h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘পুরাণ

Kali_by_Raja_Ravi_Varma

শক্তি-সাধনা-১২ : শক্তিদেবী কালী ও তাঁর পূজার ইতিহাস
রণদীপম বসু

বাঙলা ও ভারতে শক্তিসাধনা মূল দুইভাগে বিভক্ত– প্রথমটা হলো দুর্গা-কেন্দ্রিক, আর দ্বিতীয়টা কালী-কেন্দ্রিক। পার্বতী উমা, সতী এবং দুর্গা-চণ্ডিকার ধারা মিলে পুরাণ-তন্ত্রাদিতে যে দুর্গাকেন্দ্রিক এক মহাদেবীর বিবর্তন দেখতে পাই, তার সাথে এসে মিলেছে কালী, করালী, চামুণ্ডা, তারা ও অন্যান্য দশমহাবিদ্যাকে নিয়ে আরেকটি ধারা, তা হলো দেবী কালিকা বা কালীর ধারা। এই কালী বা কালিকাই বাঙলা অঞ্চলের শক্তিসাধনার ক্ষেত্রে দেবীর অন্য সব রূপ পেছনে ফেলে শেষ পর্যন্ত সর্বেশ্বরী হয়ে উঠেছেন। তাই বাঙলার শক্তি-সাধনা ও শাক্ত-সাহিত্যকে বুঝতে হলে এই কালী বা কালিকার ধারাটির প্রাচীন ইতিহাস একটু অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে হয়। Read the rest of this entry »

Uma-2

শক্তি-সাধনা-১০ । পার্বতী উমা : মানবরূপী দেবী না কি দেবীরূপী মানবী?
রণদীপম বসু

দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়া সম্পর্কে পুরাণে দুই শ্রেণির কাহিনী প্রচলিত। এক শ্রেণির কাহিনীতে দেবী দেব-তেজঃসম্ভূতা– জ্যোতির্ময়ী তেজোরূপা– অসুরঘাতিনী। এক্ষেত্রে তিনি বৈদিক দিব্য সরস্বতীর সগোত্রা। আর অন্য শ্রেণির কাহিনীতে দেবী দক্ষতনয়া, জন্মান্তরে হিমালয়-নন্দিনী উমা-পার্বতী। উভয় জন্মেই তিনি শিবশক্তি শিব-জায়া। উমা-পার্বতী গজানন-কার্তিকেয়ের জননী। ইনি দৈত্যনাশিনী নন। আর দেবতেজঃসম্ভূতা যে মহাশক্তি চণ্ডী, তিনিই বিষ্ণুমায়া– বিষ্ণুর যোগনিদ্রা– শিবজায়া বা হিমালয় কন্যা নন। ইনি সকল দেবতার শক্তিরূপা– সুতরাং প্রকৃতই মহাশক্তি। পরে ক্রমে ক্রমে দেবীর এই দুই রূপ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। দুর্গা-পার্বতী-চণ্ডী মিলেমিশে একই দেবসত্তায়, একই মহাশক্তি শিবশক্তি শিবানীতে পরিণত হয়েছেন। দেবী-কল্পনার বিবর্তন বা ক্রমবিকাশের ধারায় পার্বতী উমার ধারাটির উৎস খুঁজে দেখা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

image6
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৭ : বীরশৈব বা লিঙ্গায়ৎ সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

মধ্যযুগে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক অঞ্চলে অনেকটা জঙ্গী ধরনের একটি শৈব সম্প্রদায় গড়ে ওঠে, যার নাম বীরশৈব বা লিঙ্গায়ৎ। এদেরকে লিঙ্গবন্ত ও জঙ্গম নামেও অভিহিত করা হয়। ভারতীয় সুপ্রাচীন কোন গ্রন্থে বা শৈবাগম শাস্ত্রে এই লিঙ্গায়ৎ ধর্ম ও সম্প্রদায়ের কোন উল্লেখ না থাকলেও এটি অনেক পুরাতন যুগের ঐতিহ্যবাহী বলে মনে করা হয়, যে ঐতিহ্যকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপ দিয়েছিলেন বসব বা বাসব নামক একজন কন্নড় দেশীয় ব্রাহ্মণ। তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কর্ণাটক থেকে জৈনদের উৎখাত করা, এবং দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল একটি আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা স্থাপন। দুটি উদ্দেশ্যই বহুলাংশে সিদ্ধ হয়েছিল বলে মনে করা হয়। Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-full-HD-wallpaper
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৬ : শুদ্ধশৈব বা শিবাদ্বৈত সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

দক্ষিণ ভারতে শুদ্ধশৈব নামে অপর একটি শৈব মত ও সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। শিব পুরাণের অন্যতম অংশ বায়বীয় সংহিতা তাঁদের প্রামাণ্য শাস্ত্রগ্রন্থ, এবং এই মতের সর্বশ্রেষ্ঠ আদি ব্যাখ্যাতা ছিলেন শ্রীকণ্ঠ শিবাচার্য। তিনি ‘ব্রহ্মমীমাংসা’ নামে বেদান্তসূত্রের স্বকৃত ভাষ্য রচনা করেছিলেন, যার উপর শৈবধর্মের ভিত্তি স্থাপনের প্রয়াস পেয়েছিলেন। ষোড়শ শতকের অপ্পয় দীক্ষিত এই ব্রহ্মমীমাংসা-ভাষ্যের নিজস্ব ভাষ্য রচনা করেছিলেন।
ব্রহ্মসূত্র বা বেদান্তসূত্রের উপর রচিত শ্রীকণ্ঠের ভাষ্য বহুলাংশে রামানুজের বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের অনুরূপ, তবে রামানুজ যেমন চরম অদ্বয়বাদ ও দ্বৈতবাদের মধ্যবর্তী পথ গ্রহণ করেছিলেন, শ্রীকণ্ঠের মত একটু বেশি অদ্বয় ঘেঁষা, বরং তাঁকে অদ্বৈতবাদী আচার্য শঙ্কর ও বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী রামানুজ আচার্যের মধ্যবর্তী পর্যায়ে ফেলা যায় বলে অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের অভিমত। Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-had-a-sister-nam
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৩ : নায়নার সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

বিভিন্ন উগ্রপন্থী শৈব গোষ্ঠীর প্রাদুর্ভাব যে সুপ্রাচীন কালে প্রথমে উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব-ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রবল হয় তা ইতঃপূর্বেকার শৈব-সম্প্রদায়ের আলোচনা থেকে আমরা ধারণা করতে পারি। দক্ষিণ ভারতেও তা ছড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়। তবে কোনও বিশেষ শৈব সম্প্রদায়ের ধর্মানুষ্ঠান রূপে শিবপূজার কথা ছেড়ে দিলেও সাধারণভাবে এই দেবতার পূজা তামিল, তেলেগু, কানাড়ী প্রভৃতি ভাষাভাষী অঞ্চলে সুপ্রাচীনকালে থেকেই প্রচলিত ছিল। কারও কারও মতে দেবতা হিসেবে শিব নামটি ‘রক্তবর্ণ’ এই অর্থবাচক তামিল শব্দ ‘শিবপ্পু’ থেকে গৃহীত। এ মত সত্য হলে, অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে,–
‘শিব যে অনার্য দ্রাবিড়গণের পূজার দেবতা ছিলেন ইহা স্বীকার করিতে কোনও বাধা থাকে না। মহাকাব্য ও পুরাণাদিতে বর্ণিত দক্ষযজ্ঞ বিনাশের কাহিনীও বৈদিক দেবতা হইতে শিবের পার্থক্য নির্দিষ্ট করে। বৈদিক দেবতামণ্ডলীর অপাংক্তেয় শিবের আদিম অনার্য রূপ সম্বন্ধেও ইহা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে। আর্য ও অনার্য, জেতা ও বিজিত, জাতির ঘনিষ্ঠ সংমিশ্রণের ফলে শিব ভারতীয় জনসমাজে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেবতা রূপে পরিগণিত হন। এদিক দিয়া বিচার করিলেও ভারতবর্ষের দক্ষিণাংশে শিবপূজার প্রাচীনত্ব সহজেই স্বীকৃত হয়।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৭১) Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-Face-and--Shivling-with-Dark-Background-HD-Wallpaper
শিব ও লিঙ্গ-০৯/২ : কাপালিক, কালামুখ, মত্তময়ূর সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

শৈব-সম্প্রদায় প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ইতঃপূর্বে কেশীসূক্ত নামে পরিচিত ঋগ্বেদের একটি সূক্ত (ঋগ্বেদ-১০/১৩৬) তর্জমাসহ উদ্ধৃত করে তার উপর আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন যে, এই সূক্তে ধূলিমলিন পিঙ্গলবস্ত্র পরিহিত, দীর্ঘকেশযুক্ত, উন্মত্তপ্রায় একশ্রেণীর মুনির ইঙ্গিত আছে যাদের হয়তো পাশুপত ব্রতধারী রুদ্রশিব পূজকদের পূর্বসূরী হিসেবে গণ্য করা যায়, বিশেষ করে যখন এখানে কেশীমুনির সঙ্গে রুদ্রের বিষপানের ঐতিহ্যকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। তিনি আরও দেখিয়েছেন, পতঞ্জলি আয়ঃশূলিক (লৌহ-ত্রিশূলধারী) এবং দণ্ডাজিনিক (দণ্ডধারী ও পশুচর্ম পরিধানকারী) শিবভাগবতের ধর্মাচরণ সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন কটাক্ষপাত করেছেন, যে আচরণ পরবর্তীকালের লকুলীশ পাশুপত শৈবদের ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করেছি। ক্রাথন-স্পন্দন-মণ্ডন-শৃঙ্গারণ-অবিত্তকরণ-অবিতদ্ভাষণাদি পাশুপত চর্যাসমূহ সুস্পষ্টভাবেই কৌণ্ডিন্য কর্তৃক ব্রাহ্মণ্যকর্মবিরুদ্ধ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। Read the rest of this entry »

PT-102
শিব ও লিঙ্গ-০৯/১ : পাশুপত ধর্মসম্প্রদায়
রণদীপম বসু

ভারতীয় ঐতিহাসিক দলিলগুলি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে প্রাক-পাণিনি পর্বেই এখানে বিশেষ শৈব সম্প্রদায় গড়ে উঠেছিল। তাদের আচার আচরণের একটা রূপরেখাও ঐতিহাসিক দলিলগুলি থেকে প্রমাণ হয়। এ প্রসঙ্গে ড. উদয়চন্দ্র বন্দ্রোপাধ্যায়ের মত হলো,–
‘পাণিনি মূলতঃ শব্দসাধনের জন্য অষ্টাধ্যায়ী নামক ব্যাকরণ রচনা করেছিলেন। পাণিনি সম্প্রদায়ের ও পুরাণের মতে এই ব্যাকরণের মূলে আছে ১৪টি শিবসূত্র। শিবসূত্রগুলির সাহায্যে বিভিন্ন প্রত্যাহার গঠন করে ব্যাকরণের পরিভাষাকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিবসূত্রগুলি প্রাচীন শৈব ব্যাকরণের ও শৈব সম্প্রদায়ের কথা বলে। পাণিনির বিভিন্ন সূত্রেও শৈবদের উল্লেখ আছে; যথা– ‘শিবাদিভ্যোহণ্’ (৪/১/১১২) ইত্যাদি। তখনকার শৈব ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কে আরও একটু টুকরো চিত্র পাওয়া যায়– ‘আয়ঃশূলদণ্ডাজিনাভ্যাং ঠক্ঠক্রৌ’ (৫/২/৭৬) সূত্র থেকে। পাণিনি ব্যাকরণের উপর রচিত পতঞ্জলীর মহাভাষ্যে এই লৌহ ত্রিশূলধারীদেরই শৈবভাগবত বলা হয়েছে। কারো কারো মতে পতঞ্জলীর শিবভাগবতেরাই পাশুপত মতাবলম্বী সম্প্রদায়। তার প্রমাণ হিসাবে মহাভারতে পাশুপতদের উল্লেখের কথা তাঁরা বলে থাকেন।’– (লিঙ্গপুরাণ, ভূমিকা, পৃষ্ঠা-২০) Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 465,239 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 128 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« নভে.    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 6 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos