h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘জৈমিনি

BLACK_FOREST

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৬ : যজ্ঞ |
রণদীপম বসু

৩.৬ : যজ্ঞ

ঋগ্বেদে অবশ্যই যজ্ঞ, যজমান, ঋত্বিক প্রভৃতির প্রচুর উল্লেখ রয়েছে; এমন কি এতে উত্তর-সাহিত্যে– যজুর্বেদ এবং ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থে– বর্ণিত কোনো কোনো বিশিষ্ট যজ্ঞের পরিচয়ও পাওয়া যায়। যেমন, অধ্যাপক কীথ্ বলছেন– ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১৬২ ও ১৬৩ সূক্ত অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই অশ্বমেধ যজ্ঞের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত। মূলত ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের উল্লিখিত সূক্তগুলিরই পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায় তৈত্তিরীয়-সংহিতা বা কৃষ্ণযজুর্বেদের চতুর্থ কাণ্ডের ষষ্ঠ প্রপাঠকের মন্ত্রগুলিতে, যেগুলি অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে পঠিত হয়। কিন্তু উত্তর-সাহিত্যে অর্থাৎ যজুর্বেদ ও ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থে বৈদিক যজ্ঞকে যে-জটিল ও পল্লবিতরূপে দেখা যায় ঋগ্বেদে নিশ্চয়ই তার পরিচয় নেই। এর থেকে অনুমান করা হয় যে, ঋগ্বেদের যুগে যজ্ঞ পরবর্তীকালের মতো ছিলো না। তার মানে, বিদ্বান গবেষকদের দৃষ্টিতে, যজ্ঞের আদি-রূপ ও উত্তর-রূপ এক নয়। অর্থাৎ, পরবর্তী কালে যজ্ঞ বলতে আমরা যা বুঝতে অভ্যস্ত হয়েছি আদিতে যজ্ঞ বলতে ঠিক তা বোঝাতো না। Read the rest of this entry »

Chanakya-quotes

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-০৩ : বৈদিক সাহিত্য- ব্রাহ্মণ |
রণদীপম বসু

২.২ : ব্রাহ্মণ

মীমাংসা-সূত্রকার মহর্ষি জৈমিনি বেদকে মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ– এই দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। মন্ত্র হচ্ছে সর্বপ্রাচীন ভাগ। মন্ত্রের ব্যাখ্যা করা হলো ব্রাহ্মণের কর্ম এবং যজ্ঞের বিধিবিধানে তার প্রয়োগ করা। মূলত যাগ-যজ্ঞ সম্বন্ধে নানা প্রকার আচার-অনুষ্ঠান ও বিধি-নিষেধমূলক নির্দেশিত গদ্যে রচিত সাহিত্যই ‘ব্রাহ্মণ’। কোন্ যজ্ঞ করলে কী ফল পাওয়া যাবে, কোন্ যজ্ঞে কোন্ পুরোহিতকে কত দক্ষিণা দিতে হবে, কোন্ যজ্ঞকর্মের খুঁটিনাটি প্রক্রিয়া ঠিক কেমনভাবে সাধন করতে হবে, কোন্ যজ্ঞের ঠিক কোথায় কীভাবে কোন্ মন্ত্র প্রয়োগ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদিই ‘ব্রাহ্মণ’ নামে পরিচিত গ্রন্থগুলির প্রধানতম আলোচ্য-বিষয়। অনেক সময় এতে যজ্ঞকর্ম ছাড়াও খুঁটিনাটি অনুষ্ঠানেরও গূঢ় আধ্যাত্মিক তাৎপর্য উদ্ভাবন করবার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। Read the rest of this entry »

images_12

|চার্বাকের খোঁজে-০৪ : ভারতীয় বিভিন্ন দর্শন-সম্প্রদায়|
রণদীপম বসু

৪.০ : বিভিন্ন দর্শন-সম্পদায়

প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়গুলিকে যে দুটি পঙক্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয় তা হলো- (ক) নাস্তিক দর্শন-সম্প্রদায় ও (খ) আস্তিক দর্শন-সম্প্রদায়। Read the rest of this entry »

images_5

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-২২: বাদরায়ণের দার্শনিকমত- বেদ নিত্য |
রণদীপম বসু

২.২.০৭. বেদ নিত্য :

মীমাংসা সূত্রকার মহর্ষি জৈমিনি বেদকে অপৌরুষেয় বলে মানলেও ব্রহ্মসূত্রকার বাদরায়ণ বেদকে অপৌরুষেয় মানেননি, কিন্তু বেদের নিত্যতা সম্বন্ধে একমত ছিলেন। কেননা বেদও যদি অন্যান্য শাস্ত্রের মতো অনিত্য বলে প্রমাণিত হয়ে যায়, তাহলে প্রামাণ্যের অভাবে যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে সাংখ্য, ন্যায়, বৈশেষিক, বৌদ্ধ প্রভৃতির মতো তার্কিকগণের সম্মুখে আত্মপক্ষ সমর্থনে সক্ষম হতে পারবে না। তাই সূত্রকার বাদরায়ণ বেদান্তসূত্রে বেদের নিত্যতা প্রসঙ্গে বলেন-


‘অত এব চ নিত্যত্বম্’।। (ব্রহ্সূত্র-১/৩/২৯)।।
ভাবার্থ : সৃষ্টি শব্দ-পূর্বিকা, অতএব বৈদিক শব্দ ও তার অর্থ উভয়ই নিত্য।

কারণ, ঋগ্বেদ-সংহিতাতেই উদ্ধৃত আছে যে- Read the rest of this entry »

upanishad

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-২১: বাদরায়ণের দার্শনিকমত- মুক্তের বৈভব |
রণদীপম বসু

(গ) মুক্তের বৈভব-

ব্রহ্মকে প্রাপ্ত মুক্তাত্মা তাঁর স্ব-স্বরূপে অধিষ্ঠিত হয়। বেদান্তসূত্রে বলা হয়েছে-


‘সংপদ্য আবির্ভাবঃ, স্বেনশব্দাৎ’।। (ব্রহ্মসূত্র-৪/৪/১)।।
ভাবার্থ : মুক্ত জীব ব্রহ্মকে প্রাপ্ত হয়ে স্ব-স্বরূপেই প্রতিষ্ঠিত হয়। শ্রুতির ‘স্ব’ শব্দ থেকেই বুঝতে পারা যায় যে জীব এবং ব্রহ্ম স্বরূপত অভিন্ন। সুতরাং মুক্তি বা ব্রহ্মলাভের অর্থ হলো স্ব-স্বরূপে প্রতিষ্ঠিত হওয়া (ব্রঃ-৪/৪/১)।

কারণ, ছান্দোগ্যের শ্রুতিতে বলা আছে- Read the rest of this entry »

427267_506188162728739_1008116371_n.

| মীমাংসা দর্শন-১৭ : বৈদিক দেবতা প্রসঙ্গে মীমাংসা-মত |
-রণদীপম বসু

৪.৪ : বৈদিক দেবতা প্রসঙ্গে মীমাংসা-মত


বেদে প্রচুর সংখ্যক দেব-দেবীর প্রতি স্তুতিপূর্ণ মন্ত্র-পূজাদির উপস্থিতি থেকে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা যেতে পারে যে, মীমাংসকরা ঐকান্তিক অর্থে বেদপন্থী বলেই সর্বজ্ঞ সর্বশক্তিমান কোনো ঈশ্বর অস্বীকার করলেও তাঁরা অন্তত বৈদিক দেবতাদের কর্তৃত্বে বিশ্বাসী হবেন, এবং এই অর্থে তাদের মতবাদ বহু-দেববাদী হওয়াই সম্ভব। কিন্তু, আপাত-বিস্ময়কর মনে হলেও এটাই ঠিক যে, মীমাংসকরা বৈদিক দেবতাদের কর্তৃত্ব- এমনকি তাঁদের সত্তাও- সম্পূর্ণভাবেই অস্বীকার করেছেন। মীমাংসাসূত্রে মহর্ষি জৈমিনি বলেন-  

‘অপি বা শব্দপূর্ব্বত্বাদ্ যজ্ঞকর্ম্ম প্রধানং স্যাদ্ গুণত্বে দেবতাশ্রুতিঃ।’- (শাবরভাষ্য-মীমাংসাসূত্র-৯/১/৯)
অর্থাৎ : একপদ শ্রুতি দ্বারা বোধিত যাগের কর্ম, অর্থাৎ যাগজন্য যে অপূর্ব, তা-ই প্রধান। সেই অপূর্বের অঙ্গরূপে দেবতাবিষয়ক শাস্ত্রবচন। (তর্জমা- সুখময় ভট্টাচার্য্য)


Read the rest of this entry »

images_12.

| মীমাংসা দর্শন-১৬ : মীমাংসা-মতে ঈশ্বর |
-রণদীপম বসু

৪.৩ : মীমাংসা-মতে ঈশ্বর


মীমাংসার মূল আলোচ্য-বিষয় অবশ্যই বৈদিক যাগযজ্ঞ বা ক্রিয়াকর্ম- আধুনিক অর্থে যা দার্শনিক আলোচনা নয়। অর্থাৎ, মীমাংসকরা তত্ত্ব-লাভের উদ্দেশ্যে দর্শন-চর্চা করেননি। তবুও তাঁরা যে অনিবার্যভাবেই দার্শনিক সমস্যা উত্থাপন ও আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছিলেন তার কারণ এই যাগযজ্ঞে চরম বিশ্বাস স্থাপন করতে হলে বিশ্বপ্রকৃতি এবং মানবিক প্রচেষ্টাদি সংক্রান্ত একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিও অবলম্বন করা প্রয়োজন। অনুমান হয়, সুপ্রাচীন কালে যাজ্ঞিকদের মধ্যে যজ্ঞকর্মের নানা খুঁটিনাটি নিয়ে বিভেদ ও বিতর্ক থাকলেও যে-মূল বিশ্বাসের ভিত্তিতে যজ্ঞের চরম গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত সে-সম্পর্কে সংশয়ের অবকাশ ছিলো না; সে-বিশ্বাস তাঁদের কাছে স্বতঃসিদ্ধ অতএব প্রমাণ-সাপেক্ষ না হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু কালক্রমে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে অন্যান্য দার্শনিক সম্প্রদায় গড়ে উঠার প্রেক্ষিতে সেগুলির দিক থেকে বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবপ্রচেষ্টাদি প্রসঙ্গে যে-সব মত প্রস্তাবিত হয়েছে তার সঙ্গে যাজ্ঞিকদের মূল বিশ্বাসের অনিবার্য সংঘাতও সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো। ফলে প্রয়োজন হয়েছে সেই মূল বিশ্বাসের যুক্তিতর্কমূলক সমর্থন ও সংরক্ষণ এবং তার সঙ্গে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মত খণ্ডন- অন্তত অন্যান্য সম্প্রদায়ের সেই দাবিগুলি খন্ডন করবার প্রয়োজন হয়েছে যার সঙ্গে যাজ্ঞিকদের মূল বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গির সংহতি সম্ভব নয়। এভাবেই দার্শনিকতত্ত্ব মীমাংসার মূখ্য বিষয়বস্তু না হলেও মীমাংসকরা ক্রমশই দার্শনিক আলোচনায় প্রবৃত্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে মীমাংসকরা যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না, তা বেদান্তশান্ত্রের মধুসূদন সরস্বতীর ‘অদ্বৈতসিদ্ধি’ গ্রন্থেও উল্লেখ পাওয়া যায়-  

‘নাস্তি সর্ব্বজ্ঞত্বাদ্যুপেতং ব্রহ্মেতি মীমাংসকাঃ।’- (অদ্বৈতসিদ্ধি)
অর্থাৎ : মীমাংসকগণ বলেন যে, সর্বজ্ঞতাদিবিশিষ্ট ঈশ্বর নেই।

Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 453,092 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 125 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

নভেম্বর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 5 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos