h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘ঋক

12004962_598650700272988_6352938307443038956_n

শক্তি-সাধনা-০৮। প্রকৃতি-উপাসনা
রণদীপম বসু

বেদ-পূর্ব সিন্ধু-ধর্ম মাতৃপ্রধান এবং বৈদিক ধর্ম যে পুরুষ-প্রধান, এ বিষয়ে বিদ্বান-পণ্ডিতদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতির আলোচনায় অত্যন্ত কৌতুহলোদ্দীপক বিষয় হলো, পরবর্তীকালের ভারতবর্ষীয় ধর্মে অন্তত সাধারণ জনগোষ্ঠির মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে ঋগ্বেদের প্রাচীন পুরুষ-দেবতাদের বিশেষ কোন পরিচয়ই পাওয়া যায় না। অন্যদিকে উত্তরকালের এই ধর্মবিশ্বাসের প্রধানতম উপাদান হলো মাতৃ-পূজা– তা কি ওই বেদ-পূর্ব সিন্ধু-ধর্মেরই রেশ? এ ক্ষেত্রে সিন্ধু-যুগে এই ধর্মবিশ্বাস প্রচলিত ছিলো বলে এর ব্যাখ্যা-সন্ধানে যেমন সিন্ধু-প্রত্নতত্ত্ব-লব্ধ স্মারকগুলির উপর নির্ভর করতে হবে, তেমনি পরবর্তীকালেও এই ধর্মবিশ্বাস বহুলাংশে অক্ষুণ্ন থেকেছে এই অনুমান-জন্য পরবর্তীকালের লিখিত সাহিত্য হয়তো ওই স্মারকগুলির উপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করতে পারে। অর্থাৎ ওই শাক্ত-ধর্ম বা মাতৃ-উপাসনার ব্যাখ্যা সন্ধানে একাধারে প্রত্নতত্ত্বমূলক ও সাহিত্যমূলক দ্বিবিধ তথ্যের উপর নির্ভর করা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

Advertisements

12002323_594749863996405_7631932386989859875_n

শক্তি-সাধনা-০৭। মাতৃদেবতা পৃথিবী ও অন্যান্য
রণদীপম বসু

ভারতবর্ষের প্রাক্-আর্য সভ্যতা হিসেবে মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পায় আবিষ্কৃত সভ্যতার নিদর্শনগুলির মধ্যে যেসব পাথরের স্ত্রীমূর্তি পাওয়া গেছে, পণ্ডিত ব্যক্তিরা মনে করেন, এই স্ত্রীমূর্তিগুলির মধ্যে অন্তত কতকগুলো মূর্তি মাতৃদেবী-মূর্তি এবং এগুলোই আমাদের পরবর্তী কালের অনেক মাতৃদেবী-মূতির প্রাক্-রূপ বলে তাঁদের অভিমত। তাঁরা আরও অনুমান করেন, এই মাতৃদেবী-মূর্তির অনেকগুলিই মাতা পৃথিবীর মূর্তি। শস্যোৎপাদিনী পৃথিবীই ছিলেন মাতৃদেবতা। প্রাণশক্তি ও প্রজনন-শক্তির প্রতীকরূপে তিনি প্রাচীনকাল থেকেই পূজিতা। এই মূর্তিগুলির মধ্যে একটি মূর্তির উল্লেখ করা যেতে পারে, যে মূর্তির ক্রোড়দেশ হতে একটি বৃক্ষ বের হয়েছে। অন্তত এই মূর্তিটি যে পৃথিবীরই মাতৃমূর্তি সে সম্বন্ধে অনেক পন্ডিতই নিঃসন্দেহ। পৃথিবীকে এই দেবীমূর্তি কল্পনা যে শুধু প্রাচীন ভারতেরই বৈশিষ্ট্য তা কিন্তু নয়। এক্ষেত্রে দেবীর বিচিত্র ইতিহাস প্রসঙ্গে শ্রীশশিভূষণ দাশগুপ্ত বলেন– Read the rest of this entry »

flyingmachine3negative

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৭ : ব্রহ্মন্ ও মায়া |
রণদীপম বসু

৩.৭ : ব্রহ্মন্ ও মায়া

ঋত-র আলোচনায় আমরা দেখেছি, ঋগ্বেদের প্রাচীন দেবতা বরুণ হলেন ঋত বা সত্য ও ন্যায়ের রক্ষক। কিন্তু প্রাচীন বৈদিক কবিদের রচনায় বরুণ শুধু ঋত-যুক্ত ও ঋত-র পালকই নন, তিনি মায়া-যুক্ত বা মায়াবীও। স্বভাবতই, এই মায়ার সঙ্গে ঋত-র সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় বলেই অনুমান হয়। ঋগ্বেদে বলা হচ্ছে, চন্দ্রালোকের ঔজ্জ্বল্য যেমন দ্যাবাপৃথিবীর সর্বত্র প্রবেশ করে মিত্রাবরুণের মায়াও সেইরূপ ঋত-র মূলে প্রবেশ করে। যেমন–

ঋৃতস্য বুধ্নঃ ঊষসামিষণ্যন্বৃষা মহী রোদসী আ বিবেশ।
মহীমিত্রস্য বরুণস্য মায়া চন্দ্রেব ভানুং বি দথে পুরুত্রা।। (ঋগ্বেদ-৩/৬১/৭)।
ধর্মণা মিত্রাবরুণা বিপশ্চিতা ব্রতা রক্ষেথে অসুরস্য মায়য়া।
ঋতেন বিশ্বং ভুবনং বি রাজথঃ সূর্যমা ধত্থো দিবি চিত্র্যং রথম্ ।। (ঋগ্বেদ-৫/৬৩/৭)।
অর্থাৎ :
ঊষাগুলিকে প্রেরণ করতে ইচ্ছুক হয়ে ঋতের মূল বৃষ্টির সাহায্যে স্বর্গ ও পৃথিবীর মধ্যে প্রবেশ করেছিল; মিত্র ও বরুণের মহতী মায়া চন্দ্রের ন্যায় নিজপ্রভা বহুলভাবে প্রসারিত করেছিল। (ঋক-৩/৬১/৭)।।  হে প্রাজ্ঞ মিত্রাবরুণ! তোমরা ধর্মদ্বারা ও অসুরের মায়াদ্বারা যজ্ঞসমূহ রক্ষা কর, ঋতদ্বারা এই বিশ্বভুবনকে দীপ্যমান কর; সুর্যকে তার বিচিত্র রথসহ ধারণ করে থাক। (ঋক-৫/৬৩/৭)।।

Read the rest of this entry »

BLACK_FOREST

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৬ : যজ্ঞ |
রণদীপম বসু

৩.৬ : যজ্ঞ

ঋগ্বেদে অবশ্যই যজ্ঞ, যজমান, ঋত্বিক প্রভৃতির প্রচুর উল্লেখ রয়েছে; এমন কি এতে উত্তর-সাহিত্যে– যজুর্বেদ এবং ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থে– বর্ণিত কোনো কোনো বিশিষ্ট যজ্ঞের পরিচয়ও পাওয়া যায়। যেমন, অধ্যাপক কীথ্ বলছেন– ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১৬২ ও ১৬৩ সূক্ত অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই অশ্বমেধ যজ্ঞের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত। মূলত ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের উল্লিখিত সূক্তগুলিরই পুনরাবৃত্তি পাওয়া যায় তৈত্তিরীয়-সংহিতা বা কৃষ্ণযজুর্বেদের চতুর্থ কাণ্ডের ষষ্ঠ প্রপাঠকের মন্ত্রগুলিতে, যেগুলি অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠানে পঠিত হয়। কিন্তু উত্তর-সাহিত্যে অর্থাৎ যজুর্বেদ ও ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থে বৈদিক যজ্ঞকে যে-জটিল ও পল্লবিতরূপে দেখা যায় ঋগ্বেদে নিশ্চয়ই তার পরিচয় নেই। এর থেকে অনুমান করা হয় যে, ঋগ্বেদের যুগে যজ্ঞ পরবর্তীকালের মতো ছিলো না। তার মানে, বিদ্বান গবেষকদের দৃষ্টিতে, যজ্ঞের আদি-রূপ ও উত্তর-রূপ এক নয়। অর্থাৎ, পরবর্তী কালে যজ্ঞ বলতে আমরা যা বুঝতে অভ্যস্ত হয়েছি আদিতে যজ্ঞ বলতে ঠিক তা বোঝাতো না। Read the rest of this entry »

daynight

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৫ : ঋত |
রণদীপম বসু

৩.৫ : ঋত

অথর্বন্-দের সঙ্গে যে-অঙ্গিরস্-দের নাম থেকে অথর্ববেদের আদি-নামকরণ, ঋগ্বেদের প্রাচীন অংশের কবিরাও তাঁদের সুদূর অতীতের অসীম শক্তিশালী জাদুকর বলে স্মরণ করেছেন এবং সেই সঙ্গেই স্মরণ করেছেন যে তাঁরা ছিলেন ঋত-বান বা ঋত-যুক্ত। যেমন–

ত ইন্দেবানাং সধমাদ আসন্নৃতাবানঃ কবয়ঃ পূর্ব্যাসঃ।
গূড়্হং জ্যোতিঃ পিতরো অন্ববিন্দন্ত্সত্যমন্ত্রা অজনয়ন্নুষাসম্ ।। (ঋগ্বেদ-৭/৭৬/৪)।
সমান ঊর্বে অধি সঙ্গতাসঃ সং জাততে ন যতন্তে মিথস্তে।
তো দেবানাং ন মিনন্তি ব্রতান্যমর্ধন্তো বসুভির্যাদমানাঃ।। (ঋগ্বেদ-৭/৭৬/৫)।
অর্থাৎ :
যে ঋতবান অঙ্গিরাগণ কবি, পূর্বকালীন পিতা ও যাঁরা গূঢ় জ্যোতি লাভ করেছিলেন এবং অবিতথ মন্ত্রদ্বারা ঊষাকে প্রাদুর্ভূত করেছিলেন, তাঁরাই দেবগণের সঙ্গে একত্রে প্রমত্ত হতেন। (ঋক-৭/৭৬/৪)।।  তাঁরা সাধারণ গো-সমূহের জন্য সঙ্গত হয়ে একবুদ্ধি (পরস্পর সমান) হয়ে ছিলেন। তাঁরা কি পরস্পর যত্ন করেন নি? তাঁরা দেবগণের কর্ম হিংসা করেন না। তাঁরা হিংসারহিত বাসপ্রদ কিরণের দ্বারা গমন করেন। (ঋক-৭/৭৬/৫)।।

Read the rest of this entry »

Perseus

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৪ : দেবতা ও মানব– ইন্দ্র, বরুণ ও মরুৎগণ |
রণদীপম বসু

৩.৪ : দেবতা ও মানব– ইন্দ্র, বরুণ ও মরুৎগণ

ঋগ্বেদের প্রধান দেবতা বলতে অবশ্যই বরুণ ও ইন্দ্র। এবং প্রধানতম বলেই, বিদ্বান গবেষকদের মতে, এঁদের সূত্র অনুসরণ করে বৈদিক সমাজ ও বৈদিক চিন্তার অত্যন্ত মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং বিবর্তন বোঝবার সুযোগ হতে পারে। তবে বর্তমান আলোচনার প্রাসঙ্গিক হিসেবে বৈদিক দেবতাদের প্রকৃতি বোঝার আশায় কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিচার করা যেতে পারে। এবং পর্যালোচনার সুবিধার্থে এক্ষেত্রে আমরা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ভারতীয় দর্শন’ গ্রন্থের আলোচনা-রীতির অনুসরণ করতে পারি। Read the rest of this entry »

shadowknight_coverart

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১৩ : পৃথিবী স্থানের দেবতা |
রণদীপম বসু

(গ) পৃথিবী স্থানের দেবতা

ঋগ্বেদে পৃথিবী স্থানের প্রধান দেবতারা হলেন অগ্নি, সোম, বৃহস্পতি এবং পৃথিবী। বৈদিক কবিদের কল্পনায় তাঁদের বর্ণনা নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। এ-প্রেক্ষিতে এই দেবতাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেখা যাক। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 207,606 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 86 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

নভেম্বর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« অক্টো.    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check