h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘উপাসক

images-dashnam
শিব ও লিঙ্গ-৯/১০ : দশনামী সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

এমন প্রবাদ আছে যে, পূর্বে সন্ন্যাস-ধর্ম বহুকাল প্রচলিত ছিল, মধ্যে রহিত বা দুর্বল হয়ে যায়, পরে আচার্য শঙ্কর তা আবার প্রবলভাবে প্রবর্তিত করেন। ‘ব্রহ্ম সত্য জগত মিথ্যা, জীব ব্রহ্মময়’– এই অদ্বৈতমত প্রতিষ্ঠাকারী বিখ্যাত বেদান্তবাদী শঙ্করাচার্যই কিনা দশনামী উপাসক সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা, বিষয়টি আশ্চর্যেরই বটে। তার চেয়েও বিস্ময়কর হলো, মাত্র বত্রিশ বছরের জীবনকালে তাঁর সৃষ্টি ও কর্মকাণ্ডের যে বিশাল ব্যাপ্তি তার মাত্রা ও পরিমাণ হতবাক করার মতোই।
শঙ্কর-জয়, শঙ্কর-দিগ্বিজয়, শঙ্করবিজয়বিলাস প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর চরিত-বর্ণনা আছে এবং তাঁকে নিয়ে প্রচুর জনশ্রুতি ছড়িয়ে আছে। খ্রিস্টাব্দ অষ্টম শতকের শেষ বা নবম শতকের প্রথম ভাগে শঙ্করাচার্য মলয়বর দেশের নম্বুরি ব্রাহ্মণ কুলে জন্মগ্রহণ করেন। প্রচলিত প্রথানুসারে আট বছর বয়সে উপনয়ন-সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বেদাধ্যয়নে প্রবৃত্ত হন। অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর শিক্ষা ও বুদ্ধির বিস্ময়কর বিকাশ ঘটতে থাকে। বারো বছর বয়সের সময় তাঁর পিতৃবিয়োগ ঘটে, কিন্তু এতে তাঁর অধ্যয়ন থেমে থাকেনি। অল্প বয়সেই তিনি সন্ন্যাসাশ্রম অবলম্বন করে গৃহত্যাগ করেন। তারপর ভারতের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ ও সে-সময়ের প্রচলিত নানা মত খণ্ডন করে স্বীয় মত সংস্থাপন করেন। বেদান্তশাস্ত্রের প্রচার ও তত্ত্বজ্ঞান-প্রচলন-উদ্দেশে তিনি চারটি স্থানে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠিত করেন– শৃঙ্গগিরিতে শৃঙ্গগিরি মঠ, দ্বারকায় সারদা মঠ, শ্রীক্ষেত্রে গোবর্ধন মঠ ও বদরিকাশ্রম অঞ্চলে জ্যোসী মঠ। এ প্রসঙ্গে মহাশয় অক্ষয় কুমার দত্তের অভিমত হলো– Read the rest of this entry »

a946c2f2918c0990e8b930c4ef5039a2

শিব ও লিঙ্গ-০৯ : শৈব সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

ইতঃপূর্বে শৈবদের উপাস্য দেবতা রুদ্র-শিবের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচিত হলেও গোষ্ঠীবদ্ধ শৈব উপাসক সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের বিষয়ে আলোকপাত করা যায়নি। এ চেষ্টার শুরুতেই বলে রাখা আবশ্যক যে, গবেষকরা ভারতবর্ষ জুড়ে বিভিন্ন শৈব সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব খুঁজে পেলেও তাঁদের উৎপত্তি নির্ণয়ে প্রধানত নির্ভর করেছেন সাহিত্যগত প্রমাণের উপর। যেহেতু বৈদিক যুগের পূর্বেকার কোনও সাহিত্য এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও আর হবে এমন ভরসা নেই, তাই ঐতিহাসিক কালের প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগ্বেদ থেকেই তার অনুসন্ধান শুরু করতে হয়। Read the rest of this entry »

Stone_of_Destiny_Siva_Lingam_Ireland

শিব ও লিঙ্গ-০৩ : শিবলিঙ্গের প্রাক্-বৈদিক নিদর্শন
রণদীপম বসু

বিজ্ঞানীরা মনে করেন জীব বিবর্তনের এক ও একমাত্র কারণ হলো– প্রকৃতি, যা নিত্য পরিবর্তনশীল। তার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সময়ের স্রোতে এগিয়ে চলার ইতিহাসই মানবসভ্যতার ইতিহাস। ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি অতি সুপ্রাচীন কাল থেকে বেশ কয়েকটা অধ্যায়ে ক্রমবিবর্তিত হতে হতে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। এগুলোকে যদি কালের নিরিখে পর্যায়ক্রমে সাজানো হয়, তা হলে শুরু করতে হয় প্রাগৈতিহাসিক পর্ব থেকে– আদি প্রস্তর যুগ, মধ্য প্রস্তর যুগ ও নব প্রস্তর যুগ। এরপরে ঐতিহাসিক যুগের সূচনা– তাম্র-প্রস্তর যুগ, তাম্র যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ ও লৌহ যুগ। লৌহ যুগেই সমাজ জীবনে আসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন, যার ফলশ্রুতিতে আজও আমরা বহুবিবর্তিত হয়েই চলেছি। ভারতবর্ষে তাম্র-প্রস্তর থেকে ব্রোঞ্জ যুগ অবধি সভ্যতাকে বলা হয় হরপ্পা বা সিন্ধু সভ্যতা। আর এরপরে বৈদিক সভ্যতা, যার সূচনা তাম্র সভ্যতা থেকে শুরু করে লৌহযুগ অবধি বিস্তৃত। Read the rest of this entry »

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

তন্ত্র-সাধনা-১৬ : তন্ত্রের জ্ঞানতত্ত্ব
রণদীপম বসু

তন্ত্র বিষয়ে এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হয়েছে তার সবই তান্ত্রিক সাধনার কর্ম-কাণ্ড বা সাধন-কাণ্ড বিষয়ক। এবার তন্ত্র-শাস্ত্রের জ্ঞান-কাণ্ড বা দার্শনিক ভাগেরও কিছুটা আলোকপাতের প্রয়োজন রয়েছে।
কর্ম-কাণ্ডের প্রকরণে দেখা যায়, অতি নিম্ন স্তরের উপাসক যেমন দেখতে পান তাঁর উপযোগী উপাসনার পদ্ধতি তন্ত্র-শাস্ত্রে রয়েছে, তেমনি অতি উচ্চ স্তরের সাধকও দেখতে পান যে তাঁর উপযোগী উপদেশও তন্ত্রে কম নেই। হিন্দুশাস্ত্রের অভিনবত্ব এখানেই যে তা কখনও কাউকেও নিরাশ করে না। সব-ধরনের অধিকারীকেই কোলে স্থান দেয়। অধিকারী-ভেদে শাস্ত্রের বিভিন্ন অনুশাসন প্রযুক্ত হয়ে থাকে। অতি সাধারণের ইতু-পুজা, সুবচনীর ব্রত প্রভৃতি কর্ম থেকে কৌল জ্ঞানীর ব্রহ্ম-তত্ত্ব পর্যন্ত সবকিছুই অধিকারী-ভেদে গ্রাহ্য হয়ে থাকে। হিন্দুর তেত্রিশ কোটি দেবতার তাৎপর্যও বোধকরি এখানেই। কেননা, হিন্দুর বহু-দেবতাবাদ ও একেশ্বরবাদকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, অসংখ্য দেবতাকে স্বীকার করেও চরম তত্ত্ব অর্থাৎ ‘একমেবাদ্বিতীয়ম্’ শ্রুতির সাথে কোন বিরোধ ঘটে না। একইভাবে এই সমন্বয় বুদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে তন্ত্র-শাস্ত্রের উপাসনা-প্রণালীর বিচার করলেও সেই চরম তত্ত্বের অন্যথা হয় না। উপাসনা-প্রণালীর মধ্যে পঞ্চোপাসক তথা শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর ও গাণপত্য সাধকের ভেদ কল্পিত-মাত্র বলেই মনে হয়। পথের বিভিন্নতায় গন্তব্য স্থল ভিন্ন হয়ে যায় না। সবারই চরম উপেয় এক, অর্থাৎ অভিন্ন। ব্যবহারিক ভেদের দ্বারা তাত্ত্বিক অভেদ কখনও ক্ষুন্ন হয় না। Read the rest of this entry »

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

তন্ত্র-সাধনা-১০ : তান্ত্রিক আচার-সাধন
রণদীপম বসু

তন্ত্রসাহিত্যে তান্ত্রিক উপাসক-গোষ্ঠীর সাত প্রকার বিভাগ (যথা– বেদাচার, বৈষ্ণবাচার, শৈবাচার, দক্ষিণাচার, বামাচার, সিদ্ধান্তাচার, কৌলাচার) নির্দিষ্ট হলেও ব্যবহারিকভাবে তাঁদের দুইটি প্রধান বিভাগই পরিলক্ষিত হয়– দক্ষিণাচারী ও বামাচারী। এই সাতটি বিভাগের প্রথম চারটি (বেদাচার, বৈষ্ণবাচার, শৈবাচার, দক্ষিণাচার) যার মধ্যে দক্ষিণাচারও আছে, প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণাচারী পর্যায়ভুক্ত। আর শেষ তিনটি (বামাচার, সিদ্ধান্তাচার, কৌলাচার) যার মধ্যে বামাচারও আছে, তাঁরা বামাচারী সম্পর্কিত।
‘সৌন্দর্যলহরীর সুবিখ্যাত ভাষ্যকার লক্ষ্মীধর আবার তান্ত্রিক উপাসকদিগকে তিনভাগে বিভক্ত করিয়াছেন; এই তিনভাগের নাম– সময়াচার, মিশ্রাচার ও কৌলাচার। সময়াচারী বা সময়িগণ এক হিসাবে দক্ষিণাচার পর্যাভুক্ত বলিয়া গণ্য হইতে পারেন। তৃতীয় বিভাগের অন্তর্ভুক্ত কৌলগণ বামাচারী পর্যায়ের।’- (জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়/ পঞ্চোপাসনা) Read the rest of this entry »

12032958_598706690267389_7077705607293271215_n

তন্ত্র-সাধনা-০৫ : তন্ত্রের মন্ত্র-সঙ্কেত
রণদীপম বসু

তন্ত্রসারে সংক্ষেপে দীক্ষা, পঞ্চায়তনী দীক্ষা প্রভৃতি কয়েক প্রকার দীক্ষাবিধির কথা বলা আছে। দীক্ষাদানের নানাবিধ পদ্ধতি তন্ত্রশাস্ত্রে দৃষ্ট হয়। স্থান, কাল, পাত্রেরও বিচার আছে। তবে দীক্ষাগ্রহণ বা দীক্ষাপ্রদান ইষ্টদেবতা অনুসারে ও গুরু-শিষ্য-প্রণালী ভেদে নানারকমের হয়ে থাকে। এখানে তার বর্ণনা বাহুল্য। দীক্ষা গ্রহণকালে শিষ্য গুরুর নিকট থেকে তাঁর ইষ্টদেবতার পরিচায়ক বীজমন্ত্র প্রাপ্ত হন। এই অসাধারণ মন্ত্রগুলি অতীব গুহ্য, গুহ্যাতিগুহ্য এবং তার প্রকৃত অর্থ দুর্বোধ্য। কেননা তন্ত্রকারেরা তা গোপনে রাখবার উদ্দেশ্যে কতকগুলি নতুন শব্দ এবং অন্য কতকগুলো শব্দের নতুন অর্থ সৃষ্টি করেছেন। সেই সেই শব্দের সেইরূপ অর্থ তন্ত্র ছাড়া অন্য কোন শাস্ত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। Read the rest of this entry »

12042606_598648876939837_4014857095877206038_n

তন্ত্র-সাধনা-০৪ : তন্ত্রে গুরুবাদ
রণদীপম বসু

দীক্ষা গ্রহণ না করলে তান্ত্রিক কাজে অধিকার জন্মে না। উপযুক্ত গুরুর নিকট থেকে তান্ত্রিক দীক্ষা গ্রহণ করতে হয়। যোগিনী-তন্ত্রে বলা হয়েছে–

দায়িতে জ্ঞানমত্যর্থং ক্ষীয়তে পাশবন্ধনম্ ।
অতো দীক্ষেতি দেবেশি কথিতা তত্ত্বচিন্তকৈঃ।।
অর্থাৎ : দেবেশি! তত্ত্বজ্ঞানীরা বলেন, পরম জ্ঞানের হেতু এবং ভবপাশচ্ছেদনের অনুকূল কর্ম-বিশেষ হলো দীক্ষা।

পরমানন্দ-তন্ত্রে উক্ত হয়েছে– Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,630 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos