h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘পার্বতী

Uma-2

শক্তি-সাধনা-১০ । পার্বতী উমা : মানবরূপী দেবী না কি দেবীরূপী মানবী?
রণদীপম বসু

দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়া সম্পর্কে পুরাণে দুই শ্রেণির কাহিনী প্রচলিত। এক শ্রেণির কাহিনীতে দেবী দেব-তেজঃসম্ভূতা– জ্যোতির্ময়ী তেজোরূপা– অসুরঘাতিনী। এক্ষেত্রে তিনি বৈদিক দিব্য সরস্বতীর সগোত্রা। আর অন্য শ্রেণির কাহিনীতে দেবী দক্ষতনয়া, জন্মান্তরে হিমালয়-নন্দিনী উমা-পার্বতী। উভয় জন্মেই তিনি শিবশক্তি শিব-জায়া। উমা-পার্বতী গজানন-কার্তিকেয়ের জননী। ইনি দৈত্যনাশিনী নন। আর দেবতেজঃসম্ভূতা যে মহাশক্তি চণ্ডী, তিনিই বিষ্ণুমায়া– বিষ্ণুর যোগনিদ্রা– শিবজায়া বা হিমালয় কন্যা নন। ইনি সকল দেবতার শক্তিরূপা– সুতরাং প্রকৃতই মহাশক্তি। পরে ক্রমে ক্রমে দেবীর এই দুই রূপ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। দুর্গা-পার্বতী-চণ্ডী মিলেমিশে একই দেবসত্তায়, একই মহাশক্তি শিবশক্তি শিবানীতে পরিণত হয়েছেন। দেবী-কল্পনার বিবর্তন বা ক্রমবিকাশের ধারায় পার্বতী উমার ধারাটির উৎস খুঁজে দেখা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

pics 26 c

শিব ও লিঙ্গ-১১ : বাংলার লোকায়তিক শিব ও লৌকিক শৈবধর্ম
রণদীপম বসু

প্রাচীন ভারতীয় যেসব প্রাক্-বৈদিক দেবতা পরবর্তী হিন্দু সমাজেও নিজেদের প্রতিষ্ঠা স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে বলা যায় শিবই সর্বপ্রধান। এতে স্বভাবতই অনুমিত হয় যে, এ দেশের প্রাক্-বৈদিক সমাজে তৎকালীন শৈবধর্মের ব্যাপক প্রভাব ছিল। হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোর আবিষ্কার থেকেও এ বিষয় সমর্থিত হয়। সেজন্যেই মনে করা হয়,–
‘বর্তমানে ভারতের যে অঞ্চলে আর্যেতর জাতির লোক অধিক সংখ্যায় বসবাস করে, সেই অঞ্চলেই শৈবধর্মের ও যে অঞ্চলে আর্যভাষী জাতির বংশধরগণ অধিক পরিমাণে বাস করে, সেই অঞ্চলেই বৈষ্ণব ধর্মেরই প্রাধান্য দেখিতে পাওয়া যায়। ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বাংলাদেশ হইতে বহু দূরবর্তী অঞ্চলে উদ্ভুত হইয়াছিল, কালক্রমে তাহা বাংলাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হইবার পূর্বেই ইহাকে প্রাগার্য (Pre-Aryan) শৈবধর্মের সংস্পর্শে আসিতে হইয়াছিল। অতএব বাংলাদেশে প্রথম হইতেই যে শিবধর্মের প্রচার হইয়াছিল, তাহার সঙ্গে আর্যেতর সমাজের উপাদান পূর্ব হইতেই মিশ্রিত ছিল। শুধু তাহাই নহে, অনার্য দেবতা শিব ইতিপূর্বেই আর্য সমাজে একটি বিশিষ্ট স্থান লাভ করিয়া স্বকীয় মহিমায় স্বয়ম্প্রতিষ্ঠ হইয়াছিলেন।’– (শ্রী আশুতোষ ভট্টাচার্য, বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাস, পৃষ্ঠা-১৪২) Read the rest of this entry »

12042906_599938180144240_5375375480413254287_n

তন্ত্র-সাধনা-০২ : তন্ত্র-শাস্ত্র
রণদীপম বসু

অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায় তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থ ‘বাঙালীর ইতিহাস আদিপর্বে’র ‘ধর্মকর্ম : ধ্যান-ধারণা’ অধ্যায়ে শাক্তধর্ম প্রসঙ্গে বলেন,– ‘দেবীপুরাণে (খ্রীষ্টোত্তর সপ্তম-অষ্টম শতক) বলা হইয়াছে, রাঢ়া-বরেন্দ্র-কামরূপ-কামাখ্যা-ভোট্টদেশে (তিব্বতে) বামাচারী শাক্তমতে দেবীর পূজা হইত। এই উক্তি সত্য হইলে স্বীকার করিতেই হয়, খ্রীষ্টোত্তর সপ্তম-অষ্টম শতকের পূর্বেই বাঙলাদেশের নানা জায়গায় শক্তিপূজা প্রবর্তিত হইয়া গিয়াছিল। ইহার কিছু পরোক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায় গুপ্তোত্তর পর্বে এবং মধ্য-ভারতে রচিত জয়দ্রথ-যামল গ্রন্থে। এই গ্রন্থে ঈশান-কালী, রক্ষা-কালী, বীর্যকালী, প্রজ্ঞাকালী প্রভৃতি কালীর নানা রূপের সাধনা বর্ণিত আছে। তাহা ছাড়া ঘোরতারা, যোগিনীচক্র, চক্রেশ্বরী প্রভৃতির উল্লেখও এই গ্রন্থে পাওয়া যায়। আর্যাবর্তে শাক্তধর্ম যে গুপ্ত-গুপ্তোত্তর পর্বেই বিকাশ লাভ করিয়াছিল আগম ও যামল গ্রন্থগুলিই তাহার প্রমাণ। খুব সম্ভব ব্রাহ্মণ্য অন্যান্য ধর্মের স্রোত-প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গেই শক্তিধর্মের স্রোতও বাঙলাদেশে প্রবাহিত হইয়াছিল এবং এই দেশ পরবর্তী শক্তিধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রূপে গড়িয়া উঠিয়াছিল। এইসব আগম ও যামল গ্রন্থের ধ্যান ও কল্পনাই, অন্তত আংশিকত, পরবর্তী কালে সুবিস্তৃত তন্ত্র সাহিত্যের ও তন্ত্রধর্মের মূলে এবং এই তন্ত্র-সাহিত্যের প্রায় অধিকাংশ গ্রন্থই রচিত হইয়াছিল বাঙলাদেশে। তন্ত্রধর্মের পরিপূর্ণ ও বিস্তৃত বিকাশও এই দেশেই। দ্বাদশ শতকের আগেকার রচিত কোনও তন্ত্র-গ্রন্থ আজও আমরা জানি না এবং পাল-চন্দ্র-কম্বোজ লিপিমালা অথবা সেন-বর্মণ লিপিমালায়ও কোথাও এই গুহ্য সাধনার নিঃসংশয় কোনও উল্লেখ পাইতেছি না, এ-কথা সত্য। কিন্তু পাল-পর্বের শাক্ত দেবীদের রূপ-কল্পনায়, এক কথায় শক্তিধর্মের ধ্যানধারণায় তান্ত্রিক ব্যঞ্জনা নাই, এ কথা জোর করিয়া বলা যায় না। জয়পালের গয়া-লিপিতে মহানীল-সরস্বতী নামে যে দেবীটির উল্লেখ আছে তাঁহাকে তো তান্ত্রিক দেবী বলিয়াই মনে হইতেছে। তবু, স্বীকার করিতেই হয় যে, পাল-পর্বের অসংখ্য দেবী মূর্তিতে শাক্তধর্মের যে রূপ-কল্পনার পরিচয় আমরা পাইতেছি তাহা আগম ও যামল গ্রন্থবিধৃত ও ব্যাখ্যাত শৈবধর্ম হইতেই উদ্ভূত এবং শাক্তধর্মের প্রাক্-তান্ত্রিক রূপ। এ তথ্য লক্ষণীয় যে, পুরাণকথানুযায়ী সকল দেবীমূর্তিই শিবের সঙ্গে যুক্ত, শিবেরই বিভিন্নরূপিণী শক্তি, কিন্তু তাঁহাদের স্বাধীন স্বতন্ত্র অস্তিত্ব ছিল এবং সেইভাবেই তাঁহারা পূজিতাও হইতেন। শাক্তধর্ম ও সম্প্রদায়ের পৃথক অস্তিত্ব ও মর্যাদা সর্বত্র স্বীকৃত ছিল।’ Read the rest of this entry »

12004962_598650700272988_6352938307443038956_n

শক্তি-সাধনা-১১ ।  শক্তিপূজায় পৌরাণিক দুর্গা ও শস্যদেবী শাকম্ভরী
রণদীপম বসু

পার্বতী উমা দেবীই পরবর্তীকালে দুর্গা নামে সুপ্রসিদ্ধা হয়েছেন বলে মনে করা হয়। এই দুর্গা দেবীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় তৈত্তিরীয় আরণ্যকের অন্তর্গত যাজ্ঞিকা উপনিষদে। দুর্গা বা দুর্গি নামের প্রথম উল্লেখ তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ওই যাজ্ঞিকা উপনিষদের দুর্গা-গায়ত্রীটিতে পাওয়া যায়,–

‘কাত্যায়নায় বিদ্মহে, কন্যাকুমারীং ধীমহি, তন্নো দুর্গিঃ প্রচোদয়াৎ।’
অর্থাৎ– কাত্যায়নকে জানি, কন্যাকুমারীকে ধ্যান করি, সুতরাং দুর্গি আমাদের প্রেরণ করুন।

এখানে দুর্গির সাথে শিবের কোন সংযোগ আছে কিনা আদৌ জানা যায় না। আবার এই তৈত্তিরীয় আরণ্যকের দশম খণ্ডের দ্বিতীয় অনুবাকে দুর্গার যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা হলো–

তাং অগ্নিবর্ণাং তপসা জ্বলন্তীং বৈরোচনীং কর্মফলেষু জুষ্টাম্ ।
দুর্গাং দেবীং শরণমহং প্রপদ্যে সুতরসি তরসে নমঃ।। (তৈত্তিরীয় আরণ্যক-১০/২)
অর্থাৎ : অগ্নিবর্ণা তপপ্রদীপ্তা সূর্য (বা অগ্নির) কন্যা, যিনি কর্মফলের (পুরস্কার প্রদানের জন্য লোকদিগের দ্বারা) প্রার্থিত হন, এমন দুর্গা দেবীর আমি শরণাপন্ন হই; হে সুন্দর রূপে ত্রাণকারিণী, তোমাকে নমস্কার।

Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 557,472 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 141 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos