h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘গাল-গল্প’ Category

| অশ্লীল |
-রণদীপম বসু
[সাহিত্যে শ্লীল আর অশ্লীলের সীমা নির্ধারণ করাটা মনে হয় খুবই বিটকেলে একটা ব্যাপার। তাছাড়া শ্লীল ও অশ্লীলের আপেক্ষিক অবস্থান নির্ণয় করার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তর মতানৈক্য। ব্যক্তি, পরিবেশ, পরিস্থিতি, অবস্থান, সময়, সংস্কৃতি, প্রথা প্রভৃতির মতো জটিল জটিল সব অনুঘটকের জারণ-বিজারণ ক্রিয়ার দুরুহ সমীকরণ টানার দায়-দায়িত্ব যারা কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের চিরকেলে দায়িত্ব পালন করতে থাকুন। ইত্যবসরে আমরা নাহয় পাঠকের নিজস্ব বিবেচনাবোধকেই আপাত মাপকাঠি ধরে সাহিত্যক্রিয়ায় রত থাকি। আপনি আমি সেই সমীকরণের সর্বজনগ্রাহ্য ফলাফলের অনির্দিষ্ট আশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও সাহিত্যের চিরায়ত স্রোতটা থেমে থাকবে না নিশ্চয়ই।

এই গল্পটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কিনা জানিনা, তবে বাস্তবসঞ্জাত চরিত্রের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত সংলাপগুলোতে তথাকথিত আপত্তিকর শব্দাবলির ব্যবহারে কোন রাখঢাকের চেষ্টা করা হয়নি। আশা করি আগ্রহী পাঠক নিজ দায়িত্বেই তা পড়বেন।
] Read the rest of this entry »
ট্যাগ সমুহঃ , , ,
27b
| বার-বণিতা…[০১]
রণদীপম বসু

[আশ্বস্তি : সাদৃশ্য খুঁজিবার অতি-কল্পনের মতোই সিরিজের শিরোনামটিকে শিরোধার্য ভাবিবার আপাত কোন কারণ নাই। এবং সাধু ও চলিতের মিশ্রনও এইখানে দোষণীয় গণ্য হইবে না।]

একদিন ঘুমের মধ্যে রাজা পাখি হইয়া গেলেন। ফুড়ুৎ করিয়া রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া উড়িয়া চলিলেন। উড়িতে উড়িতে উড়িতে উড়িতে নদী-নালা-খাল-বিল-পাহাড়-জঙ্গল পার হইয়া উড়িতেই লাগিলেন। পাখি হইয়া নিচের দৃশ্য চাহিয়া দেখিতে মন্দ লাগিতেছে না, বড়ই সৌন্দর্য বোধ হইতেছে ! পাখির চোখ দিয়া ভূ-প্রকৃতি-পরিবেশ দেখিবার মধ্যে এতো মধুর মাদকতা যে, রঙ-মহলের শরবত-ই-তহুরাও ইহার ধারেকাছে আসিতে পারিবে না ! আগে কখনোই তাহা টের পাইবার সুযোগ হয় নাই বলিয়া রাজার খুবই আফসোস হইতে লাগিলো। ইশ্, মানুষ হইতে পাখির জীবন কতো সুখের, কত্তো আনন্দময় ! আহা, আরো আগে কেন তিনি পাখি হইলেন না ! মুক্ত দুনিয়ায় উড়িয়া চলিবার বিচিত্র মজায় ডুবিয়া রাজার আর খেয়াল থাকিলো না তিনি কোথা হইতে কোথায় চলিয়া আসিয়াছেন।

Read the rest of this entry »

animated_candle

কেরোসিন
রণদীপম বসু

অফিস থেকে বাসায় ফিরেই আক্কাছ সাহেবের আকস্মিক ঘোষণা, এখন থেকে সব বাজেট অর্ধেক ! স্ত্রী সালেহা কেরোসিনের স্টোভটা মুছতে মুছতে তার সহজাত নির্বিকার মুখে চেয়ে থাকে। ততদিনে চালের কেজি বিশ টাকা থেকে খুব দ্রুতই চল্লিশে উঠে গেছে। তার সাথে সব কিছুই উড়তে শুরু করেছে। সয়াবিন পঁয়তাল্লিশ থেকে একশ ছাড়িয়ে আর কেরোসিন…। মফস্বলের নিম্নমান সহকারি ব্যাংকার আক্কাছ সাহেবের উষ্মা ঝরে পড়ে নিরীহ স্ত্রীর উপর- বেতন একটাকাও বাড়ে নাই, আমি কি টাকা পয়দা করবো নাকি !

খেতে বসে সালোনের ফ্যাকাসে-কালার দেখেও আজ আর তোয়াক্কা করলেন না। ভাতের লোকমা মুখে দিতেই ওয়াক করে বেরিয়ে আসতে চাইলো। নতুন করে বিস্বাদের মুখোমুখি হয়েছেন বলে কি ? না। ওগুলো ভাত নয়, অর্ধেক চাল, না কি অর্ধেক ভাত ! রক্ত চড়ে গেছে মাথায়।

রান্নাঘরে সহজাত নির্বিকার মুখের স্ত্রী তখন স্টোভের ঢাকনা খুলে কেরোসিনের উচ্চতা মাপছে।
(২৪/০৫/২০০৮)
[sachalayatan]
[Satrong]

20 - A sculpture at the Egyptian museum

পাথর
রণদীপম বসু

আঠারো তলা টাওয়ারটার সামনে এসে অটোটা ব্রেক করতেই হাতটা আবারো চোখের সামনে তুলে ধরলো রূপা। দশটা বাজতে মাত্র তিন মিনিট বাকি আর ! ইশ্, কেন যে আরেকটু আগে রওয়ানা দিলো না ! ভাড়া মিটিয়ে হুড়মুড় করে নেমেই গেটের দিকে হাঁটা ধরলো। পাশেই আরেকটা উঁচু টাওয়ার। গেটে ঢুকেই মনে হলো- আচ্ছা ঠিক ঠিক এসেছে তো ? রিসেপশান কাউণ্টারে কার্ডটা দেখাতেই ইশারায় লিফট দেখিয়ে দিলো দায়িত্বরত মেয়েটি- তেরোতে নেমে ডানে। হেয়ারস্টাইলটা এমন গেঁয়ো গেঁয়ো করলো কেন ? আর্টিফিসিয়াল তিলের যুগ এখনো আছে নাকি ! লিফটের পাল্লা বন্ধ হতে শুরু করেছে। ছুট লাগালো সে।

তেরো তলায় নেমে রুমটা খুঁজে পেতে এক মিনিট ওভার। দরজাটা খুলে গেলো। চুলের ভাঁজ ঠিক করতে করতে যে আগুনে মেয়েটি বেরিয়ে গেলো, সে কি প্রাইভেট সেক্রেটারি ? একটু ইতস্ততঃ করে অবশেষে ঢুকে গেলো রুমে।

হাই বেবি ! কাম ইন, কাম ইন ! বি সিটেড।

চমকে ওঠলো রূপা ! আশ্চর্য হয়ে লোকটার মুখের দিকে চেয়ে রইলো। মধ্যবয়সটাকে অন্তত দশ বছর লুকিয়ে রাখায় লোকটার দক্ষতাকে প্রশংসা করতেই হয়। কাঁপা কাঁপা হাতে ইণ্টারভ্যু কার্ডটা এগিয়ে দিলো। ডান হাতে কার্ডটা নিতে নিতে এক্সিকিউটিভ মি. আরমানের বাঁ হাতের নিপুণ আঙুলগুলো শার্টের কুচকানো দাগটাকে একটু একটু ঝেড়ে ফেলছে। রূপা কি ঘামছে ! স্বাভাবিক থাকার উইকেটগুলো একে একে পড়তে শুরু করেছে। নইলে বারবার এ ক্লোজশটটা ঘুরেফিরে আসছে কেন ! দাগটা কি এখনো যায় নি ?

বুকের ঠেলে ওঠা শীর্ষবিন্দুটা তিরতির করে লাফাচ্ছে। এলার্মটা নতুন নয়, পুরুষের দৃষ্টিবিদ্ধতা। শেষ উইকেটটা এখনো বাকি। নিশ্চিত হবার জন্যে আবার পূর্ণদৃষ্টিতে চাইলো। ধাম করে উঠে গেলো সে। পেছনের বিস্মিত দৃষ্টি হজম করতে করতে আঠার বছরের শরীরটা নিয়ে গটগট করে বেরিয়ে গেলো।

ঝড় নিয়ে বাসায় ঢুকেই সোজা মা’র রুমে। চেয়ারটা টেনে উপরে উঠে দাঁড়ালো। হাত বাড়িয়ে দশবছর আগের বাঁধানো সেই ছবিটা নামিয়ে আনছে সে ; মা’র লুকিয়ে রাখা ঘৃণার প্রতীক।

কী আশ্চর্য ! দরজায় দাঁড়ানো স্কুল-শিয়িত্রী মা’র চোখে এখন সেই ঘৃণা বা বিস্ময় কিছুই নেই ! অন্য কিছু। তবে কি এতোকালের চেপে থাকা পাথরটা সরিয়ে ফেলার নির্ভার প্রশ্রয় !
(২৭/০৫/২০০৮)

shafiulalamchowdhuryblog_1208282285_1-ATT00001

কলম
রণদীপম বসু

সকালে অফিসে ঢুকেই জরুরি ফাইলটা নিয়ে বসের রুমে দৌঁড় দেবো প্রায়, কলমটা আর খুঁজে পাচ্ছি না। তালাহীন ড্রয়ারটা হাতরে তন্ন তন্ন করেও কলমটা খুঁজে পেলাম না। আগে টেবিল থেকে কলম হারিয়ে যেতো বলে এখন ড্রয়ারেই রেখে যাই। এখানেও তথৈবচ ! অন্যের বই বউ আর কলম, এই তিনের প্রতি শিক্ষিত বাঙালির আদি ঝোঁক যে এখনও অত্যন্ত প্রবল আবারো তার নমূনা এই জরুরি মুহূর্তে তারিয়ে তারিয়ে অনুভব করবো কী, সামনে পিয়ন কাউকে না পেয়ে নিজেই ছুটলাম দোকানের উদ্দেশ্যে। জরুরি ফাইল ; হয়তো এক্ষুনি এটা নিয়ে বসদের দৌঁড় ঝাঁপ শুরু হয়ে যাবে।

পাঁচ টাকা দামের বলপেন হাতে নিয়ে ফের অফিসে ঢুকেই দেখি পরিস্থিতি জটিল। পিয়নের বাঁকা চোখের ইঙ্গিত বসের রুমের দিকে। এরই মধ্যে দু দুবার জরুরি তলব হয়ে গেছে। প্রথমবারের নিম্নচাপ দ্বিতীয়বারে ঘূর্ণিঝড় হয়ে বয়ে গেছে এক দফা। এখন যে কী আছে কপালে, বিধাতাই জানেন। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের নাম জপতে জপতে সোজা বসের রুমে।

অফিস ক’টায় ? বজ্রহুঙ্কারে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত !
স্যার, আমি অফিসে একবার এসে গেছি ; কলমটা…
অফিসে একবার মানে ? অফিস দিনে ক’বার…?
না.. মানে.. স্যার.. কলমটা…
অফিসটা কি শ্বশুরবাড়ির আড্ডাখানা…
আচমকা এমন তীব্রগতির বিরতিহীন বজ্রঝড়ে আমার তখন টালমাটাল অবস্থা। বিপজ্জনকভাবে হাইপ্রেশারের রুগী অফিস-বসের এই এলার্মিং অবস্থায় আমি আর আত্মপক্ষ সমর্থন করবো কী, প্রথম কথাটাই তো বলা হয়নি। ইতোমধ্যে যা-ই বলতে উদ্যত হচ্ছি, না মা-মা-মানে ইয়ে স্যা-স্যার আ-আমি ক-কলমটা.. আমার এসব আমতা আমতা অর্থহীন তোতলামোতে ঘূর্ণিঝড় প্রবল থেকে প্রবলতর হয়ে হ্যারিকেনের মাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। শেষপর্যন্ত বাঁচার আশা বাদ দিয়ে এই অদৃষ্ট-ঝড়ের হাতেই নিজেকে ছেড়ে দিলাম।

বাতাসের তোড়ে জীবিত না মৃত জানি না, বিধ্বস্ত অবস্থায় এক দায়িত্বহীন অপদার্থ অফিসারে পরিণত হয়ে আমি যখন ক্ষোভ দুঃখ অপমান নিয়ে বেরিয়ে এলাম, অসংখ্য কৌতুকপ্রিয় কৌতূহলী দৃষ্টির কেন্দ্র বানিয়ে বেআদব পিয়নটা হাজিরা খাতাটা বাড়িয়ে ধরলো আমার সামনে। আমি তখন প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি শুধু। দেখি খাতাটায় আমার নামের পাশে আজকের তারিখের স্বাক্ষরবিহীন ফাঁকা ঘরটাতে হাতে আঁকা এক রক্তাক্ত বৃত্তের মধ্যে একটা বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন, অসভ্য লাল !
(২৮/০৫/২০০৮)

[sachalayatan]

ট্যাগ সমুহঃ , , ,

1a_small

আক্কাছের মোবাইল
রণদীপম বসু

ফুটপাথ ধরে হাঁটলে এরকম ছোটখাটো জটলা সামনে পড়বেই। পাশ কাটিয়ে যেতে যেতে একটা পরিচিত স্বরের ঝাঁঝালো কণ্ঠ শুনেই থমকে দাঁড়ালাম। দুকদম পেছনে এসে উঁকি দিতেই দেখি আমাদের আক্কাছ সাহেব ! নিশ্চয়ই উল্টাপাল্টা কেউ কিছু বলেছে ! আপাদমস্তক সৎ ও প্রতিবাদী আক্কাছ তো কাউকেও কেয়ার করার লোক নন। কিন্তু এবারে ভিকটিম ব্যক্তিটিকে তো নিরীহ গোবেচারা বলেই মনে হচ্ছে। তিনি বলছেন- ‘দেখুন, আপনাকে তো আমি খারাপ কিছু বলিনি ! বলেছি যে আপনি একজন নীতিবান সৎ লোক। অফিসেও আপনি আপনার সাধ্যের মধ্যে অবৈধ কিছুকেই প্রশ্রয় দেন না।’

হাঁ, ভদ্রলোক যে অসত্য কিছু বলছেন না, তা তো আমিও বুঝতে পারছি। কিন্তু আক্কাছ সাহেব ক্ষেপে গেলেন কেন ?

‘আপনি কি জানেন, আপনাকে আমি পুলিশে সোপর্দ করতে পারি ?’ আক্কাছ সাহেবের জলদগম্ভীর হুমকী !
নিরীহ ভদ্রলোক যেন থতমত খেয়ে গেলেন- ‘আপনি এভাবে বলছেন কেন ! আমার অপরাধ ?’
আপনি রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলেছেন।
মানে !!
আপনি আমাকে এতো এতো লোকের সামনে সৎ বললেন কেন ?

ভদ্রলোকের কী অবস্থা জানি না। আক্কাছের এমন প্রশ্ন শুনে আমার নিজেরই তো মাথা ঘুলিয়ে যাবার অবস্থা ! জবারের অপেক্ষা না করেই আক্কাছ তাঁর তুফান মেইল ছুটিয়ে দিয়েছেন-
‘আপনি কি জানেন, কালো টাকা সাদা করতে সরকারকে কত পার্সেণ্ট ট্যাক্স দিতে হয় ? জানেন না ? সাড়ে সাত। এর অর্থ কী জানেন ? আপনি এই পাবলিকদের প্যাঁদিয়ে প্রতারণা করে হাইজ্যাক করে ডাকাতি করে একশ টাকা অবৈধ আয় করে সরকারকে সাড়ে সাত টাকা দিয়ে দিলেই খালাশ ! বাকি সাড়ে বিরানব্বই টাকা আপনার। ওইসব অবৈধ আয় দিয়ে আপনি ইণ্ডাস্ট্রি করবেন ? টাকার উৎস জিজ্ঞেস করা হবে না ! উল্টো ঋণ দেয়া হবে আপনাকে ! ট্রুথ কমিশন বুঝেন ? আপনার অবৈধ আয়ের পাহাড় হজম করতে পারছেন না ? ব্যবহার করতে পারছেন না ? স্বীকার করে ফেলুন, কোন সাজা হবে না ; জামাই আদর পাবেন !’

হঠাৎ তাঁর কণ্ঠ উচ্চগ্রামে চড়তে লাগলো। ‘আর এই আমি ? বেতন এক টাকাও বাড়ে নাই। আজকে খেতে না পেয়ে দশটা টাকা চুরি করি ? প্রথমে রামধোলাই, পরে চৌদ্দশিকা !’ কথার ঢেউয়ের মধ্যেই হঠাৎ গর্জে ওঠলেন আক্কাছ ! ‘রাষ্ট্র যেখানে অসতের পক্ষে আইন বানাচ্ছে, আপনি আমাকে সৎ বলে রাষ্ট্রবিরোধী বানাচ্ছেন ! আমার ইচ্ছা আমি সৎ থাকবো, তাতে কার কী এসে যায় !’

বুঝতে পারছি, আক্কাছ আজ বিপজ্জনক লাইনে দৌঁড়াচ্ছেন। জটলাটাও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। আর দেরি করা ঠিক হবে না। তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এখান থেকে। যা ভাবা তাই কাজ। ভীড় সরিয়ে সোজা আক্কাছের হাত ধরলাম গিয়ে। আরে আক্কাছ সাহেব, আপনাকেই তো খুঁজছি আমি ! চলুন চলুন জরুরি কাজ ! বলেই আর কোন কথা বাড়াবার সুযোগ না দিয়ে টেনে নিয়ে ছুটলাম নিরাপদ দূরত্বে।

কোথায় নিচ্ছেন আমাকে ?
গ্রামীণের সার্ভিস সেণ্টারে, মোবাইলের রেজিস্ট্রেশান করবো।
আগে করেন নি কেন ?
ওই করা হয়ে ওঠেনি আর কি !
বোঝা গেলো, আমার জবাবে সন্তুষ্ট হন নি আক্কাছ। যাক্, তবু সাথেই রইলেন। গ্রামীণ ফোনের সুদৃশ্য সার্ভিস সেণ্টারে ঢুকে এবার একটু স্বস্তি পেলাম। কোন ভীড় নেই। যথারীতি কাজ সেরে সন্তুষ্টি নিয়েই বললাম তাঁকে- চলুন, ফাও একশ টাকার টক টাইম পেলাম যখন, কোথাও একটু চা খাই। কিন্তু বুঝতে পারিনি যে, মুহূর্তেই আবহাওয়ায় ফের নিম্নচাপ দেখা দিতে পারে। আক্কাছ সাহেবের শীতল প্রশ্ন ফোন সেণ্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে- যাঁরা আগেই মানে যথাসময়ে রেজিস্ট্রেশান করেছেন, তাঁদের জন্য কী অফার অর্থাৎ পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছেন ?
না, ওভাবে কিছু রাখা হয়নি। তবে ওই এফএনএফ, অফপিক আওয়ার ইত্যাদিতে…
ভদ্রলোকের কথা শেষ করতে না দিয়েই আক্কাছের দৃঢ় মন্তব্য- ‘তার মানে আপনারাও অসতের পক্ষে ?’

হঠাৎ কী হলো, তাঁর চোখ দুটো কেঁপে কেঁপে লাল হয়ে ওঠতে লাগলো। বাঁ হাতটা প্যাণ্টের পকেটে ঢুকিয়ে দিলেন। হাতে ওঠে এলো তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গি সেই জোড়াতালি দেয়া পুরানো মডেলের মোবাইল সেটটা। যা পাল্টানোর সঙ্গতি তাঁর নেই। গটগট করে কাচের দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে গেলেন। কান খাড়া হয়ে ওঠলো আমার ! কিছু একটা ঘটার আশঙ্কা হলো। দ্রুত পিছু নিলাম তাঁর। কিন্তু দেরি হয়ে গেছে !

মিরপুর এক নম্বর গোলচক্করের চতুর্মুখী গাড়িঘোড়ার ঘূর্ণমান চাকার তলে ক্ষীণ প্রতিবাদের মতো টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া পরিত্যক্ত খণ্ডাংশগুলো দেখে কেউ কি জানবে, ওটা আক্কাছের মোবাইল !
(২৮/০৫/২০০৮)

daakbakshoblog_1244741360_1-futuristicworldblog

অপেক্ষা
রণদীপম বসু

সদা সত্য কথা বলিবে ; কখনো মিথ্যা বলিবে না…

হা হা হা !
হাসছো কেন আব্বু ?
না রে, এমনি !
তুমি কি এভাবে এমনি এমনি হাসো ?
প্রাইমারীর ছাত্র শিহরের কথা শুনে নিজকে সংযত করে নিলো আক্কাছ।
না বাবা, একটা হাসির কথা মনে হয়েছে তো, তাই। তুমি তোমার পড়া পড়ো।

সদা সত্য কথা বলিবে, কখনো… ছেলের পড়া শুনতে শুনতে আবারো হাসি পেলো আক্কাছের। তবে এবার প্রকাশ্যে নয়, মনে মনে। জিহ্বা আর ভুড়ি সর্বস্ব বস-কে কি সত্যিকথাটাই বলে নি সে ?-
‘আপনাকে তো আমি ঘৃণা করি না ; ঘৃণা করি আমাকে, যে আপনার এখানে চাকরি করতে এসেছে !’

সদা সত্য কথা বলিবে, কখনো… হাহ্ ! কী অকপট মিথ্যেগুলোই না শিখে যাচ্ছে ছেলেগুলো ! চোখ মুদে মুদে ভাবছে আক্কাছ, কাল আবার বাড়িঅলার কসাই চোখ নিয়ে আরেকটা সকাল আসবে। স্ত্রী সালেহা এক টুকরো কালো মেঘের মতো স্থির হয়ে যাবে রান্নাঘরের কোণায়।

কিসের অপেক্ষা আর ! শুধু শুধুই চাকরি খুঁজবে, না কি… ?

(২৮/০৫/২০০৮)
[sachalayatan]
[amar-blog]

ট্যাগ সমুহঃ

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 172,436 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 72 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

জুন 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check