h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘দীর্ঘশ্বাস’ Category

IMG_2880_beyond_the_childhood [1600x1200]

|একজন রমা কিংবা আমাদের গন্তব্যে ফেরা…|
রণদীপম বসু


১.
স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ। নিস্তরঙ্গ সুনামগঞ্জ তখন একান্তই ছোট্ট একটা মহকুমা শহর হলেও মুক্তিযুদ্ধকালীন শহর ছেড়ে ভারতের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে শরণার্থী হওয়া পরিবারগুলো অনেক ক্ষয়ক্ষতির বিনিময়ে ফিরতে শুরু করেছে। সেই দলে আমাদের পরিবারও ছিলো। তার কিছুদিন পর উনিশশ’ বাহাত্তর সালে অটোপ্রমোশন পেয়ে ক্লাশ ফোরে উঠে গেছি আমি। বাসা থেকে কালিবাড়ি প্রাইমারি স্কুল, আসা-যাওয়ার রাস্তা আর তার দু’পাশের পরিপার্শ্বিকতাই তখন আমার শৈশবোত্তীর্ণ কৈশোরের উন্মেষকালে বেড়ে ওঠার নিজস্ব গণ্ডি। বাসার ঠিক সামনেই প্রধান সড়কটার অপরপার্শ্বে কচুরিপানায় ভর্তি বিরাট পুকুরটার, যেটি ভরাট হয়ে এখন পৌর বিপণীবিতানে রূপ নিয়েছে, তার পাড় ঘেষে আমার বিপণ্ন কৈশোরের প্রথম বিস্ময় নিয়ে গড়ে উঠলো শহীদ মিনারটা। জীবন-প্রভাতে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা বৈকি। মিনারের বেদীর পেছনের দেয়ালস্তম্ভটার পুরো গা জুড়ে লাল-সবুজে মাখানো বিশাল পতাকার রঙ। ওটার দিকে একদৃষ্টে তাকাতে পারতাম না কখনোই। মাতৃহারা বুকটা খাঁ খাঁ করে ওঠতো, চোখ ভিজে যেতো নিমেষে। ওই উজ্জ্বল রঙের সাথে আমার মায়ের চেহারাটা কেন যেন একাকার হয়ে মিশে যেতো। যুদ্ধকালীন সময়ে তিনভাই একবোন আর মা সহ পাঁচ পাঁচজন সদস্য হারিয়ে টিকে থাকা পিতাপুত্রের চারজনের নারীবিহীন পরিবারটা যে কতোটা বিপর্যস্ত ছিলো সেটা বুঝে ওঠা বা বর্ণনা করার প্রয়োজনীয় বোধবুদ্ধি গড়ে ওঠেনি হয়তো। বালক বয়সের এক দুর্বোধ্য শূন্যতার মধ্যে যন্ত্রচালিতের মতো কখন কী করতাম জানি না। জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে বোধকরি খুব একটা ফারাক ছিলো না তখন আমার।
Read the rest of this entry »


| কাকতালীয়…|
-রণদীপম বসু
ভাতের গ্রাসটি ঠেলে মুখে পুরে দিতেই বিবমিষায় ভরে গেলো মুখ। মেটে আলুর মতো স্বাদ-গন্ধহীন শক্ত শক্ত কাঁচকলায় রান্না তরকারি। কাতলার মতো বড় কানকাঅলা মাছের মাথাটার চ্যাপ্টা দুধার দুদিকে রেখে লম্বালম্বি দু’ভাগ করার পর মাথার মধ্যে লোটাকাটা ছাড়া আর কিছু থাকে কিনা কে জানে। মোটাচালের ভাত আর কেন্টিনের বিখ্যাত হলদে কিন্তু অবয়বহীন ডাল। সব মিলিয়ে একসাথে মেখে যে পদার্থটা তৈরি হলো তার একটা গ্রাস মুখে অর্থহীন কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে পেটে চালান করতে গিয়ে নাজুক শরীর আরো কাহিল হয়ে ওঠলো। কিন্তু খেতে হবে। এখনো জি-ম্যাক্স ৫০০ এমজি ট্যাবলেট প্রতিদিন একটি করে চলছে। সাথে নাপা ও স্ট্যামিটিল তিন বেলা। আরো কী কী ঔষধ যেনো রয়েছে। দেহের ইঞ্জিন চালু রাখতে ফুয়েল তো দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে জিহ্বাকে আর প্রাধান্য দিয়ে লাভ কী ! Read the rest of this entry »

daynight

বাবা আমাকে একটিবার দেখতে চেয়েছিলেন…
রণদীপম বসু

০১.
শেষবার যখন বাড়ি থেকে আসি, বাবা আমার হাতটি ধরে বলেছিলেন- দেখ্ বাবা, তুই বাড়ির বড়, আমার বয়েস হয়ে গেছে, অসুস্থ, কখন কী হয়ে যায়, তুই সবাইকে দেখে রাখিস। ভারী চশমার পুরু আতশ কাচের মধ্যে দিয়ে পঁচাশি-উর্ধ্ব বাবার ভেসে থাকা ঘোলা চোখ দুটোর আকুতি বুকের ভেতর খুব করে বাজলেও তখনও কি বুঝেছিলাম বাবার সাথে এটাই আমার শেষ দেখা ? ডেবে যাওয়া চোঁয়াল আর ক্রমশ ক্ষীণ হতে থাকা তাঁর শরীর দেখে কে বলবে যে জীবন-বিলাসী এ মানুষটি এই সেদিনও ট্র্যাক-স্যুট আর ক্যাডস পরে টুপি মাথায় শহরময় দিব্যি প্রাতভ্রমন সেরে এসে ঘুম ভাঙাতেন বাড়ির সবার ! আজীবন দাপিয়ে বেড়ানো প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী যে মানুষটি শরীরে ঘাতক ক্যান্সার নিয়ে চুরাশি পেরিয়েও কাজকর্ম ছাড়া এক দণ্ড বসে থাকা কাকে বলে জানতেন না, সেই তিনিই কিনা এতো অসহায়ভাবে সংসারের কোনো কাজে না লাগা অথর্ব সন্তানটিকে সংসারের দায় বুঝিয়ে দেবার দুঃসহ কাজটি করে ফেললেন ! কোনো অব্যাখ্যাত কারণে তিনি কি সত্যিই বুঝে ফেলেছিলেন, এই অভাগা সন্তানটির সাথে আর কখনোই দেখা হবে না তাঁর ?

Read the rest of this entry »

greenman

তিনি আমার বাবা
রণদীপম বসু

বিষয়টা কেবল যে অস্বাভাবিক তা-ই নয়, অস্বাভাবিক রকমের অস্বাভাবিক ! কেবল একটা লুঙ্গি পরে উদোম গায়ের পুষ্ট শরীরটাকে একটা চেয়ারের পাটাতনে ঠেকিয়ে এ যাবৎ দেখে আসা অবিচল পাথর স্বভাবের যে মধ্যবয়সী লোকটি হাউমাউ চিৎকারে কাঁদছে আর কপাল চাপড়াচ্ছে, তিনি আমার বাবা ! জীবনে এই একবারই তাঁকে কাঁদতে দেখেছি আমি, তা-ও এরকম অদ্ভুতভাবে ! আর কখনোই নয়। আর আমার গর্ভধারিণী মা তখন শুয়ে আছেন দরজার সামনে মাটিতে পেতে দেয়া শীতল পাটিটাতে, নিথর। আশেপাশের জড়ো হওয়া ভীড়ে কেউ কেউ ফোঁপাচ্ছে, কেউবা থির হয়ে আছে। শৈশব পেরোনো বিস্ফারিত চোখ এতোসব অসংলগ্নতার অর্থ কি আর ধরতে পারে ! ফেলফেল করে মানুষগুলোর অস্বাভাবিকতা দেখছি, বুঝতে পারছি না কিছুই। মৃত্যু বিষয়ক ধারণা আর উপলব্ধিগুলো তখনো বুকে দানা বাঁধতে শুরু করে নি হয়তো।

Read the rest of this entry »

rana2080blog_1213332626_4-16e8

সেই আংটিটা
রণদীপম বসু


উনিশ’শ বিরাশি কি তিরাশি সালের ঘটনা এটা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ অনার্সের ছাত্র আমি। সিলেট এম সি কলেজ হিসেবে আদিনামে যাকে এখন চিনি আমরা, ওটাই কেন জানি কোন্ সরকারি ম্যাজিকে সিলেট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে পরিচিত ছিলো এবং কাগজপত্রেও তাই লেখা হতো। আমাদের অনার্সের সার্টিফিকেটেও এই অযৌক্তিক নামটাই আছে। আর ভিন্নভাবে আলাদা কম্পাউণ্ড নিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠিত ইণ্টারমিডিয়েট কলেজটাকে সরকারিভাবে বলা ও লিখা হতো এম সি কলেজ নামে, যা এখন সিলেট সরকারি কলেজ। যাক্, কেমিস্ট্রির ছাত্রদের পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনে শিক্ষা সফরের নামে বিভিন্ন ইণ্ড্রাস্টিয়াল ট্যুরে যেতে হতো আমাদের।

Read the rest of this entry »

sad_and_lonely_by_Sepia_Club1

ও বন্ধু আমার…
-রণদীপম বসু


প্রথম দেখাতেই তাকে খুব ভালো লেগে গেল আমার। এই ভালো লাগাই যে আসলে আমার অব্যক্ত ভালোবাসার স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতির প্রাথমিক প্রকাশ ছিল, তা বুঝে উঠতে পারিনি। এমন অনির্বচনীয় উপলব্ধিজাত অভিজ্ঞতা আমার এটাই প্রথম।


তার সঙ্গে দেখাটাই ছিল নাটকীয়। তখন আমি কেমিস্ট্রিতে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছুটিছাটায় বাড়িতে খুব একটা আসা হতো না। সেবার কি একটা ছুটিতে যেন বাড়িতে আসি। আর বাড়িতে এলেই ষোলঘর থেকে বিকেলের সোনা রোদে সেকালের ছায়াসবুজ রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে উকিলপাড়া হয়ে পাবলিক লাইব্রেরিতে এসে ঢু মারা আমার নিয়মিত অভ্যাস। দিনের পত্রিকাগুলো উল্টেপাল্টে শেষে থরে থরে সাজানো বইয়ের আলমিরাগুলো চষে বেড়ানো প্রিয় বইটির খোঁজে। তারপর সন্ধ্যা জমে এলে যথানিয়মে নিবন্ধন করিয়ে বইটি হাতে নিয়ে বেরিয়ে পড়া। এদিক সেদিক বন্ধু-বান্ধবের ঠিকানায় ছোট্ট একটু আড্ডা মেরে রাত করে বাসায় ফেরা। একান্ত দুর্বিপাক না হলে এ অভ্যাসের অন্যথা খুব একটা হতো না।

Read the rest of this entry »

kissing.3

বন্ধুহীন একটি বিকেল…
রণদীপম বসু


জীবন কি গড়িয়েই চলে ! গড়িয়ে গড়িয়ে কোথায় যে যায় ! এর কূলকিনারা আমরা যে পাই না, তা কি চিরায়ত জীবনটার আবহমান দূরত্ব পাড়ি দেয়ার বিপরীতে আমাদের নিজেদের জীবন-দৈর্ঘ্যরে অকল্পনীয় হ্রস্বতা ?

অনন্ত জীবনের কাছে প্রতিটা মানুষের এতো কৌতুকময় উপস্থিতি একদিন ঠিকই অনুপস্থিতির শূন্যতায় ঢেকে যায়, আমরা থেমে যাই। কিন্তু জীবন গড়িয়েই চলে, বিরামহীন।

যতক্ষণ আমরা আমাদের বহমান অস্তিত্ব আঁকড়ে থাকি, জীবনের সাথে কেউ বা দৌঁড়ে ছুটি, কেউ হেঁটে, আবার কেউ বা সত্যিকার অর্থে গড়িয়েই। জীবন যে থামবেই না, এটা জেনে যাই, যখন বুঝে যাই আমাদের অস্তিত্ব থেমে যাবে একদিন অকস্মাৎ কোন এক অদৃশ্য বিকেলে। যতই দৌঁড়াই না কেন, অথবা হেঁটে হেঁটে যতই পেছনে পড়ি কিংবা গড়িয়ে যাই, সবাই থেমে যাবো একদিন, এমন অপয়া ভাবনাগুলো একটু একটু করে স্মৃতিহীন হতে হতে ছুঁয়ে যায় জাতিশ্বর রেখাটিও। তবু কী জৌলুস নিয়ে হা হা করে হেসে ওঠি আমরা ! হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ি দৃশ্যমান কোনো গড়ানো-জীবন দেখেই ! করুণাও করে ফেলি হয়তো ! হয়তো ভুলে যাই তাও, করুণা আর সহানুভূতি কখনোই এক হয না।

জীবনের চিরময়তাকে বন্ধু বানায় যাঁরা, চিরকালের বন্ধুহীন তাঁরা। জীবনের হ্রস্বতাই বুঝতে পায় বন্ধুতার কষ্ট। কোন এক বন্ধুহীন অদৃশ্য বিকেলে তাই না পাওয়ার কষ্টতারা আড়মোড়া ভাঙে, অর্থহীন প্রলাপের রণন তোলে, বুকের গহীন থেকে কা’কে যেনো ডেকে ওঠে সায়াহ্ণের ভাষায়- ও বন্ধু আমার…!

চারদিকে একটাই স্পন্দন তখন, অদৃশ্য ঘুণপোকার মতো একটানা ডেকেই চলে- বন্ধু আমার, ও বন্ধু আমার…

[sachalayatan]


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 172,436 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 72 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

জুন 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check