h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘কিশোর-কবিতা

michealparkesjq7

চিত্রকল্পে কিশোর-কবিতার স্বরূপ অন্বেষণ…
রণদীপম বসু

‘সেই লেখা লেখা নয় নাহি যার রস।’ কবি ঈশ্বর গুপ্তের এই রায়কে মান্য করলে আমাদের স্বীকার করে নিতে হয় যে, রস সৃষ্টিই সাহিত্যের অভীষ্ট লক্ষ্য। তাহলে প্রশ্ন আসে রস কী ? টস টস করে ঝরে পড়ার মতো কোন নিঃসৃত তরল পদার্থ যে নয় তা তো আমরা বুঝতেই পারছি। এ হচ্ছে সাহিত্যের রস। আর কাব্য বিচারে এলে কাব্যরস। তবে রস প্রসঙ্গে জানতে হলে আমাদেরকে তো রসশাস্ত্রে ঢু মারতেই হয় !

প্রাচ্য-অলঙ্কার শাস্ত্রে রস একটি পারিভাষিক শব্দ। যার ধাতুগত মূল অর্থ হচ্ছে আস্বাদন করা। কাব্যতত্ত্বের প্রধান পুরুষ আচার্য ভরত তাঁর নাট্যশাস্ত্রে নাকি ঘোষণা করেছেন এই বলে যে, “-নহি রসাদ ঋতে কশ্চিদর্থঃ প্রবর্ততে।” (নাট্যশাস্ত্র, -৬/৩৪) অর্থাৎ রস ব্যতিরেকে কোন বিষয়েরই প্রবর্তনা (সূচনা) হয় না। রসের এই সর্বব্যাপী-সর্বগ্রাহী স্বরূপ উপলব্ধি করেই রসের সংজ্ঞার্থ নির্ণয়ে আত্ম-জিজ্ঞাসায় প্রশ্ন রাখেন- “অত্রাহ, রস ইতি কঃ পদার্থ ?” অর্থাৎ রস কোন পদার্থকে বলে ? উত্তর-অন্বেষার সারাৎসার- “আস্বাদ্যত্বাৎ” (নাট্যশাস্ত্র, -৬/৩৫), যা আস্বাদিত হয়। রসবাদী হিসেবে আরেক খ্যাতিমান চতুর্দশ শতাব্দের বিশ্বনাথ কবিরাজ তাঁর ‘সাহিত্য দর্পণ’ গ্রন্থে ভরত-এর কথারই প্রতিধ্বনিত করলেন- রস্যতে ইতি রসঃ। (সাহিত্য দর্পণ, -১/৩) অর্থাৎ যা রসিত বা আস্বাদিত হয়, তা-ই রস। এবং রসের ব্যাপ্তি প্রকাশ করলেন এভাবে- “সর্বোহপি রসনাদ্ রসঃ” (সাহিত্য দর্পণ, -৩/৪২) অর্থাৎ রসন বা আস্বাদন হেতু সবই রস। হাঃ হাঃ, তাহলে তো আস্বাদন হেতু তালের রস আর কাব্যরসে কোন তফাৎ দেখি না ! তফাৎ হয়তো এটাই যে তালের রসের আস্বাদন করতে হলে গাছ বেয়ে আগায় চড়তে হবে। আর কাব্যরসের আস্বাদ পেতে হলে ডুব দেবার নিমিত্তে কাব্যহ্রদে ঝাঁপ দিতে হবে। বিষয়টা যেহেতু কাব্যকেন্দ্রিক, তাই যাঁরা কাব্যসাহিত্য নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, লেখালেখি করেন কিংবা এ থেকে রস আস্বাদনে আগ্রহী বা রসসৃষ্টির সম্ভাব্য নেশায় বুঁদ হতে আকাঙ্ক্ষি, তাঁদের জন্য ওইদিকে ঝাঁপ দেয়া ছাড়া আপাত কোন গতিক দেখছি না। এক্ষেত্রে সাহিত্যের মহাফেজখানায় খুঁজে খুঁজে হয়রান না হয়ে আপাতত যে দুটো অবশ্যপাঠ্য বইকে সঙ্গি করে নিলে পথ খুঁজতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না, তা হচ্ছে নরেন বিশ্বাসের ‘কাব্যতত্ত্ব-অন্বেষা’ এবং ‘অলঙ্কার অন্বেষা’। এ নিবন্ধে এই বিষয়ক অর্থাৎ প্রাচ্য-অলঙ্কার শাস্ত্র তথা কাব্যতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য ও বাচন-বর্ণনার জন্য আমি শ্রদ্ধেয় নরেন বিশ্বাসের কাছে অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতায় এ দুটো গ্রন্থ-সহায়তার ঋণ স্বীকার করে নিচ্ছি।

Read the rest of this entry »

bedtime-reading-sheets-with-words-a1

চারুপাঠের মগ্ন-কিশোর ও আমাদের কিশোর কবিতা
রণদীপম বসু
.

এটা কোন ভূমিকা নয়

বাংলা সাহিত্যে কিশোর কবিতা নামে প্রচলিত কবিতা ধারাটি কবে থেকে কিশোর কবিতা হয়ে ওঠলো তা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা থেকেই যায়। তবে তা যে কবিতা ঘরানারই কিছু, তা তো এর নামকরণ থেকেই বুঝা যাচ্ছে। এই কিশোর কবিতার জন্মকোষ্ঠী খোঁজার আগে আমরা বরং আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি কিছুটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিই।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রে অনেকগুলো দায় থেকে যায়। কাকে কিভাবে কেন এবং কখন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে তা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিপর্যয় আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তার উপরে ‘মালার্মের’ ‘শব্দই কবিতা’ নামের তত্ত্বীয় বিভ্রান্তির চড়টি যখন নিরীহ গালে এসে পড়ে তখন নড়েচড়ে বসবো কি, আরো বেশি অনিশ্চয়তার কূহকে জড়িয়ে পড়তে হয়। এক্ষেেত্র কিছুটা দিশা দেখতে পাই ইংরেজ কবি ‘কোলরিজের’ কথার মধ্যে- কবিতা হচ্ছে ‘শ্রেষ্ঠ শব্দের শ্রেষ্ঠ ব্যুহ’।

এতে আবার পাণ্ডিত্যের ভারে বিধ্বস্ত হয়ে যাবার আশংকাও প্রবল হয়ে ওঠে। শ্রেষ্ঠ শব্দ নির্বাচন করবে কে? এটাই কি কবি’র কাজ? এবং সেই শব্দ দিয়ে জটিল দূর্গ বানাবার দায় কেনই বা কবি নিতে যাবেন?

Read the rest of this entry »

5161~Girl-Reading-Book-Posters.

| বাবার চিঠি |

-রণদীপম বসু

.
এখন তো আর কেউ লেখে না-
পর সমাচার এই
খোকা তুমি কেমন আছো,
ভালো আছো? ভালো থেকো
সময় হলে খেয়ে নিও, শরীরটাকে যত্ন দিও
দেখে শুনে চলো কিন্তু
দুপুর রোদে বের না হয়ে শীতল ছায়াতেই
থাকতে যেন ভুল করো না,
আমরা সবাই ভালো আছি
ভাবনা কিছু নেই।

মা যে তোমার নিঘুম রাতে
আসবে তুমি সেই আশাতে
পথের রেখায় চোখ বিছিয়ে  জ্বালায় স্নেহের আলো,
মন কি তোমার খারাপ হলো?
তা করো না, সব মায়েরা এমনই হয়
বাবা হলেই বুঝবে তখন,  তার আগে তো নয়।

হলুদ খামের ছোট্ট চিঠি
চিঠি তো নয়, বোনটি যেন পিঠাপিঠি
কপট চোখে শাসন ঝাড়ে-
বাবা তো আর থাকবে নারে
হতভাগা বুঝবি তখন যাসনি কেন, কিসের অপেক্ষায় !
শ্যামল গাঁয়ের সবুজ কোণে
সব বাবারাই সংগোপনে
খোকার জন্যে দোয়ার নহর বইয়ে এমন
যায় কি চলে যায়?

এক জীবনের বাঁকে বাঁকে
একটি চিঠি
ছোট্ট চিঠি
বিশাল হয়ে পড়ে থাকে;
চিরকালের খোকারা কি
হয় না বাবা কখনো হায়
পিতার স্নেহের দিঘল ছায়ার
সিক্ত বারান্দায়!

(১৪/০৫/২০০৭)

8F5CDBAD-FA2C-4853-B7AA-D8194AA3AE29.

| ঘুড়ি |

-রণদীপম বসু

.
ওই দেখো দূরে ওই
দেখছো কি? দেখছো না?
কেটে যাওয়া ঘুড়িটা আকাশের ছুঁই ছুঁই
সীমানাটা পেরিয়ে
ভেসে যায় ফেঁসে যায়
দেখছো না?

কী দারুণ গোত্তায়
আকাশের বুকটাকে
ঠুকছিলো
সুতোটার বন্ধনে
বাতাসের স্রোতটাকে
রুখছিলো।
কী হতে যে কী হলো- কে যে দিলো গুঁতোটা
লাটাইয়ের আঙিনায় ফিরে আসে সুতোটা,
ওখানে কি বাঁধা ছিলো শুধু ওই ঘুড়িটাই?
রঙ নাই? সুর নাই?
ইচ্ছের কুঁড়ি নাই?
অথবা কি ভাষা নাই?
ভাসা ভাসা আশা নাই?
বুকটাকে ধু ধু করে খোকা দেখো ফিরে যায়
তবু ফিরে ফিরে চায়,
কি চায়?
কি চায়?

কি যে হলো ভাবে তাই-
ওটা শুধু ঘুড়ি নয়, খোকনের মনটাই
কেটে যাওয়া ঘুড়ি হয়ে ভেসে ভেসে চলছে
গায়ে গায়ে কতো কথা
বাতাসের কানে কানে বলছে।
কই গিয়ে পড়বে সে
জানে কি না জানে সে
তবু ভেসে চলছে, চলছে
বাতাসের গায়ে চেপে খোকা উড়ে চলছে
চলছে!

(০৯/০৮/২০০৭)

IMG_0994 [Original Resolution] [1024x768].

| যুদ্ধবিরোধী পঙক্তি |

-রণদীপম বসু

.
[ ‘তোমরা শান্তিতে ঘুমাও, এই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
-হিরোশিমায় স্মৃতিসৌধে খোদিত বাণী
]

ঘুমোতে যে চায়নি তাঁকে কে বলেছে ঘুম পাড়াতে
যুদ্ধ দিয়ে ঘুম পাড়ালে, কে পারে তাঁর ঘুম ছাড়াতে?

শিশু কি আর যুদ্ধ করে?
যুদ্ধ করে দানবেরা।
হাসতে হাসতে যুদ্ধ করে
মৃত্যু দিয়ে জীবন ভরে
দম্ভ করে যারা
তারাই দানব-
ছাই বানিয়ে মৃত্যু ঝড়ে
ঘর-বসতি ধ্বংস করে-
ভালোবাসা?  হতেই পারে বাস্তুহারা!
হতো যদি মানুষ এরা
শিশুর মতো বুঝতো ঠিকই-
যুদ্ধ দিয়ে ভালোবাসায় যায় না ফেরা।

তোমরা যারা বড় মানুষ, ভাবছো নিজে;
আর কী পেতে যুদ্ধ করো?
ফুল পাখি আর শিশুর জগৎ
রক্ত-বিষে ভরে তুলে
কী পেতে চাও? বুঝো না কি-
স্বপ্নঘেরা আগামীকে
নিজের হাতেই ধ্বংস করো!

(২৩/০৭/২০০৭)

lousie_atkinson.

| কৈশোর কাব্য |

-রণদীপম বসু

.
আমাকে কি চিনতে পারো ?  এই আমি কি আমি নই ?
বিছিয়ে দেয়া শব্দগুলোয়
তোমার মনের রংটি মেখে   চুপটি মেরে পড়ে রই।
তোমার দেখার আল্পনাটা   মাখবে যখন শব্দ রং
কল্পনাটা আকাশ হয়ে   দেবেই খুলে স্বপ্নাড়ং।

উলুক ঝুলুক পঙক্তিগুলোয়   চাও যদি তা বৃক্ষ হবে,
নদী হবে পাথর হবে
সুখের নরম পালক মোড়া   পাখি পাখি দুঃখ হবে।
চাইলে কদম ফুলের গায়ে   বর্ষা রাঙা মুখ পাবে,
স্বচ্ছ পানি ভেঙেচুরে
ভাসছে যে নাও মাঝ দুপুরে
তার গলুইয়ে খোকার মনের   স্বপ্ন-মাঝির চোখ পাবে।
তার চোখেও দেখতে পারো   আমার রাঙা মনটাকে
কিশোর নদীর স্রোতটা ধরে   বাঁধতে পারো ক্ষণটাকে।

কিন্তু আমায় খুঁজবে কেন?   তার চেয়ে নাও নিজের খোঁজ-
কোন আলোটা জ্বাললে ঘরে
বৃষ্টি তো নয় জোছনা ঝরে
আসবে ফিরে রাত গভীরে   আলোয় মাখা দিনটা রোজ।

(২০/০৬/২০০৭)

IMG_2784_1 [1600x1200] [1024x768].

| বৌ কথা কয় |

-রণদীপম বসু

.
ডাকে যখন বৌ কথা কও,  পাখি তো নয়
খুকুর পুতুল- বৌ কথা কয় ;
সে বৌ থাকে খুকুর মনে  সঙ্গোপনে
টুকটুকে লাল স্বপ্ন বুনে
তুলতুলে নীল চোখের কোণে
একটি আকাশ ভাঁজ হয়ে রয়
ওই, আকাশটারে খুঁজে খুঁজে   কথারাই কি পাখি হয় ?

পাখি কথা বলে না,
আমরা কেবল পাখির মুখে
বসাই কথা মনের সুখে
পাখির মুখে না বসালে   আমাদের কি চলে না?
পাখির ঠোঁটে পাখির ভাষায়   মন কি কথা বলে না ?

(২৭/০৬/২০০৭)


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,461 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos