h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘কণাদ

images_12

|চার্বাকের খোঁজে-০৪ : ভারতীয় বিভিন্ন দর্শন-সম্প্রদায়|
রণদীপম বসু

৪.০ : বিভিন্ন দর্শন-সম্পদায়

প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়গুলিকে যে দুটি পঙক্তিতে তালিকাভুক্ত করা হয় তা হলো- (ক) নাস্তিক দর্শন-সম্প্রদায় ও (খ) আস্তিক দর্শন-সম্প্রদায়। Read the rest of this entry »

4565179933

|বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-২৬: অ-ঋষিপ্রোক্ত নিরীশ্বরবাদী দর্শন-মত খণ্ডন|
রণদীপম বসু

(খ) নিরীশ্বরবাদী দর্শন খণ্ডন :

নিরীশ্বরবাদী দর্শনের মধ্যে বৈশেষিক, বৌদ্ধ এবং জৈনদর্শনের বিরুদ্ধেই বাদরায়ণ তাঁদের মত খণ্ডনে মনোযোগী হয়েছিলেন। তাঁর সময়ে হয়তোবা চার্বাক দর্শনের বিরোধিতা ক্ষীণ হয়ে আসায় সে বিষয়ে মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, বৈশেষিকসূত্রকার কণাদকে যদিও পরে কপিলের মতো ঋষি বলে মেনে নেয়া হয়েছিলো, তবুও বাদরায়ণের যুগে হয়তো এমন অবস্থা ছিলো না যাতে তাঁকে ঋষি-শ্রেণীভুক্ত করা যেতো।

(১) বৈশেষিক দর্শন-মত খণ্ডন :
কণাদের বৈশেষিক মতে জগতের চরম অবস্থা হলো অণুময়ত্ব- এই জগতের সব বস্তুই বিভিন্ন প্রকার অণুর সমবায় মাত্র। এই অণু বা পরমাণু হলো সনাতন এবং জগতের মৌলিক কারণ। এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমান সমকালীন বিজ্ঞান-জ্ঞানস্তরে অণু ও পরমাণুর সংজ্ঞা ভিন্ন হলেও প্রাচীন ভারতীয় দর্শনজগতের বৈশেষিক দর্শনে অণু ও পরমাণু শব্দদ্বয়কে অভিন্ন অর্থেই ব্যবহার করা হয়েছে। পরমাণুকে কণাদ ছয়টি পার্শ্বযুক্ত গোলাকৃতি কণা বলে মানতেন এবং বলেছিলেন যে, এই ছয়টি পার্শ্বযুক্ত দুটি পরমাণু যুক্ত হয়ে ছোট ছোট দ্ব্যণুক সৃষ্টি করে। পুনরায় তিনটি দ্ব্যণুক একত্র মিলিত হয়ে একটি ত্র্যণুকের (ত্রসরেণুর) সৃষ্টি করে, এবং চারটি দ্ব্যণুক একটি চতুরণুর সৃষ্টি করে এভাবে স্থূল অবয়ববিশিষ্ট বস্তুর সৃষ্টি করে। বিভিন্ন পদার্থের স্ব-স্ব অণু-দ্ব্যণু হতে অনুরূপভাবে স্থূল আকারের সৃষ্টি হয়। এইসব ক্ষুদ্র গোলকাকৃতির অণু যুক্ত হয়ে বৃহৎ ও দীর্ঘ পরিমাণযুক্ত বস্তুর উৎপত্তি হয় তথা বিশ্ব সৃষ্টি হয়।

এই দার্শনিক মতবাদানুসারে একটি পরমাণু হলো অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম সত্তা, একটি দ্ব্যণুক হলো খুব সূক্ষ্ম এবং হ্রস্ব, এবং ত্র্যণুক হতে শুরু করে পরবর্তী সংমিশ্রিত বস্তুগুলি হলো মহৎ এবং দীর্ঘ। এখানে আপত্তি হলো- যদি অণু দুটি গোলাকারবৎ হয় এবং তারা যদি একটি দ্ব্যণুকের সৃষ্টি করে সেই দ্ব্যণুকটি হবে সূক্ষ্ম এবং হ্রস্ব, তাতে আর সেই অণুর গোলত্ব উৎপাদিত হবে না। অথবা যদি চারটি সূক্ষ্ম ও হ্রস্ব দ্ব্যণুক একটি চতুরণু পদার্থ সৃষ্টি করে যা মহৎ এবং দীর্ঘ- সেক্ষেত্রে নতুন সৃষ্ট এই বস্তুতে দ্ব্যণুকের সূক্ষ্মত্ব এবং হ্রস্বত্ব সঞ্চারিত হবে না। তা হতেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, কারণের সবগুলি গুণই কার্যে সঞ্জাত হয় না। তাই বাদরায়ণ বলেন, কারণের গুণ অনুসারে কার্যের গুণের উৎপত্তিকে বৈশেষিকেরা মানেন, কিন্তু অবয়বহীন পরমাণু থেকে সাবয়ব হ্রস্ব দ্ব্যণুকের উৎপত্তি অসম্ভব এবং (দীর্ঘ পরিমাণরহিত) হ্রস্ব পরিমণ্ডল (দ্ব্যণুক কণা) দ্বারা বৃহৎ, দীর্ঘ (পরিমাণ) যুক্ত পদার্থের উৎপত্তিও সম্ভব নয়।

জড় পরমাণুর মধ্যে যখন ক্রিয়া বা গতি থাকে তখনই সে বস্তুর উৎপাদনে সক্ষম হয়। কণাদের বৈশেষিক মতে জগৎ-সৃষ্টির জন্য অদৃষ্টের প্রেরণায় পরমাণুর মধ্যে ক্রিয়া উৎপন্ন হয়, যা দুটি পরমাণুকে পরস্পর সংযুক্ত করে দ্ব্যণুক নির্মাণ করে তা তার মধ্যে স্বীয় কর্মও প্রয়োগ করে; এই সংক্রমণ অগ্রসর হতে হতে জগৎ সৃষ্টি করে। এখন প্রশ্ন ওঠে- পরমাণুতে যে আদিম ক্রিয়া উৎপন্ন হচ্ছে, তা কি পরমাণুর (জড়ের) নিজের ভিতরকার অদৃষ্ট থেকে উৎপন্ন হয়, না কি চেতনার (আত্মার) অভ্যন্তর থেকে ? তাই বাদরায়ণ সিদ্ধান্ত করেন-
Read the rest of this entry »

.
| বৈশেষিক দর্শন- ০৯ : অভাব পদার্থ |
রণদীপম বসু

২.৭ : অভাব পদার্থ (Negation or Non-existence) 
.
নিয়তপদার্থবাদী বৈশেষিক সম্প্রদায়সম্মত সপ্তম ও শেষ পদার্থ হলো অভাব। অভাব একটি নঞর্থক পদার্থ। বৈশেষিক সম্প্রদায় পদার্থকে প্রধানত ভাব ও অভাব ভেদে দুই ভাগে ভাগ করেছেন। এদের মধ্যে দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ ও সমবায় এই ছটি হলো ভাবপদার্থ। সপ্তম পদার্থ হলো অভাব। ‘টেবিলে কলমটি আছে’ এভাবে যেমন ভাব বস্তুর জ্ঞান হয়, তেমনি ‘টেবিলে বই নেই’ এভাবে আমাদের অভাব পদার্থের জ্ঞান হয়। রঘুনাথ শিরোমণি’র মতে, ‘নঞ্’ আদি শব্দের দ্বারা নিষেধবোধক জ্ঞানের বিষয়কে বলা হয় অভাব। ন্যায়-বৈশেষিক দার্শনিকেরা বস্তুস্বাতস্ত্র্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অভাব পদার্থ স্বীকার করেছেন। ন্যায়-বৈশেষিক মতে জ্ঞান কখনো নির্বিষয়ক হয় না। জ্ঞান মাত্রই সবিষয়ক, অর্থাৎ বিষয় ছাড়া জ্ঞান হয় না। জ্ঞানের বিষয় জ্ঞান নিরপেক্ষ সত্তাবিশিষ্ট। ভাববোধক সদর্থক জ্ঞানের বিষয়ের ন্যায় তাই নঞর্থক জ্ঞানেরও বিষয় স্বীকার করতে হয়। অভাব হলো এরূপ নঞর্থক জ্ঞানের বিষয়। Read the rest of this entry »
.
| বৈশেষিক দর্শন- ০৮ : সমবায় |
রণদীপম বসু

২.৬ : সমবায় (Inherence) 
.
বৈশেষিক দর্শনে সপ্তপদার্থকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ভাবপদার্থ ছয়টি, আর একটি অভাবপদার্থ। ছটি ভাবপদার্থের ষষ্ঠ তথা সর্বশেষ ভাবপদার্থটি হচ্ছে সমবায়।
 .
বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ন্যায়-বৈশেষিক সম্প্রদায় যেমন নিরপেক্ষভাবে অস্তিত্বশীল বিভিন্ন দ্রব্য পদার্থ স্বীকার করেছেন, তেমনি এই সকল পদার্থের পারস্পরিক সম্বন্ধেরও নিরপেক্ষ অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন। জগতের সকল পদার্থই পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে কোন না কোন সম্বন্ধে সম্পর্কযুক্ত। পদার্থের এই পারস্পরিক সম্বন্ধগুলি নানা প্রকারের, যেমন- সমবায়, সংগোগ, বিভাগ, স্বরূপ প্রভৃতি। এ সকল সম্বন্ধের মধ্যে সমবায় সম্বন্ধকে ন্যায়-বৈশেষিক দর্শনে একটি বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সমবায় এক ধরনের সম্বন্ধ হলেও জগতের সাতটি মৌলিক পদার্থের অন্যতম। সমবায় ভিন্ন অন্যান্য সম্বন্ধগুলিকে ন্যায়-বৈশেষিক সম্প্রদায় অন্যান্য পদার্থের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। একমাত্র সমবায়ই স্বতন্ত্র পদার্থের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতি নিশ্চয়ই গুরুত্ববহ। Read the rest of this entry »
.
| বৈশেষিক দর্শন- ০৫ : কর্ম পদার্থ |
রণদীপম বসু

২.৩ : কর্ম পদার্থ (Action) 
.
বৈশেষিক স্বীকৃত সপ্তপদার্থের মধ্যে তৃতীয় পদার্থ হলো কর্ম। তবে গুণ দ্রব্যের নিষ্ক্রিয় ও স্থিতিবোধক বিশেষণ, কিন্তু কর্ম দ্রব্যের সক্রিয় ও গতিবোধক বিশেষণ। মহর্ষি কণাদ বৈশেষিকসূত্রে কর্ম-এর লক্ষণে বলেছেন-
‘সংযোগবিভাগেষ্বনপেক্ষকারণমিতি কর্মলক্ষণম্’। (বৈশেষিকসূত্র: ১/১/১৭)।
অর্থাৎ : সংযোগ, বিভাগ ও বেগের সাধারণ কারণস্বরূপ পদার্থই হলো কর্ম। Read the rest of this entry »
.
| বৈশেষিক দর্শন…০৪ : গুণ পদার্থ |
রণদীপম বসু

২.২ : গুণ পদার্থ (Quality):
.
বৈশেষিক সম্মত সপ্তপদার্থের দ্বিতীয় পদার্থ হলো গুণ। গুণ একটি ভাবপদার্থ। যে পদার্থ দ্রব্যে অবস্থান করে এবং যার কোন কর্ম নেই তার নাম গুণ। গুণ সব সময়ই দ্রব্যকে আশ্রয় করে থাকে। দ্রব্য ছাড়া গুণের কোন স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নেই। Read the rest of this entry »
.
| বৈশেষিক দর্শন- ০২ : বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব |
রণদীপম বসু

২.০ : বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব
.
ন্যায় দর্শনে যেমন প্রমাণের আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে, বৈশেষিক দর্শনে তেমনি ভৌততত্ত্ব বা বিশ্বতত্ত্বের আলোচনাই গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্ববৈচিত্র্য তথা পার্থিব জগতকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বৈশেষিক সম্প্রদায় সাতটি পদার্থ স্বীকার করেছেন। এই সাতটি পদার্থ হলো- দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব। জগতে এমন কিছু নেই যা এই সাতটি পদার্থের কোন না কোনটির অন্তর্গত নয়। সুতরাং, বিশ্বের মৌলিক তত্ত্ব হলো সাতটি। Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 453,072 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 125 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

নভেম্বর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 5 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos