h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘নারী

IMG_0633_2 [Original Resolution]

ঢাকের বাদ্য
রণদীপম বসু

কান পাতলেই ঢাকের বাদ্য শুনি আজো-
শৈশবের নিভৃত সুদূর থেকে ভেসে আসা অদ্ভূত হুল্লোড়,
শাপলাদিঘির ঝুপঝাপ, ভেঁপুর পুঁ-পাঁ, উনুনের ভাঁপে পোড়া
জাদুময় ঘ্রাণ, আর শঙ্খচিলের চমকে ওঠা চিৎকারে চাপা পড়া
মিনুদি’র আশ্চর্য দীর্ঘশ্বাস!

মাঝে মাঝে অচেনা শব্দ নাকি ভেসে যেতো রাণুদের পুরনো ভিটায়,
ঝিম লাগা দুপুরের নৈঃশব্দ ভেঙে তেতুলের পুরুষ্ট ডালে চড়ে
পরপর ঝাঁকি মেরে নেমে দেখি- ঝরে পড়া ঝিরঝিরে পাতাই শুধু!
মুখ ভরা লালা নিয়ে তখনো কি জানতাম, যতোই টসটসে হোক
ঝাঁকালেই বোঁটার বন্ধনে বাঁধা ঝরে না তেঁতুল!
Read the rest of this entry »

Fig.-3.-Farnese-Atlas-National-Archaeological-Museum-Naples-Italy

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০২ : মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা |
রণদীপম বসু

মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা :

পৃথিবীতে যতগুলো কথিত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে মনে হয় অন্যতম বর্বর, নীতিহীন, শঠতা আর অমানবিক প্রতারণায় পরিপূর্ণ গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘মনুস্মৃতি’ (Manu-smriti) বা ‘মনুসংহিতা’ (Manu-samhita)। ব্রাহ্মণ্যবাদের (Hinduism) আকর গ্রন্থ শ্রুতি বা ‘বেদ’-এর নির্যাসকে ধারণ করে যেসব স্মৃতি বা শাস্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে কথিত, তার শীর্ষে অবস্থান করছে মনুস্মৃতি বা মনুসংহিতা। তাই মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে আলাদা করে দেখার উপায় নেই। মনুসংহিতা মানেই ব্রাহ্মণ্যবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ মানেই মনুসংহিতা। এটাকে তৎকালীন বৈদিক আর্য সমাজ ও প্রচলিত হিন্দু সমাজের অবশ্য পালনীয় পবিত্র সংবিধান বা সামগ্রিক ও সম্পূর্ণ জীবনাচরণবিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বারোটি অধ্যায়ে প্রায় দুহাজার সাতশত শ্লোক সংবলিত এ গ্রন্থটির পাতায় পাতায় ধর্মীয় বিধানের নাম দিয়ে সংস্কৃত অক্ষরে অক্ষরে যে শ্লোকগুলো উৎকীর্ণ রয়েছে, অধিকাংশ শ্লোকের ভাবার্থকে যদি মনুষ্য সমাজে পালনীয় নীতি হিসেবে বিবেচনা করতে হয়, তাহলে মানুষের সমাজে কোন মানবিক বোধ আদৌ রয়েছে বা অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করাটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়। এ ব্যাপারে কোন বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না গিয়ে বরং মনুসংহিতা থেকে অনুবাদ ও ভাবার্থসহ কিছু শ্লোকের নমুনা-উদাহরণ টানলেই বিষয়গুলো আমাদের সামনে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে। Read the rest of this entry »

kirsi_Handling-Chaos

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১১ : দ্যুলোক বা স্বর্গের দেবতা |
রণদীপম বসু

(ক) দ্যুলোক বা স্বর্গের দেবতা

দ্যুলোকের প্রাচীনতম দেবতা বলতে যাঁর নাম আসে তিনি হলেন দ্যু বা দ্যৌস্, অর্থাৎ আকাশ। তাঁর সম্বন্ধে ঋগ্বেদে কোন পৃথক সূক্ত নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি পিতা হিসেবে দ্যৌস্পিতা বলে স্তুত। এবং তাঁর সঙ্গে মাতা পৃথিবীকে যুক্ত করে গুটি দুয়েক সূক্ত পাওয়া যায়। তাতে উভয়ে একত্রে দ্যাবাপৃথিবী বলে উল্লিখিত। যেমন– Read the rest of this entry »

10301598_822840851071012_5546513123171155425_n

| প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগ-০৭ : প্রকৃতি উপাসনা |
রণদীপম বসু

প্রকৃতি-উপাসনা :

বেদ-পূর্ব সিন্ধু-ধর্ম মাতৃপ্রধান এবং বৈদিক ধর্ম যে পুরুষ-প্রধান, এ বিষয়ে বিদ্বান-পণ্ডিতদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতির আলোচনায় অত্যন্ত কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় হলো, পরবর্তীকালের ভারতবর্ষীয় ধর্মে অন্তত সাধারণ জনগোষ্ঠির মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে ঋগ্বেদের প্রাচীন পুরুষ-দেবতাদের বিশেষ কোন পরিচয়ই পাওয়া যায় না। অন্যদিকে উত্তরকালের এই ধর্মবিশ্বাসের প্রধানতম উপাদান হলো মাতৃ-পূজা- তা কি ওই বেদ-পূর্ব সিন্ধু-ধর্মেরই রেশ? এ ক্ষেত্রে সিন্ধু-যুগে এই ধর্মবিশ্বাস প্রচলিত ছিলো বলে এর ব্যাখ্যা-সন্ধানে যেমন সিন্ধু-প্রত্নতত্ত্ব-লব্ধ স্মারকগুলির উপর নির্ভর করতে হবে, তেমনি পরবর্তীকালেও এই ধর্মবিশ্বাস বহুলাংশে অক্ষুণ্ন থেকেছে এই অনুমান-জন্য পরবর্তীকালের লিখিত সাহিত্য হয়তো ওই স্মারকগুলির উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করতে পারে। অর্থাৎ ওই শাক্ত-ধর্ম বা মাতৃ-উপাসনার ব্যাখ্যা সন্ধানে একাধারে প্রত্নতত্ত্বমূলক ও সাহিত্যমূলক দ্বিবিধ তথ্যের উপর নির্ভর করা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

11403278_10153011642277843_5391545931654713716_n

|প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগ-০৫ : সিন্ধু-সভ্যতার ধর্ম বিশ্বাস- শক্তি সাধনা|
রণদীপম বসু

২.৭ : সিন্ধু-সভ্যতার ধর্ম বিশ্বাস

সিন্ধু সভ্যতার পরিকল্পিত নাগরিক জীবন থেকে প্রমাণ হয় এখানে একটি দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিলো। আবিষ্কৃত সীলগুলো প্রমাণ করে রাজ্য পরিচালনায় শাসক রাজা ছিলেন প্রধান। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননে মন্দির বা উপাসনা গৃহের অনুপস্থিতি, লিপি পাঠোদ্ধার না হওয়ায় সিন্ধু সভ্যতার ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে নির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। Read the rest of this entry »


.
| মনু’র বৈদিক চোখ : নারীরা মানুষ নয় আদৌ…| শেষপর্ব-০৩/৩ |
-রণদীপম বসু
[প্রথমদ্বিতীয় পর্বের পর…]
মনুশাস্ত্রে স্ত্রীর কর্তব্য
বিবাহ নামক নারী-সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত যে নারীটিকে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী পুরুষের ব্যক্তি-মালিকানায় রক্ষিতা বানানো হয়েছে, সেই নারীকে বহুমাত্রিক ভোগ-ব্যবহারের মাধ্যমে পূর্ণতৃপ্তি বা সন্তোষ না পেলে পুরুষতন্ত্রের সার্থকতা থাকে না। বর্ণ-নির্বিশেষে নারী সামাজিকভাবে শূদ্রধর্মীতার কারণেই শ্রম বা উৎপাদন-যন্ত্রবিশেষ, পুরুষের উপভোগ্য দেহধারণের কারণে নারী ভোগ্যসামগ্রি এবং গর্ভধারণকারী প্রজননযন্ত্রের কারণে নারী সন্তান উৎপাদনকারী জৈবযন্ত্র ইত্যাদি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই এধরনের যাবতীয় প্রয়োজনের নিরীখে নারী যাতে কিছুতেই অব্যবহার্য না থাকে সে লক্ষ্যে মনুশাস্ত্র সদাসতর্ক থেকেছে সবসময়- Read the rest of this entry »
.
| মনু’র বৈদিক চোখ : নারীরা মানুষ নয় আদৌ…| পর্ব-০২/৩ |
-রণদীপম বসু
মনুসংহিতায় নারী
এক কথায় বলতে হলে, মনুশাস্ত্রে নারী হচ্ছে পুরুষের ইচ্ছাধীন কর্ষণযোগ্য ক্ষেত্র বা জৈবযন্ত্র, যাতে পুরুষপ্রভু তার বীর্যরূপ বীজ বপন করে পুত্ররূপ শস্য হিসেবে যোগ্য উত্তরাধিকারী উৎপাদনের মাধ্যমে ধর্মরূপ পুরুষতন্ত্রের বহমান ধারাটিকে সচল রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এখানে নারী কেবলই এক পুরুষোপভোগ্য জৈবসত্তা। নারীর মনস্তত্ত্ব বা কোনরূপ মানসিক সত্তাকে মনুশান্ত্রে স্বীকারই করা হয়নি। নারীর দেহসত্তাটিরই প্রাধান্য এখানে, যার মালিকানাও নারীর নিজের নয় অবশ্যই। এর মালিকানা শুধুই আধিপত্যকামী পুরুষ প্রভুর। পুরুষতন্ত্র তার ইচ্ছানুরূপ শারীরিক-মানসিক ভোগ-লিপ্সা চরিতার্থ করতে, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি ও সত্ত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত রাখতে এবং তার নিরঙ্কুশ আধিপত্যবাদ কায়েম রাখতে যখন যা করার প্রয়োজন মনে করেছে, ধর্মশাস্ত্রের নাম দিয়ে মনুশাস্ত্রে তার সবই প্রয়োগ করা হয়েছে। কোন কিছুরই বাদ রাখা হয়নি। সর্বক্ষেত্রেই নিজেদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় আইন ও অনুশাসন সৃষ্টির মাধ্যমে নারীকে বাধ্য করেছে সম্পূর্ণ পদানত রাখতে। এমনকি নারীভোগকে আরো উপভোগ্য করে নিংড়ে নেয়ার প্রয়োজনে নারীর মনস্তাত্ত্বিক যে বিমূর্ত জগত যেখানে আইনের শাসনও পৌঁছাতে পারে না, সেখানেও আধিপত্য অর্জনের লক্ষ্যে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ফাঁপা প্রশংসা বা কল্পিত গুণ-গান করে তাকে সুযোগমতো প্রতারণা করতেও দ্বিধা করা হয় নি। Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 172,436 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 72 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

জুন 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check