h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

98204774_3254355494588233_1683472440950259712_n

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৫
-রণদীপম বসু

(৫)
‘বাঙলা’ নামটির উদ্ভব হয়েছিল কবে? দিন তারিখ দিয়ে হয়তো তা বলা যাবে না। তবে তার কুল-ঠিঁকুজি ঠিকই খুঁজে নিয়েছেন গবেষকরা। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পূর্ব পর্যন্ত বাঙালির আবাসভূমিকে বলা হতো ‘বঙ্গদেশ’। ইংরেজিতে বলা হতো ‘বেঙ্গল’। ‘বেঙ্গল’ নামটা দিয়েছিল ইংরেজরা। তারা এটা নিয়েছিল পর্তুগীজদের দেওয়া ‘বেঙ্গালা’ শব্দ থেকে। ওই ‘বেঙ্গালা’ শব্দটি আবার ‘বঙ্গালহ’ শব্দের রূপান্তর মাত্র। ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ পাঠান সুলতানরাই ‘বঙ্গালহ’ শব্দের ব্যবহার শুরু করেন বলে জানা যায়। তবে তার আগেই ত্রয়োদশ শতাব্দীর দুজন বৈদেশিক পর্যটক মার্কো পোলো ও রশিদুদ্দিন তাঁদের ভ্রমণকাহিনীতে ‘বঙ্গাল’ নামটা ব্যবহার করেছিলেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর যখন বাঙলা অধিকার করেন তখন থেকে ‘বঙ্গাল’ শব্দটা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায় বলছেন– Read the rest of this entry »

Mother Goddes Durga

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৪
-রণদীপম বসু

(৪)
বলার অপেক্ষা রাখে না, সিন্ধুসভ্যতার এক প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মাতৃদেবীর ও আদি-শিবের পূজা। ভারতের অন্যান্য প্রদেশের তুলনায় মাতৃদেবীর পূজার প্রাবল্য বাঙলাদেশেই সবচেয়ে বেশি। এটা মহেঞ্জোদারো-হরপ্পার যুগ থেকে চলে এসেছে। মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা প্রভৃতি নগরে প্রত্নখননের মাধ্যমে মাতৃদেবীর পূজার নিদর্শনস্বরূপ বহু মাটির ক্ষুদ্রকায়া মাতৃকামূর্তি পাওয়া গেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অনুরূপ মূর্তি বাঙলাদেশেও বর্তমান কাল পর্যন্ত তৈরি হয়ে আসছে। তবে এগুলি সাধারণত বাচ্চাদের খেলার পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ড. অতুল সুর বলেন, এরূপ পুতুলগুলিকে ‘কুমারী পুতুল’ বলা হয়। এ নামটা খুব অর্থপূর্ণ। কেননা মহেঞ্জোদারো, হরপ্পা ও সমসাময়িক সভ্যতার কেন্দ্রসমূহে মাতৃদেবী ‘কুমারী’ (virgin goddess) হিসাবে পূজিতা হতেন। শারদীয়া দুর্গাতিথির মহাষ্টমীর দিন বাঙালি সধবা মেয়েদের ‘কুমারী পূজা’ তার স্মৃতি-নিদর্শন। যদিও তাম্রাশ্মযুগে মাতৃদেবী কুমারী হিসেবে পরিকল্পিত হতেন, তথাপি তাঁর ভর্তা ছিল। এই ভর্তার প্রতিকৃতি মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে। তাঁকে পশুপতি শিবের আদিরূপ বলা হয়েছে। শিব যে প্রাগার্য দেবতা, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ-সম্পর্কে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, বাঙলায় শৈবধর্মের প্রাধান্য। বস্তুত বাঙলায় যত শিবমন্দির দেখতে পাওয়া যায়, তত আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। সুতরাং শিব ও শক্তিপূজা যে মহেঞ্জোদারো হরপ্পার কাল থেকেই চলে এসেছে সে-বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সুমেরীয় সভ্যতাও তার সাক্ষ্য হতে পারে। Read the rest of this entry »

Lothal_Horoppa

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৩
-রণদীপম বসু

(৩)
নৃতত্ত্বের নিরীখে বাঙলার ভূমিপুত্রেরা বা আদিম অধিবাসীরা ছিল অস্ট্রিক ভাষাভাষী গোষ্ঠীর লোক। নৃতত্ত্বের ভাষায় এদের প্রাক্-দ্রাবিড় বা আদি-অস্ত্রাল (Proto-Australoids) বলা হয়। এই অস্ট্রিকরা এক সময়ে পাঞ্জাব থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগরের সুদূর ইস্টার দ্বীপ অবধি বিস্তৃত ছিল। প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যে এদের ‘নিষাদ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বাঙলার আদিবাসীদের মধ্যে সাঁওতাল, লোধা প্রভৃতি উপজাতিসমূহ এই গোষ্ঠীর লোক। এছাড়া, হিন্দুসমাজের তথাকথিত ‘অন্ত্যজ’ জাতিরাও এই গোষ্ঠীরই বংশধর। এ বুনিয়াদের উপর বাঙলায় প্রথম অনুপ্রবেশ করে স্তরীভূত হয়েছে দ্রাবিড়রা। বৈদিক সাহিত্যে এদের ‘দস্যু’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আবার দ্রাবিড়দের অনুসরণে আসে আর্য ভাষাভাষী আল্পীয়রা (Alpinoids বা Alpine)। এদের দিনারিক বা আর্মেনয়েডও বলে। দ্রাবিড়দের থেকে আল্পীয়রা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল বলেই বাঙালিজাতি তার নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য (হ্রস্ব কপাল) এদের থেকেই পেয়েছে, যা উত্তর ভারতের (দীর্ঘ কপাল) নর্ডিক গোষ্ঠীভুক্ত বৈদিক আর্য জাতি থেকে বাঙালির পার্থক্য। Read the rest of this entry »

84510281_10215908211607081_4421704805878071296_n

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০২
রণদীপম বসু

(২)
প্রাসঙ্গিকভাবে আমাদের স্মরণে রাখা ভালো যে, বর্তমান পৃথিবীতে যেসব জনজাতি রয়েছে তারা সকলেই একই বর্গ (Genus) ও প্রজাতি (Species) থেকে উদ্ভূত হলেও, তাদের মধ্যে যেসব বৈশিষ্ট্যমূলক চেহারার পার্থক্য আছে, যার জন্যে তাদের বিভিন্ন জাতির লোক বলা হয়, তা হলো জিনঘটিত পরিব্যক্তি (Gene mutation), প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural selection), পরিবেশগত প্রভাব (Environmental Isfluence) ও জন মিশ্রণ (Population Mixture)।
একেবারে আদিম স্তর থেকে আরম্ভ করে সভ্যতার উচ্চ স্তর পর্যন্ত যেসব নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সারা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে এদের আকৃতি প্রকৃতি, জীবনযাত্রা, ভাব ভাষা ইত্যাদি নানা বিষয় বিচার করে পণ্ডিতেরা এদের কয়েকটা জনগোষ্ঠীতে ভাগ করেছেন– ক) নিগ্রয়েড বা নেগ্রিটো (Nigroid), খ) প্রোটো-অস্ট্রালয়েড বা আদি-অস্ট্রেলীয় (Proto-Australoid), গ) প্রোটো-দ্রাবিড় বা প্রত্ন-দ্রাবিড় (Mediterranean), ঘ) আলপাইন বা আলপীয় (Alpinoid), ঙ) প্রোটো-নর্ডিক (Nordic), চ) মঙ্গোলীয় বা ভোট চিন (Palae-Mongoloid)। Read the rest of this entry »

IMG_20180204_191738_resized_20190927_025854656
ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতি : ক্রমান্বয়াধীন সহায়ক গ্রন্থসূচি
-রণদীপম বসু

গ্রন্থসূচি : তত্ত্ব ও তথ্য গ্রহণে যে গ্রন্থগুলোকে সহায়ক উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ও হচ্ছে (চলমান…)। Read the rest of this entry »

Mohenzodaro-Horoppa

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০১
রণদীপম বসু

(১)
ভূতত্ত্বের নিরিখে অতি প্রাচীন এই বঙ্গদেশ। বঙ্গদেশের ভূমিরূপ গড়ে উঠেছে আজ থেকে প্রায় পঁচিশ লক্ষ বছর আগে প্লাইস্টোসিন যুগে। যখন পৃথিবীর বুকে বিবর্তনের ধারায় প্রায়-মানবের মতো নরাকার জীবের উদ্ভব হয়েছে বলে মনে করা হয়। প্লাইস্টোসিন যুগের মানুষের কোনও কঙ্কাল ভারতবর্ষে পাওয়া যায়নি। ড. অতুল সুরের মতে–
‘যদিও প্লাইস্টোসীন যুগের মানুষের কোনও নরকঙ্কাল আমরা ভারতে পাইনি, তবুও তার আগের যুগের অনু-নর জীবের কঙ্কাল আমরা এশিয়ার তিন জায়গা থেকে পেয়েছি। জায়গাগুলি হচ্ছে ভারতের উত্তর-পশ্চিম কেন্দ্রস্থ শিবালিক গিরিমালা, জাভা ও চীনদেশের চুংকিঙ। এই তিনটি বিন্দু সরলরেখা দ্বারা সংবদ্ধ করলে যে ত্রিভুজের সৃষ্টি হয়, বাঙলাদেশ তার কেন্দ্রস্থলে পড়ে। সুতরাং এরূপ জীবসমূহ যে সেযুগে বাঙলাদেশের ওপর দিয়েই যাতায়াত করত সেরূপ অনুমান করা যেতে পারে।’- (ড. অতুল সুর, বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন, পৃষ্ঠা-৫৬) Read the rest of this entry »

coronavirus_structure_large
করোনা-পরবর্তী পৃথিবীটা কেমন দেখতে চাই…
রণদীপম বসু

করোনা-পরবর্তী পৃথিবীকে কেমন দেখতে চাই– প্রশ্নটা শুনে প্রথমে এমন আশঙ্কা জাগতে পারে যে, তবে কি আমরা মানব-সভ্যতার কোন ক্রান্তিকালে এসে দাঁড়িয়েছি! এবং তখনই হঠাৎ অবাক বিস্ময় নিয়ে আবিষ্কার করতে হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে সভ্যতার সন্তোষজনক পর্যায়ে অবস্থান করেও বর্তমানে আমরা যেন সত্যিই মানব সভ্যতার এক ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়ে গেছি। গোটা পৃথিবীর মানুষ আমরা ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, গোত্র নির্বিশেষে এমনই অভিন্ন এক কল্পনাতীত শক্তিশালী ছায়াশত্রুর বিরুদ্ধে একযোগে লড়ে যাচ্ছি, এখন পর্যন্ত যার কোনো প্রতিষেধক আমাদের হাতে নেই। Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 555,619 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 140 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos