h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘এলোমেলো ভাবনা’ Category

breath

তন্ত্র-সাধনা-১৩ : তন্ত্রে ষট্চক্র-ভেদ
রণদীপম বসু

আগেই বলা হয়েছে, ষট্চক্রভেদ অন্তর্যাগের প্রধান অঙ্গ। তন্ত্রে ষট্চক্রভেদ কথাটির অর্থ দাঁড়ায় সাধন-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ষট্চক্রকে ভেদ করা। এর মাধ্যমে সাধক সাধনায় সিদ্ধিলাভের পথে এগিয়ে যান। সেক্ষেত্রে আমাদেরকে প্রথমে জানতে হয় ‘ষট্চক্র’ কী?
তন্ত্রে ষট্চক্রের বিষয় যেভাবে বর্ণিত আছে তার সারকথাংশ হলো,– ‘মেরুদণ্ডের দুই দিকে ইড়া ও পিঙ্গলা নামে দুইটি নাড়ী আছে। ঐ ইড়ার দক্ষিণে এবং পিঙ্গলার বামভাগে সুষুম্না নাড়ী মস্তক পর্যন্ত ব্যাপ্ত হইয়া রহিয়াছে। এই সুষুম্না নাড়ীর মধ্যে বজ্রাখ্যা নাড়ী ও তাহার অভ্যন্তরে চিত্রিণী নামে একটি নাড়ী অবস্থিত আছে। শরীরের মধ্যে স্থান-বিশেষে সুষুম্না নাড়ীতে গ্রথিত সাতটি পদ্ম কল্পনা করা হইয়াছে। আধার, স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধ, আজ্ঞা ও সহস্র-দল।’- (অক্ষয় কুমার দত্ত / ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়) Read the rest of this entry »

Advertisements

12036388_599453590192699_2018805320632722878_n

তন্ত্র-সাধনা-১২ : তন্ত্রে নৈবেদ্য-উপচার বা বলি-প্রদান
রণদীপম বসু

তন্ত্রে ইষ্টদেবতার উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য বা বলি প্রদান ছাড়া পূজা সম্পাদন অচিন্ত্যনীয়। আগেই বলা হয়েছে, বীরাচারীদের সাথে পশ্বাচারীদের বিশেষ পার্থক্য হলো, বীরাচারে মদ্য-মাংসের ব্যবহার আছে, পশ্বাচারে তা নিষিদ্ধ। কিন্তু উভয় আচারেই পশু-বলির বিধান আছে।
এখানে উল্লেখ্য, বলি মানে উৎসর্গ, ইষ্টদেবতার প্রতি সাধকের প্রিয় বস্তুর উৎসর্গ। শাস্ত্রে বলা হয়, বলি দুই প্রকার– রাজসিক ও সাত্ত্বিক। মাংস-রক্তাদিবিশিষ্ট বলিকে রাজসিক, এবং মুদ্গ, পায়েস, ঘৃত, মধু ও শর্করাযুক্ত রক্ত-মাংসাদি বর্জিত বলিকে সাত্ত্বিক বলি বলা হয়। সমাচারতন্ত্রে বলা হয়েছে–

সাত্ত্বিকোবলিরাখ্যাতো মাংসরক্তাদিবর্জিতঃ।- (সমাচারতন্ত্র)
অর্থাৎ : রক্ত-মাংসাদি বর্জিত বলি সাত্ত্বিক বলি বলিয়া উক্ত হইয়াছে।

Read the rest of this entry »

*

BLACK_FOREST

তন্ত্র-সাধনা-১১ : তন্ত্রে পূজা
রণদীপম বসু

তন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করে প্রতিদিন ইষ্টদেবতার পূজা করতে হয়। এর ফলে ইষ্টনিষ্ঠা ও ভক্তি বৃদ্ধি হয়ে সাধকের তন্ময়তা জন্মে। কিন্তু এই পূজাপদ্ধতি মন্ত্র ও দেবতাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তান্ত্রিক সাধকের পূজা দুই প্রকার– বাহ্য পূজা ও অন্তর্যাগ বা মানস-পূজা।
‘গন্ধ, পুষ্প, ভক্ষ্য, পানীয় প্রদানাদি দ্বারা যে পূজা হয়, তাহাই বাহ্য পূজা, এবং চিৎরূপ পুষ্প, প্রাণরূপ ধূপ, তেজোরূপ দীপ, বায়ুরূপ চামর, প্রভৃতি কল্পিত উপচারাদি দ্বারা যে আন্তরিক সাধন, তাহার নাম অন্তর্যাগ। ষট্চক্রভেদ এই অন্তর্যাগের প্রধান অঙ্গ।’- (অক্ষয় কুমার দত্ত / ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়) Read the rest of this entry »

11014894_595803560557702_6645515568049066554_n

তন্ত্র-সাধনা-১০ : তান্ত্রিক আচার-সাধন
রণদীপম বসু

তন্ত্রসাহিত্যে তান্ত্রিক উপাসক-গোষ্ঠীর সাত প্রকার বিভাগ (যথা– বেদাচার, বৈষ্ণবাচার, শৈবাচার, দক্ষিণাচার, বামাচার, সিদ্ধান্তাচার, কৌলাচার) নির্দিষ্ট হলেও ব্যবহারিকভাবে তাঁদের দুইটি প্রধান বিভাগই পরিলক্ষিত হয়– দক্ষিণাচারী ও বামাচারী। এই সাতটি বিভাগের প্রথম চারটি (বেদাচার, বৈষ্ণবাচার, শৈবাচার, দক্ষিণাচার) যার মধ্যে দক্ষিণাচারও আছে, প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণাচারী পর্যায়ভুক্ত। আর শেষ তিনটি (বামাচার, সিদ্ধান্তাচার, কৌলাচার) যার মধ্যে বামাচারও আছে, তাঁরা বামাচারী সম্পর্কিত।
‘সৌন্দর্যলহরীর সুবিখ্যাত ভাষ্যকার লক্ষ্মীধর আবার তান্ত্রিক উপাসকদিগকে তিনভাগে বিভক্ত করিয়াছেন; এই তিনভাগের নাম– সময়াচার, মিশ্রাচার ও কৌলাচার। সময়াচারী বা সময়িগণ এক হিসাবে দক্ষিণাচার পর্যাভুক্ত বলিয়া গণ্য হইতে পারেন। তৃতীয় বিভাগের অন্তর্ভুক্ত কৌলগণ বামাচারী পর্যায়ের।’- (জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়/ পঞ্চোপাসনা) Read the rest of this entry »

12039374_596710877133637_3107122657114716968_n

তন্ত্র-সাধনা-০৯ : তন্ত্রের সপ্ত-আচার
রণদীপম বসু

আচার বলতে শাস্ত্রবিহিত অনুষ্ঠেয় কতকগুলি কার্যকে বোঝায়। অর্থাৎ শাস্ত্রে যে কার্যগুলি বিধেয় বলে নির্দিষ্ট আছে এবং অবশ্যই যার অনুষ্ঠান করতে হবে, তাকেই আচার বলে। আবার শাস্ত্রবিধি-বিগর্হিত কার্যকেও আচার বলে, কিন্তু তা কদাচার। অতএব আচার বলতে শাস্ত্রবিধিবিহিত অনুষ্ঠেয় কার্যসমষ্টিকেই বুঝিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বক্তব্য হলো–
‘তন্ত্রে সাতটি আচারকে স্বীকার করা হয়, কুলার্ণব মতে সেগুলি হল বেদ, বৈষ্ণব, শৈব, দক্ষিণ, বাম, সিদ্ধান্ত ও কৌল। প্রথম তিনটি পশুভাবের মানুষদের জন্য, চতুর্থ ও পঞ্চমটি বীরভাবের মানুষদের জন্য, ষষ্ঠ ও সপ্তমটি দিব্যভাবের মানুষদের জন্য। প্রথম আচারটি হল দেহ ও মনের শুচিতার জন্য, দ্বিতীয়টি ভক্তির জন্য, তৃতীয়টি জ্ঞানের জন্য, চতুর্থটি প্রথম তিনটির সমন্বয়, পঞ্চমটি ত্যাগের জন্য, ষষ্ঠটি ত্যাগের উপলব্ধির জন্য এবং সপ্তমটি মোক্ষের জন্য নির্দিষ্ট। পরশুরামকল্পে বলা হয়েছে প্রথম পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুর সাহচর্য ও নির্দেশ লাগে, কিন্তু শেষ দুটি ক্ষেত্রে সাধক স্বাধীন। আচারের এই সাতটি স্তরকে অন্যভাবে বলা হয় আরম্ভ, যৌবন, প্রৌঢ়, প্রৌঢ়ান্ত, উন্মনী ও অনবস্থা। সৌন্দর্যলহরীর টীকাকার লক্ষ্মীধর আবার অন্যরকম উপাসক ভাগ করেছেন– সময়াচার, মিশ্রাচার এবং কৌলাচার।’- (ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রাচীন ভারতীয় প্রেক্ষাপট/ পৃষ্ঠা-১৬৮) Read the rest of this entry »

12027707_598650430273015_4451892500587454899_n

তন্ত্র-সাধনা-০৮ : তন্ত্রে ভাবত্রয়
রণদীপম বসু

মানসিক ধর্মের নাম ভাব। তন্ত্রে ভাব শব্দে জ্ঞানেরই অবস্থাবিশেষ বলে বর্ণনা করা হয়। বামকেশ্বরতন্ত্রে বলা হয়েছে–

ভাবো হি মাসসো ধর্মো মনসৈব সদাভ্যসেৎ।- (বামকেশ্বরতন্ত্র)
অর্থাৎ : মানসিক ধর্মের নাম ভাব, তা মনের দ্বারাই অভ্যাস করতে হয়।

তন্ত্রানুসারে ভাব তিনপ্রকার– দিব্যভাব, বীরভাব ও পশুভাব। ভাবের প্রকার নির্দেশ করতে গিয়ে রুদ্রযামলে বলা হয়েছে–

শক্তিপ্রাধান্যাৎ ভাবানাং ত্রয়াণাং সাধকস্য চ।
দিব্যবীরপশুনাঞ্চ ভাবত্রয়মুদাহৃতম্ ।।- (রুদ্রযামল)
অর্থাৎ : সাধকের ক্ষমতানুসারে দিব্য, পশু, বীরক্রমে ভাব তিনপ্রকার বলে কথিত হয়েছে।

Read the rest of this entry »

11998833_594748200663238_4185119916753413662_n

তন্ত্র-সাধনা-০৭ : তন্ত্রে দীক্ষা ও অভিষেক
রণদীপম বসু

তন্ত্রে যে গুরুবাদ অত্যন্ত প্রবল, তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ্য যে, শক্তিমন্ত্রের উপাসকগণের দীক্ষার সঙ্গে শাক্তাভিষেক হওয়াও কর্তব্য মনে করা হয়। কেননা পূর্ণাভিষেক ব্যতীত কুলকর্মের অধিকার হয় না। যাঁর পূর্ণাভিষেক হয়েছে তিনিই কৌলকুলার্চক। তাই বামকেশ্বরতন্ত্রে বলা হয়েছে–

অভিষেকং বিনা দেবি কুলকর্ম করোতি যঃ।
তস্য পূজাদিকং কর্ম অভিচারায় কল্প্যতে।।
অভিষেকং বিনা দেবি সিদ্ধবিদ্যাং দদাতি যঃ।
তাবৎ কালং বসেদ্ ঘোরে যাবচ্চন্দ্রদিবাকরৌ।।- (বামাকেশ্বরতন্ত্র)
অর্থাৎ : অভিষিক্ত (পূর্ণাভিষিক্ত) না হয়ে যে-ব্যক্তি কুলকর্মের অনুষ্ঠান অর্থাৎ তান্ত্রিক মতে উপাসনা করে, তার জপ-পূজাদি অভিচারস্বরূপ হয়। আর যে ব্যক্তি অভিষেক ব্যতীত দশবিদ্যার কোন মন্ত্রদীক্ষা দেয়, সে ব্যক্তি যাবৎ চন্দ্রসূর্য থাকিবে, তাবৎ কাল নরকে বাস করিবে।

Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 193,445 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 77 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check