h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘প্রসঙ্গ ছড়া-কবিতা’ Category

.
| প্রসঙ্গ : সমকালীন ছড়া !
রণদীপম বসু
(০১)
আলোচনার যা বিষয়, তাতে শুরুতেই একটু গৌড়চন্দ্রিকা সেরে নেই। স্থান ও কাল উল্লেখ না করেই বলি, কোন এক কাজে ফুটপাথ ধরে হাঁটছিলাম। হঠাৎ একটা আকর্ষণীয় সাইনবোর্ড চোখে পড়লো, ওটার এক জায়গায় খুব সুন্দর করে লেখা- ‘এখানে যত্ন সহকারে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসা করা হয়।’ হতভাগা আমার ভাষাজ্ঞান ও হিউমার-বোধ কম থাকায় ছড়াকার হতে পারি নি কখনো। কিন্তু বৈজ্ঞানিক উপায়ে চিকিৎসার হিউমার-সমৃদ্ধ কথাটা পড়ে ওই চিকিৎসক ব্যক্তিটি ছড়াকার কিনা জানতে ভীষণ কৌতুহল হলো। Read the rest of this entry »
Advertisements
| ছড়ার গাঁঠছড়াটা খুলবে কী করে…|
-রণদীপম বসু

পূর্বকথন
বাংলা ছড়া নিয়ে লিখতে বসলে প্রথম যে বিপত্তিটা দেখা দেয় তা হলো, ছড়া কী, তার কোন নিষ্পত্তি চোখে না পড়া। এটা যদি লেখকের একান্তই নিজস্ব সীমাবদ্ধতা হয় বা হতো, তাহলেও একটা সান্ত্বনা থাকতো যে- জন্মান্ধ চোখে ঢুরে দেখা হয়নি, তবে নিশ্চয়ই এর একটা নির্দিষ্ট রূপরেখা চিহ্নিত করা আছে হয়তো। কিন্তু বাস্তবতার সাক্ষ্য কি তা বলে, বা চোখে পড়ে কোথাও ? বিজ্ঞজনেরা হয়তো ছড়া, কবিতা, পদ্য এর মধ্যকার সূক্ষ্ম বা স্থূল পার্থক্যের ধারণাগুলো নিজস্ব বোধে আত্মস্থ করে নিয়ে নিরন্তর চর্চার মাধ্যমে তা থেকে রসবৈচিত্র্যের সন্ধান করতে সক্ষম ঠিকই। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ সাহিত্যরসিক ও আগ্রহীজনের অনভিজ্ঞ বোধ ও মননে এই পার্থক্যহীনতার মিশ্রন ও প্রভাব আসলে সত্যিকারভাবে কতোটা রসবোধ তৈরি করতে সক্ষম তা নিয়ে মনে হয় আমরা কেউ ভাবি না। Read the rest of this entry »

7325_102770319736920_100000118560811_74373_1247689_n

| ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?
রণদীপম বসু

শূন্য থেকে কোন কিছুই সৃষ্টি হয় না। বিশেষ করে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে তা তো কল্পনাই করা যায় না। কথার ঠেলায় কথা বলতে গিয়ে যাঁরা ঠাশ করে বলে ফেলেন- ‘এই যে এটা আমার মৌলিক সৃষ্টি’, তাঁরা হয় ডাহা মিথ্যে কথা বলেন, কিংবা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আর বোকার স্বর্গে বাস করে কেউ তর্কাতীতভাবে সৃজনশীল হবেন এটা যে বিশ্বাস করে, সে হয়তো এটাও বিশ্বাস করে যে সোনা দিয়ে নিশ্চয়ই পাথরবাটি বানানো সম্ভব। তবে সোনা দিয়ে পাথরবাটি বানানোর এই ধারণাটাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ার জো নেই। অন্তত শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে এই অদ্ভুত উদ্যোগ বা চর্চার চেষ্টাটা যদি না থাকতো তাহলে সমালোচনা সাহিত্য নামের কোন বিশ্লেষণী সাহিত্য বিভাগ সৃষ্টিরও আদৌ প্রয়োজন হতো কিনা সন্দেহ। বনের মোষ তাড়ানোর মতো কার এতো দায় পড়তো কেউ কোথাও পাথর দিয়ে স্বর্ণপাত্র কিংবা সোনা দিয়ে পাথরবাটি সৃষ্টির ভয়ঙ্কর কোন কৃতিত্ব দেখালো কিনা ?
ট্যাগ সমুহঃ ,

|ছোট-কাগজ 'প্রতীকী' ১৬সংখ্যা|ছবি: রণদীপম বসু|

|ছোট-কাগজ 'প্রতীকী' ১৬সংখ্যা|ছবি: রণদীপম বসু|

| ষোড়শ সংখ্যা ‘প্রতীকী’, কিছু কথা কিছু আকথা…|

রণদীপম বসু

০১.
কে কেন কিভাবে লিখেন, এ নিয়ে দুনিয়াজোড়া মজার মজার কাহিনী প্রচলিত আছে। আবার প্রতিটা মানুষই নাকি কোন না কোনভাবে কিছু কিছু মজার স্ববিরোধিতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যাঁরা ভাবনার খুব গভীরতলে পৌঁছে যান, তাঁরাই আবার খুব হালকামাত্রায় এসে বেশ হাস্যকর কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। বিজ্ঞানী নিউটনের এরকম একটা ঘটনার কথা তো বহুল প্রচলিত, যা সেই ছাত্রকালে শুনে বেশ মজা পেয়েছিলাম। কী এক গবেষণা চালাতে গিয়ে নিউটন নাকি একবার দুই কোঠা বিশিষ্ট বড় একটি বাক্সের মধ্যবর্তী পার্টিশনটাতে দুই আকৃতির দুটো ছিদ্র করেছিলেন, কোঠা বদল করতে বড় বিড়ালের জন্য একটি এবং ছোটটির জন্য অন্যটি। শুধুমাত্র একপাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়ার জন্য দুটো বেড়ালের জন্য যে একটি রাস্তাই যথেষ্ট, এ কথাটা নিউটনকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না। অবশেষে তাঁর সহকারী হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়ার পর নিউটনের উক্তি ছিলো- তাই তো ! ঘটনাটি আদৌ সত্য কিনা, না কি বাঙালির রসসৃষ্টির অসাধারণ প্রতিভার আরেকটি নমুনা উদাহরণ কে জানে। তবে মনোবিজ্ঞান বলে যে, ভাবনার উচ্চস্তরে অবস্থান করলে একই সময়ে নিচের স্তরের এরকম ছোটখাটো অসংগতি ঘটানো মানব-মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রবণতার একটা অংশ। Read the rest of this entry »

book art4

প্রসঙ্গ: ছড়া কিংবা ছড়া নিয়ে গাঁঠছড়া…
রণদীপম বসু

.
ছড়া নিয়ে ছেলেমী করার ঝোঁকটা সম্ভবত ছড়ার জন্মেতিহাসের সাথেই সম্পর্কিত। কিন্তু এই ঝোঁকের মধ্যে যদি দায়বদ্ধতার কোন ছোঁয়া না থাকে তাহলেই তা হয়ে উঠে বিপর্যয়কর। কেমন বিপর্যয় ? হতে পারে ছড়াকে তার আত্মপরিচয় থেকে হটিয়ে দেয়া বা অন্য কিছুকে ছড়া নামে প্রতিস্থাপিত করা ! মানুষের ভীড়ে মানুষের মতো কতকগুলো হনুমান গরিলা ওরাংওটাং বা এ জাতীয় কিছু প্রাণী ছেড়ে দিয়ে এক কাতারে মানুষ বলে চালিয়ে দিলে যা হয়।

মানুষের দুই পা দুই হাত থাকে, ওগুলোরও দুই পা দুই হাত। পায়ের উপর ভর করে এরা সবাই হাঁটে। মেরুদণ্ড কিছুটা কুঁজো করে হাঁটা মানুষের মধ্যেও রয়েছে। বিশেষ করে বার্ধক্য আক্রান্ত মানুষের জন্য। মাঝে মাঝে বাঁদরামী সুলভ আচরণ মানুষও করে। তাহলে কি মানুষ আর হনুমান গরিলা এক হয়ে গেলো ! বিবেচনার বাহ্যিক দৃষ্টি ঝাপসা হলে দু’টোর মধ্যে তফাৎ ঘুঁচে যাওয়া বিচিত্র নয়। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাণীগুলোর সংখ্যাধিক্য ঘটতে থাকলে এক সময়ে হনুমান গরিলাই যদি মানুষের পরিচয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে থাকে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু আছে কি ? তবুও হনুমান গরিলার দ্বারা মানুষের স্থান দখল করা সম্ভব নয়। পার্থক্যের ভুলে কিছুকাল দাপাদাপি করলেও ঠিকই এদের আসল পরিচয়গুলো বেরিয়ে আসে। কোন্ আসল পরিচয় ? এটা হলো অন্তর্গত স্বভাব, আচরণের প্রকৃতি আর সৃজনশীল প্রণোদনায় মানুষের সাথে এদের মৌলিক ও ব্যাপক পার্থক্য।

Read the rest of this entry »

michealparkesjq7

চিত্রকল্পে কিশোর-কবিতার স্বরূপ অন্বেষণ…
রণদীপম বসু

‘সেই লেখা লেখা নয় নাহি যার রস।’ কবি ঈশ্বর গুপ্তের এই রায়কে মান্য করলে আমাদের স্বীকার করে নিতে হয় যে, রস সৃষ্টিই সাহিত্যের অভীষ্ট লক্ষ্য। তাহলে প্রশ্ন আসে রস কী ? টস টস করে ঝরে পড়ার মতো কোন নিঃসৃত তরল পদার্থ যে নয় তা তো আমরা বুঝতেই পারছি। এ হচ্ছে সাহিত্যের রস। আর কাব্য বিচারে এলে কাব্যরস। তবে রস প্রসঙ্গে জানতে হলে আমাদেরকে তো রসশাস্ত্রে ঢু মারতেই হয় !

প্রাচ্য-অলঙ্কার শাস্ত্রে রস একটি পারিভাষিক শব্দ। যার ধাতুগত মূল অর্থ হচ্ছে আস্বাদন করা। কাব্যতত্ত্বের প্রধান পুরুষ আচার্য ভরত তাঁর নাট্যশাস্ত্রে নাকি ঘোষণা করেছেন এই বলে যে, “-নহি রসাদ ঋতে কশ্চিদর্থঃ প্রবর্ততে।” (নাট্যশাস্ত্র, -৬/৩৪) অর্থাৎ রস ব্যতিরেকে কোন বিষয়েরই প্রবর্তনা (সূচনা) হয় না। রসের এই সর্বব্যাপী-সর্বগ্রাহী স্বরূপ উপলব্ধি করেই রসের সংজ্ঞার্থ নির্ণয়ে আত্ম-জিজ্ঞাসায় প্রশ্ন রাখেন- “অত্রাহ, রস ইতি কঃ পদার্থ ?” অর্থাৎ রস কোন পদার্থকে বলে ? উত্তর-অন্বেষার সারাৎসার- “আস্বাদ্যত্বাৎ” (নাট্যশাস্ত্র, -৬/৩৫), যা আস্বাদিত হয়। রসবাদী হিসেবে আরেক খ্যাতিমান চতুর্দশ শতাব্দের বিশ্বনাথ কবিরাজ তাঁর ‘সাহিত্য দর্পণ’ গ্রন্থে ভরত-এর কথারই প্রতিধ্বনিত করলেন- রস্যতে ইতি রসঃ। (সাহিত্য দর্পণ, -১/৩) অর্থাৎ যা রসিত বা আস্বাদিত হয়, তা-ই রস। এবং রসের ব্যাপ্তি প্রকাশ করলেন এভাবে- “সর্বোহপি রসনাদ্ রসঃ” (সাহিত্য দর্পণ, -৩/৪২) অর্থাৎ রসন বা আস্বাদন হেতু সবই রস। হাঃ হাঃ, তাহলে তো আস্বাদন হেতু তালের রস আর কাব্যরসে কোন তফাৎ দেখি না ! তফাৎ হয়তো এটাই যে তালের রসের আস্বাদন করতে হলে গাছ বেয়ে আগায় চড়তে হবে। আর কাব্যরসের আস্বাদ পেতে হলে ডুব দেবার নিমিত্তে কাব্যহ্রদে ঝাঁপ দিতে হবে। বিষয়টা যেহেতু কাব্যকেন্দ্রিক, তাই যাঁরা কাব্যসাহিত্য নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, লেখালেখি করেন কিংবা এ থেকে রস আস্বাদনে আগ্রহী বা রসসৃষ্টির সম্ভাব্য নেশায় বুঁদ হতে আকাঙ্ক্ষি, তাঁদের জন্য ওইদিকে ঝাঁপ দেয়া ছাড়া আপাত কোন গতিক দেখছি না। এক্ষেত্রে সাহিত্যের মহাফেজখানায় খুঁজে খুঁজে হয়রান না হয়ে আপাতত যে দুটো অবশ্যপাঠ্য বইকে সঙ্গি করে নিলে পথ খুঁজতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না, তা হচ্ছে নরেন বিশ্বাসের ‘কাব্যতত্ত্ব-অন্বেষা’ এবং ‘অলঙ্কার অন্বেষা’। এ নিবন্ধে এই বিষয়ক অর্থাৎ প্রাচ্য-অলঙ্কার শাস্ত্র তথা কাব্যতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য ও বাচন-বর্ণনার জন্য আমি শ্রদ্ধেয় নরেন বিশ্বাসের কাছে অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতায় এ দুটো গ্রন্থ-সহায়তার ঋণ স্বীকার করে নিচ্ছি।

Read the rest of this entry »

Antamil

ছোট কাগজ ‘অন্ত্যমিল’- একটি আলোচনা, একটি পর্যালোচনা
রণদীপম বসু

.
চশমা নিয়ে একটা পুরনো গল্প মনে হয়ে গেলো। খুঁজে পাওয়া একটি হারানো চশমার মালিকানা দাবি করে বসলেন দুজন। যথানিয়মে কাজীর বিচার বসলো। এক নজর দেখার পরও প্রথমজন দাবিকৃত চশমার বৈশিষ্ট্য প্রমাণ করবেন কী, রংটাই বলতে পারলেন না। কিন্তু দ্বিতীয়জন চশমাটা দেখতে কেমন, হুবহু বর্ণনা দিয়ে গেলেন। যিনি চশমার রংটাই জানেন না তিনি মালিকানা দাবি করেন কী করে ? কাজীর ধমকে প্রথম ব্যক্তি কাচুমাচু হয়ে বললেন- ‘হুজুর, বেয়াদবি নেবেন না, আমি যে চশমা ছাড়া চোখেই দেখি না, আর চশমা পরলে সবই দেখি কিন্তু চশমা দেখি না।’ সম্প্রতি বগুড়া থেকে প্রকাশিত রহমান তাওহীদ সম্পাদিত ছোট কাগজ ‘অন্ত্যমিল’ কিশোরকবিতা সংখ্যার ওপর একটি অদ্ভুত কিসিমের আলোচনা পড়ে উপরোক্ত গল্পাংশটি মনে হলো। চোখের অবস্থা শোচনীয় হলে এবং সময়কালে হাতের কাছে পুরু চশমাটি খুঁজে পাওয়া না গেলে এমনটাই হয়। শিব গড়তে বাঁদর হয়ে যায়।

Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 193,123 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 77 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check