h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘ঈশ্বর

shiva
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৪ : শৈব সিদ্ধান্ত বা তামিল শৈব সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

নায়নার সম্প্রদায়ী শৈব সাধকদের রচনাবলী তিরুমুরাই থেকে কালক্রমে দক্ষিণ ভারতে একটি বিশেষ ধরনের শৈব মতবাদ গড়ে উঠেছিল যা শৈব সিদ্ধান্ত নামে পরিচিত। তাঁদের পবিত্র শাস্ত্রের নাম সিদ্ধান্তশাস্ত্র এবং তা চৌদ্দটি খণ্ডে সংকলিত। এই সব ক’টি সংখ্যার রচয়িতাগণ একত্রে সন্তান-আচার্য নামে পরিচিত। এই আচার্যগোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন চারজন– ম্যেকণ্ডদেবর, অরুড়্ণন্দি, মরয়জ্ঞানসম্বন্ধর এবং উমাপতি। চৌদ্দটি সিদ্ধান্ত শাস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশই তাঁদের রচিত। ১২২৩ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁদের আবির্ভাবকাল এবং প্রায় শতাব্দীকাল ধরে তাঁরা পরম্পরাক্রমে শৈব সিদ্ধান্ত মত প্রচার করেছিলেন। নায়নারদের স্তোত্রসংগ্রহ যেরূপ প্রধানত ভক্তিরসাত্মক, সিদ্ধান্তশাস্ত্রগুলি তেমনি শৈবতত্ত্ব ও দর্শনমূলক। সিদ্ধান্তশাস্ত্রাবলীর সাথে আবার আগমান্ত ও শুদ্ধশৈব ধর্মদর্শনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনায়– Read the rest of this entry »

Advertisements

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

তন্ত্র-সাধনা-১৬ : তন্ত্রের জ্ঞানতত্ত্ব
রণদীপম বসু

তন্ত্র বিষয়ে এ পর্যন্ত যা আলোচনা করা হয়েছে তার সবই তান্ত্রিক সাধনার কর্ম-কাণ্ড বা সাধন-কাণ্ড বিষয়ক। এবার তন্ত্র-শাস্ত্রের জ্ঞান-কাণ্ড বা দার্শনিক ভাগেরও কিছুটা আলোকপাতের প্রয়োজন রয়েছে।
কর্ম-কাণ্ডের প্রকরণে দেখা যায়, অতি নিম্ন স্তরের উপাসক যেমন দেখতে পান তাঁর উপযোগী উপাসনার পদ্ধতি তন্ত্র-শাস্ত্রে রয়েছে, তেমনি অতি উচ্চ স্তরের সাধকও দেখতে পান যে তাঁর উপযোগী উপদেশও তন্ত্রে কম নেই। হিন্দুশাস্ত্রের অভিনবত্ব এখানেই যে তা কখনও কাউকেও নিরাশ করে না। সব-ধরনের অধিকারীকেই কোলে স্থান দেয়। অধিকারী-ভেদে শাস্ত্রের বিভিন্ন অনুশাসন প্রযুক্ত হয়ে থাকে। অতি সাধারণের ইতু-পুজা, সুবচনীর ব্রত প্রভৃতি কর্ম থেকে কৌল জ্ঞানীর ব্রহ্ম-তত্ত্ব পর্যন্ত সবকিছুই অধিকারী-ভেদে গ্রাহ্য হয়ে থাকে। হিন্দুর তেত্রিশ কোটি দেবতার তাৎপর্যও বোধকরি এখানেই। কেননা, হিন্দুর বহু-দেবতাবাদ ও একেশ্বরবাদকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, অসংখ্য দেবতাকে স্বীকার করেও চরম তত্ত্ব অর্থাৎ ‘একমেবাদ্বিতীয়ম্’ শ্রুতির সাথে কোন বিরোধ ঘটে না। একইভাবে এই সমন্বয় বুদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে তন্ত্র-শাস্ত্রের উপাসনা-প্রণালীর বিচার করলেও সেই চরম তত্ত্বের অন্যথা হয় না। উপাসনা-প্রণালীর মধ্যে পঞ্চোপাসক তথা শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, সৌর ও গাণপত্য সাধকের ভেদ কল্পিত-মাত্র বলেই মনে হয়। পথের বিভিন্নতায় গন্তব্য স্থল ভিন্ন হয়ে যায় না। সবারই চরম উপেয় এক, অর্থাৎ অভিন্ন। ব্যবহারিক ভেদের দ্বারা তাত্ত্বিক অভেদ কখনও ক্ষুন্ন হয় না। Read the rest of this entry »

538724_525348140812741_1924954597_n

|চার্বাক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা-১৯ : বস্তুবাদ বনাম ভাববাদ|
রণদীপম বসু

। বস্তুবাদ বনাম ভাববাদ।

সাধারণ অর্থে ‘বস্তু’ বলতে বোঝায় ইন্দ্রিয়প্রত্যক্ষগ্রাহ্য পদার্থ বিশেষ। এই যে প্রত্যক্ষগ্রাহ্যতা এটাই জ্ঞান। কোনকিছুকে আমরা এভাবেই জানি। প্রত্যক্ষগ্রাহ্যতার সাথে অস্তিত্বশীলতার প্রশ্ন জড়িত। এই অস্তিত্বশীল বস্তুকে ভারতীয় দার্শনিক পরিভাষায় বলা হয় ‘সৎ-বস্তু’। আর অস্তিত্বহীন কোন বিষয়কে বলা যায় ‘অসৎ’। সেক্ষেত্রে বস্তুবাদ বলতে বোঝায় ইন্দ্রিয়াতীত কোন বিষয়কে স্বীকার না করা। অন্যদিকে ভাববাদ তার বিপরীত অবস্থানে। বাস্তব জীবনে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্তায় স্বীকার করেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহ হয়। কিন্তু এই স্বাভাবিকতার বাইরে গিয়ে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যের অতীত কোন অতীন্দ্রিয় সত্তায় স্বীকার করার যে রহস্যময় ভাববাদী প্রবণতা, তা কী করে মানব-চেতনায় অনুপ্রবেশ করলো এটি একটি জটিল প্রশ্ন বৈকি। মানুষের সকল কর্মই উদ্দেশ্য বিধায়ক, কোন-না-কোন উদ্দেশ্য এতে থাকবেই। কবে কখন কোথায় কীভাবে কোন্ উদ্দেশ্যে মানব-সভ্যতায় প্রথম এমন ভাববাদী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিলো তা নিশ্চয় করে বলার উপায় নেই। তবে সাধারণ দৃষ্টিতে তার একটি ব্যাখ্যা হাজির করা যেতে পারে। Read the rest of this entry »

MVI_0011

|চার্বাক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা-১৫ : স্বভাববাদ|
রণদীপম বসু

৩.০ : স্বভাববাদ

ইতঃপূর্বে দেহাত্মবাদের আলোচনায় ‘স্বভাব’ বা ‘স্বভাববাদ’ বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমে উত্থাপিত হয়েছে। কোন প্রসঙ্গে? চার্বাকমতে আগুন বাতাস জল মাটি বলে চৈতন্যহীন ভূতবস্তুরই কোনো একরকম বিশেষ পরিণামের ফলে চৈতন্যবিশিষ্ট দেহের উৎপত্তি হয়। কিন্তু কী করে হয়? আত্মপক্ষ সমর্থনে চার্বাক অবশ্যই দাবি করবেন এ জাতীয় বিশেষ পরিণামের ব্যাখ্যায় ভূতবস্তুগুলি ছাড়া আর কিছু মানার দরকার নেই, কেননা ভূতবস্তুগুলির ‘স্বভাব’ই ওই– অবস্থাবিশেষে তা দেহাকারে পরিণত হয়। কিন্তু, প্রশ্ন উঠবে, এইভাবে চার্বাকমত সমর্থন করার পক্ষে সত্যিই কি কোনো প্রমাণ আছে? কিংবা, যা একই কথা, চার্বাক কি বাস্তবিকই ‘স্বভাব’ বলে কিছু মানতেন? Read the rest of this entry »

599650_440178629346566_1429881579_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৯ : মীমাংসক কর্তৃক ঈশ্বরের অস্তিত্ব খণ্ডন |
রণদীপম বসু

৩.১ : মীমাংসক কর্তৃক ঈশ্বরের অস্তিত্ব খণ্ডন

নিরীশ্বরবাদিতায় নাস্তিক দর্শনগুলোর অবস্থান আমাদের কাছে সহজেই অনুমেয়, এরা ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন। কিন্তু একান্ত বেদনির্ভর প্রচণ্ড আস্তিক দর্শন হয়েও মীমাংসক দার্শনিকেরা যে তাঁদের নিজস্ব যৌক্তিক অবস্থান থেকে কতোটা চরম নিরীশ্বরবাদী হতে পারেন তারই সামান্য কিছু নমুনা আমাদের বিবেচনাবোধকে বিশ্লেষণের সুবিধার্থে সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে পারি। এ প্রেক্ষিতে আমাদের এই আলোচনার উৎস হলো মহর্ষি জৈমিনির মীমাংসাসূত্রের প্রখ্যাত ভাষ্যকার শবরস্বামীর ভাষ্য এবং তার ব্যাখ্যাকার দার্শনিক প্রভাকর মিশ্র ও কুমারিল ভট্টের উত্থাপিত যুক্তি। তবে এ বিষয়টাতে বিভিন্ন দার্শনিক সম্প্রদায়ের পক্ষ-বিপক্ষ অবস্থান সাপেক্ষে তাঁদের স্ব-স্ব যুক্তি-বিস্তার এতো জটিল-সম্বন্ধযুক্ত ও বিশাল-বিস্তৃত যে, তা থেকে তুলে আনা গুটিকয় নমুনা দিয়ে ক্ষণিক স্বাদটুকু হয়তো আঁচ করা যেতে পারে, বিষয়ের গুরুত্ব ও গভীরতা পরিমাপ করা আদৌ সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে পণ্ডিত দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়-কৃত ‘ভারতীয় দর্শন’ এবং মহামহোপাধ্যায় হেমন্ত গঙ্গোপাধ্যায়-কৃত ‘বৈদিকধর্ম ও মীমাংসা-দর্শন’ গ্রন্থ দুটিকে এ বিষয়ে আপাত সহায়কসূত্র হিসেবে নেয়া হয়েছে। Read the rest of this entry »

314762_501240416556847_1950408058_n

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০৮ : ঈশ্বরবাদ |
রণদীপম বসু

৩.০ : ঈশ্বরবাদ

ভারতীয় অধ্যাত্মদর্শনে নিশ্চয়ই ঈশ্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ। তাই ঈশ্বরবাদের ভূমিকা প্রসঙ্গেও কিছু আলোচনা আবশ্যক বলে মনে হয়। কেননা সাধারণ প্রবণতায় আস্তিকতার সঙ্গে সেশ্বরবাদকে অঙ্গাঙ্গীভাবে অনেকেই যুক্ত করে দেখেন এবং নাস্তিকদের একাত্ম করেন নিরীশ্বরবাদীদের সঙ্গে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেশ্বরবাদ ভারতীয় দর্শনে আস্তিকতার আবশ্যিক অঙ্গ হিসেবে কখনোই গণ্য হয়নি। লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে যে সনাতনপন্থীদের বিচারে বেদের প্রতি আনুগত্যই আস্তিকতার প্রধান মানদণ্ড হিসেবে নির্দেশিত হয়েছে। আর তাই বৌদ্ধ, জৈন এবং চার্বাক দর্শনের ‘নাস্তিক’ সংজ্ঞা হয়েছে এই মানদণ্ডেরই অনুসরণে; ঈশ্বরের প্রতি ঔদাসীন্য বা ঈশ্বরবিরোধিতাকে কেন্দ্র করে নয়। সে-কারণে ভারতীয় বহু দর্শন আস্তিক হলেও সেশ্বর হতে বাধ্য হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রেই ঈশ্বরের প্রতি ঔদাসীন্য ভারতীয় দর্শনকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে। Read the rest of this entry »

Fig.-3.-Farnese-Atlas-National-Archaeological-Museum-Naples-Italy

| ভারতীয় দর্শনের বিকাশ-০২ : মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা |
রণদীপম বসু

মনুর ব্রাহ্মণ্যবাদ মনুসংহিতা :

পৃথিবীতে যতগুলো কথিত ধর্মগ্রন্থ রয়েছে তার মধ্যে মনে হয় অন্যতম বর্বর, নীতিহীন, শঠতা আর অমানবিক প্রতারণায় পরিপূর্ণ গ্রন্থটির নাম হচ্ছে ‘মনুস্মৃতি’ (Manu-smriti) বা ‘মনুসংহিতা’ (Manu-samhita)। ব্রাহ্মণ্যবাদের (Hinduism) আকর গ্রন্থ শ্রুতি বা ‘বেদ’-এর নির্যাসকে ধারণ করে যেসব স্মৃতি বা শাস্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে কথিত, তার শীর্ষে অবস্থান করছে মনুস্মৃতি বা মনুসংহিতা। তাই মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদকে আলাদা করে দেখার উপায় নেই। মনুসংহিতা মানেই ব্রাহ্মণ্যবাদ, ব্রাহ্মণ্যবাদ মানেই মনুসংহিতা। এটাকে তৎকালীন বৈদিক আর্য সমাজ ও প্রচলিত হিন্দু সমাজের অবশ্য পালনীয় পবিত্র সংবিধান বা সামগ্রিক ও সম্পূর্ণ জীবনাচরণবিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। বারোটি অধ্যায়ে প্রায় দুহাজার সাতশত শ্লোক সংবলিত এ গ্রন্থটির পাতায় পাতায় ধর্মীয় বিধানের নাম দিয়ে সংস্কৃত অক্ষরে অক্ষরে যে শ্লোকগুলো উৎকীর্ণ রয়েছে, অধিকাংশ শ্লোকের ভাবার্থকে যদি মনুষ্য সমাজে পালনীয় নীতি হিসেবে বিবেচনা করতে হয়, তাহলে মানুষের সমাজে কোন মানবিক বোধ আদৌ রয়েছে বা অবশিষ্ট থাকতে পারে বলে বিশ্বাস করাটাই অবিশ্বাস্য মনে হয়। এ ব্যাপারে কোন বিস্তৃত ব্যাখ্যায় না গিয়ে বরং মনুসংহিতা থেকে অনুবাদ ও ভাবার্থসহ কিছু শ্লোকের নমুনা-উদাহরণ টানলেই বিষয়গুলো আমাদের সামনে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 439,411 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 124 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2019
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 4 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements