১.০ : ভারতীয় সাহিত্যে চার্বাক

চার্বাক দর্শন সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় অন্তরায় হচ্ছে চার্বাকদের নিজস্ব রচনাসম্ভার বা সাহিত্য সৃষ্টির কোন নমুনা আমাদের বর্তমান জ্ঞানজগতের আয়ত্তে না-থাকা। সেগুলো সম্পূর্ণ বিলুপ্ত। ফলে সম্পূর্ণতই অন্যের রচনার উপরই আমাদের নির্ভর করতে হয়। এক্ষেত্রে চার্বাক দর্শন সম্পর্কিত আমাদের ধারণার উৎস প্রধানত চার্বাক-বিরোধী তথা চার্বাকেতর ভারতীয় দর্শনের বিভিন্ন গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত চার্বাকী মতবাদের সমালোচনা- যেখানে চার্বাক সর্বদাই পূর্বপক্ষ হিসেবে উপস্থাপিত। Read the rest of this entry »
.
| চাণক্যজন কহেন…০১ | ভূমিকাপর্ব |
-রণদীপম বসু
প্রাচীন নীতিশাস্ত্র
.
প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে ‘নীতিশাস্ত্রম’ নামে একটি বিভাগ স্বীকার করা হয়। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়- নীতিশাস্ত্র। নামের মধ্যেই যেহেতু শাস্ত্র কথাটি যুক্ত রয়েছে, তার উপর আবার সংস্কৃত ভাষা, তাই ধারণা হয় নিশ্চয়ই এতে মারাত্মক সব জটিল তত্ত্বের সমাহারে ভয়ঙ্কর সব শাস্ত্রীয় কপচানিই থাকবে। এবং যার ফলে, এ বিষয়ে বিরাট পাণ্ডিত্য ধারণ করা না-গেলে এই শাস্ত্র উপভোগের শুরুতেই সহজ-সরল সাধারণ পাঠক-মনে প্রথম যে ইচ্ছেটাই গজিয়ে ওঠা স্বাভাবিক, তা হলো- থাক্ বাবা! এ রাস্তায় এগোনোর চাইতে পাথর চিবানোও বুঝি সহজ কর্ম ! ভাগ্যিস এগুলো আসলে সে জাতীয় ভয়ঙ্কর কিছু নয়। এবং এগুলো যে মোটেও রসকষহীন কিছু নয়, বরং অধিকাংশই মনোগ্রাহী কাব্যধর্মী রচনা, এর উদ্দেশ্য থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ, এর উদ্দেশ্য হলো আকর্ষণীয় উপায়ে কিছু সদুপদেশ বিতরণ বা কাঙ্ক্ষিত কিছু নীতির প্রচার। Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,629 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos