h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘আদিম

mother goddess

শক্তি-সাধনা-০২ : আদিম মানব ও তার ধর্ম
রণদীপম বসু

নৃতাত্ত্বিকেরা হাতিয়ারের ক্রমবিকাশের ধারা অনুশীলন করে মানবসভ্যতার বিকাশের ঐতিহাসিক যুগের যে ধারা চিহ্নিত করেছেন তা হলো যথাক্রমে– প্রস্তর যুগ, তাম্র যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ এবং লৌহ যুগ। কেননা এই হাতিয়ারের ক্রমবিকাশের ধারা অনুশীলন করলেই ব্যবহারকারীদের ক্রমবিবর্তন অনুশীলন করা যায়। আর প্রগৈতিহাসিক প্রত্ন-প্রাচীন প্রস্তর যুগকে আবার উপবিভাগে ভাগ করা হলো– প্রত্নপ্রস্তর বা আদি-প্রস্তর যুগ, মধ্য-প্রস্তর যুগ ও নব বা নব্য-প্রস্তর যুগ। কিন্তু হাতিয়ার তৈরি ছাড়াও শিকারের প্রয়োজনে মানুষ জোট বাঁধতে বাধ্য হলো। ফলে, ভাবের আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তা থেকে শুরু হলো ভাষার ব্যবহার। জোটবদ্ধ জীবনে প্রথমে জৈবিক প্রয়োজনে, তারপর ধীরে ধীরে দেখা দিলো পরিবারের প্রয়োজনীয়তা। প্রকৃতির সাথে নিয়ত সংগ্রামশীল মানুষ পর্যায়ক্রমে শিখলো কাঁচা ও পোড়া মাটির ব্যবহার। তারপর একে একে আয়ত্ত করলো তামা, ব্রোঞ্জ ও সবশেষে লোহার ব্যবহার। ‘এরমধ্যে যেসব জিনিস বিনষ্ট হওয়ার তা কালের প্রভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। আর যা নষ্ট হওয়ার নয় তা চাপা পড়ে রইলো– মাটির তলায় বা পৃথিবীর পাঠশালায়, কালের লিখন হয়ে।’ Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-had-a-sister-nam
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৩ : নায়নার সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

বিভিন্ন উগ্রপন্থী শৈব গোষ্ঠীর প্রাদুর্ভাব যে সুপ্রাচীন কালে প্রথমে উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব-ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রবল হয় তা ইতঃপূর্বেকার শৈব-সম্প্রদায়ের আলোচনা থেকে আমরা ধারণা করতে পারি। দক্ষিণ ভারতেও তা ছড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়। তবে কোনও বিশেষ শৈব সম্প্রদায়ের ধর্মানুষ্ঠান রূপে শিবপূজার কথা ছেড়ে দিলেও সাধারণভাবে এই দেবতার পূজা তামিল, তেলেগু, কানাড়ী প্রভৃতি ভাষাভাষী অঞ্চলে সুপ্রাচীনকালে থেকেই প্রচলিত ছিল। কারও কারও মতে দেবতা হিসেবে শিব নামটি ‘রক্তবর্ণ’ এই অর্থবাচক তামিল শব্দ ‘শিবপ্পু’ থেকে গৃহীত। এ মত সত্য হলে, অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে,–
‘শিব যে অনার্য দ্রাবিড়গণের পূজার দেবতা ছিলেন ইহা স্বীকার করিতে কোনও বাধা থাকে না। মহাকাব্য ও পুরাণাদিতে বর্ণিত দক্ষযজ্ঞ বিনাশের কাহিনীও বৈদিক দেবতা হইতে শিবের পার্থক্য নির্দিষ্ট করে। বৈদিক দেবতামণ্ডলীর অপাংক্তেয় শিবের আদিম অনার্য রূপ সম্বন্ধেও ইহা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে। আর্য ও অনার্য, জেতা ও বিজিত, জাতির ঘনিষ্ঠ সংমিশ্রণের ফলে শিব ভারতীয় জনসমাজে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেবতা রূপে পরিগণিত হন। এদিক দিয়া বিচার করিলেও ভারতবর্ষের দক্ষিণাংশে শিবপূজার প্রাচীনত্ব সহজেই স্বীকৃত হয়।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৭১) Read the rest of this entry »

1908473_744382928977158_9020559613900978247_n

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-০৮ : ঋগ্বেদের সমাজ |
রণদীপম বসু

৩.১ : ঋগ্বেদের সমাজ

যে-কোনো সমাজ-সংগঠনের পরিপ্রেক্ষিতেই সেই সমাজের চিন্তাধারা প্রতিফলিত হয়। নৃতাত্ত্বিকদের মতে, সভ্যতার বিবর্তন ধারায় সব দেশে সব মানুষের উন্নতি সমান তালে ঘটেনি। আধুনিক সভ্য মানুষের পূর্বপুরুষেরা বহু যুগ আগে যে-অবস্থায় বাস করতো কোনো কোনো পিছিয়ে পড়া মানবগোষ্ঠী সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত সেই অবস্থায় আটকে থেকেছে। আর এই কারণেই আধুনিক পৃথিবীর ওই পিছিয়ে-পড়ে থাকা মানুষদের পরীক্ষা করে নৃতত্ত্ববিদরা প্রাগৈতিহাসিক অতীতের কথা অন্তত আংশিকভাবে অনুমান করে থাকেন। সে-বিচারে নৃ-তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে যে-কোনো আদিম পর্যায়ের সমাজ-সংগঠনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এক স্বতঃস্ফূর্ত গোষ্ঠীগত ঐক্য। এ-ঐক্য এমনই গভীর যে তাদের মধ্যে ব্যক্তি-স্বার্থ ও ব্যক্তি-বোধেরও ঐকান্তিক অভাব পরিলক্ষিত হয়। গোষ্ঠীর সামগ্রিক স্বার্থই প্রত্যেকের নিজস্ব স্বার্থ, প্রত্যেকের সম্পদই গোষ্ঠির সামগ্রিক সম্পদ। প্রাচীন বৈদিক মানুষদের ক্ষেত্রে এরকম কোনো পর্যায় অনুমান করতে হলে এ-ক্ষেত্রেও অনুমানের অবকাশ থাকে যে, বৈদিক সমাজ-বিবর্তনের কোনো-এক পর্যায়েও এ-জাতীয় গোষ্ঠী-চেতনা ও সাম্য-ব্যবস্থার পরিচয় থাকা স্বাভাবিক। তার মানে অবশ্য এই নয় যে বৈদিক সাহিত্য রচনার সমগ্র যুগ ধরে আগাগোড়াই ওই আদিম সাম্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত ছিলো। উপনিষদের সমাজ, ব্রাহ্মণের সমাজ, এমনকি ঋগ্বেদে সংকলিত অপেক্ষাকৃত অর্বাচীন অংশে প্রতিফলিত সমাজও নিশ্চয়ই আদিম সাম্য-সমাজ নয়। বস্তুত– Read the rest of this entry »

su_blackwell

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-০৭ : বৈদিক সাহিত্যে সমাজ ও তার চিন্তাধারা |
রণদীপম বসু

৩.০ : বৈদিক সাহিত্যে সমাজ ও তার চিন্তাধারা

বৈদিক-যুগের সমাজ-সংস্কৃতির রূপটি কেমন ছিলো তা নিরূপণের প্রধানতম মাধ্যম হিসেবে খুব স্বাভাবিকভাবেই গবেষকরা ঋগ্বেদের উপরই নির্ভর করেছেন বেশি। এক্ষেত্রে সমগ্র ঋগ্বেদ জুড়েই যে সমর্থনটির দিকে গবেষকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তা হলো– যাঁরা বেদ রচনা করেছিলেন তাঁরা ছিলেন মূলতই পশুপালক। এমনকি তাঁরা ভালো করে কৃষিকাজও শেখেন নি; ধনসম্পদ বলতে তাঁদের কাছে প্রধানতই পশু। এ প্রেক্ষিতে খুবই উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো, গোটা ঋগ্বেদ জুড়ে পশু হিসেবে ‘গো’ বা গরুর প্রাধান্য একচ্ছত্র। তবে বৈদিক মানুষদের কাছে ‘গো’ কেবল গরুই নয়, অনেক কিছুই। Read the rest of this entry »

1069213_557280097670003_419036928_n

| প্রাক্-বৈদিক সিন্ধু-যুগ-০৯ : লিঙ্গ উপাসনা |
রণদীপম বসু

লিঙ্গ-উপাসনা :

ইতোমধ্যেই আমরা দেখেছি যে, প্রাক্-বৈদিক ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে সিন্ধু-ধর্মের প্রধানতম উপাদান হলো উর্বরতামূলক আদিম জাদুবিশ্বাস বা তার স্মারক। আর এ-বিশ্বাসের মূলসূত্র অনুসারে মানবীয় ফলপ্রসূতা ও প্রাকৃতিক ফলপ্রসূতা একই সূত্রে বাঁধা। স্বভাবতই আদিম মানুষদের মধ্যে প্রচলিত এই বিশ্বাসমূলক আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে– এবং এই বিশ্বাস-উদ্ভূত নানান প্রচলিত ধর্মের ক্ষেত্রেও– জনন-অঙ্গের উপর বিশেষ গুরুত্ব-আরোপণের পরিচয় পাওয়া যায়। সিন্ধু-ধর্মও যে স্বভাবতই তার ব্যতিক্রম নয়, তার প্রমাণ হলো সমগ্র সিন্ধু-সাম্রাজ্য জুড়ে আবিষ্কৃত অজস্র লিঙ্গ ও যোনি মূর্তি। জন মার্শল প্রমুখ প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এগুলির বিস্তৃত বিবরণ দিয়েছেন এবং প্রায় একবাক্যে এগুলিকে সিন্ধু-ধর্মের পরিচায়ক বলেই গ্রহণ করেছেন। Read the rest of this entry »

.
| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৬১-২৭০|
রণদীপম বসু

(২৬১)
মানুষ তথাকথিত ঈশ্বর সম্পর্কে যা বলে
তা হচ্ছে মানুষের সৃষ্ট কল্পনা-গাঁথা; কারণ
অর্থহীন ঈশ্বর-জ্ঞান মানুষ হওয়ার জন্য অনিবার্য নয়।
.
(২৬২)
ঈশ্বর হচ্ছেন সেই অপ্রমাণিত সত্তা
যার ক্ষমতার উৎস মানুষের অরাজক অজ্ঞতা।
 .
(২৬৩)
এবং ঈশ্বর হলো সেই অদৃশ্য পণ্য,
যে লেনদেনে পুরোটাই বিক্রেতার লাভ;
ক্রেতার ভাগে শূন্য। Read the rest of this entry »

Nila08blog_1205969647_1-walkingalone

শ্রাবণ
-রণদীপম বসু

.
মেঘের কোন এনাটমি নেই
শাওনের সন্ধ্যারঙ বিকেল ভেঙে আগে আগে
খুনে যে মেয়েটি হেঁটে গেলো অতিধীর
উন্মুক্ত মেঘেদের কাছে,
সারি সারি লাশ আর সংসার পেছনে ফেলে
দেখালো কি ভেজা পা-
পাজামা ইষৎ তুলে ?
যদিও দেখেনি কেউ; সবাই দেখলো শুধু-
জলের স্বাচ্ছন্দ্য মেখে শেমিজের লাল এনাটমি
কী ভয়ানক মিশে গেলো
ঈভের স্তব্ধ শরীরী ছাঁদে!

সে কি জানে-
শ্রাবণের ডাঙর জলে
কখনো অবজ্ঞা দেখাতে নেই ?
চৈতণ্যের কার্নিশ ভেঙে শিরশিরে চোখে তখন
কবিও পুরুষ হয়,
আদিম !
(২৬/০৭/২০০৭)

.
[somewherein]
[amarblog]


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,633 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos