h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Posts Tagged ‘আচার

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

তন্ত্র-সাধনা-১০ : তান্ত্রিক আচার-সাধন
রণদীপম বসু

তন্ত্রসাহিত্যে তান্ত্রিক উপাসক-গোষ্ঠীর সাত প্রকার বিভাগ (যথা– বেদাচার, বৈষ্ণবাচার, শৈবাচার, দক্ষিণাচার, বামাচার, সিদ্ধান্তাচার, কৌলাচার) নির্দিষ্ট হলেও ব্যবহারিকভাবে তাঁদের দুইটি প্রধান বিভাগই পরিলক্ষিত হয়– দক্ষিণাচারী ও বামাচারী। এই সাতটি বিভাগের প্রথম চারটি (বেদাচার, বৈষ্ণবাচার, শৈবাচার, দক্ষিণাচার) যার মধ্যে দক্ষিণাচারও আছে, প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণাচারী পর্যায়ভুক্ত। আর শেষ তিনটি (বামাচার, সিদ্ধান্তাচার, কৌলাচার) যার মধ্যে বামাচারও আছে, তাঁরা বামাচারী সম্পর্কিত।
‘সৌন্দর্যলহরীর সুবিখ্যাত ভাষ্যকার লক্ষ্মীধর আবার তান্ত্রিক উপাসকদিগকে তিনভাগে বিভক্ত করিয়াছেন; এই তিনভাগের নাম– সময়াচার, মিশ্রাচার ও কৌলাচার। সময়াচারী বা সময়িগণ এক হিসাবে দক্ষিণাচার পর্যাভুক্ত বলিয়া গণ্য হইতে পারেন। তৃতীয় বিভাগের অন্তর্ভুক্ত কৌলগণ বামাচারী পর্যায়ের।’- (জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়/ পঞ্চোপাসনা) Read the rest of this entry »

12039374_596710877133637_3107122657114716968_n

তন্ত্র-সাধনা-০৯ : তন্ত্রের সপ্ত-আচার
রণদীপম বসু

আচার বলতে শাস্ত্রবিহিত অনুষ্ঠেয় কতকগুলি কার্যকে বোঝায়। অর্থাৎ শাস্ত্রে যে কার্যগুলি বিধেয় বলে নির্দিষ্ট আছে এবং অবশ্যই যার অনুষ্ঠান করতে হবে, তাকেই আচার বলে। আবার শাস্ত্রবিধি-বিগর্হিত কার্যকেও আচার বলে, কিন্তু তা কদাচার। অতএব আচার বলতে শাস্ত্রবিধিবিহিত অনুষ্ঠেয় কার্যসমষ্টিকেই বুঝিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বক্তব্য হলো–
‘তন্ত্রে সাতটি আচারকে স্বীকার করা হয়, কুলার্ণব মতে সেগুলি হল বেদ, বৈষ্ণব, শৈব, দক্ষিণ, বাম, সিদ্ধান্ত ও কৌল। প্রথম তিনটি পশুভাবের মানুষদের জন্য, চতুর্থ ও পঞ্চমটি বীরভাবের মানুষদের জন্য, ষষ্ঠ ও সপ্তমটি দিব্যভাবের মানুষদের জন্য। প্রথম আচারটি হল দেহ ও মনের শুচিতার জন্য, দ্বিতীয়টি ভক্তির জন্য, তৃতীয়টি জ্ঞানের জন্য, চতুর্থটি প্রথম তিনটির সমন্বয়, পঞ্চমটি ত্যাগের জন্য, ষষ্ঠটি ত্যাগের উপলব্ধির জন্য এবং সপ্তমটি মোক্ষের জন্য নির্দিষ্ট। পরশুরামকল্পে বলা হয়েছে প্রথম পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুর সাহচর্য ও নির্দেশ লাগে, কিন্তু শেষ দুটি ক্ষেত্রে সাধক স্বাধীন। আচারের এই সাতটি স্তরকে অন্যভাবে বলা হয় আরম্ভ, যৌবন, প্রৌঢ়, প্রৌঢ়ান্ত, উন্মনী ও অনবস্থা। সৌন্দর্যলহরীর টীকাকার লক্ষ্মীধর আবার অন্যরকম উপাসক ভাগ করেছেন– সময়াচার, মিশ্রাচার এবং কৌলাচার।’- (ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রাচীন ভারতীয় প্রেক্ষাপট/ পৃষ্ঠা-১৬৮) Read the rest of this entry »

12027707_598650430273015_4451892500587454899_n

তন্ত্র-সাধনা-০৮ : তন্ত্রে ভাবত্রয়
রণদীপম বসু

মানসিক ধর্মের নাম ভাব। তন্ত্রে ভাব শব্দে জ্ঞানেরই অবস্থাবিশেষ বলে বর্ণনা করা হয়। বামকেশ্বরতন্ত্রে বলা হয়েছে–

ভাবো হি মাসসো ধর্মো মনসৈব সদাভ্যসেৎ।- (বামকেশ্বরতন্ত্র)
অর্থাৎ : মানসিক ধর্মের নাম ভাব, তা মনের দ্বারাই অভ্যাস করতে হয়।

তন্ত্রানুসারে ভাব তিনপ্রকার– দিব্যভাব, বীরভাব ও পশুভাব। ভাবের প্রকার নির্দেশ করতে গিয়ে রুদ্রযামলে বলা হয়েছে–

শক্তিপ্রাধান্যাৎ ভাবানাং ত্রয়াণাং সাধকস্য চ।
দিব্যবীরপশুনাঞ্চ ভাবত্রয়মুদাহৃতম্ ।।- (রুদ্রযামল)
অর্থাৎ : সাধকের ক্ষমতানুসারে দিব্য, পশু, বীরক্রমে ভাব তিনপ্রকার বলে কথিত হয়েছে।

Read the rest of this entry »

12011170_595804190557639_3476711958994281072_n

শক্তি-সাধনা-০৪ । উর্বরতা-কেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাস…
রণদীপম বসু

জাদুবিশ্বাস কী? জাদুবিশ্বাসমূলক যে সকল অনুষ্ঠান ভূমির উর্বরতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত, প্রাচীন মানুষের চিন্তায় সেগুলিকে মেয়েদের বিশেষ ব্যাপার বলে গণ্য করা হতো। পৃথিবীর ফলোৎপাদিকা শক্তিকে মেয়েদের সন্তান উৎপাদিকা শক্তির সঙ্গে অভিন্ন করে দেখার রীতি পৃথিবীর সর্বত্রই বিদ্যমান। সংস্পর্শ অথবা অনুকরণের দ্বারা একের প্রভাব অন্যের উপর সঞ্চারিত করা সম্ভব বলে বিশ্বাস করা হতো। যে সকল পূর্ব শর্ত নারীকে ফলপ্রসূ করে তা পৃথিবীরূপী মাতৃদেবীকে ফলপ্রসূ করে। এই বিশ্বাসগত ধারণাই উর্বরতা-কেন্দ্রিক জাদুবিশ্বাসের মৌল ধারণা। Read the rest of this entry »

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

শক্তি-সাধনা-০৫ । বাঙলার লৌকিক দেবতা
রণদীপম বসু

বাঙালির ধর্ম-কর্মানুষ্ঠানের গোড়ার কথা বলতে গেলে, তার পেছনে রয়েছে বস্তুত প্রাচীন জনগোষ্ঠীর উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে আদিম প্রজনন শক্তির মিশ্রণকল্পনায় সৃষ্ট কিছু লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান মাত্র। আর সেগুলি যে অবশ্যই কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সময়ের প্রবাহে বর্তমানে যান্ত্রিক নগরায়ণের প্রভাবে সেইসব আচার-অনুষ্ঠান ক্রমান্বয়ে লুপ্ত বা অনেকটাই চাপা পড়ে গেলেও বাংলার পল্লীগ্রামের কৃষিজীবনে মাঠে লাঙল চালনার প্রথম দিনে, বীজ ছড়ানোর, শালিধান বোনার, ফসল কাটার বা ঘরে গোলায় তোলার আগে নানান ধরনের আচারানুষ্ঠান বাংলার বিভিন্ন জায়গায় হয়তো এখনও প্রচলিত আছে। এই প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানই বিচিত্র শিল্পসুষমায় এবং জীবনের সুষম আনন্দে মণ্ডিত। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, তার কোনটিতেই সাধারণত কোনও ব্রাহ্মণ বা পুরোহিতের প্রয়োজন হতো না বা এখনও হয় না। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সবাই এসব পূজানুষ্ঠানের অধিকারী। নবান্ন উৎসব বা নতুন গাছের বা নতুন ঋতুর প্রথম ফল ও ফসলকে কেন্দ্র করে যেসব পূজানুষ্ঠান এখনও প্রচলিত, তার মূলেও একই চিত্তধর্মের একই বিশিষ্ট প্রকৃতি সক্রিয়।
Read the rest of this entry »

ট্যাগ সমুহঃ , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,
.
| অনাত্মবাদী বৌদ্ধদর্শন-০২ : বুদ্ধের মতবাদ- চার আর্যসত্য |
-রণদীপম বসু
.
বুদ্ধের মতবাদ (Buddhism)
গৌতম বুদ্ধ কোন চরমপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন না। সর্বাবস্থায় তিনি মধ্যপন্থা অবলম্বনকেই সঠিক মনে করতেন। বোধিপ্রাপ্তির লক্ষ্যে কঠোর তপস্যাকালীন সময়েই এ জ্ঞান তিনি প্রাপ্ত হন এবং মধ্যম মার্গ অনুসরণ করেই বোধিলাভ করেন। তাই বোধিলাভের পরপরই সর্বপ্রথম তিনি ঋষিপত্তন মৃগদাবে (সারনাথ, বেনারস) সেই পাঁচজন ভিক্ষুর অন্বেষণে গিয়েছিলেন তাঁদের শঙ্কা দূর করার লক্ষ্যে, যাঁরা তপস্যাকালীন সময়ে অনশন ভঙ্গকারী গৌতমকে ছেড়ে মনঃক্ষুণ্ন হয়ে চলে গিয়েছিলেন। Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,465 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos