h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘জৈনদর্শন’ Category

15032511_1803376529901843_195697002_n

চার্বাকেতর ভারতীয় দর্শন-১ম খণ্ড
(জৈন ও বৌদ্ধ দর্শন)

ভারতের প্রাচীনতম অসনাতন নাস্তিক্য ধর্মদর্শনের অন্যতম হচ্ছে জৈন ও বৌদ্ধ দর্শন।  কিন্তু একান্তই ধর্মবাদী দর্শন হয়েও এ দুটো দর্শন সম্প্রদায়কে তৎকালীন ব্রাহ্মণ্যবাদীরা কেন নাস্তিক্যদর্শন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তা কৌতুহলজনক বৈকি। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে যখন উপনিষদীয় চিন্তাধারা কর্মমীমাংসা ও ব্রহ্মমীমাংসার বিরোধে ধর্মসংকটের ন্যায় তত্ত্বসংকটের সম্মুখীন হয় তখন প্রায় একইসময়কালে জৈন বর্ধমান মহাবীর ও শাক্যবংশীয় রাজপুত্র সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের কঠোর তপস্যালব্ধ এ দুটি বেদবিরোধী সম্প্রদায় দর্শনের আঙিনায় আবির্ভূত হয়। উপনিষদীয় পরিমণ্ডলে থেকেও ভারতীয় দর্শনের এ দুটি ধর্মবাদী সম্প্রদায় বেদভিত্তিক উপনিষদীয় চিন্তাধারার বিরোধিতায় নেমে সাধারণ মানুষের বোধগম্য এক আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার প্রবর্তন করেন। এই আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা বেদভিত্তিক না হয়েও সাধারণ মানুষের আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা নিবৃত্তির সহায়ক হয়েছিলো। নিরীশ্বরবাদী হওয়া সত্ত্বেও উচ্চমানের আধ্যাত্মিকতায় ধীরে ধীরে এই চিন্তাধারার প্রভাব এতো আকৃষ্ট ও বিস্তার লাভ করেছিলো যে ভারতের সমাজ, রাজনীতি, সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি ধর্মজীবনকেও তা আলোড়িত করেছিলো। জনমানসে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করেছিলো বলেই বেদানুসারী হিন্দু দর্শনে এই মতবাদগুলি খণ্ডনের জন্য বিশেষ যত্ন লক্ষ্য করা যায়।

Read the rest of this entry »

Advertisements
ট্যাগ সমুহঃ , ,
.
| জৈনদর্শন:পর্ব-১০| জৈন ধর্ম ও দর্শনের মূল্যায়ন |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৪.০ : জৈন ধর্ম ও দর্শনের মূল্যায়ন (Jainism: Religion and Philosophy)
.
যেকোন ধর্মের বৈশিষ্ট্য জানতে হলে তার আচারমার্গের অনুশীলনকে আবশ্যক বিবেচনা করা হয়। কেননা আচারমার্গের প্রতিপাদনেই ধর্মের ধর্মত্ব নিহিত থাকে। এখানেই সেই সেই ধর্মের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য। ধর্ম ও তার দর্শনের ক্ষেত্রে মূল পার্থক্যটা হচ্ছে, দর্শনের মূল্য বা বৈশিষ্ট্য তার সৈদ্ধান্তিক পর্যায়ে, ধর্মের মহত্ত্ব তার ব্যবহারিক নিমিত্তে। দর্শন হচ্ছে সিদ্ধান্তের সাধক, ধর্ম হচ্ছে ব্যবহারিক তত্ত্বের প্রতিপাদক। বিশ্বাসীদের মতে, যার দ্বারা লৌকিক উন্নতি ও পারলৌকিক কল্যাণ সিদ্ধ হয় তাকে ধর্ম বলে। Read the rest of this entry »
.
| জৈনদর্শন: পর্ব-০৯ | জৈনমতে অনীশ্বরবাদ ও কর্মবিচার |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.৬ : জৈনমতে অনীশ্বরবাদ (Atheism in Jainism)
.
জৈনদর্শন নিরীশ্বরবাদী। চার্বাক এবং বৌদ্ধদর্শনের মতো জৈনধর্মেও ঈশ্বরকে মানা হয়নি। এই তিনটি নাস্তিক দর্শনসম্প্রদায় ছাড়াও আস্তিক সম্প্রদায়গুলির মধ্যে সাংখ্য ও মীমাংসা দর্শনও নিরীশ্বরবাদী। অর্থাৎ ভারতীয় প্রধান নয়টি দর্শন সম্প্রদায়ের মধ্যে পাঁচটি সম্প্রদায়ই ঈশ্বরে বিশ্বাসী নন। তবে স্বাভাবিকভাবেই ঈশ্বরে বিশ্বাস না করার যুক্তিগুলি সব সম্প্রদায়ের এক না হলেও যুক্তিসমূহের মধ্যে অনেকক্ষেত্রেই সাযুজ্যও রয়েছে। জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় ঈশ্বরে বিশ্বাসী না হলেও জৈন সম্প্রদায়ে মুক্ত সিদ্ধ পুরুষেরা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ে স্বয়ং বুদ্ধদেব ঈশ্বর স্থানীয়। তাই কারো কারো মতে এভাবে বলা অত্যুক্তি হয় না যে, জৈন ও বৌদ্ধ দর্শনে ঈশ্বর অস্বীকৃত নন, বরং ঐশ্বরিক সত্তার রূপভেদ স্বীকৃত। এই কারণে জৈন ও বৌদ্ধ দর্শন-প্রদত্ত ঈশ্বরের অনস্তিত্ব প্রমাণের যুক্তিগুলি প্রায় একই ধরনের।
.
বৈশেষিকরা লোক সৃষ্টির জন্য অ-দৃষ্টকে ঈশ্বরের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, এবং জৈনরা সেই স্থান দিয়েছেন ধর্ম ও অধর্মকে।
কোন বস্তুকে করতে, না করতে বা অন্যথা করতে যে সমর্থ তাকে ঈশ্বর বলা হয়- ব্রাহ্মণ্যধর্মে এরূপ স্বতন্ত্র ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর স্বীকৃত। কিন্তু জৈনদর্শনে এ ধরনের ঈশ্বর স্বীকার করা হয় নি। জৈনরা আপত্তি তুলেছেন যে, ঈশ্বরের অস্তিত্বের পক্ষে কোন প্রমাণ নেই। ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করা যায় না এবং বেদে অবিশ্বাসী জৈনদের পক্ষে কোন আপ্তবাক্য থেকেও ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায় না।   ঈশ্বরবাদীদের যুক্তি হলো, ঈশ্বরের জ্ঞান প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধ না হলেও যুক্তি বা অনুমান দ্বারা সম্ভব। ঈশ্বরের অস্তিত্ববিষয়ক এরকম যুক্তিকে জৈনরা দোষ দেখিয়ে খণ্ডন করেছেন। তাঁরা অনাদিসিদ্ধ পরমাত্মার সত্তাকে কোনভাবে স্বীকার করেন না। Read the rest of this entry »
.
| জৈনদর্শন:পর্ব-০৮| ত্রিরত্ন-মোক্ষমার্গ ও পঞ্চ-মহাব্রত|
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.৫ : ত্রিরত্ন মোক্ষমার্গ (Threefold Liberation Path)
.
জৈনমত (Jainism) অনুসারে ক্রোধ, মান, লোভ ও মায়া নামক কুপ্রবৃত্তিকেই বন্ধনের মূলকারণ বলা হয়। আবার এই কুপ্রবৃত্তিগুলির কারণ হলো অজ্ঞান। এ অজ্ঞানের নাশ জ্ঞানের দ্বারাই সম্ভব। তাই জৈনদর্শনে মোক্ষের জন্য সম্যক জ্ঞানকে (right knowledge) আবশ্যক মনে করা হয়। পথপ্রদর্শকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস হতেই সম্যগ্জ্ঞান সিদ্ধ হয়। জৈনদর্শনে তীর্থঙ্করদের মোক্ষলাভের পথপ্রদর্শক বলা হয়েছে। Read the rest of this entry »
.
| জৈনদর্শন: পর্ব-০৭ | জৈনমতে বন্ধন ও মোক্ষ |
-রণদীপম বসু
জৈন নীতিতত্ত্ব :
জীব বা আত্মার বন্ধন ও মুক্তির আলোচনা ভারতীয় চিন্তাধারায় মুখ্য ও অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। যদিও জীবনের বন্ধন ও মুক্তির আলোচনাকে সাধারণভাবে ধর্মীয় ও নৈতিক আলোচনা বলা হয়, তবু ভারতীয় দার্শনিক আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় আসলে জীবের বন্ধন ও মুক্তি। চার্বাক ভিন্ন সকল দর্শন সম্প্রদায়ই মোক্ষকে পরম পুরুষার্থ বলে মনে করেন। মোক্ষ হলো জীবের বন্ধন ও দুঃখ থেকে নিবৃত্তির অবস্থা। একথা সত্য যে, মোক্ষের স্বরূপ নিয়ে ভারতীয় দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কিন্তু দুঃখ থেকে নিবৃত্তি এবং মোক্ষলাভই যে জীবের পরম লক্ষ্য সে বিষয়ে প্রায় সকলেই একমত। তাই ভারতীয় দর্শনে ধর্ম ও নীতিশাস্ত্রের আলোচনা প্রধানত জীবের বন্ধন ও মুক্তিকেন্দ্রিক। 
.
৩.৪ : জৈনমতে বন্ধন ও মোক্ষ (bondage & liberation)
.
ভারতীয় দর্শনে বন্ধনের অর্থ নিরন্তর জন্ম গ্রহণ করা এবং সংসারের দুঃখকে সহ্য করা। জৈনদর্শন (Jainism) অনুযায়ী, কষায়ে লিপ্ত হয়ে জীবের যে বিষয়াসক্তি হয় একেই বলে বন্ধন (bondage), যার ফলে দুঃখ সহ্য করেও জীব এক দেহ থেকে অন্য দেহে গমনাগমন করে। এই গমনাগমনকে বলে আস্রব (flow)। আস্রব অর্থ বহমানতা। আর কষায় (sticky substance) হচ্ছে চিত্তমালিন্য। জীব কষায়ে লিপ্ত হয়ে গমনাগমন করে। ক্রোধ, অভিমান, মোহ, লোভ ও অশুভকে মন্দ-কষায় বলে এবং ক্রোধহীনতা, নিরভিমান, মোহমুক্তি, নির্লোভতা প্রভৃতি শুভ-কষায়। Read the rest of this entry »
.
| জৈনদর্শন: পর্ব-০৬ | জৈনমতে জীব-অজীব তত্ত্বের বিচার |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.২ : জৈনমতে অজীবতত্ত্ব (Theory of Non-living)
.
জৈনমতে (Jainism) অস্তিকায় ও অনস্তিকায় এই দুই প্রকার দ্রব্যের মধ্যে অস্তিকায়কে দুই ভাগ করে জীব ও অজীব দেখানো হলেও কোন কোন জৈন দার্শনিকের মতে তত্ত্ব দুটি- জীব ও অজীব। জীব হচ্ছে বোধস্বরূপ এবং অজীব হচ্ছে চৈতন্যহীন অবোধস্বরূপ।
অস্তিকায় অজীব চার প্রকার- পুদ্গল, আকাশ, ধর্ম, অধর্ম। আর অনস্তিকায় অজীব একটিই, কাল। অতএব অজীব তত্ত্ব মোট পাঁচটি। এই অজীব হচ্ছে জীবনহীন ও জ্ঞানহীন। Read the rest of this entry »
.
| জৈনদর্শন: পর্ব-০৫ | জৈন পরাতত্ত্ব |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.০ : জৈন পরাতত্ত্ব
.
জৈনদর্শনে তত্ত্বের (metaphysics) দুই, পাঁচ, সাত ও নয়টি ভেদের কথা আলোচিত হয়েছে। কারো মতে জীব ও অজীব নামে দু’টি মূল তত্ত্ব। অন্য মতে জীব, আকাশ, ধর্ম, অধর্ম ও পুদ্গল এই পাঁচটি অস্তিকায় এবং অনস্তিকায় কাল মিলে- মোট ছয়টি দ্রব্য হচ্ছে মূল তত্ত্ব। কোন কোন জৈন দার্শনিক আবার জীব, অজীব, আস্রব, বন্ধ, সম্বর, নির্জর ও মোক্ষ এই সাতটি তত্ত্ব বর্ণনা করেন। যেমন, উমাস্বাতি বলেন-  
‘জীবাজীবাস্ররববন্ধসংবরনির্জরমোক্ষাস্তত্ত্বানি’।- (তত্ত্বার্থাধিগমসূত্র-১/৪)
অর্থাৎ : জীব, অজীব, আস্রব, বন্ধ, সম্বর, নির্জর ও মোক্ষ- এই হলো তত্ত্ব। 

কারো কারো মতে সুখ ও দুঃখের কারণ পুণ্য ও পাপকে সপ্ত তত্ত্বের সাথে যুক্ত করে নয়টি পদার্থ তত্ত্ব স্বীকার করা হয়েছে। জৈনদের সিদ্ধান্তগ্রন্থে জীব, অজীব, পুণ্য, পাপ, আস্রব, সম্বর, নির্জর, বন্ধ ও মোক্ষ এই নয়টি তত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে।
Read the rest of this entry »

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 214,169 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 88 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« নভে.    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check