h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Archive for the ‘এলোমেলো ভাবনা’ Category

tumblr_oyn2ikgd911sjjdtyo1_500
শিব ও লিঙ্গ-৯/৮ : কাশ্মীর শৈববাদ
রণদীপম বসু

খ্রিস্টীয় নবম শতকে উত্তর ভারতের কাশ্মীর প্রদেশে একদল শৈবাচার্যের আবির্ভাবের মাধ্যমে কাশ্মীর শৈববাদের উদ্ভব বলে মনে করা হয়। এই আচার্যদের অন্তরস্থ শিবপ্রেম দার্শনিক তত্ত্বের আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। এই আচার্যগোষ্ঠী প্রচারিত শৈবদর্শন এবং ধর্মাচরণ সম্পূর্ণভাবে উগ্রতা ও অতিমার্গিতা দোষ থেকে মুক্ত ছিল। এই মতবাদ বেদ প্রামাণ্য স্বীকার করে না, জাতিভেদও নয়। ত্রিক, স্পন্দ ও প্রত্যভিজ্ঞা– এই তিনটি আদর্শ কাশ্মীর শৈববদাকে চিহ্নিত করেছে, এবং তিনটি নামেই এই মতবাদকে বোঝানো হয়। যদিও প্রত্যভিজ্ঞাদর্শন, স্পন্দবাদ, ত্রিকশাস্ত্র, ষড়র্দ্ধশাস্ত্র, শৈবাদ্বৈতবাদ, আভাসবাদ, কাশ্মীরীয় শৈবাগম– এই কয়েকটি নামে আলোচ্য মতবাদটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। Read the rest of this entry »

Advertisements

image6
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৭ : বীরশৈব বা লিঙ্গায়ৎ সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

মধ্যযুগে দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক অঞ্চলে অনেকটা জঙ্গী ধরনের একটি শৈব সম্প্রদায় গড়ে ওঠে, যার নাম বীরশৈব বা লিঙ্গায়ৎ। এদেরকে লিঙ্গবন্ত ও জঙ্গম নামেও অভিহিত করা হয়। ভারতীয় সুপ্রাচীন কোন গ্রন্থে বা শৈবাগম শাস্ত্রে এই লিঙ্গায়ৎ ধর্ম ও সম্প্রদায়ের কোন উল্লেখ না থাকলেও এটি অনেক পুরাতন যুগের ঐতিহ্যবাহী বলে মনে করা হয়, যে ঐতিহ্যকে একটি সুনির্দিষ্ট রূপ দিয়েছিলেন বসব বা বাসব নামক একজন কন্নড় দেশীয় ব্রাহ্মণ। তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কর্ণাটক থেকে জৈনদের উৎখাত করা, এবং দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল একটি আদর্শ সমাজ ব্যবস্থা স্থাপন। দুটি উদ্দেশ্যই বহুলাংশে সিদ্ধ হয়েছিল বলে মনে করা হয়। Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-full-HD-wallpaper
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৬ : শুদ্ধশৈব বা শিবাদ্বৈত সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

দক্ষিণ ভারতে শুদ্ধশৈব নামে অপর একটি শৈব মত ও সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। শিব পুরাণের অন্যতম অংশ বায়বীয় সংহিতা তাঁদের প্রামাণ্য শাস্ত্রগ্রন্থ, এবং এই মতের সর্বশ্রেষ্ঠ আদি ব্যাখ্যাতা ছিলেন শ্রীকণ্ঠ শিবাচার্য। তিনি ‘ব্রহ্মমীমাংসা’ নামে বেদান্তসূত্রের স্বকৃত ভাষ্য রচনা করেছিলেন, যার উপর শৈবধর্মের ভিত্তি স্থাপনের প্রয়াস পেয়েছিলেন। ষোড়শ শতকের অপ্পয় দীক্ষিত এই ব্রহ্মমীমাংসা-ভাষ্যের নিজস্ব ভাষ্য রচনা করেছিলেন।
ব্রহ্মসূত্র বা বেদান্তসূত্রের উপর রচিত শ্রীকণ্ঠের ভাষ্য বহুলাংশে রামানুজের বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের অনুরূপ, তবে রামানুজ যেমন চরম অদ্বয়বাদ ও দ্বৈতবাদের মধ্যবর্তী পথ গ্রহণ করেছিলেন, শ্রীকণ্ঠের মত একটু বেশি অদ্বয় ঘেঁষা, বরং তাঁকে অদ্বৈতবাদী আচার্য শঙ্কর ও বিশিষ্টাদ্বৈতবাদী রামানুজ আচার্যের মধ্যবর্তী পর্যায়ে ফেলা যায় বলে অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের অভিমত। Read the rest of this entry »

MV_-_Uma-Maheshvara
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৫ : আগমান্ত শৈব সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

খ্রিস্টীয় একাদশ-দ্বাদশ শতক থেকে দক্ষিণ ভারতে আরও একটি শৈব মত প্রতিষ্ঠালাভ করে যা আগমান্ত শৈবধর্ম নামে খ্যাত। এই মত মূলত শৈব সিদ্ধান্ত অনুসারী, কিন্তু এই মতের সাধকরা তন্ত্রের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তাঁদের আদি এলাকা ছিল গোদাবরী তীরে মন্ত্রকালী নামক অঞ্চল। এই মতের প্রথম প্রামাণ্য গ্রন্থ দ্বাদশ শতকের অঘোর শিবাচার্য বিরচিত ক্রিয়াকর্মদ্যোতিনী। এছাড়া ত্রিলোচন শিবাচার্যের সিদ্ধান্তসারাবলী, নিগম-জ্ঞানদেবের জীর্ণোদ্ধারদশকম প্রভৃতিও এই সম্প্রদায়ের প্রামাণ্য গ্রন্থ। অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনায়– Read the rest of this entry »

shiva
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৪ : শৈব সিদ্ধান্ত বা তামিল শৈব সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

নায়নার সম্প্রদায়ী শৈব সাধকদের রচনাবলী তিরুমুরাই থেকে কালক্রমে দক্ষিণ ভারতে একটি বিশেষ ধরনের শৈব মতবাদ গড়ে উঠেছিল যা শৈব সিদ্ধান্ত নামে পরিচিত। তাঁদের পবিত্র শাস্ত্রের নাম সিদ্ধান্তশাস্ত্র এবং তা চৌদ্দটি খণ্ডে সংকলিত। এই সব ক’টি সংখ্যার রচয়িতাগণ একত্রে সন্তান-আচার্য নামে পরিচিত। এই আচার্যগোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন চারজন– ম্যেকণ্ডদেবর, অরুড়্ণন্দি, মরয়জ্ঞানসম্বন্ধর এবং উমাপতি। চৌদ্দটি সিদ্ধান্ত শাস্ত্রের মধ্যে অধিকাংশই তাঁদের রচিত। ১২২৩ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁদের আবির্ভাবকাল এবং প্রায় শতাব্দীকাল ধরে তাঁরা পরম্পরাক্রমে শৈব সিদ্ধান্ত মত প্রচার করেছিলেন। নায়নারদের স্তোত্রসংগ্রহ যেরূপ প্রধানত ভক্তিরসাত্মক, সিদ্ধান্তশাস্ত্রগুলি তেমনি শৈবতত্ত্ব ও দর্শনমূলক। সিদ্ধান্তশাস্ত্রাবলীর সাথে আবার আগমান্ত ও শুদ্ধশৈব ধর্মদর্শনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণনায়– Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-had-a-sister-nam
শিব ও লিঙ্গ-০৯/৩ : নায়নার সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

বিভিন্ন উগ্রপন্থী শৈব গোষ্ঠীর প্রাদুর্ভাব যে সুপ্রাচীন কালে প্রথমে উত্তর, পশ্চিম ও পূর্ব-ভারতের বিভিন্ন অংশে প্রবল হয় তা ইতঃপূর্বেকার শৈব-সম্প্রদায়ের আলোচনা থেকে আমরা ধারণা করতে পারি। দক্ষিণ ভারতেও তা ছড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়। তবে কোনও বিশেষ শৈব সম্প্রদায়ের ধর্মানুষ্ঠান রূপে শিবপূজার কথা ছেড়ে দিলেও সাধারণভাবে এই দেবতার পূজা তামিল, তেলেগু, কানাড়ী প্রভৃতি ভাষাভাষী অঞ্চলে সুপ্রাচীনকালে থেকেই প্রচলিত ছিল। কারও কারও মতে দেবতা হিসেবে শিব নামটি ‘রক্তবর্ণ’ এই অর্থবাচক তামিল শব্দ ‘শিবপ্পু’ থেকে গৃহীত। এ মত সত্য হলে, অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে,–
‘শিব যে অনার্য দ্রাবিড়গণের পূজার দেবতা ছিলেন ইহা স্বীকার করিতে কোনও বাধা থাকে না। মহাকাব্য ও পুরাণাদিতে বর্ণিত দক্ষযজ্ঞ বিনাশের কাহিনীও বৈদিক দেবতা হইতে শিবের পার্থক্য নির্দিষ্ট করে। বৈদিক দেবতামণ্ডলীর অপাংক্তেয় শিবের আদিম অনার্য রূপ সম্বন্ধেও ইহা সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে। আর্য ও অনার্য, জেতা ও বিজিত, জাতির ঘনিষ্ঠ সংমিশ্রণের ফলে শিব ভারতীয় জনসমাজে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেবতা রূপে পরিগণিত হন। এদিক দিয়া বিচার করিলেও ভারতবর্ষের দক্ষিণাংশে শিবপূজার প্রাচীনত্ব সহজেই স্বীকৃত হয়।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৭১) Read the rest of this entry »

Lord-Shiva-Face-and--Shivling-with-Dark-Background-HD-Wallpaper
শিব ও লিঙ্গ-০৯/২ : কাপালিক, কালামুখ, মত্তময়ূর সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

শৈব-সম্প্রদায় প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ইতঃপূর্বে কেশীসূক্ত নামে পরিচিত ঋগ্বেদের একটি সূক্ত (ঋগ্বেদ-১০/১৩৬) তর্জমাসহ উদ্ধৃত করে তার উপর আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে অধ্যাপক জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করে দেখিয়েছেন যে, এই সূক্তে ধূলিমলিন পিঙ্গলবস্ত্র পরিহিত, দীর্ঘকেশযুক্ত, উন্মত্তপ্রায় একশ্রেণীর মুনির ইঙ্গিত আছে যাদের হয়তো পাশুপত ব্রতধারী রুদ্রশিব পূজকদের পূর্বসূরী হিসেবে গণ্য করা যায়, বিশেষ করে যখন এখানে কেশীমুনির সঙ্গে রুদ্রের বিষপানের ঐতিহ্যকে সম্পর্কিত করা হয়েছে। তিনি আরও দেখিয়েছেন, পতঞ্জলি আয়ঃশূলিক (লৌহ-ত্রিশূলধারী) এবং দণ্ডাজিনিক (দণ্ডধারী ও পশুচর্ম পরিধানকারী) শিবভাগবতের ধর্মাচরণ সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন কটাক্ষপাত করেছেন, যে আচরণ পরবর্তীকালের লকুলীশ পাশুপত শৈবদের ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করেছি। ক্রাথন-স্পন্দন-মণ্ডন-শৃঙ্গারণ-অবিত্তকরণ-অবিতদ্ভাষণাদি পাশুপত চর্যাসমূহ সুস্পষ্টভাবেই কৌণ্ডিন্য কর্তৃক ব্রাহ্মণ্যকর্মবিরুদ্ধ হিসেবে উল্লিখিত হয়েছে। Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 345,314 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 113 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

ডিসেম্বর 2018
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Error: Twitter did not respond. Please wait a few minutes and refresh this page.

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements