h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘ক্ষুদ্রঋণ

| ক্ষুদ্রঋণের সুদ গণনা ও গ্রামীণ ব্যাংক বিতর্ক |

-রণদীপম বসু

আজ থেকে অন্তত তিরিশ বছর আগের কথা। ১৯৮০ সাল। আমি তখন ভ্রাম্যমান নাগরিক হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। অতিরিক্ত আগ্রহ হিসেবে ক্লাস শেষে বিকেলে কলেজের সাধারণ জিমনেশিয়ামটিতে যাতায়াত ছিলো নিয়মিত। এখন সেই জিমনেশিয়াম কম্পাউন্ডটার কীরকম চেহারা দাঁড়িয়েছে জানি না, তবে সেসময়ে তা দেখতে যে খুব একটা দৃষ্টিনন্দন ছিলো তাও নয়। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রান্ত ঘেষা স্বল্পপরিসর জিমনেশিয়াম কম্পাউন্ডে ঢোকার জন্যে রাস্তার পাশে লোহার গ্রিলের বুক সমান উঁচু যে পুরনো পকেট গেটটা ছিলো ওটা সবসময়ই তালাবদ্ধ পেয়েছি। ফলে গেটটি বেয়ে উঠে তীরের ফলার মতো  লোহার খাড়া গ্রিলের ছুঁচালো অগ্রভাগ বাঁচিয়ে টপকে গেটের ভেতরে ঢুকে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হতো আমাদের। ছাত্র-অছাত্র বিভিন্ন শ্রেণীর ইচ্ছুক শরীরচর্চাকারীদের আনাগোনা ছিলো সেখানে। নিয়মিত যাতায়াতের কারণে অনেকের সাথেই ব্যক্তিগত পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো। স্মৃতিবিভ্রাটের কারণে সেই বড় ভাইটির নাম এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। ধরে নেই  শাহীন ভাই। বেশ জলি টাইপের লোক ছিলেন। তো একদিন তিনি তাঁর এক বন্ধুর সাথে খেলাচ্ছলে তখনকার হিসাবে দশ টাকার একটা বেট ধরে বসলেন। বেট আর কিছু নয়, লোহার গেটটা একলাফে পেরোনো। যথারীতি লাফ দিলেন এবং অনায়াসে পেরিয়ে গেলেন। অতঃপর বাজি জেতা দশ টাকা নিয়ে খুশিমনে বন্ধুসহ চলেও গেলেন। হরদম ঘটে যাওয়া খুব সাধারণ ও গুরুত্বহীন একটা ঘটনা হিসেবে কিছুক্ষণের মধ্যে আমরাও মনে রাখলাম না সেটা। Read the rest of this entry »

Prof. Yunus and Grameen Borrowers | Photo: Collected

|প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক | ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন |

[  ক্ষুদ্রঋণ (microcredit) ও দারিদ্র্য (poverty) বিমোচন বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে হলেও এতোজন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদের তলস্পর্শী আলোচনা একসাথে পাওয়া সম্ভব হয় না সবসময়। পূর্ব-অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পত্রিকার অনলাইন আর্কাইভ ব্যবস্থার উপর দূরবর্তী আস্থা খুব কম বিধায় পরবর্তীর রেফারেন্স হিসেবে পত্রিকায় প্রকাশিত গোটা আলোচনাটা হুবহু (কিছু ইংরেজি ট্যাগ সংযুক্ত করে) এখানে তুলে রাখলাম। কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো।]

| তারিখ: ২৭-০৩-২০১১ |
১৩ মার্চ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো: Read the rest of this entry »

Amartya Sen e Muhammad Yunus

প্রফেসর ইউনূস ও অমর্ত্য সেন, ভিন্ন স্রোতেও এক অভিন্ন মুখ !
-রণদীপম বসু


দু’জনকে দুই মেরুর অর্থনীতিবিদ বলা হয়। কেন বলা হয় তা বুঝি না আমি। অর্থনীতি আমার পঠিত বিষয় নয়, কিংবা এ বিষয়ে খুব একটা জানিও না। যেটুকু জানি, দুজনই বাঙালি, অর্থনীতির ছাত্র ও অধ্যাপক এবং নোবেল লরিয়েটও। অমর্ত্য সেন (Amartya Sen), একজন তাত্ত্বিক অর্থনীতিবিদ, যাঁকে কল্যাণমূলক অর্থনীতির প্রবক্তা বলা হয়। তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, দুর্ভিক্ষের সাথে উৎপাদনের সম্পর্ক ক্ষীণ, বরং খাদ্যের অসম বণ্টন ও ক্রয় ক্ষমতা বা খাদ্য সংগ্রহের বিপর্যয়ই দুর্ভিক্ষের মূল কারণ। বিশ্বের যেসব দেশ বিভিন্ন সময়ে যে বছর দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছিলো, তিনি দেখিয়েছেন, বিস্ময়করভাবে সেই বছর সেই দেশটিতে খাদ্যের বাম্পার ফলনের রেকর্ড রয়েছে অর্থাৎ গড় উৎপাদনের চাইতে ফলন বেশি ছিলো। আরো অনেক অনেক বিষয়ই ছিলো, যা এ বিষয়ে বিজ্ঞজনরাই ভালো বলতে পারবেন।  অর্থনীতির তাত্ত্বিক দুনিয়ায় অনন্য অবদানের জন্য অমর্ত্য সেনকে ১৯৯৮ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে (Muhammad Yunus) প্রাযোগিক অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ তত্ত্বের জনক কিংবা পথিকৃৎ বলা হয়, যার ইংরেজী পরিভাষা মাইক্রো-ক্রেডিট নামটাকে পাল্টে বর্তমানে মাইক্রো-ফিনান্স নামেই অভিহিত করা হচ্ছে সর্বত্র। জামানতের বিনিময়ে যাদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নেবার ক্ষমতা বা যোগ্যতা কোনটাই নেই এবং যারা জনগোষ্ঠির ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, তাদের জন্য পেশা বা দক্ষতাভিত্তিক জামানত বিহীন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের ব্যবস্থা করে প্রচলিত ব্যাংকিং ধারণাটাকে উল্টে দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বলা হয়ে থাকে, দারিদ্র্য থেকে মুক্তিই শান্তির পথে যাত্রা শুরুর প্রথম ও প্রধান নিয়ামক। এই দুঃসহ দারিদ্র্য থেকে মুক্তির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাপি ক্ষুদ্রঋণের কার্যকারিতার সফল স্বীকৃতি স্বরূপ ড. ইউনূস’কে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। দু’জনই আমাদের গর্ব এবং গোটা মানব জাতির সম্পদ এঁরা। তাঁদেরকে নিয়ে তাই সবার কৌতুহল একটু বেশি থাকাই স্বাভাবিক। আমার কৌতুহলের জায়গাটা একটু ভিন্ন।

Read the rest of this entry »

barack-obama-muhammad-yunus-12aug09

‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’,
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত প্রথম বাঙালি

-রণদীপম বসু


গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস  (Muhammad Yunus)  আরেকটি বিরল সম্মান বয়ে আনলেন বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’-এ  (Presidential Medal of Freedom) ভূষিত হলেন তিনি। ১২ আগস্ট ২০০৯ বুধবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত প্রায় ৩.০০ টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাকজমকের সাথে মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে দিয়ে নিজ হাতে ড. ইউনূসের গলায় এ পদক পরিয়ে দেন। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা।

Read the rest of this entry »

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস

‘আটাশে জুন, এক অভিনব মানুষ ড. ইউনূসের জন্মদিন’
রণদীপম বসু


চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত সওদাগর পরিবারে পিতা দুলা মিয়া সওদাগর ও মাতা সুফিয়া খাতুনের নয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় যে সন্তানটি ১৯৪০ সালের ২৮ জুন এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হলো, কেউ কি কল্পনায়ও ভাবতে পেরেছে তখন, এই ছেলেই একদিন স্বপ্নের বাতিঅলা হয়ে বিশ্বের শীর্ষ মর্যাদাসম্পন্ন নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশকে নিমেষেই অভূতপূর্ব মর্যাদায় আসীন করে দেবে ! আর কেই বা বাঙালীর দ্বিধার জড়তা ভেঙে আবারও পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই সাহসী মন্ত্র উচ্চারণ করবেন- আমরা পারি… !

তিনি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস  (Muhammad Yunus) । আমাদের স্বাপ্নিক পুরুষ। মায়ের কড়া শাসনের মধ্যে শৈশবে তাঁর মধ্যে যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে ওঠে, আজীবন তাই তাঁকে একটা সুশৃঙ্খল কর্মে চিন্তায় ও জীবন যাপনে সার্থকভাবে চালিত করে। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য সংগীত চিত্রকলা ও বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর ছিলো তীব্র ঝোঁক। লামারবাজার অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু, তারপর থেকে সব পর্যায়েই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে থাকতেই তেরো বছর বয়সে বয়স্কাউটের জাতীয় সমাবেশ জাম্বুরিতে যোগদানের জন্য ১৯৫৩ সালে করাচি ভ্রমন করেন। বয়স্কাউট হিসেবে ১৯৫৫ সালে কানাডা ও ১৯৫৯ সালে ফিলিপাইন ও জাপান সফর করেন। এভাবেই তাঁর মধ্যে নেতৃত্বগুনের বিকাশ ঘটে। ১৯৫৫তে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়ে ‘দু’পাতা’ নামে একটা লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা শুরু করেন। এ সময় তিনি কলেজের ‘সম্মিলিত ছাত্র প্রগতি সংঘের’ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। এরই মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যাবতীয় শিল্পজাত দ্রব্যের জন্য আবশ্যক প্যাকেজিং সামগ্রির পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য ১৯৬৪ সালে একটি প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যা প্যাকেজিং সামগ্রির চাহিদা মেটাতে অনেকটা সক্ষম হয় এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি উচ্চশিক্ষার জন্য ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং ভেন্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। আমেরিকায় থাকাকালীন তিনি কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় ও মধ্য টেনেসি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতায় নিযুক্ত থাকেন। এবং ১৯৭০ সালে তিনি রাশান বংশোদ্ভুত আমেরিকান নাগরিক ভিরা ফোরোস্টেনকোর সাথে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন।

Read the rest of this entry »

নোবেল লরিয়েটের সাথে একদিন
– রণদীপম বসু

.

.

.

.

.

.

.

.

১৩ অক্টোবর, ২০০৬ শুক্রবার। এই ঐতিহাসিক দিনে নরওয়ের নোবেল কমিটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংককে যৌথভাবে ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়। বাংলার সোনার ছেলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের এ পুরস্কার ছিনিয়ে আনার সংবাদে উল্লাসে ফেটে পড়লো গোটা জাতি।

.

.

.
.

.

.

১৯১ জন প্রতিযোগীর তালিকা থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্রঋণের জয়বার্তা ঘোষণা করে দারিদ্র্য বিমোচনে এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় প্রায়োগিক অবদানের স্বীকৃতি দিলো অবশেষে। এর স্রষ্টা যে বাংলা মায়ের এই দামাল ছেলেটি। তাই এর উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি বাঙালীর বুকে মুহূর্তেই। হীনমন্য জাতি হিসেবে এতকালের মিথ্যে অপবাদের মোড়ক ছিন্নভিন্ন করে বেরিয়ে এসেছে একান্ত স্বরূপে আবার। আত্মবিশ্বাস ছুঁয়েছে আকাশে। বলিষ্ঠ কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছে তাই সেই একাত্তরের গর্জনের মতোই- ‘আমরা পারি, আমরা পারি…..’।
.


.

.

.

.

.

দেশী বিদেশী মিডিয়া আর দল মত জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের উচ্ছল আর্দ্রতায় মাতোয়ারা গ্রামীণ ব্যাংক-চত্বরসহ গোটা দেশ যে উৎসবে মেতে উঠেছিলো, কেউ না দেখে থাকলে এই অনুভূতি কি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব?
পুরস্কার ঘোষণার প্রাক্কালে নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ওলে ডানবোল্ট মিওস কর্তৃক প্রদত্ত সাইটেশনটির বাংলা তর্জমা ছিলো এরকম-

.

.

.

“ নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি” ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের চক্র ভেঙ্গে বের করে আনার পথ দেখাতে না পারলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি সে রকমের একটি পথের দিশা। এ পথে আনা উন্নয়ন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অগ্রগতিকেও গতিশীল করে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই কোটি মানুষের স্বার্থে স্বপ্নের বাস্তব প্রয়োগে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের নেতৃত্ব গুণের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

জামানত ছাড়াই দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেয়া অসম্ভব একটি ধারণাই ছিলো । তিন দশক আগে যাত্রা শুরু করে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ইউনূস প্রথম বারের মতো এ অসম্ভব ধারণাকেই শুধু ভাঙ্গেননি, তিনি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ক্ষুদ্রঋণের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে গ্রামীণ ব্যাংক আজ অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই ধারণা ও মডেলের অফুরান উৎসের রূপ নিয়েছে। পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রত্যেকটি ব্যক্তি মানুষের সুন্দর জীবন যাপনের অধিকার যেমন আছে তেমনি তাদের সম্ভাবনাও আছে। সংস্কৃতি ও সভ্যতা নির্বিশেষে ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়েছে গরিবের মধ্যে গরিবতম মানুষটিও নিজের উন্নয়নে কাজ করতে পারেন। মেয়েদের জন্য নিপীড়নমূলক সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেসব সমাজে বিরাজ করছে ক্ষুদ্রঋণ সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এক মুক্তির উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমান অংশগ্রহণ ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক গণতন্ত্র তার পুরো সম্ভাবনার বাস্তব রূপ দিতে পারে না। পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য নির্মূল ইউনূসের দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন। শুধু ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে সে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক দেখিয়েছে এ স্বপ্ন পূরণে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বড় একটি ভূমিকা পালন করে আসছে।”

.

বাঙালি হিসেবে তৃতীয় আর বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম এই নোবেল লরিয়েট-কে কাছে থেকে দেখা ও তাঁর বিশাল ব্যক্তিত্ব উপলব্ধি করার সৌভাগ্য হলো একদিন। ২২ জানুয়ারি, ২০০৭। ততদিনে তিনি তাঁর গ্রামীণ ব্যাংকের সহকর্মীদের সাথে নিয়ে এক জমকালো সফরের মধ্য দিয়ে নরওয়ের অসলো থেকে নোবেল পুরস্কার নিয়ে রাজকীয় মর্যাদায় সুইডেন ব্রিটেন ও ফ্রান্স ঘুরে এসেছেন। স্যার আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটাকে স্মরণীয় করে রাখতেই প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বরে নোবেল কমিটি অসলোতে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান করে থাকে। ১০ ডিসেম্বর,২০০৬ তারিখে ঐতিহ্যবাহী সিটি হলে অনুষ্ঠিত এবারের রাজকীয় অনুন্ঠানটি তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে সরাসরি টিভি সম্প্রচারের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সবাই একযোগে উপভোগ করেছেন। সবাই দেখেছেন ড. ইউনূস কী বিশাল সম্মান এ জাতির ললাটে এঁকে দিয়েছেন।

.

এতোবড় ব্যক্তিত্বের বিশালতা আর গভীরতা পরিমাপ করা আমার মতো এতো ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষে প্রায় অসম্ভব একটা কাজ। সে চেষ্টা করাটাও আমার জন্যে নির্বুদ্ধিতার নামান্তরই। শুধু উপলব্ধি করার অনুভূতিটা রয়েছে, এবং তা প্রকাশের ভাষা এ মুহূর্তে আমার আয়ত্তের বাইরে। অন্য কোন প্রেক্ষিতে তাঁর সুবিশাল কাজ নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনার ইচ্ছা রইলো। আজ বরং এই নোবেল ব্যক্তিত্বের সাথে গুটিকয় স্মৃতিচিহ্নের সচিত্র নমূনা দানের জন্য অমায়িক আলোকচিত্রি জনার নূরজাহান চাকলাদারের কাছে আমার সবিশেষ কৃতজ্ঞতাটুকু জানিয়ে রাখি। পাঠক আপনাকেও ধন্যবাদ এতোক্ষণ সাথে থাকার জন্য।


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,633 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos