h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

Author Archive

12039374_596710877133637_3107122657114716968_n

তন্ত্র-সাধনা-০৯ : তন্ত্রের সপ্ত-আচার
রণদীপম বসু

আচার বলতে শাস্ত্রবিহিত অনুষ্ঠেয় কতকগুলি কার্যকে বোঝায়। অর্থাৎ শাস্ত্রে যে কার্যগুলি বিধেয় বলে নির্দিষ্ট আছে এবং অবশ্যই যার অনুষ্ঠান করতে হবে, তাকেই আচার বলে। আবার শাস্ত্রবিধি-বিগর্হিত কার্যকেও আচার বলে, কিন্তু তা কদাচার। অতএব আচার বলতে শাস্ত্রবিধিবিহিত অনুষ্ঠেয় কার্যসমষ্টিকেই বুঝিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বক্তব্য হলো–
‘তন্ত্রে সাতটি আচারকে স্বীকার করা হয়, কুলার্ণব মতে সেগুলি হল বেদ, বৈষ্ণব, শৈব, দক্ষিণ, বাম, সিদ্ধান্ত ও কৌল। প্রথম তিনটি পশুভাবের মানুষদের জন্য, চতুর্থ ও পঞ্চমটি বীরভাবের মানুষদের জন্য, ষষ্ঠ ও সপ্তমটি দিব্যভাবের মানুষদের জন্য। প্রথম আচারটি হল দেহ ও মনের শুচিতার জন্য, দ্বিতীয়টি ভক্তির জন্য, তৃতীয়টি জ্ঞানের জন্য, চতুর্থটি প্রথম তিনটির সমন্বয়, পঞ্চমটি ত্যাগের জন্য, ষষ্ঠটি ত্যাগের উপলব্ধির জন্য এবং সপ্তমটি মোক্ষের জন্য নির্দিষ্ট। পরশুরামকল্পে বলা হয়েছে প্রথম পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুর সাহচর্য ও নির্দেশ লাগে, কিন্তু শেষ দুটি ক্ষেত্রে সাধক স্বাধীন। আচারের এই সাতটি স্তরকে অন্যভাবে বলা হয় আরম্ভ, যৌবন, প্রৌঢ়, প্রৌঢ়ান্ত, উন্মনী ও অনবস্থা। সৌন্দর্যলহরীর টীকাকার লক্ষ্মীধর আবার অন্যরকম উপাসক ভাগ করেছেন– সময়াচার, মিশ্রাচার এবং কৌলাচার।’- (ধর্ম ও সংস্কৃতি, প্রাচীন ভারতীয় প্রেক্ষাপট/ পৃষ্ঠা-১৬৮) Read the rest of this entry »

Advertisements

12027707_598650430273015_4451892500587454899_n

তন্ত্র-সাধনা-০৮ : তন্ত্রে ভাবত্রয়
রণদীপম বসু

মানসিক ধর্মের নাম ভাব। তন্ত্রে ভাব শব্দে জ্ঞানেরই অবস্থাবিশেষ বলে বর্ণনা করা হয়। বামকেশ্বরতন্ত্রে বলা হয়েছে–

ভাবো হি মাসসো ধর্মো মনসৈব সদাভ্যসেৎ।- (বামকেশ্বরতন্ত্র)
অর্থাৎ : মানসিক ধর্মের নাম ভাব, তা মনের দ্বারাই অভ্যাস করতে হয়।

তন্ত্রানুসারে ভাব তিনপ্রকার– দিব্যভাব, বীরভাব ও পশুভাব। ভাবের প্রকার নির্দেশ করতে গিয়ে রুদ্রযামলে বলা হয়েছে–

শক্তিপ্রাধান্যাৎ ভাবানাং ত্রয়াণাং সাধকস্য চ।
দিব্যবীরপশুনাঞ্চ ভাবত্রয়মুদাহৃতম্ ।।- (রুদ্রযামল)
অর্থাৎ : সাধকের ক্ষমতানুসারে দিব্য, পশু, বীরক্রমে ভাব তিনপ্রকার বলে কথিত হয়েছে।

Read the rest of this entry »

11998833_594748200663238_4185119916753413662_n

তন্ত্র-সাধনা-০৭ : তন্ত্রে দীক্ষা ও অভিষেক
রণদীপম বসু

তন্ত্রে যে গুরুবাদ অত্যন্ত প্রবল, তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ্য যে, শক্তিমন্ত্রের উপাসকগণের দীক্ষার সঙ্গে শাক্তাভিষেক হওয়াও কর্তব্য মনে করা হয়। কেননা পূর্ণাভিষেক ব্যতীত কুলকর্মের অধিকার হয় না। যাঁর পূর্ণাভিষেক হয়েছে তিনিই কৌলকুলার্চক। তাই বামকেশ্বরতন্ত্রে বলা হয়েছে–

অভিষেকং বিনা দেবি কুলকর্ম করোতি যঃ।
তস্য পূজাদিকং কর্ম অভিচারায় কল্প্যতে।।
অভিষেকং বিনা দেবি সিদ্ধবিদ্যাং দদাতি যঃ।
তাবৎ কালং বসেদ্ ঘোরে যাবচ্চন্দ্রদিবাকরৌ।।- (বামাকেশ্বরতন্ত্র)
অর্থাৎ : অভিষিক্ত (পূর্ণাভিষিক্ত) না হয়ে যে-ব্যক্তি কুলকর্মের অনুষ্ঠান অর্থাৎ তান্ত্রিক মতে উপাসনা করে, তার জপ-পূজাদি অভিচারস্বরূপ হয়। আর যে ব্যক্তি অভিষেক ব্যতীত দশবিদ্যার কোন মন্ত্রদীক্ষা দেয়, সে ব্যক্তি যাবৎ চন্দ্রসূর্য থাকিবে, তাবৎ কাল নরকে বাস করিবে।

Read the rest of this entry »

12072728_600732200064838_8523909700116422764_n

তন্ত্র-সাধনা-০৬ : তন্ত্রে মন্ত্রার্থ ও মন্ত্রচৈতন্য
রণদীপম বসু

তন্ত্রে মন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ইতঃপূর্বেই বলা হয়েছে যে, দীক্ষা গ্রহণকালে শিষ্য গুরুর নিকট থেকে তাঁর ইষ্টদেবতার পরিচায়ক বীজমন্ত্র প্রাপ্ত হন। কিন্তু এই অসাধারণ মন্ত্রগুলি অতীব গুহ্য, গুহ্যাতিগুহ্য এবং তার প্রকৃত অর্থ দুর্বোধ্য। এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য গুরুর নিকট থেকেই শিখে নিতে হয়। কেননা তন্ত্রকারেরা তা গোপনে রাখবার উদ্দেশ্যে কতকগুলি নতুন শব্দ এবং অন্য কতকগুলো শব্দের নতুন অর্থ সৃষ্টি করেছেন। সেই সেই শব্দের সেইরূপ অর্থ তন্ত্র ছাড়া অন্য কোন শাস্ত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। তন্ত্রের এই যে মন্ত্ররহস্য, এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য বলে মনে করি–
‘তন্ত্রে মন্ত্রের স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রের দু’রকম শক্তি, বাচক ও বাচ্য, প্রথমটি দ্বিতীয়টির স্বরূপ প্রকাশ করে। দ্বিতীয়টি জ্ঞাতব্য, প্রথমটি জানার পদ্ধতি। মন্ত্রের বাচক সত্তা বাক্যের দ্বারা গঠিত, বাক্য শব্দের দ্বারা, শব্দ ধ্বনির দ্বারা। ধ্বনির সূক্ষ্মতর ও সূক্ষ্মতম পর্যায় দুটির নাম বিন্দু ও নাদ। ধ্বনির প্রকাশ হয় বর্ণে বা অক্ষরে, তাই বর্ণ বা অক্ষরই বীজ। বর্ণই ভাব ও রূপের স্রষ্টা ও তাদের থেকেই সিদ্ধ বীজমন্ত্রের বোধ বা জ্ঞান হয়। হ্রীং, ক্রীং, ঐং, শ্রীং, ক্লীং প্রভৃতি বীজ। বৃহৎ বটবৃক্ষ যেমন একটি ক্ষুদ্র বীজের মধ্যে সুপ্ত থাকে সেইরূপ সমুদয় তত্ত্ব ওই একাক্ষর বীজের মধ্যে বর্তমান। বর্ণমালাই মাতৃকা। পঞ্চাশটি বর্ণ মাতৃকাবর্ণ, দেবী সরস্বতীর অক্ষমালা বা দেবী কালীর মুণ্ডমালা। ধ্বনির গঠনকারী বিন্দু ও নাদের প্রকাশিত দিকটিই হচ্ছে বীজ, আর এই তিন একত্রে মিলেই শব্দব্রহ্ম, যা সর্বজীবাশ্রয়ী বস্তু ও চৈতন্য, তন্ত্রের বিশেষ ভাষায় যা ব্যাপিকাশক্তি কুণ্ডলিনী অথবা কুণ্ডলীরূপা কামকলা। বিন্দু হচ্ছে শিবের প্রতীক, বীজ হচ্ছে শক্তির প্রতীক আর নাদ হচ্ছে শিব-শক্তি সামরস্য (শারদাতিলক ২/১০৮-১১) Read the rest of this entry »

12032958_598706690267389_7077705607293271215_n

তন্ত্র-সাধনা-০৫ : তন্ত্রের মন্ত্র-সঙ্কেত
রণদীপম বসু

তন্ত্রসারে সংক্ষেপে দীক্ষা, পঞ্চায়তনী দীক্ষা প্রভৃতি কয়েক প্রকার দীক্ষাবিধির কথা বলা আছে। দীক্ষাদানের নানাবিধ পদ্ধতি তন্ত্রশাস্ত্রে দৃষ্ট হয়। স্থান, কাল, পাত্রেরও বিচার আছে। তবে দীক্ষাগ্রহণ বা দীক্ষাপ্রদান ইষ্টদেবতা অনুসারে ও গুরু-শিষ্য-প্রণালী ভেদে নানারকমের হয়ে থাকে। এখানে তার বর্ণনা বাহুল্য। দীক্ষা গ্রহণকালে শিষ্য গুরুর নিকট থেকে তাঁর ইষ্টদেবতার পরিচায়ক বীজমন্ত্র প্রাপ্ত হন। এই অসাধারণ মন্ত্রগুলি অতীব গুহ্য, গুহ্যাতিগুহ্য এবং তার প্রকৃত অর্থ দুর্বোধ্য। কেননা তন্ত্রকারেরা তা গোপনে রাখবার উদ্দেশ্যে কতকগুলি নতুন শব্দ এবং অন্য কতকগুলো শব্দের নতুন অর্থ সৃষ্টি করেছেন। সেই সেই শব্দের সেইরূপ অর্থ তন্ত্র ছাড়া অন্য কোন শাস্ত্রে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। Read the rest of this entry »

12042606_598648876939837_4014857095877206038_n

তন্ত্র-সাধনা-০৪ : তন্ত্রে গুরুবাদ
রণদীপম বসু

তান্ত্রিক শক্তি-উপাসনায় গুরুবাদ অত্যন্ত প্রবল। মহাশয় অক্ষয় কুমার দত্ত তাঁর তথ্যপূর্ণ ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’ গ্রন্থের দ্বিতীয়ভাগে শাক্ত-সম্প্রদায়ের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন–
‘শক্তির অর্থাৎ শিব-ভার্যার উপাসকদের নাম শাক্ত। তন্ত্র-শাস্ত্র এই সম্প্রদায়ের বিধি-নিষেধ বিস্তারে পরিপূর্ণ। তন্ত্রোক্ত উপাসনা বৈদিক উপাসনার মত নয়। তান্ত্রিক উপাসকেরা দেবতার প্রতিমূর্তি নির্মাণ করিয়া মন্ত্র দ্বারা তাঁহার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা পূর্বক তাঁহাকে সজীব সাক্ষাৎ দেবতা-জ্ঞানে আহ্বান করেন ও পাদ্য, অর্ঘ্য, স্নানীয়, গন্ধ, নৈবেদ্য, পরিধেয় বস্ত্রাদি প্রদান করেন ও অধিকারী-বিশেষে মদ্য-মাংসাদি নিবেদন দ্বারা তাঁহার অর্চনা করিয়া থাকেন।’
‘শক্তি অর্থাৎ কালী তারা প্রভৃতি শিব-শক্তিই শাক্ত-সম্প্রদায়ের উপাস্য। কিন্তু সকলের ইষ্টদেবতা এক নয়; গুরু-শিষ্য-প্রণালী ক্রমে বিশেষ বিশেষ দেবতা বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির ইষ্ট-দেবতা বলিয়া উপদিষ্ট হন। কেহ কালী, কেহ বা তারা, কেহ বা জগদ্ধাত্রী, কেহ বা অন্য দেবতার থাকেন।’- (ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়) Read the rest of this entry »

12003326_595367053934686_3088831673279228900_n

তন্ত্র-সাধনা-০৩ : তন্ত্রের প্রাচীনত্ব
রণদীপম বসু

তান্ত্রিক ধর্মচর্যা ও তার প্রাচীনত্ব ইত্যাদি সম্বন্ধে নির্দিষ্ট সন তারিখ দিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য যদিও এখনও আমাদের হাতে নেই, তবু কিছু কিছু সাহিত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যে তান্ত্রিকতার প্রাচীনত্ব নির্দেশ করে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। বৃহৎসংহিতাকার (আনুমানিক খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ শতক) বরাহমিহির যে অতি অল্প কথায় মাতৃকাগণের মণ্ডলক্রমানুযায়ী ধর্মানুষ্ঠানের বিষয়ে বলেছেন তা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তার শতাব্দীকাল পরে (সপ্তম শতকের প্রথমভাগে) ভারত পরিভ্রমণকারী চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ তাঁর সি-ইউ-কি গ্রন্থে গান্ধার পরিক্রমার বিবরণ প্রসঙ্গে লিখেছেন যে–
‘প্রাচীন গান্ধার প্রদেশের (ভারত সম্বন্ধীয় বৈদেশিক লেখকগণের মতানুযায়ী এটি বর্তমান পশ্চিম পাকিস্তানের পেশোয়ার জেলার প্রাচীনকালে প্রচলিত নাম) মধ্যস্থলে ভীমাদেবী পর্বত নামে একটি বৃহৎ পর্বতশৃঙ্গ ছিল। তার উপরে মহেশ্বরের পত্নী ভীমাদেবীর গাঢ় নীলবর্ণের প্রস্তরের এক প্রতিকৃতি ছিল। স্থানীয় জনগণের মতে দেবীর প্রতিকৃতিটি অকৃত্রিম এবং তাঁর মন্দির ভারতের সকল অংশের দেবীপূজকদের পবিত্র গন্তব্য বা দ্রষ্টব্য স্থান ছিল। পর্বতের সানুদেশে মহেশ্বরদেবের এক মন্দির ছিল; এখানে ভস্মলিপ্ত তীর্থিকগণ (এরা পাশুপত সম্প্রদায়ভুক্ত বলে ধারণা করা হয়) বিশেষ পূজা করতেন।’ (সূত্র: পঞ্চোপাসনা) Read the rest of this entry »


রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 193,123 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 77 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check