h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘নির্বাচন

35tw7

‘স্বভাব যায় না মইলে’
রণদীপম বসু

.

(১৮ নভেম্বর ২০০৮)
আমাদের দেশে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা কতো ? আট কোটি ? সঠিক সংখ্যাটি এ মুহূর্তে হাতে নেই আমার। আট কোটির ধারে কাছে হবে হয়তো। সেক্ষেত্রে কতজন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বা করার সুযোগ পান ? এই হিসাবটা হয়তো চলে আসে নির্বাচনের ফলাফল থেকে। আমাদের জাতীয় নির্বাচনগুলোর বিগত ইতিহাস অনুযায়ী মোট ভোটারের ষাট থেকে পঁয়ষট্টি ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেই মোটামুটি সফল নির্বাচন হয়েছে বলে সরকারীভাবে ধরে নেয়া হয়। এখানে যে ভোটগুলো অধিকার প্রয়োগ করা সত্তেও প্রক্রিয়াগত ভুলে নষ্ট হয়ে যায় তা বাদ দিলে মোটা দাগে আমরা ধরে নিতে পারি যে ন্যুনতম শতকরা পঁয়ত্রিশ ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন নি। এদের কত ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছেন বা চান, কিন্তু তাঁদের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ বা সামর্থ না থাকায় তা প্রয়োগ করতে পারেন নি বা পারছেন না, এ বিষয়টা নিয়ে কোন জরিপ হয়েছে কিনা জানা নেই। কিন্তু অধিকার সুরক্ষার প্রসঙ্গ এলে এ বিষয়টি কি বিবেচনায় না এসে পারে ? দেশের বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতায় বহুপাক্ষিক ধস্তাধস্তির মধ্যে হঠাৎ করে আনুমানিক চল্লিশ হাজার পবিত্র হজযাত্রীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক এজেণ্ডায় চলে আসায় বিষয়টাকে আর খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই।

হজযাত্রীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেবার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যারা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আপাত দু’টো সম্ভাবনা আমরা ধারণা করতে পারি। আট কোটি ভোটারের স্বাপেক্ষে যে বিপুল অংশ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদের কথা বেমালুম চেপে গিয়ে শতকরা হারে অতিনগন্য পরিমাণ হজযাত্রী ভোটারের ইস্যুকে সংবেদনশীল করে তুলে এরা হয় খুব হীন রাজনৈতিক খেলায় বিপজ্জনকভাবে মেতে উঠতে চাচ্ছেন। নয়তো খুব যৌক্তিকভাবে সবার ভোট দেয়ার অধিকার সমুন্নত রেখে অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টির দাবীতে সোচ্চার হতে চাচ্ছেন। কোনটা ঠিক ? রাষ্ট্র পরিচালনায় আগ্রহী দল বা ব্যক্তিবর্গ প্রথমোক্ত সম্ভাবনায় সংশ্লিষ্ট থাকতে পারেন এমনটা আমরা বিশ্বাস করতে চাইবো কেন ? তাহলে যে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের আগ্রহ ও যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন এসে যায়, আদৌ তাঁরা এর যোগ্য কিনা। স্বকল্পিতভাবে আমরা কেন তাঁদেরকে এতোটা অযোগ্য ভাববো ? তার চেয়ে বরং দ্বিতীয় সম্ভাবনাকেই বিবেচনায় নিতে পারি। অর্থাৎ আগ্রহী ভোটারদের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতেই তাঁরা সোচ্চার হয়েছেন বলে ধরে নেবো। সত্যি কি তাই ? ‘মাগো মা, তোরে আমি বেঁইচা দিমু। তয় এমন দাম চামু, কেউ কিনতেই পারবো না !’

গোটা দেশের ছড়ানো ছিটানো চল্লিশ হাজার হজযাত্রীরা ইহলৌকিক হিসাব নিকাশগুলো আপাতত স্থগিত রেখে এক পরম আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে যখন পবিত্র হজের প্রতি তাদের দেহমন উৎসর্গ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদেরকে সমর্পিত করেন, তখন ভোটের মতো জাগতিক বিষয়ে তাঁদের আদৌ কোন মনোযোগ থাকে কিনা সেদিকে আমরা না-ই গেলাম। বিষয়টা যখন অধিকার প্রয়োগের, আমাদেরকে নৈতিকভাবে মানতে হবে যে চল্লিশ হাজার না হয়ে কেবল চল্লিশ জন হলেও এ অধিকার প্রয়োগের সুযোগ অবশ্যই সবারই প্রাপ্য। আর তখনই আমাদেরকে দেখতে হয় এই সমানাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে কিনা। এখন প্রশ্ন, তাঁদেরকে অধিকার প্রয়োগে কেউ বাধাদান করছে কিনা। কেউ কি বাধাদান করছে ? তাঁরা তো তাঁদের স্বেচ্ছাকৃত পথটাই বেছে নিয়েছেন। এখানে পাল্টা কোন প্রশ্ন উত্থাপনের আগে খুব সমান্তরালভাবে আমাদের অন্যুন পঞ্চাশ লাখ প্রবাসী ভোটারদের অধিকার প্রয়োগের বিষয়টাকেও উত্থাপন করতে পারি। এখন কেউ হয়তো বলতে পারেন, তাঁদেরকে কেউ কি তাঁদের অধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়েছে ? তাঁরাই তো তাঁদের স্বেচ্ছাকৃত পথটাকে বেছে নিয়েছেন। তাহলেও প্রশ্ন দাঁড়ায় তাঁদের সংখ্যা কিন্তু পঞ্চাশ হাজার নয়, পঞ্চাশ লাখ ! তাঁদের অধিকার প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে কোন দল বা গোষ্ঠী কি কখনো জোরালো আগ্রহ দেখিয়েছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন ? অথচ এই প্রবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মূদ্রা আমাদের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে যথারীতি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে এবং আগামীতেও রাখবে।

এখানেও কেউ কেউ পুনরায় প্রশ্ন উঠাতে পারেন, আমাদের পবিত্র হজযাত্রীরা হজকালীন সময়টাতে চাইলেই ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ছুটে আসতে পারবেন না। আগামী আঠারো ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে হজ শেষ হয়ে গেলেও প্রক্রিয়াগত কারণেই ধরে নিচ্ছি অর্ধেকের মতো হাজী দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন না। তাহলে বাকি বিশ হাজার হাজী চাইলেও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এ বিষয়টা নিয়ে যারা সোচ্চার হয়েছেন তাঁদের জন্য ভিন্ন একটি পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারি আমরা। নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে সরকারী বেসরকারী কর্মচারীরা চাইলেও তাঁদের অমূল্য ভোটটা দিতে পারবেন না, তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক নন ? তাঁদের কি ভোটাধিকার নেই ? এদের সংখ্যা তো কম নয়, বেশ কয়েক লাখ ! এবং আমাদের রাষ্ট্র-ব্যবস্থায় তাঁদেরকেই কেবল তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ থেকে বাধ্যগতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। কই, তাঁদের জন্য তো কোন দল বা গোষ্ঠীকে কখনো কোন দাবী নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায় নি ! অথচ এই বেশ কয়েক লাখ নাগরিকরা তাদের দেহমনের সামর্থ ও তাদের কর্মক্ষমতা দিয়ে রাষ্ট্রের সেবা করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক কূটচাল যখন ধর্মকে লেবাস হিসেবে জড়িয়ে নেয়, তা যে কতো সংবেদনশীল বিপজ্জনক হয়ে উঠে, এই ভূখণ্ডের নাগরিকরা বহুবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। যারা এই বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেন তারা যে এই পবিত্র হজযাত্রীদের বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখেছেন তাই বা বলি কী করে ? তাহলে আমাদের দেশে কতগুলো হাসপাতাল কিনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে ? গড়ে কী পরিমাণ গুরুতর রোগী এখানে ভর্তি থাকেন যারা কিছুতেই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন না ? এবং সাথে থাকা রোগীর আত্মীয় পরিজন যারা রোগীকে সাময়িক সময়ের জন্যও ফেলে যাওয়া সম্ভব নয় বিধায় তাদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব হবে না, তাদের সংখ্যা কতো ? নিশ্চয়ই অনেক ? বেশ কয়েক লাখ তো অবশ্যই। নির্বাচনের তারিখে গোটা দেশে আমাদের কতজন অন্তসত্ত্বা মা-বোন রয়েছেন যারা গর্ভাবস্থার সর্বশেষ পর্যায়ে রয়েছেন এবং ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার মতো শারীরিক সক্ষম অবস্থায় থাকবেন না ? তারা তাদের ভোটাধিকার কীভাবে প্রয়োগ করবেন ? এই বিপুল সংখ্যক ভোটাররা কি তাহলে মানবিক বিবেচনায় আসার যোগ্যতা রাখেন না ? জেলখানায় আটক দাগী আসামী ও অভিযুক্ত অপরাধীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি যদি আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের যথাযোগ্য মাথায় জায়গা করে নিতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রের সুযোগ্য নিরপরাধ অসুস্থ নাগরিকদের কথা এরা ভাববেন না তা কী করে হয় ?

উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা যে ধারণায় এসে পৌঁছে যাই, তাতে আমাদের আদর্শহীন রাজনীতির আরেকটি পুরনো চর্চিত অধ্যায়ই উন্মোচিত হয়ে পড়ে। খুব বিসদৃশভাবেই একটি সেনসেটিভ ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে এই রাজনৈতিক হীনমনষ্কতা আমাদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলে বৈ কি। পবিত্র হাজীদের বিশ হাজার ছড়ানো ছিটানো ভোট নির্বাচনে আদৌ কোন প্রভাব ফেলবে কিনা জানি না। যদি প্রভাব ফেলতোই, তাহলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চলতি ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দশ লক্ষ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির যে প্রক্রিয়া চলমান তাতে কম করে হলেও গড়ে পঁচাত্তর হাজার সুস্থ কর্মক্ষম নাগরিক যে প্রতি মাসে দেশ ত্যাগ করছেন তাদের হিসাবটাও মাথায় থাকতো। কেননা নির্বাচন একমাস পিছিয়ে যাওয়া মানে পঁচাত্তর হাজার করে নিশ্চিত ভোটারের সংখ্যা কমে যাওয়া। কিন্তু কই, এ নিয়ে তো কেউ টু শব্দটি করছেন না !

পরিবর্তনের আওয়াজ তুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাবহুল নির্বাচনে যখন এবার সে দেশের নীতিনির্ধারকরা বিপুল পরিমাণ নিষ্ক্রিয় ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে এনে গোটা দুনিয়াকে চমক উপহার দিলো, তার রেশ অব্যহত থাকলেও আমরা যে আসলে অন্ধতা ছাড়া কিছুই শিখি না, একটা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে আবারো তা প্রমাণীত হলো। ছোট্ট এই গরীব রাষ্ট্রের অসহায় নাগরিক হিসেবে তাই আমাদেরকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতেই হয়, ‘কয়লা যায় না ধুইলে স্বভাব যায় না মইলে !’ আমাদের স্বভাব কি কখনোই পরিবর্তনযোগ্য নয় !
(১৮/১১/২০০৮)
.
[khabor.com]
[muktangon:nirmaan]
[mukto-mona]
[sa7rong]

Advertisements

25122008_JatioSangsadBhabanView1Dhaka_photo_RanadipamBasu

জাতীয় সংসদ, আমাদের চোখ ক্যামেরার চোখ…
রণদীপম বসু

.

(২৭ ডিসেম্বর ২০০৮)
জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০০৮ এর কাউন্ট ডাউন খুব দ্রুত শূন্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সব পর্যায়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন প্রায়। যদিও কোথাও কোথাও কিছু অনিয়ম অপরাধের খবর কানে আসছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত অবস্থার মধ্যে প্রবেশ করবো আমরা। সব নির্বাচনেই মানুষের মধ্যে অদ্ভুত কিছু আবেগের খেলা দেখা যায়। এবারেও আছে। তবে সব বিচারেই এবারের নির্বাচনে একটা বিশাল ভিন্নতা রয়েছে বলে মনে হয় অন্য যে কোন নির্বাচনের সাথে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় জোট মহাজোট দল প্রার্থী কর্মী সমর্থক ভোটার ও সাধারণ জনগণের বোধের জগতে নিশ্চয়ই এই ভিন্নতাগুলো রেখাপাত করেছে। অনেক প্রার্থী দল ও সমর্থকের নৈতিক ও আদর্শগত অবস্থান এবার অনেক বেশি পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে গেছে সবার কাছে। এক কান কাটা ও দু’কান কাটার পার্থক্যটাও চক্ষুষ্মাণ নাগরিকদের কাছে খোলাশা হয়ে যাওয়ার কথা। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জনগণের রায়ের অপেক্ষায় থাকা প্রধান প্রধান যে ইস্যুগুলো এবার মোটা দাগে লক্ষ্যণীয় হয়ে ওঠেছে তা হলো-

25122008_Mausoleum_of_ZiaurRahmanView2_photo_RanadipamBasu
০১) সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়া বনাম বর্জন করা
০২) দুর্নীতিগ্রস্ত লুটেরা মামদোবাজদের কাছে ফের নতিস্বীকার বনাম তাদেরকে প্রতিরোধের প্রত্যয় ঘোষণা করা
০৩) নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার দায়বদ্ধতা বনাম স্বেচ্ছাচারিতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনীর অনুমোদন করা
০৪) সমতাভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকারবোধকে উচ্চকিত করে পরিবর্তন আহ্বান বনাম পুরাতন গড্ডালিকায় ভেসে যাওয়ার অভ্যস্ততায় থেকে যাওয়া
০৫) এবং অর্থহীন বাকপটুতাসবর্স্ব বাগাড়ম্বরের অথর্বতা স্বীকার করে নেয়া বনাম নতুন আলোয় উদ্ভাসনের ভিশনারী প্রতিনিধি খুঁজে নেয়া।
.

.

.

.

.

.

.

.

এর বাইরে আরো অনেক অনেক পয়েণ্ট আসতে পারে এবং এগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ বিতর্কে অনেকেই পাতার পর পাতা ভরিয়েও ফেলতে পারেন। এ মুহূর্তে সে পথে না গিয়ে আমাদের মেধা মনন আর উপলব্ধির নিজস্ব ঘরে বিষয়গুলোকে শেষ মুহূর্তের ভাবনা হিসেবে নাড়াচাড়া করে দেখার জন্য তুলে নিয়ে আমরা বরং আসুন একটু সংসদ ভবন এলাকা থেকে ঘুরে আসি। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, কেন ঘুরে আসবো ? আমাদের কি আর কাজ কাম নেই ? উত্তরে এটুকুই বলবো, অবশ্যই আছে। তবে এই ঘুরে আসাটা এজন্যেই গুরুত্বপূর্ণ যে, জনপ্রতিনিধি বানিয়ে আমরা কাকে কোথায় কীভাবে কেন পাঠাচ্ছি তা অনুভব করতে আমাদের রাষ্ট্রীয় সমস্ত কর্মকাণ্ডের উৎসটাকে আবারো একটু ফিরে দেখা জরুরি নয় কি ?

.

.

.

.

.

কথায় বলে, শীতের দিনে সকাল ও বিকেল আছে, দুপুর নেই। তবুও দুপুর ভেবে খ্রীস্টিয় বড়দিনের যে সময়টাতে বেরিয়ে বিজয়সরণীর মোড় ঘুরে হাঁটছিলাম, তখন শেষ বিকেল। হালকা রোদ ও কুয়াশাচ্ছন্নতায় সংসদ ভবনের পেছনভাগটাকে ধোয়াশার মতো লাগছে। রাস্তার একপাশে জিয়া উদ্যান, অন্যপাশে সংসদ ভবন এলাকা। এমপি হোস্টেলের লাল দালানগুলো পেরিয়ে এগিয়ে যেতেই ঢলে পড়া সূর্যের আঁচ সরাসরি চোখে। পকেট থেকে বের করে ২ মেঃপিঃ মোবাইল ক্যামেরার চোখ সেদিকে তুলতেই চোখ ঝাঁজিয়ে গেলো। স্মৃতি ধরে রাখতে না পারার হতাশা ফের পকেটে পুরে জিয়া উদ্যানে ঢুকে পড়লাম।

.

.

.

.

.

.

.

.

.

ব্যক্তিগত অনুভবে তখন এক দোলাচলের খেলা। রাস্তার এপার আর ওপার, কী পরস্পরবিরোধী আয়োজন ! একদিকে সংসদ ভবন আমাদের আশা-ভরসার তীর্থভূমি ম্লান আলোয় নিথর, অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও রাজনৈতিক জীবনে যুদ্ধাপরাধী ও ধর্মীয় মৌলবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জেনারেল জিয়ার মাজার সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল ! চারদিকে ভ্রমনপিপাসুদের কোলাহল।

.

.

.

.

.

.

.

.

.

.

দু-একটা ক্লিক শেষে ফিরে আসতে আসতে সংসদ ভবনটার দিকে ফের ক্যামেরার চোখ তুলে ধরলাম। আর সূর্যের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক ব্যাখ্যাহীন দুঃখবোধ ভরে নিয়ে ফিরে চললাম।
.

.

.

.

.

.

.

.

এমপি হোস্টেল পেরোতে পেরোতে ভাবছি, এই চমৎকার স্থাপত্যগুলোর ভোগবিলাসের জন্য কি আবারো কিছু মদ্যপ নারীলুলোপ ভণ্ড প্রতারককে নির্বাচিত করে পাঠাবো আমরা ? ভেতরে সাধারণের প্রবেশাধিকার নেই। অথচ এই সাধারণেরা যাকে নির্বাচিত করবে সেই হবে এর যাচ্ছেতাই ভোগদখলের দাবীদার। কী চমৎকার ব্যবস্থা !
.

.

.

.

.

.

.

.

রাতে বাসায় ফিরে মোবাইল থেকে ছবিগুলো কম্প্যুটারে আপলোড করেই চোখ কপালে উঠে গেলো ! এ কী ! আমাদের চোখ আর ক্যামেরার চোখে দেখা এক নয় তবে ! এই বিষন্ন আধিতে দাঁড়িয়েই দেখুন না, কী এক উদ্ভাসিত আলোয় ঝলমল করছে সংসদ ভবন (উপরে প্রথম ছবিতে ক্লিক করুন) ! এটা কি নতুন কোন আগামীর উদ্ভাসন, না কি পুরোটাই ফাঁকি !!!

[sachalayatan]

XRayOfPeaceblog_1207816722_1-MMMM

ছিদ্রান্বেষণ…!
রণদীপম বসু

.

দিনে দিনে ছিদ্রান্বেষণকারী মানুষের সংখ্যা যেই হারে বাড়িয়া যাইতেছে তাহা যে অতিশয় দুঃশ্চিন্তার কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে ইহা আমার দুঃশ্চিন্তার বিষয় নহে। দুঃশ্চিন্তা হইলো আমার আঁতেল বন্ধুটির। যে নাকি মুখ ভার করিয়া থাকিলেই বুঝিতে হয় যে গুরুতর কিছু ঘটিতে যাইতেছে। বলিলাম, কী হইয়াছে তোমার ? আমার মুখের দিকে কিয়ৎক্ষণ অন্যমনস্কভাবে তাকাইয়া থাকিয়া হঠাৎ যেই প্রশ্নটি করিয়া বসিল, তাহা শুনিয়া আমি ভ্যাবচেকা খাইয়া গেলাম ! ‘বলো তো , ছিদ্র মানে কী ?’ প্রশ্নের গুরুত্ব হেলাফেলা করিবার নয়। কেননা এই বন্ধুটির মধ্যে আমরা কস্মিনকালেও কোন তরল-স্বভাব জনিত পাতলা আচরণাদি প্রত্যক্ষ করি নাই। সেইহেতু উত্তরে বলিলাম বটে, ছিদ্র মানে তো ছিদ্রই ! কিন্তু বুঝিয়া উঠিতে পারিতেছি না, বন্ধুটি হঠাৎ এইরকম ছিদ্রের অন্বেষণে ব্যস্ত হইয়া পড়িল কেন !

আমার উত্তরে আমি নিজেই সন্তুষ্ট নই, সে ইহাতে কীরূপে সন্তুষ্ট হইবে ! আমার অজ্ঞানতার গর্ত ভরাট করিতে বন্ধুপ্রবর নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া বলিতে শুরু করিল- ব্যাকরণাভিধানে বাঙালা ভাষায় অতি অল্প শব্দই রহিয়াছে যাহাদের একই সঙ্গে পরস্পরবিরোধী একাধিক অর্থ থাকিতে পারে। ‘ছিদ্র’ শব্দটিও সেইরূপ একটি শব্দ, বাঙালা অভিধানে যাহার অর্থ দেওয়া হইয়াছে (১) ফুটো, ফুটা, বিবর, ছেঁদা, বিঁধ, রন্ধ্র। (২) দোষ, ত্রুটি। (৩) অবকাশ। সেই ক্ষেত্রে বাঙালায় ‘ছিদ্রান্বেষণ’ শব্দটি তিন ধরনের অর্থবিশিষ্ট হইবার কথা। ছিদ্র খুঁজিয়া বেড়ানো, দোষ খুঁজিয়া বেড়ানো, কিংবা অবকাশ খুঁজিয়া বেড়ানো। অথচ কী আশ্চর্য দেখো, অভিধানে ছিদ্রান্বেষী শব্দটির একটি মাত্র অর্থকেই অনুমোদন করা হইয়াছে- যে অপরের দোষ খুঁজিয়া বেড়ায় ! শব্দটি কি অন্যায়ভাবে কেবলি একটি দুরভিসন্ধিমূলক নেতিবাচক ভাবকেই ধারণ করিয়া থাকিবে ? ইহার অন্যথা হইবে না কেন ? আমি যদি তোমাকে বলি, ওহে, এই নাও, সুইটির ছিদ্রান্বেষণ করো, তুমি কি তাহলে উহার পশ্চাৎদেশের ছিদ্র অন্বেষণ না করিয়া দোষ খুঁজিয়া বেড়াইবে ? না কি ছিদ্রটাকেই দোষ ভাবিয়া উৎফুল্ল হইয়া উঠিবে ?

আমার দিকে সে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি লইয়া তাকাইয়া থাকায় বুঝিলাম, আমার কাছেই উত্তর চাহিতেছে। বলিলাম, সুইয়ের পাছায় ছিদ্র থাকা দোষ হইবে কেন ? ছিদ্র না থাকিলেই বা ইহা সুই হইবে কী করিয়া ? বরং ছিদ্র না থাকাটাই তো ইহার দোষ হইবে !
তাহা হইলে আমরা কী বুঝিলাম ? পুনর্বার প্রশ্ন।
আমি কিছু বুঝিতে পারিলাম কিনা তাহাই বুঝিতে পারিলাম না। শুধু বলিলাম, হঠাৎ করিয়া তুমি ছিদ্রের পিছনে লাগিলে কেন ?
বলিল, ছিদ্রের পিছনে তো লাগি নাই ! লাগিয়াছি ছিদ্রান্বেষণের পিছনে।
মানে ?
জন্ম সংক্রান্ত জটিলতা। না, ভুল বলিলাম, জন্ম তারিখ সংক্রান্ত বিভ্রান্তির কথা বলিতেছি।
বুঝিলাম না, বন্ধুটি কিসের কথা বলিতেছে। বলিলাম, হঠাৎ জন্ম সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিল কেন তোমার ? এরূপ সন্দেহের হেতু ? আর এই ঘটনার সাথে ব্যাকরণ অভিধানের সম্পর্ক কোথায় ?
সে আশ্চর্য হইয়া বলিল, তুমি কি কোথাও সম্পর্ক দেখিতেছ না !
আমি কোন জবাব না দিয়া তাহার মুখের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিলাম। সে বলিতে লাগিল-
সম্পর্ক তো আছেই। সুইয়ের পিছনে তুমি কি ছিদ্র খুঁজিবে, না কি দোষ খুঁজিবে, সেইটাই প্রশ্ন !
আমি তাহার কথার কোন আগামাথা বুঝিলাম না। বলিলাম, তোমার সমস্যাটা কোথায় বল তো ?
সে বলিল, সার্টিফিকেটের সহিত বাস্তবে জন্ম তারিখ না মিলিলে কি সমস্যা জটিল হইয়া যায় ?
আমি বলিলাম, দেখো, স্কুলের সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ যাহা লিপিবদ্ধ হইয়াছে তাহা সঠিক নাও হইতে পারে। আমাদের অনেকেরই তো এইরূপ আছে। যেই তারিখে জন্ম হইয়াছিল পরবর্তী জীবনের বাস্তব অবস্থা কী হইতে পারে বিবেচনা করিয়া বয়স কমাইয়া রেজিস্ট্রেশান করানো হইয়াছে। এইটা তো আকছার ঘটিতেছে। ইহা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থারই নিদারুণ দূরাবস্থার চিত্র।
হাঁ, তোমার কথা মানিয়া নিলাম। এইবার বল তো দেখি, এই ক্ষেত্রে তুমি জন্মতারিখ কোনটি ব্যবহার করিবে ?
প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সার্টিফিকেটে যাহা আছে তাহাই। আর রাশিফল বিচার করিতে হইলে প্রকৃত তারিখই ব্যবহার করিব।
বাহ্‌, সুন্দর বলিয়াছ তো ! রাশিফলের বিষয়টি তো আমার মাথায় আসে নাই !
তোমার মাথায় কী আসিয়াছে তাহাই বলিয়া ফেল।
বিবাহের ক্ষেত্রে কোন্‌ তারিখটি তুমি ব্যবহার করিবে ?
ইহা কী বলিলে ! তুমিও যে বোকার মতো প্রশ্ন করিতে পার তাহা তো আগে কখনো ভাবি নাই !
এইবার ভাবিয়া বলো !
যদি বিবাহ রেজিস্ট্রি করিতে হয় তাহা হইলে সার্টিফিকেটের তারিখটাই বলিব। আর যদি মন্ত্র পড়িয়া যজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহকার্য সম্পন্ন করিতে হয়, তাহা হইলে তো প্রকৃত তারিখটাই বলিতে হইবে। তাহা না করিলে যে শাস্ত্রীয় অকল্যাণ হইবে ! বৈবাহিক সম্পর্কটাকে তো আর ছোট করিয়া দেখিবার উপায় নাই।
বিদেশ গমনের বেলায় ?
তুমি কি আবারও নির্বোধের মতো পাসপোর্টের কথা বলিতেছ ?
হাঁ।
আমার মনে হয় এইবার তোমার মানসিক চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন হইবে !
আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু তুমি দাও নাই।
মনে হইতেছে খুবই হতাশাজনক উপসর্গ। কিছুক্ষণ তার দিকে হা করিয়া তাকাইয়া তারপরে বলিলাম, সার্টিফিকেটের তারিখটাই দিব !
কিন্তু তাহার সাথে এইবার কথা বলিতেই আমার আর আগ্রহ হইতেছে না। আমাদের মধ্যকার মেধাবী বন্ধুটির হঠাৎ এ কী হইল ! তাহার জন্য খুবই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হইয়া পড়িতেছি। নিশ্চয়ই তাহার কোথাও একটা গণ্ডগোল হইয়াছে। কেন জানি সতর্ক হইয়া উঠিলাম। পাগলাটে লোকজন হইতে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। এদিকে তাহার পরের প্রশ্ন, তুমি কি জাতীয় পরিচয় পত্র করাইয়াছ ?
হাঁ করেছি।
উহাতে তারিখ কোনটা দিয়াছ ?
প্রশ্ন শুনিয়া এইবার আমি হতবাক হইয়া রহিলাম ! তাহার উত্তর দিতেই আমার রুচিতে বাঁধিল। অত্যন্ত রুষ্ট হইয়া বলিলাম, তুমি কি আমাকে ছাগল পাইয়াছ !
কিন্তু এদিকে তাহার ভ্রুক্ষেপই নাই।
মনে করো তুমি নির্বাচনে প্রার্থী হইলে। নমিনেশন ফরমে কোন্‌ তারিখখানা উল্লেখ করিবে ?
এহেন উন্মাদের মতো প্রশ্ন শুনিয়া এইবার আর ধৈর্য্য সংবরণ করিয়া রাখাটাই দায় হইয়া পড়িল। তৎক্ষণাৎ বিনা বাক্য ব্যয়ে উঠিয়া দাঁড়াইলাম। উন্মাদ না হইলে এইরকম পাগলের প্রলাপ কাহারো মুখ দিয়া বাহির হইতে পারে ! অমনি হাঁটা ধরিলাম। কিন্তু তাহার আগেই আমার শার্টের কাছা টানিয়া ধরিল সে- আহা, ক্ষেপিয়া যাইতেছ কেন ! আর একটি মাত্র প্রশ্ন করিব। কেবল এই প্রশ্নটির উত্তর পাইলেই আমার চলিবে।
আমি তখন তাহার মুষ্ঠি হইতে নিজেকে ছাড়াইতে ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। কিন্তু কিছুতেই ছাড়াইতে পারিতেছি না। শুনিয়াছি পাগলের দেহ নাকি প্রচণ্ড শক্তি ধরিয়া থাকে। ততক্ষণে শরীর আমার কাঁপিতে লাগিল। বাহিরে প্রকাশ না করিলেও মনে মনে ভীত হইয়া উঠিলাম। উদ্ধার পাইবার উপায় খুঁজিতেছি। সেই মুহূর্তে তাহার সর্বশেষ প্রশ্নটি শুনিয়া আমার উত্থিত সমস্ত উপসর্গই আচমকা বদলাইয়া গেলো-
এই যে তুমি এতগুলি জায়গায় জন্ম তারিখ ব্যবহার করিয়াছ, প্রতিটি জায়গায় কি ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ হইতে পারে না ?

বিলক্ষণ বুঝিতেছি, একটা দুরারোগ্য পাগলের শক্ত মুষ্ঠিতে আটকা পড়িয়া প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীন আমি একটু একটু করিয়া মূর্চ্ছা যাইবার পথে। বহু দূর হইতে সর্বশেষ যে বাক্যটি মৃদুস্বরে কানে আসিল- বুঝিয়াছি, তুমি অদ্যকার পত্রিকাখানা পড়িয়া দেখ নাই। বদ্ধ পাগলও আজ পাগলামীতে হারিয়া গিয়াছে… ! হা হা হা !
(০১-১২-২০০৮)
…………………………………………………..

সোমবার ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪১৫
১ ডিসেম্বর ২০০৮
সমকাল (শেষপৃষ্ঠা ৭ এর কলামে নিউজ)

[সমকাল প্রতিবেদক]
জন্ম তারিখ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু তার মক্কেল সুপ্রিম কোর্টের অপর এক আইনজীবী ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির পক্ষ থেকে নোটিশটি পাঠিয়েছেন। এতে দাবি করা হয়েছে, খালেদা জিয়া ২৯ নভেম্বর ২০০৮ নিজ নাম ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন। এতে তিনি জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট উল্লেখ করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে ‘প্রয়োজ্য নয়’ উল্লেখ করা হয়েছে।
উকিল নোটিশে বলা হয়, খালেদা খানম, পিতা-মোঃ ইস্কান্দার, দিনাজপুর সদর গার্লস স্কুল থেকে ১৯৬১ সালের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তার রোল নম্বর ছিল ‘দিন-রোল-এফ ৭৯২’। ফরমে জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। তথ্য অধিদপ্তর থেকে ১৯৯৭ সালের ১৮ আগস্ট তৎকালীন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মকবুল আহমেদের লিখিত চিঠির জবাবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র শিক্ষা বোর্ড) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ তথ্য সরবরাহ করেন।
নোটিশে বলা হয়, খালেদা জিয়া ভোটার নিবন্ধনে জন্ম তারিখ ‘১৫ আগস্ট ১৯৪৭’ লিখেছেন, যা উদ্দেশ্যমূলক। জাতির জনকের মৃত্যুদিবসকে তিনি নিজের জন্মদিন হিসেবে দাবি করছেন জেনেশুনে এবং অসদুদ্দেশ্যে।
আরো বলা হয়েছে, ১৯৭৮ সালের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়া পাসপোর্টের জন্য যে আবেদন করেন তাতে জন্মদিনের ঘরে কোনো তারিখ উল্লেখ না করে লিখেছিলেন ‘সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সালে’। আবার জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ের কাবিনে জন্ম তারিখ ১৯৪৭ সালের ৯ আগস্ট উল্লেখ আছে।
উকিল নোটিশে মিথ্যা তথ্য প্রদানের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, অন্যথায় নোটিশ প্রদানকারী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবেন।

——————

.
[sachalayatan]


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 439,420 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 124 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 4 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements