h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘এলোমেলো ভাবনা’ Category

Nalonda-bihar

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ১৩
-রণদীপম বসু

(১৩)
বাঙলায় পাঠান-আমলের সর্বশেষ শাসনকর্তা ছিলেন আবুল মুজফ্ফর দায়ুদ খাঁ শাহ (১৫৭৩-৭৬ খ্রি)। এই দায়ুদ খাঁ’র মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাঙলায় পাঠান রাজত্বের অবসান ঘটে এবং বাঙলা মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাঠানদের রাজত্বকাল সম্পর্কে পণ্ডিত রজনীকান্ত চক্রবর্তীর মন্তব্য হলো–
‘পাঠান রাজত্বকালকে তিন ভাগে বিভক্ত করা যাইতে পারে, ১ম ভাগ– ১১১৯ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৩৩৯ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত যাঁহারা রাজত্ব করেন, তাঁহারা দিল্লীর সম্রাটের অধীনতা স্বীকার করিতেন। কেহ কেহ স্বাধীনতা অবলম্বনের চেষ্টা করিতেন, কিন্তু তাহাতে কৃতকার্য্য হইতে পারিতেন না। ২য় ভাগ– ১৩৩৯ খৃষ্টাব্দ হইতে ১৫৩৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত গৌড়াধিপগণ সম্পূর্ণ স্বাধীন ছিলেন, দিল্লীশ্বরগণ সম্পূর্ণরূপে তাহাদের স্বাধীনতা স্বীকার করিতেন। ৩য় ভাগ– গৌড়েশ্বরদের মধ্যে কেহ কেহ দিল্লীর অধীনতা স্বীকার করিতেন, কেহ দিল্লীর সম্রাটকে উপহারাদি দিয়া সন্তুষ্ট করিতেন। সাঁইত্রিশ বৎসর পর্য্যন্ত এই ভাবে চলে, দায়ুদ খাঁ সম্রাটের সঙ্গে বিবাদ করিতে গিয়া ধনে প্রাণে মারা যান।’– (গৌড়ের ইতিহাস, পৃষ্ঠা-২৬৭) Read the rest of this entry »

1200px-Entry_gate_at_Gaur,_Malda.

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ১২
-রণদীপম বসু

(১২)
আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯ খ্রি) বঙ্গের ইতিহাসে বিখ্যাত ব্যক্তি। কেননা, তাঁর রাজত্বকালেই চৈতন্যদেব বঙ্গদেশ প্রেমের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বাদশা মুজাফ্ফর শাহ-এর উজীর। মুজাফ্ফর শাহ নিহত হলে হোসেন শাহ সর্বসম্মতিক্রমে সিংহাসনে আরোহণ করেন। মুজাফ্ফর শাহ কর্কশ স্বভাব, ধনলোভী, রক্তপিপাসু নিষ্ঠুর রাজা ছিলেন। হোসেন শাহ তাঁকে প্রজাগণের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে পরামর্শ দিতেন বলে জানা যায়, এজন্য হোসেন শাহ আগে থেকেই সবার প্রীতিভাজন ছিলেন। Read the rest of this entry »

436baaa553b03576d86dfc0f2534a02e

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ১১
-রণদীপম বসু

(১১)
১২০৫ সালে নিজেরই লোক আলিমর্দান খলজির বিশ্বাসঘাতকতায় বখতিয়ার খলজি নিহত হন। এর পরেই শুরু হয়ে যায় সিংহাসনের জন্যে ষড়যন্ত্র, গুপ্তহত্যা, রক্তাক্ত যুদ্ধ ও হত্যাকাণ্ড। দেখা যাচ্ছে–
‘পাঠানেরা গৌড়-রাজ্য অধিকার করিয়া আপনাদের মধ্যে ভাগ করিয়া লয়, অত্যল্প স্থান রাজার খাসে থাকে। সেনানীরা স্ব স্ব অধিকৃত স্থানে দুর্গ নির্ম্মাণ করিয়া, প্রায় স্বাধীনভাবে বাস করিতে থাকে। যুদ্ধের সময়, ইহারা সেনাদ্বারা গৌড়-রাজের সহায়তা করিত; রাজ-নির্ব্বাচন প্রভৃতি বড় বড় কার্য্যে রাজধানীতে সমবেত হইত। ভূ-সম্পত্তির লোভে মধ্য-আসিয়া হইতে মধ্যে মধ্যে সাহসী বীরপুরুষগণ হিন্দুস্থানে আসিতেছিল। গৌড়ের রাজা হইতে আরম্ভ করিয়া এই সকল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভূম্যধিকারিগণ পর্য্যন্ত প্রজাগণকে নিপীড়িত করিত। প্রজাদের জন্য না হউক, সেনাগণের যাতায়াতের সুবিধার জন্য, মধ্যে মধ্যে প্রশস্ত বর্ত্ম নির্ম্মিত হইত। ১৩৩০ খৃষ্টাব্দ পর্য্যন্ত দক্ষিণ-বেহার, কখন কখন শারণ পর্য্যন্ত উত্তরবেহার গৌড়র পাঠান রাজাদের অধীন থাকিত। গৌড়ব্যতীত, সুবর্ণগ্রাম ও সপ্তগ্রাম বাঙ্গালার দুইটি প্রধান নগর ছিল; দেবকোট ভগ্নাবস্থায় পতিত হইতেছিল। পাঠানেরা নিতান্ত গোঁড়া মুসলমান ছিল। অধীন প্রজাদের আচার ব্যবহারের প্রতি উহাদের কিছুমাত্র সহানুভূতি ছিল না।’– (রজনীকান্ত চক্রবর্তী, গৌড়ের ইতিহাস, পৃষ্ঠা-১৯৩) Read the rest of this entry »

Screenshot_79

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ১০
-রণদীপম বসু

(১০)
১২০১ সালে বখতিয়ার খলজি বিহার ও বাঙলাদেশ বিজয়ের জন্য অভিযান শুরু করে রাজা লক্ষ্মণসেনকে পরাজিত করে বাঙলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি প্রথমে (লক্ষ্মণসেনকে বিতাড়িত করে) নবদ্বীপ, তারপরে নদীয়া ও বাঙলার প্রাচীন ও ঐতিহাসিক রাজধানী গৌড় দখল করার অল্পদিন পরেই বরেন্দ্রভূমি জয় করে দেবকোটে রাজধানী স্থাপন করেন। গবেষকদের মতে, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন একজন ভাগ্যান্বেষী উচ্চাকাঙ্খী তুর্কী যোদ্ধা। গজনীর সুলতান শিহাবউদ্দিন মুহাম্মদ ঘোরী দিল্লী ও আজমীর অধিকার করে কুতবুদ্দিন আইবেককে দিল্লীতে নিজের প্রতিনিধি রেখে গজনীতে ফিরে গেলে, বখতিয়ার খলজি কুতবুদ্দিনের অন্যতম সেনাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। যতদূর জানা যায়,– Read the rest of this entry »

ballal-dhibi

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৯
-রণদীপম বসু

(৯)
পালবংশের পতনের পর বাঙলায় সেনবংশ রাজত্ব করে। এরাও প্রতাপশালী রাজা ছিলেন। তবে সেনরাজারা পালরাজাদের মতো উদার আবহাওয়ায় রাজত্ব চালালেন না। জানা যায়, প্রথম সেনরাজ বিজয়সেনের রাজধানীর ছিল বিজয়পুর। পরবর্তীকালে রাজধানী হয় বিক্রমপুর (বাংলাদেশের বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলায়)। কারও কারও মতে সেনবংশের পরবর্তী রাজা বল্লালসেনের রাজধানী ছিল নবদ্বীপ, এবং পরবর্তীকালে সেনরাজারা আবারও বিক্রমপুরে চলে এসেছিলেন। এই সেন-আমলেই বাঙলাদেশে আবার ব্রাহ্মণ্য ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক নীহাররঞ্জন রায় বলেন– Read the rest of this entry »

800px-Indian_Kanauj_triangle_map.svg

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৮
-রণদীপম বসু

(৮)
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর গৌড় ও মগধের (বিহার) অধিকার নিয়ে প্রায় কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। মঞ্জুশ্রীমূলকের গ্রন্থকার মানব নামে শশাঙ্কের এক পুত্রের নাম করেছেন; এই পুত্র নাকি ৮ মাস ৫ দিন রাজত্ব করেছিলেন। অন্য কোনও সাক্ষ্যে এ তথ্যের উল্লেখ না থাকায় বিষয়টির ঐতিহাসিক সত্যতা নিশ্চিত নয়। তবে, শশাঙ্কের মৃত্যুর পর পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ ও অবিশ্বাসে গৌড়তন্ত্র বিনষ্ট হয়ে গিয়েছিল, মঞ্জুশ্রীমূলকের এই সাক্ষ্য অবিশ্বাস্য নয় বলেই মনে হয়। জানা যায়, ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে য়ুয়ান-চোয়াঙ (হিউয়েন সাঙ) যখন বাঙলাদেশ ভ্রমণে আসেন তখন এই দেশ পাঁচটি বিভাগে বিভক্ত– কজঙ্গল, পুণ্ড্রবর্ধন, কর্ণসুবর্ণ, তাম্রলিপ্তি ও সমতট। এই পাঁচটি জনপদের কোনোটিরই রাজা বা রাষ্ট্র সম্বন্ধে য়ুয়ান-চোয়াঙ কিছু বলেননি। পাঁচটি জনপদের মধ্যে এক সমতট ছাড়া আর বাকি চারটিই নিঃসন্দেহে শশাঙ্কের রাজ্যান্তর্গত ছিল। মনে হয়, তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রত্যেকটি জনপদই স্বাধীন ও স্বতন্ত্রপরায়ণ হয়ে উঠে। Read the rest of this entry »

668px-Bangladesh_map_ancient_(from_Banglapedia)

ইতিহাসের ঝুল-বারান্দায় বাঙলা ও বাঙালি- ০৭
-রণদীপম বসু

(৭)
দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের পুত্র প্রথম কুমারগুপ্তের আমল থেকে একেবারে প্রায় ষষ্ঠ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাঙলার গুপ্ত রাজত্বের প্রধানতম কেন্দ্র ছিল পুণ্ড্রবর্ধন। যদিও গুপ্তসম্রাটগণের আমলে বাঙলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলই একত্রিত হয়েছিল, তথাপি গুপ্তসম্রাট স্কন্দগুপ্তের পর যখন গুপ্তসাম্রাজ্যের ভাঙন ঘটলো, তখন বাঙলাদেশের বিভিন্ন অংশে স্বতন্ত্র রাজ্য গড়ে উঠলো।
‘খ্রীস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিকে দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সাতখানা তাম্রশাসন থেকে এই রাজ্যের তিনজন ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধিধারী রাজার নাম পাওয়া যায়। তাঁরা হচ্ছেন ধর্মাদিত্য, গোপচন্দ্র ও সমাচারদেব। তাঁদের এলাকাভুক্ত ছিল কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলা)। এটাই তখনকার দিনের বঙ্গরাজ্য ছিল। বোধ হয়, একেই কেন্দ্র করে খ্রীস্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে মহারাজ শশাঙ্ক গৌড়সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।’– (ড. অতুল সুর, বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন, পৃষ্ঠা-২৮) Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 557,472 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 141 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2020
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos