h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘পুরানা কাসুন্দি’ Category

miahbhai_1213400405_9-B6

ইহা কাজের কথা নয়
রণদীপম বসু

.

(২৩ নভেম্বর ২০০৮)
চল্লিশার প্রভাব কিনা জানি না, সাদাকে কালো বলিয়া ভ্রম হইতেও পারে। তথাপি যাহা দেখিতেছি তাহার জন্য মনটা হু হু করিয়া উঠিল। এইরকমের বিরল হইয়া যাওয়া দৃশ্য কতোকাল যাবৎ দেখিতেছি না ! ছয়-সাতটি বছর তো গত হইয়াই গেল !

সুরমার ব্যঞ্জনা মাখিয়া চক্ষু দুইখানা উজ্জল হইল কিনা কে জানে। ভক্ত আশেকান কর্মী সমর্থক বেষ্টিত হইয়া ধবধবে পোশাক পরিয়া তিনি বয়সকে দমাইয়া রাখিয়া যেইভাবে মহল্লার সদর রাস্তাটিকে এইপার ওইপার করিতে লাগিলেন, ভাবিতে লাগিলাম, আহা, এইরকম স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া কয়জনে ইহা করিতে পারে ! নেতা হইবার যোগ্যই বটে ! এইরূপ ঘটা করিয়া কুশল বিনিময়ের হেতু বুঝিয়া উঠিতে আমার গুটিকয় মুহূর্ত চলিয়া গেলো। হঠাৎ করিয়া মাথার ভিতরে দিব্যজ্ঞান আসিয়া ভর করিতে লাগিল। কোনরূপ শ্লোগান বা স্বরোৎক্ষেপণ না ঘটিলেও নেতাজীর ভক্তকূলের মুখভঙ্গি অবলোকন করিয়া কীভাবে যেনো তাহাদের বক্ষাভ্যন্তরে গুমড়াইয়া উঠা কথাগুলি দিব্যকানে শুনিতে লাগিলাম- আসিতেছে শুভদিন অমুক ভাইয়ের সালাম নিন, তোমার ভাই আমার ভাই অমুক ভাই অমুক ভাই !

এইবার দিব্যচোখ বর্তমান পার হইয়া কয়েক কদম আগাইয়া গেল। মনের মাধুরি মিশাইয়া চারিদিকে কতকিছু উৎকীর্ণ দেখিতেছি। অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র, আর কোন চিন্তা নাই আসিয়াছেন তমুক ভাই, মা-বইনেরা সালাম নিন শমুক ভাইরে চিনে নিন, তমুক ভাইকে রায় দিন জনসেবার সুযোগ দিন। দিব্যদৃষ্টি কাঁপিতে লাগিল, কেননা হঠাৎ করিয়া জনসেবকের ভীড় দ্রুত বাড়িয়া যাইতেছে। রীতিমতো ঠেলাঠেলি পড়িয়া গেল। কাহার আগে কে জনসেবায় ঝাঁপাইয়া পড়িবে তাহার ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতা লাগিয়া গিয়াছে। এ উহাকে ঠেলিতেছে, সে তাহাকে ধাক্কাইতেছে, তিনি উনাকে গুঁতাইতেছেন। একেবারে হৈহৈ রৈরৈ কাণ্ড বাঁধিয়া গিয়াছে। বহুদিনের অনভ্যস্ত দৃষ্টি তাহা সহ্য করিতে পারিল না। অধিকতর সমস্যার আশঙ্কায় তাড়াতাড়ি দিব্যজ্ঞান গুটাইয়া পুনরায় বর্তমানে আসিয়া খাড়া হইলাম। এ কী ! এইবার আমিই কুশল বিনিময়ের লক্ষ্য হইয়া গেলাম ! তাঁহার বিগলিত বদনের উষ্ণতায় শেষপর্যন্ত আমি অধমও বুঝি গলিয়া গেলাম।

বিগলিত বক্ষে হাঁটিতেছি আর ভাবিতেছি, এই ভূ-ভারতে আর কোন্‌ দেশটি রহিয়াছে যেইখানে নিজের খাইয়া বনের মোষ তাড়াইবার মতো জনসেবা করিবার জন্য চারিদিকে হুড়াহুড়ি লাগিয়া যায় ? হঠাৎ করিয়া প্রশ্ন জাগিল, জগতে কোন্‌ দেশের নাগরিকদের মধ্যে জনসেবার আগ্রহ শীর্ষ অবস্থানে রহিয়াছে ? প্রশ্নটা যথার্থ হইল কিনা জানি না। কিন্তু জ্ঞান-গম্যির সীমা-পরিসীমা আতিপাতি করিয়া খুঁজিয়াও ইহার উত্তর পাইলাম না। সম্ভাব্য গ্রন্থ-পুস্তকাদিও ঘাঁটাঘাটি করিয়া ফেলিলাম প্রচুর। সকলই বৃথা হইল। জ্ঞানের জন্য সুদূর চীন দেশে যাইতেও বাধা নাই জানিয়া অবশেষে যাহাকেই সামনে পাই তাহাকেই প্রশ্ন করিতে লাগিলাম। কেহ নিজের অজ্ঞানতা প্রকাশ করিল, কেহ ভাবিল বিদ্রুপ করিতেছি, আবার কেহ ভাবিল এইবার সারা হইয়াছে ! মস্তিষ্কের আশু সার্ভিসিং প্রয়োজন জ্ঞান করিয়া তাৎক্ষণিক পরামর্শটুকু জানাইয়া দিতেও কেহ কেহ দ্বিধা করিল না। কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর না পাইয়া আমি যে কীরূপ মর্মাহত হইলাম, তাহা কেহই বুঝিল না। সবাই কি তাহলে অন্ধ হইয়া গেল !

যেই দেশে জনসেবা করিবার সুযোগ হাতছাড়া হইবার আশঙ্কায় প্রতিযোগী জনসেবককে খুন করিয়া ফেলাটা বিস্ময়ের কিছু নয়, অধিক জনসেবা করিবার আশায় গোষ্ঠী বা দলের বড় পদে অধিষ্ঠিত হইতে মুহূর্তকালের মধ্যেই মারামারি লাগিয়া যায়, অথবা কে কাহাকে ছাড়াইয়া আরো তীব্রতর জনসেবা করিতে পারে সেই প্রচেষ্টায় একে অন্যের চরিত্র লুণ্ঠন করিতে সর্বশক্তি লইয়া ঝাঁপাইয়া পড়ে, কিংবা জনসেবার কিঞ্চিৎ সুযোগ পাইবার নিমিত্তে সকাল-বিকাল দল বদলের গড়াগড়ি করিতেও বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না, সেই দেশের নাগরিক হইয়া নিজেদের গর্বকেও ঠাহর করিতে পারিল না কেহ ! ইহা কি মর্মাহত হইবার মতো কথা নয় ! জনসেবার আগ্রহে সর্বাধিক পয়েণ্টে বিজয়ী নাগরিকের গর্বিত দেশটির নাম যাহারা বলিতে পারিল না, তাহাদের জন্য আমার অনুতাপ হইতে লাগিল। তাহারা কি এখনো দেখিতেছে না যে, দেশ ও দশের সেবা করিবার মনোবৃত্তি লইয়া নিজ নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় চতুর্দিকে কীরূপ ব্যতিব্যস্ত অবস্থার উদ্রেক হইয়াছে ! কেহ কেহ সাঙ্গপাঙ্গ লইয়া দলীয় প্রধানের কার্যালয় বা বাসভবনের সম্মুখে ধনুর্ভঙ্গ পণ লইয়া অবস্থান ধর্মঘটে বসিয়া গিয়াছে, জায়গার সঙ্কুলানে কাড়াকাড়ি পড়িয়া গিয়াছে। জনসেবাই যদি করিতে না পারিল তাহা হইলে এই জীবন আর রাখিয়া কী হইবে ভাবিয়া কেহ কেহ আমরণ অনশনের কর্মসূচি জানাইয়া দিয়াছে। কেহ কেহ জনসেবা করিবার দলীয় টিকিট না পাইয়া তীব্র হতাশায় গাড়ি-ঘোড়া-দোকান-পাট ইত্যাদি ভাঙচুর এবং জ্বালাও পোড়াও শুরু করিয়া দিয়াছে ! আবার কেহ কেহ তো জনসেবার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষায় বিদ্রোহী প্রার্থী হইয়া নিজের যোগ্যতা দেখাইয়া দিতে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করিয়া দিয়াছে ! দেশের ও দশের এই অভূতপূর্ব সেবা করিবার তীব্রদাহন কে কবে কোথায় আর দেখিয়াছে এমন !

সেবা গ্রহণের বা হজমের যোগ্যতা মূর্খ জনগণের না থাকিতে পারে। তাই বলিয়া যেই দেশে সেবা করিবার এইরকম মারাত্মক ইচ্ছাধারণকারী জনসেবকের অবিরল বন্যা বহিয়া যায়, সেই দেশের ভবিষ্যৎ লইয়া যাহারা দুশ্চিন্তা করিয়া রাত্রির ঘুম নষ্ট করিয়া ফেলে, তাহাদের জন্য অনুতাপ করিতে করিতে আমিও কি ঘুম নষ্ট করিব ? ইহা কাজের কথা নয়।

হঠাৎ জাগিয়া উঠিলাম! কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না। চারিদিকে এইসব যাহাকিছু ঘটিতেছে, সকলকিছুই কি স্বপ্নের মধ্যেই ঘটিতেছে! আমি কি তবে ঘুমাইয়াই আছি? ইহার উত্তর দিবার মতো কেহ কি কোথাও জাগিয়া নাই ?
(২৩/১১/২০০৮)
.
[sachalayatan]
[mukto-mona blog]
[khabor.com]
[sa7rong]

Advertisements

35tw7

‘স্বভাব যায় না মইলে’
রণদীপম বসু

.

(১৮ নভেম্বর ২০০৮)
আমাদের দেশে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা কতো ? আট কোটি ? সঠিক সংখ্যাটি এ মুহূর্তে হাতে নেই আমার। আট কোটির ধারে কাছে হবে হয়তো। সেক্ষেত্রে কতজন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বা করার সুযোগ পান ? এই হিসাবটা হয়তো চলে আসে নির্বাচনের ফলাফল থেকে। আমাদের জাতীয় নির্বাচনগুলোর বিগত ইতিহাস অনুযায়ী মোট ভোটারের ষাট থেকে পঁয়ষট্টি ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেই মোটামুটি সফল নির্বাচন হয়েছে বলে সরকারীভাবে ধরে নেয়া হয়। এখানে যে ভোটগুলো অধিকার প্রয়োগ করা সত্তেও প্রক্রিয়াগত ভুলে নষ্ট হয়ে যায় তা বাদ দিলে মোটা দাগে আমরা ধরে নিতে পারি যে ন্যুনতম শতকরা পঁয়ত্রিশ ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন নি। এদের কত ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছেন বা চান, কিন্তু তাঁদের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ বা সামর্থ না থাকায় তা প্রয়োগ করতে পারেন নি বা পারছেন না, এ বিষয়টা নিয়ে কোন জরিপ হয়েছে কিনা জানা নেই। কিন্তু অধিকার সুরক্ষার প্রসঙ্গ এলে এ বিষয়টি কি বিবেচনায় না এসে পারে ? দেশের বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতায় বহুপাক্ষিক ধস্তাধস্তির মধ্যে হঠাৎ করে আনুমানিক চল্লিশ হাজার পবিত্র হজযাত্রীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক এজেণ্ডায় চলে আসায় বিষয়টাকে আর খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই।

হজযাত্রীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেবার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যারা সোচ্চার হয়ে উঠেছেন তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আপাত দু’টো সম্ভাবনা আমরা ধারণা করতে পারি। আট কোটি ভোটারের স্বাপেক্ষে যে বিপুল অংশ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, তাদের কথা বেমালুম চেপে গিয়ে শতকরা হারে অতিনগন্য পরিমাণ হজযাত্রী ভোটারের ইস্যুকে সংবেদনশীল করে তুলে এরা হয় খুব হীন রাজনৈতিক খেলায় বিপজ্জনকভাবে মেতে উঠতে চাচ্ছেন। নয়তো খুব যৌক্তিকভাবে সবার ভোট দেয়ার অধিকার সমুন্নত রেখে অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টির দাবীতে সোচ্চার হতে চাচ্ছেন। কোনটা ঠিক ? রাষ্ট্র পরিচালনায় আগ্রহী দল বা ব্যক্তিবর্গ প্রথমোক্ত সম্ভাবনায় সংশ্লিষ্ট থাকতে পারেন এমনটা আমরা বিশ্বাস করতে চাইবো কেন ? তাহলে যে রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের আগ্রহ ও যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন এসে যায়, আদৌ তাঁরা এর যোগ্য কিনা। স্বকল্পিতভাবে আমরা কেন তাঁদেরকে এতোটা অযোগ্য ভাববো ? তার চেয়ে বরং দ্বিতীয় সম্ভাবনাকেই বিবেচনায় নিতে পারি। অর্থাৎ আগ্রহী ভোটারদের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতেই তাঁরা সোচ্চার হয়েছেন বলে ধরে নেবো। সত্যি কি তাই ? ‘মাগো মা, তোরে আমি বেঁইচা দিমু। তয় এমন দাম চামু, কেউ কিনতেই পারবো না !’

গোটা দেশের ছড়ানো ছিটানো চল্লিশ হাজার হজযাত্রীরা ইহলৌকিক হিসাব নিকাশগুলো আপাতত স্থগিত রেখে এক পরম আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যে যখন পবিত্র হজের প্রতি তাদের দেহমন উৎসর্গ করে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেদেরকে সমর্পিত করেন, তখন ভোটের মতো জাগতিক বিষয়ে তাঁদের আদৌ কোন মনোযোগ থাকে কিনা সেদিকে আমরা না-ই গেলাম। বিষয়টা যখন অধিকার প্রয়োগের, আমাদেরকে নৈতিকভাবে মানতে হবে যে চল্লিশ হাজার না হয়ে কেবল চল্লিশ জন হলেও এ অধিকার প্রয়োগের সুযোগ অবশ্যই সবারই প্রাপ্য। আর তখনই আমাদেরকে দেখতে হয় এই সমানাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে কিনা। এখন প্রশ্ন, তাঁদেরকে অধিকার প্রয়োগে কেউ বাধাদান করছে কিনা। কেউ কি বাধাদান করছে ? তাঁরা তো তাঁদের স্বেচ্ছাকৃত পথটাই বেছে নিয়েছেন। এখানে পাল্টা কোন প্রশ্ন উত্থাপনের আগে খুব সমান্তরালভাবে আমাদের অন্যুন পঞ্চাশ লাখ প্রবাসী ভোটারদের অধিকার প্রয়োগের বিষয়টাকেও উত্থাপন করতে পারি। এখন কেউ হয়তো বলতে পারেন, তাঁদেরকে কেউ কি তাঁদের অধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়েছে ? তাঁরাই তো তাঁদের স্বেচ্ছাকৃত পথটাকে বেছে নিয়েছেন। তাহলেও প্রশ্ন দাঁড়ায় তাঁদের সংখ্যা কিন্তু পঞ্চাশ হাজার নয়, পঞ্চাশ লাখ ! তাঁদের অধিকার প্রয়োগের বিষয়টি নিয়ে কোন দল বা গোষ্ঠী কি কখনো জোরালো আগ্রহ দেখিয়েছেন, যারা বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন ? অথচ এই প্রবাসীদের প্রেরিত বৈদেশিক মূদ্রা আমাদের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে যথারীতি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে আসছে এবং আগামীতেও রাখবে।

এখানেও কেউ কেউ পুনরায় প্রশ্ন উঠাতে পারেন, আমাদের পবিত্র হজযাত্রীরা হজকালীন সময়টাতে চাইলেই ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ছুটে আসতে পারবেন না। আগামী আঠারো ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে হজ শেষ হয়ে গেলেও প্রক্রিয়াগত কারণেই ধরে নিচ্ছি অর্ধেকের মতো হাজী দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন না। তাহলে বাকি বিশ হাজার হাজী চাইলেও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। এ বিষয়টা নিয়ে যারা সোচ্চার হয়েছেন তাঁদের জন্য ভিন্ন একটি পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারি আমরা। নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে সরকারী বেসরকারী কর্মচারীরা চাইলেও তাঁদের অমূল্য ভোটটা দিতে পারবেন না, তাঁরা কি এ দেশের নাগরিক নন ? তাঁদের কি ভোটাধিকার নেই ? এদের সংখ্যা তো কম নয়, বেশ কয়েক লাখ ! এবং আমাদের রাষ্ট্র-ব্যবস্থায় তাঁদেরকেই কেবল তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ থেকে বাধ্যগতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। কই, তাঁদের জন্য তো কোন দল বা গোষ্ঠীকে কখনো কোন দাবী নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায় নি ! অথচ এই বেশ কয়েক লাখ নাগরিকরা তাদের দেহমনের সামর্থ ও তাদের কর্মক্ষমতা দিয়ে রাষ্ট্রের সেবা করে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক কূটচাল যখন ধর্মকে লেবাস হিসেবে জড়িয়ে নেয়, তা যে কতো সংবেদনশীল বিপজ্জনক হয়ে উঠে, এই ভূখণ্ডের নাগরিকরা বহুবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। যারা এই বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেন তারা যে এই পবিত্র হজযাত্রীদের বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখেছেন তাই বা বলি কী করে ? তাহলে আমাদের দেশে কতগুলো হাসপাতাল কিনিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইত্যাদি রয়েছে ? গড়ে কী পরিমাণ গুরুতর রোগী এখানে ভর্তি থাকেন যারা কিছুতেই হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে সক্ষম হবেন না ? এবং সাথে থাকা রোগীর আত্মীয় পরিজন যারা রোগীকে সাময়িক সময়ের জন্যও ফেলে যাওয়া সম্ভব নয় বিধায় তাদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব হবে না, তাদের সংখ্যা কতো ? নিশ্চয়ই অনেক ? বেশ কয়েক লাখ তো অবশ্যই। নির্বাচনের তারিখে গোটা দেশে আমাদের কতজন অন্তসত্ত্বা মা-বোন রয়েছেন যারা গর্ভাবস্থার সর্বশেষ পর্যায়ে রয়েছেন এবং ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার মতো শারীরিক সক্ষম অবস্থায় থাকবেন না ? তারা তাদের ভোটাধিকার কীভাবে প্রয়োগ করবেন ? এই বিপুল সংখ্যক ভোটাররা কি তাহলে মানবিক বিবেচনায় আসার যোগ্যতা রাখেন না ? জেলখানায় আটক দাগী আসামী ও অভিযুক্ত অপরাধীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি যদি আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের যথাযোগ্য মাথায় জায়গা করে নিতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রের সুযোগ্য নিরপরাধ অসুস্থ নাগরিকদের কথা এরা ভাববেন না তা কী করে হয় ?

উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা যে ধারণায় এসে পৌঁছে যাই, তাতে আমাদের আদর্শহীন রাজনীতির আরেকটি পুরনো চর্চিত অধ্যায়ই উন্মোচিত হয়ে পড়ে। খুব বিসদৃশভাবেই একটি সেনসেটিভ ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে এই রাজনৈতিক হীনমনষ্কতা আমাদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলে বৈ কি। পবিত্র হাজীদের বিশ হাজার ছড়ানো ছিটানো ভোট নির্বাচনে আদৌ কোন প্রভাব ফেলবে কিনা জানি না। যদি প্রভাব ফেলতোই, তাহলে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চলতি ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দশ লক্ষ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির যে প্রক্রিয়া চলমান তাতে কম করে হলেও গড়ে পঁচাত্তর হাজার সুস্থ কর্মক্ষম নাগরিক যে প্রতি মাসে দেশ ত্যাগ করছেন তাদের হিসাবটাও মাথায় থাকতো। কেননা নির্বাচন একমাস পিছিয়ে যাওয়া মানে পঁচাত্তর হাজার করে নিশ্চিত ভোটারের সংখ্যা কমে যাওয়া। কিন্তু কই, এ নিয়ে তো কেউ টু শব্দটি করছেন না !

পরিবর্তনের আওয়াজ তুলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাবহুল নির্বাচনে যখন এবার সে দেশের নীতিনির্ধারকরা বিপুল পরিমাণ নিষ্ক্রিয় ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে এনে গোটা দুনিয়াকে চমক উপহার দিলো, তার রেশ অব্যহত থাকলেও আমরা যে আসলে অন্ধতা ছাড়া কিছুই শিখি না, একটা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে আবারো তা প্রমাণীত হলো। ছোট্ট এই গরীব রাষ্ট্রের অসহায় নাগরিক হিসেবে তাই আমাদেরকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতেই হয়, ‘কয়লা যায় না ধুইলে স্বভাব যায় না মইলে !’ আমাদের স্বভাব কি কখনোই পরিবর্তনযোগ্য নয় !
(১৮/১১/২০০৮)
.
[khabor.com]
[muktangon:nirmaan]
[mukto-mona]
[sa7rong]

bangladesh_news_10152008_000007_01_mujahid_sayedi

মুজাহিদকে অপমান !
রণদীপম বসু

.

(১৮ অক্টোবর ২০০৮)
চ্যানের এনটিভি’র রাত সাড়ে দশটার নিউজে জানা গেলো যে পুলিশ জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের উত্তরার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু কেন চালিয়েছে তা আমার বোধগম্য হলো না। মোটাবুদ্ধির কারণে এরকম সমস্যা আমার মাঝে মধ্যেই ঘটে থাকে। বোধশক্তি থমকে যায়।

উচ্চ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পলাতক আসামী (!) মুজাহিদ যখন সভাসমিতিতে বক্তব্য রাখেন, সবাই দেখে, পুলিশ দেখে না ! প্রধান উপদেষ্টার সাথে বেশ আড়ম্বরেই রাষ্ট্রিয় গুরুত্বপূর্ণ (?) বৈঠক করে, পুলিশ দেখে না ! গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলছি এজন্যই যে, রাষ্ট্রিয় মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ কোন সমস্যা না হলে একজন সরকার প্রধান কোন পলাতক আসামীর সাথে বৈঠক করবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু সমস্যাটা নিশ্চয়ই মারাত্মক তো বটেই, খুবই গোপনীয়ও হয়তো। নইলে দুর্নীতি দমনেচ্ছুক দায়িত্বশীল সরকার প্রধান নিশ্চয়ই তা জাতিকে অবগত করাতেন। আর আমরা এসব উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রনীতির কৌশল না বুঝেই পুলিশ কেন দেখে না এটা নিয়ে সবাই হৈ চৈ বাঁধিয়ে দিয়েছি। আমরা বুঝতে চাই না যে, কেউ যদি দেখতে অক্ষম হয় তাকে দোষ দিয়ে লাভ আছে ? দরকার হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার। তবে তারও আগে বুঝতে হবে পুলিশ কি দেখে না ? না কি দেখবে না, কোনটা ? সমস্যা হলো মোটা বুদ্ধির লোকেরা রাস্তার মাঝখান দিয়ে সোজা হাঁটে। তাই এতো ঘোরপ্যাঁচে না গিয়ে সরলভাবে বুঝে ফেলে, সরকার যখন দেখে না, পুলিশও দেখে না। পুলিশ তো সরকারেরই দক্ষিণ হস্ত। তার কি আলাদা কোন সত্ত্বা আছে নাকি ? যখন সরকার দেখতে শুরু করবে, পুলিশও তখন দেখতে পাবে।
.

কিন্তু আমি এখনো বুঝতেই পারছি না পুলিশ কেন হঠাৎ মুজাহিদের বাসায় তল্লাশি করতে গেলো ! হতে পারে চ্যানেলে একটা ভূয়া সংবাদ দিয়েছে, নয়তো পুলিশের কোন তৃতীয় নয়ন গজিয়েছে যা দিয়ে নিজেরা দেখে না, অন্যকে দেখায়। কেননা সরকার যে দেখতে পায় বা দেখতে চায় এর কোন আলামত এখনো তো স্পষ্ট হয় নি কোথাও। বিমান বন্দরের ত্রিমোহনায় ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ -কে লালনের নাম ধরে মধ্যযুগীয় মোল্লারা যখন বাঙালির হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতির নাড়ি ধরে টান দিলো, আমাদের সরকার যে বাঙালির সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারের সরকার তা বিশ্বাস করানোর মতো কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কি ? দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যখন দেশের অমুসলিমদের উপাসনামূর্তি ছাড়া বাকি সব মূর্তি ভাঙার হুমকী দেয়, সরকার তখনো কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কি ? আর উপাসনামূর্তি বাদ দিলে বাকি যা থাকে তা তো প্রায় সবই রাষ্ট্রেরই। নইলে কোথাও কোন কষ্টিপাথরের মূর্তি পাওয়া গেলে প্রত্ন-সম্পদ হিসেবে রাষ্ট্র তা হস্তগত করে কেন ?
.

সাঈদীর বক্তব্য যখন ওইসব মূর্তি অপসারণকারীর বক্তব্যের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব করলো, তখন আর বুঝতে বাকি থাকলো কি যে এই জঘন্য কাজটা পরোক্ষে ভিন্ন নাম ধরে মূলত মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামীরই কাজ ? প্রধান উপদেষ্টার সাথে মুজাহিদের বৈঠকের পর পর দেশ জুড়ে যখন গুঞ্জন উঠলো, সাথে সাথে ঘটলো মৃণাল হকের ভাস্কর্য অপসারণ ! একটা দিয়ে আরেকটা আড়াল করা ? তাও আবার বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রহসনমূলক বক্তব্য শুনে একটা রামছাগলেরও হাসি পাবার কথা। বলে কিনা, মূল ভাস্কর্যের নমূনা অনুযায়ী হয় নি বলেই এরাই এর অপসারণের ব্যবস্থা নিয়েছে ! জাতির সংস্কৃতির ধারক বাহক লেখক কবি শিল্পী ভাস্কররা দুর্বলতম দুর্ভাগা বলেই কি তাঁদেরকে নিয়ে এমন রাষ্ট্রিয় ছিনিমিনি খেলা ? মোটাবুদ্ধিতে আবারো বুঝে যাই, উপদেষ্টার বৈঠকখানা থেকে বিমান বন্দর হয়ে মুজাহিদের বাসা পর্যন্ত যে নাটক চলছে তাতে সরকারি সায় তো রয়েছেই, হয়তো সরকারি ইন্দনও রয়েছে। আর তা-ই যদি হয়ে থাকে তবে আর রাখঢাকের কিছু রইলো না যে, জামায়াতে ইসলামীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটা মৌলবাদী সরকার মাথায় নিয়েই আমরা একটা নিরপেক্ষ (!) গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আদৌ যদি সে নির্বাচন হয়। মৌন মিছিল করার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেফতারকৃত সেই ছাত্র-শিকদের নির্যাতিত হওয়ার স্মৃতি আসলে কখনোই ভুলা যাবে না।

কিন্তু এবারও আমার মোটা মাথায় এটা ধরছে না যে, আইনের প্রতি এতো বিশ্বস্ত আল্লাওয়ালা ব্যক্তি মুজাহিদ পলাতক হবেন কেন ? তিনি কি চোর ছ্যাচ্চর নাকি ! এমন সৎ আদর্শ ও পবিত্র মুবারকধারী জামায়াত শীর্ষ নেতা মুজাহিদ কি অন্যান্য দলের নাফরমান পাতি নেতাদের থেকেও খারাপ হয়ে গেলেন যে, ওরা কেউ গ্রেফতারের আগে পালালো না, আর মুজাহিদ ভয় পেয়ে পালিয়ে থাকবেন ! আর পুলিশ তাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে যাবে !

উঁহু, আমি বিশ্বাস করলাম না। এটা নিশ্চয়ই একাত্তরের রাজাকার মিথে প্রভাবিত কোন নাফরমান পুলিশ সদস্য কর্তৃক মুজাহিদকে পলাতক আখ্যা দিয়ে তাঁকে সুপরিকল্পিত অপমান করা হচ্ছে ! আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এবং আমি এও আশা করি যে মুজাহিদ অন্তত চোর ছ্যাচ্চর থেকেও নীচে নেমে যান নি।
(১৮/১০/২০০৮)
.
[mukto-mona]
[khabor.com]
[sachalayatan]
[sa7rong]

ট্যাগ সমুহঃ ,

BDR Milk-1.1

বিডিআর-এর ন্যায্যমূল্যের দুধ পরীক্ষা করবে কে..?
রণদীপম বসু

.

(২১ সেপ্টেম্বর ২০০৮)
বাজারে বিক্রিত সব ধরনের দুধের প্যাকেট বা কৌটায় একটা ব্রান্ড নেম থাকে। এ দুধে তা নেই। প্যাকেটের গায়ে বড় হরফে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ফুল ক্রিম মিল্ক পাউডার। অন্যান্য দুধের বাজার মূল্য থেকে কেজি প্রতি দু’শ টাকা কমে অর্থাৎ তিনশ’ টাকা কেজি দরে বিডিআর-এর ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলোতে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। অপারেশন ডাল-ভাত ২০০৭ কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে প্যাকেটজাত এই দুধ বাংলাদেশ রাইফেলস কর্তৃক আমদানিকৃত বলেই কি এতে বিএসটিআই-এর দ্রব্যমান নিশ্চিৎকরণ সীল নেই ? প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুতকারক হিসেবে সম্ভাব্য চীনা হরফে কী লেখা রয়েছে তার মর্মার্থ অভিজ্ঞ ব্যক্তিই বলতে পারবেন। কিন্তু চীন থেকে আমদানিকৃত ক্ষতিকারক মেলামাইন মিশ্রিত ভেজাল দুধ খেয়ে হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুর অসুস্থ হয়ে পড়া নিয়ে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রীতিমতো তোলপাড় হচ্ছে, আমাদের কোমলমতি শিশুদেরকে আমরা অতিবিশ্বাস নিয়ে কী গেলাচ্ছি তা কি পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে ?

BDR Milk-2.1
প্রায় দু’সপ্তাহ আগে তিন কলিগ-বন্ধু বিডিআর এর ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে ক’প্যাকেট দুধ কিনি। শুধু যে দাম কম সে জন্যেও নয়, রাষ্ট্রিয় সংস্থা বাংলাদেশ রাইফেলস এর উপর পরম বিশ্বাস ও নির্ভরতা নিয়ে। বাসায় গিয়ে চা বানানোর উষ্ণ পানিতে মেশাতেই পানির রঙ কালচে হয়ে গেলো। কী ব্যাপার ! চামচে একটু গুঁড়ো দুধ নিয়ে জিহ্বায় দিলাম। কেমন যেন ছ্যাৎ করে ওঠলো, বেশ কিছুক্ষণ ধরে তার ঝাঁঝ অনুভব করলাম। এবং এযাবৎ এরকম দুধের স্বাদ যে আর কখনো পাই নি এটা নিশ্চিৎ হলাম। ফলে বাচ্চাকে খাওয়াবো দূরের কথা, নিজেরাই ব্যবহার করার সাহস পেলাম না। পরদিনই ২৫০ গ্রামের অক্ষত প্যাকেটগুলো ফেরৎ নিয়ে গেলাম। কিছুটা ইতস্তত করে বিডিআর ভাইরা শেষে অনিচ্ছাকৃতভাবেই প্যাকেটগুলো ফেরৎ নিলেন বুঝা গেল। কিন্তু তাদের সাথে আলাপ করে যা জানলাম তার সারমর্ম হলো, বিডিআর জওয়ানরা এগুলোকে ডিজি আপার দুধ বলে থাকেন। চট্টগ্রামে এখনো নাকি বড় বড় গোডাউন বোঝাই হয়ে আছে এ দুধে। এবং বিক্রিও হচ্ছে হরদম। প্রধান ক্রেতা হলো মিষ্টি দোকানদাররা। তারপরেই অসহায় গরীব গুর্বা মানুষগুলো।

আমরা যারা বিডিআর এর আমদানিকৃত এই দুধ সরাসরি ক্রয় করছি না, রমজানের এই পবিত্র মাসে মিষ্টি দোকানগুলোয় প্রচণ্ড ভীড় দেখে কীভাবে নিশ্চিৎ হচ্ছি যে আমরা এর বাইরে ? বিএসটিআই’র অনুমোদন সীলবিহীন এই দুধে তীব্র ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে কি না, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মাননীয় সরকারের কাছে তা জানার অধিকার কি আমাদের নেই ?
.

[horoppa.blogspot]
[Daily Sangbad]

Dhaka_photo_Javed_Akter_Suman

Dhaka_photo_Javed_Akter_Suman

বাংলাদেশ কি ধনীদের দেশে পরিণত হচ্ছে ?
রণদীপম বসু

.
চলতে চলতে হঠাৎ করেই সামনেরটিকে ধাক্কা মেরে বসলো আমাদের রিক্সাটা। যাত্রীর গুঞ্জন ছাপিয়ে সামনের চালক খেঁকিয়ে ওঠলো- অই হালার পো, আন্ধা নি ? চউক্ষে দেহছ না ?
রীতিমতো মারমুখি ব্যাপার। অথচ প্রতি উত্তর শুনে আমাদের চালকটিকে বেশ রসিকই মনে হলো- আবে হালায় ডাকাইত নি ! তুই এহনো চউক্ষে আন্ধাইর দেহস নাই ! হালায় জমিদারের নাতি হইছ তো রিক্সা ঠাপাইতে আইছস কেন্ বে ?
দূর হালার পো হালা। বলেই আগের চালক সামনে চলতে শুরু করলো। হয়তো আরো কিছুটা বাগড়াবাগড়ি চলতো। কিন্তু রাস্তার জ্যাম মুক্ত হওয়ায় যে যার পথে ছুটলো আবার।

ঢাকার রিক্সায় চড়েছেন অথচ রিক্সায় রিক্সায় ঠেলাগুঁতো বা চালকদের মধ্যে ঝক্কিফ্যাসাদ দেখেন নি এমন কেউ কি আছেন ? আমার জন্যে তো তা নিত্য নৈমিত্তিক অভিজ্ঞতাই। কিন্তু আজকের বিষয়টাকে কিঞ্চিৎ ব্যতিক্রম বা আনকোড়াই মনে হলো। কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে চালককে জিজ্ঞেস করলাম, বাড়ি কই আপনার ?
জী, আছিলো তো বরিশাল।
বরিশালের লোকেরা মনে হয় রসিক হয় খুব, তাই না ?
রস দেখলেন কই স্যার ! আমাগো জান বাইরয়, আর আপনে দেখতে আছেন রস ?
কেন, আপনাদের কথা চালাচালি শুনে আমার তো তাই মনে হলো !
ঘর্মাক্ত সচল শরীর দুমড়ে দীর্ঘশ্বাসের শব্দ পেলাম যেনো। হঠাৎ তাঁর কথার মধ্যে কটাক্ষের ছোঁয়া পাচ্ছি। হ, গরীবের কি আর ভাত খাওনের জোগার রাখছেন আপনেরা ? কথা দিয়াই তো আমাগোরে পেট ভরতে অয়।
হুম, ঠিকই বলেছেন। গরীবের বাঁচার আর কোন রাস্তাই নাই।
ফজরে ঘুম তনে উইঠ্যা দোকানে যাইয়া হুনি চাইলের দাম আবার বাড়ছে। কাইল আপনেগো উপদেষ্টা সাবে কী জানি কইছে রাইত, সকাইল্যা বেলাই সয়াবিনের দাম বাইড়া গেছে পনরো টেকা। আরে হালার দোকানে তেলই নাই। রাইতের বেলাই ফিনিশ ! সব মাগীর পুতেরাই এক রকম। গরীব হালার পুত হালায় একটায়ও বাঁচবো না আর। সব হালারা মরবো।…
কথা তো না, যেনো মাংস পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে ! আগের রাতে আমাদের অর্থ উপদেষ্টা মহোদয় সংবাদকর্মীদের কাছে ‘এটা শায়েস্তা খাঁ’র আমল না, দ্রব্যমূল্য কমার কোন সম্ভাবনা নেই ; এখানে সরকারেরও কিচ্ছু করার নেই’ বলে যে ঐতিহাসিক বাণী ছেড়েছেন, এর কয়েক ঘণ্টা পরই অস্থির বাজার পরিস্থিতি আর খেটে খাওয়া দিনজীবী মানুষগুলোর বেঁচে থাকার নাভিশ্বাস অবস্থার অতি ক্ষুদ্র এক টুকরো প্রতিফলন ভাসছে এই রিক্সাচালকের উক্তিতে।
আগে রিস্কার মালিককে আধা বেলায় দিতে হইতো পঞ্চাশ টেকা। এখন দিতে অয় নব্বই টেকা। বস্তির ভাড়া বাড়াইছে পাসশো টেকা। আপনেরা তো স্যার ভাড়া দুই টেকা বেশি চাইলেই সোজা হাঁটা শুরু কইরা দেন !
আমি বললাম, দেখেন ভাই, আপনার জন্য যেমন সব বাড়ছে, আমার জন্যেও তো বাড়ছে সব। ছোটখাট চাকরি করি। সব কিছুর দামই সরকার ক’দিন পর পর বাড়াচ্ছে। কিন্তু আমাদের বেতন তো একটাকাও বাড়ায় নাই ! আমি কার কাছে বলবো এসব ? আমার জন্যে তো রিক্সা চড়াটাই এখন বিলাসিতা !
তয় আমরা যামু কই ? দেইখেন গরীব হালার পুত হালারা একটাও বাচবো না ! মইরা সাফ হইয়া যাইবো সব।

কথোপকথনের সংবেদনশীলতায় পারতপক্ষে খুব একটা যেতে চাই না আমি। মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক যন্ত্রণাকে ঘাটানো বিপজ্জনকও। কষ্টের আগ্নেয়গিরিতে খোঁচা খেলে মানুষের আবেগ অস্থির হয়ে ওঠে। অনেক ক্ষেত্রেই কোন বাধা মানে না আর। কিন্তু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক পরিস্থিতিতে সব কিছুই যেভাবে উদ্ভটতায় আক্রান্ত হচ্ছে, তাতে করে সবাই নিজ নিজ ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা আর অস্থিরতায় ভুগছে, সব কিছুই একাকার হয়ে কেমন একটা গুবলেট অবস্থায় দাঁড়াচ্ছে যেনো। তাই আমাদের কথোপকথনের পরিবেশটাকে সিরিয়াসনেস থেকে ঘুরিয়ে হালকা করার জন্য হঠাৎ করেই কৌতুকের আশ্রয় নিলাম। আমাকে বহনকারী রিক্সার চালকের শেষ উক্তির রেশ ধরেই বললাম- আপনি ঠিক বলছেন তো, গরীব সব মরে সাফ হয়ে যাবে ?
হ, গরীবের গুয়ায় যেই বাঁশ ঢুকাইবার লাগছেন, এক হালায়ও কি বাঁচবো আর ? সব শেষ।
তাহলে তো আমাদের এই দেশের জন্য বিশাল সুখবর এটা !
কোন প্রত্যোত্তর না পেলেও আমার এমন কথায় তাঁর জেগে ওঠা কৌতুহল টের পেলাম ঠিকই। আমি বলে চললাম, আপনার কোন আত্মীয় বা পরিচিত কেউ বিদেশে থাকে ?
আত্মীয় নাই। তয় পরিচিত আছে অনেকেই।
দেশের বাইরে বিদেশে বাংলাদেশের পরিচয় কী রকম, আপনি জানেন ?
মাথা নেড়ে তার অজ্ঞানতা প্রকাশ করলো।
বিদেশে বাংলাদেশের পরিচয় হচ্ছে ফকির মিসকিনের দেশ, এইটা তো শুনেছেন ?
হ।
এই সুযোগে আপনার কথা অনুযায়ী যদি দেশের সব গরীব মইরা যায়, তাইলে বাঁইচা থাকবে কারা, বলেন তো ?
বড়লোকেরা !
হ্যাঁ, তখন কেবল ধনীরাই থাকবে বাংলাদেশে ! কোন গরীব নাই ! বিশ্বে আর একটা দেশও কি পাবেন যেখানে কোন গরীব নাই ? তাহলে তখন বাংলাদেশের পরিচয় কি আর ফকির মিসকিনের হবে ? এটা তখন ধনীর দেশ হয়ে যাবে !
হ, ঠিকই কইছেন।
তাহলে সরকার কেন এই সুযোগ হাতছাড়া করবে ? কোন সরকার যা পারে নাই, এই সরকার তা করে দেখিয়ে দেবে ! বাংলাদেশ ধনীদের দেশ ! অতএব যত তারাতারি মইরা যাইতে পারেন ততই দেশের জন্য মঙ্গল। যারা এইটা বুইঝাও এখনো মরতেছে না, তাগরে মারনের একটা বুদ্ধি বের করতে হবে না !
তার সম্মতিসূচক মাথা নাড়ানো দেখেই বুঝলাম কথাটা বোধ হয় বেচারার মনে ধরেছে।

বাসার সামনে এসে ভাড়া দু’টাকা বাড়তি দিয়ে কাঁধে হাত রেখে বললাম, আমার কথায় কিছু মনে করবেন না ভাই। আপনার কষ্ট আমি বুঝি। কিন্তু আমাদের কষ্ট কেউ বুঝে না।
ভাড়া গুনে হঠাৎ বাড়তি টাকা দুটো ফেরৎ বাড়িয়ে বললো, নেন স্যার। এই টাকা নিমু না আমি।
কেন ?
আপনিও আমাগোর মতোই।
আমি ফেল ফেল করে চেয়ে রইলাম। দেশটা যদি সত্যি সত্যি ধনীদের হয়ে যায়, এই সহানুভূতিটুকু কি থাকবে তখন ?
(১১/০৭/২০০৮)

.
[sachalayatan]

Tagore3

এটাকে কীসের অবমাননা বলবো ?
রণদীপম বসু

.
ক্লাশ টু’র ছাত্র প্রান্তিক, তার স্কুলের বাংলা বইটা এগিয়ে দিয়েই বললো- ‘বাপি, এ বই কে লিখেছে ?’
কে লিখেছে মানে ?
একটা বাচ্চা ছেলেকে যেভাবে যেটুকু বুঝানো যায় সে চেষ্টাই করলাম। শিশুদের কাছে যে সবকিছুই পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করতে হয়, তাও মাথায় ছিলো। কিন্তু বেশিদূর আগানো হয় নি, তার আগেই নির্দিষ্ট একটা পৃষ্ঠা দেখিয়ে তার দ্বিতীয় প্রশ্ন- ‘এটা কে লিখেছে… ?’

প্রচ্ছদ পেরিয়েই প্রথম পাতার ভেতরের পৃষ্ঠায় ‘জাতীয় সংগীত’ শিরোনামে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আমাদের প্রিয় জাতীয় সংগীতের প্রথম দশটি লাইন উৎকীর্ণ। এত্তটুকুন ছেলে যে এরই মধ্যে এতগুলো ছড়াকবিতা ও গল্পের বই পড়ে ফেলেছে, অথচ সে কিনা বইয়ে মুদ্রিত জাতীয় সংগীত দেখিয়ে এমন গর্দভের মতো বলে- এটা কে লিখেছে ! ফাজলামো করছে না তো ? মনঃক্ষুণ্ন তো বটেই, হতাশাযুক্ত ক্ষোভ নিয়ে ধমকে দিতে যাচ্ছিলাম প্রায়…। থমকে গেলাম, নীচে মুদ্রিত রচয়িতার নামটিতে চোখ পড়তেই !

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক ২০০৩ সাল থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকরূপে নির্ধারিত ‘আমার বাংলা বই’ দ্বিতীয় ভাগ বইটি এতগুলো বছর যাবৎ জাতীয় সংগীত রচয়িতার নাম এভাবে ‘রবীন্দ্রাথ ঠাকুর’ হিসেবে বিকৃত ভুল ছাপা নিয়েই গোটা দেশের স্কুলগুলোতে পঠিত হয়ে আসছে ! কারো চোখেই কি পড়লো না এটা ! আর যদি পড়েই থাকে ? ধিক্ অকৃতজ্ঞ আমাদের লজ্জাহীন এমন হীন বৈশ্যবৃত্তিকে, যারা একটিবারও আবশ্যকবোধ করলো না এই বিকৃত মুদ্রনটাকে সংশোধন করতে ! কিন্তু আমাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজ্ঞ(!) কর্মকর্তাদের দায়িত্বটা কী ? এরা কি এতোটাই অথর্ব হয়ে গেলেন ! ভাষাপ্রেম, দেশপ্রেম আর শিশুশিক্ষায় এদের দায়িত্ববোধের এই নমূনাকে কী দিয়ে সংজ্ঞায়িত করবো ? দুঃখে লজ্জায় অবোধ সন্তানের চোখে যেন কল্পনায় আমাদের প্রতি তার নিষ্কলুষ ধিক্কারই দেখতে পেলাম !

রবীন্দ্রনাথ আমাদের চিরকালীন অহঙ্কার। তাঁর ১৪৭তম জন্মজয়ন্তীতে এসে তাঁর কাছে অনিবার্য কৃতজ্ঞতায় যতই নতজানু হই না কেন, এই ক্ষমাহীন অযত্ন অবহেলাকে কী দিয়ে মোচন করবো আমরা ?

এটাকে কীসের অবমাননা বলবো ? কেউ কি জবাব দেবে এর ??
(১২/০৫/২০০৮)

.
[sachalayatan]
[amarblog]

peek2

ওটা কি পানের খিলি !
– রণদীপম বসু

.
যে যাই বলুন, মনের কথা বাদই দিলাম, বাঙালি সংস্কৃতির একটা মাত্র চিহ্ন যদি আমি শরীরে ধারণ করে থাকি, সেটা হচ্ছে পান। দাঁতের বিকট চেহারা দেখে শুভাকাঙ্খীরা আতকে উঠুক আর যাই করুক, অরিজিনাল হাকিমপুরী জর্দ্দা কড়া করে বাড়তি একটু চুন আর শুকনো সুপারি দিয়ে মচমচে খিলিটা মুখে পুরে রসিয়ে রসিয়ে মজানোর মধ্যে যে কী মাজেজা, যিনি এই রসে রসিক না হয়েছেন তাকে বুঝানোর চেষ্টাও বৃথা। অতএব আমার বন্ধুদের হৈ হৈ ফোড়ন কাটায় অতিষ্ঠ হলেও তাদের একটাই কথা, ধোপদুরস্ত পোশাকের সাথে এই গাবড়ের মতো পান চিবানো শুধু যে বেমানান তাই নয়, অসংস্কৃতও। আমি যতই যুক্তি ওঠাতে চাই, গণতন্ত্রের এই জয় জয়কারের যুগে একা আমি শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে একাই।

কিন্তু দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন পাগলা দৌঁড়ে পানের মাজেজা দ্বিগুন মূল্যে ঠেকবে এটাই স্বাভাবিক। এক মুঠো ভাতের জন্য আমাদের তথাকথিত সোনাবিছানো গ্রামগুলো থেকে দলে দলে ক্ষুধার্ত মানুষের মিছিল এই শহরকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ না করাতক আমাদের রাষ্ট্রপিতা পিতৃব্যরা হয়তো দেশে যে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে তা স্বীকার করবেন না। কিন্তু আমরা মধ্যবিত্ত পদবাচ্যের প্রাণীরা উভয় সঙ্কটের শ্যাম ছাড়ি না কূল ছাড়ি যাতাকলে অক্ষম ধুকে ধুকেও ওই সব ধেয়ে আসা ভিক্ষার হাতগুলোর লক্ষ্য থেকে কীভাবে সরাবো নিজেদের ? তাদের চেহারায় যে নিজেদের অবয়বই দেখতে পাই !

আশেপাশের অসম্ভব বেড়ে যাওয়া ভিক্ষুকদের গঞ্জনা সইতে সইতে আজও বন্ধুদের ঠোকাঠুকির মধ্যেই খিলিটা মুখে পুরেছি কেবল। কোত্থেকে বৃদ্ধ ভিক্ষুকটি আকস্মিক আমার সামনে এসে তার অসহায় ক্ষুধার্ত মুখে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলে ওঠলো- ‘বাবা, একটা পান খাবো!’ ভাতের তাড়নায় ক্ষুধার্ত পাকস্থলীর অসহ্য কষ্টের মধ্যে ভাত নয় রুটি নয়, পান খাবে ! চমকে তাকালাম বৃদ্ধের মুখের দিকে। শুকনো মুখে পানের লাল চিহ্ন পুরনো মেড়মেড়ে হয়ে আছে। আমি কি ভুল শুনলাম ? নিশ্চিৎ হতে চাইলাম। মুখে শব্দ করে বৃদ্ধ তার অবশিষ্ট শক্তিটুকু বুঝি আর খরচ করতে চাইলো না। অথবা সে শক্তিটুকুও অবশিষ্ট নেই হয়তো। ইঙ্গিতে টং দোকানের পানের থালাটা দেখিয়ে দিলো। আমার বন্ধুদের ফোড়ন কাটা মুখ ততক্ষনে নিঃশব্দ হা হয়ে গেছে। ভাতের বদলে পান ! ক’বেলা ভাত খায় না এই বৃদ্ধ ? এক খিলি পান দু’টাকা। পকেট থেকে এক টাকার দু’টো কয়েন দোকানদারকে দিয়ে আমি হাঁটা শুরু করলাম।

তৈরি হতে থাকা খিলিটার দিকে বৃদ্ধের বুবুক্ষু চোখ কী দেখছে তখন ! এক দলা ভাত ? এক টুকরো রুটি ? অথবা…? সে ভাষা আমার জানা নেই। জানার চেষ্টা না করেই হাঁটতে থাকলাম। না কি পালাচ্ছিলাম !!
(০৯/০৪/২০০৮)

.
[somewherein]
[mukto-mona]


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 214,062 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 88 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« নভে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check