h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

শিব ও লিঙ্গ-০৯ : শৈব সম্প্রদায়

Posted on: 02/09/2018


a946c2f2918c0990e8b930c4ef5039a2

শিব ও লিঙ্গ-০৯ : শৈব সম্প্রদায়
রণদীপম বসু

ইতঃপূর্বে শৈবদের উপাস্য দেবতা রুদ্র-শিবের প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচিত হলেও গোষ্ঠীবদ্ধ শৈব উপাসক সম্প্রদায়ের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের বিষয়ে আলোকপাত করা যায়নি। এ চেষ্টার শুরুতেই বলে রাখা আবশ্যক যে, গবেষকরা ভারতবর্ষ জুড়ে বিভিন্ন শৈব সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব খুঁজে পেলেও তাঁদের উৎপত্তি নির্ণয়ে প্রধানত নির্ভর করেছেন সাহিত্যগত প্রমাণের উপর। যেহেতু বৈদিক যুগের পূর্বেকার কোনও সাহিত্য এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও আর হবে এমন ভরসা নেই, তাই ঐতিহাসিক কালের প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগ্বেদ থেকেই তার অনুসন্ধান শুরু করতে হয়।

           এক্ষেত্রে ডঃ জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘পঞ্চোপাসনা’ গ্রন্থে ঋগ্বেদের একটি সূক্তের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যা কেশীসূক্ত নামে পরিচিত। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের এই সূক্তটি হলো (ঋগ্বেদ-১০/১৩৬)–

কেশ্যগ্নিং কেশী বিষং কেশী বিভর্তি রোদসী।
কেশী বিশ্বং স্বর্দৃশে কেশীদং জ্যোতিরুচ্যতে।। ১
মুনয়ো বাতরশনাঃ পিশঙ্গা বসতে মলা।
বাতস্যানু ধ্রাজিং যন্তি যদ্দেবাসো অবিক্ষত।। ২
উন্মদিতা মৌনেয়েন বাতা আ তস্থিমা বয়ম্ ।
শরীরেদস্মাকং যূয়ং মর্তাসো অভি পশ্যথ।। ৩
অন্তরিক্ষেণ পততি বিশ্বা রূপাবচাকশৎ।
মুনির্দেবস্য দেবস্য সৌকৃত্যায় সখা হিতঃ।। ৪
বাতস্যাশ্বো বায়োঃ সখাথ দেবেষিতো মুনিঃ।
উভৌ সমুদ্রাবা ক্ষেতি যশ্চ পূর্ব উতাপরঃ।। ৫
অপ্সরসাং গন্ধর্বাণাং মৃগাণাং চরণে চরণ্ ।
কেশী কেতস্য বিদ্বান্ত্ব সখা স্বাদুর্মদিন্তমঃ।। ৬
বায়ুরশ্মা উপামন্থৎ পিনষ্টি স্মা কুনংনমা।
কেশী বিষস্য পাত্রেণ যদ্রুদ্রেণাপিবৎ সহ।। ৭
অর্থাৎ :
কেশীনামক যে দেব, তিনি অগ্নিকে তিনিই জলকে তিনিই দ্যুলোক ও ভূলোককে ধারণ করেন। সমস্ত সংসারকে কেশীই আলোকের দ্বারা দর্শনযোগ্য করেন। এ যে জ্যোতি, এরই নাম কেশী। ১।। বাতরশনের বংশীয় মুনিরা পিঙ্গলবর্ণ মলিন বস্ত্র ধারণ করেন, তাঁরা দেবত্ব প্রাপ্ত হয়ে বায়ুর গতির অনুগামী হয়েছেন। ২।। তপস্যা-রসের রসিক হয়ে আমরা তাতে উন্মত্তবৎ, আমরা বায়ুর উপর আরোহণ করলাম। হে মনুষ্যগণ! তোমরা কেবল আমাদের শরীর মাত্র দেখতে পাচ্ছ অর্থাৎ আমাদের প্রকৃত আত্মা বায়ুরূপী হয়েছে। ৩।। যিনি মুনি হন, তিনি আকাশে উড্ডীন হতে পারেন, সকল বস্তু দেখতে পান। যে স্থানে যত দেবতা আছেন, তিনি সকলের প্রিয় বন্ধু, সৎকর্মের জন্যই তিনি জীবিত আছেন। ৪।। যিনি মুনি হন, তিনি বায়ুপথে ভ্রমণ করবার ঘোটকস্বরূপ, তিনি বায়ুর সহচর, দেবতারা তাঁকে পেতে ইচ্ছা করেন। পূর্ব ও পশ্চিম এ দুই সমুদ্রে তিনি বাস করেন। ৫।। কেশীদেব অপ্সরাদের, গন্ধর্বদের এবং হরিণদের বিচরণ স্থানে বিহার করেন। তিনি জ্ঞাতব্য সকল বিষয়ই জানেন ও তিনি অতি চমৎকার, সর্বাপেক্ষা আনন্দদায়ী বন্ধুস্বরূপ। ৬।। কেশী যখন রুদ্রের সাথে একত্রে জলপান (বিষপান) করেন তখন বায়ু সে জল আলোড়িত করে দেন এবং কঠিন করকাগুলি ভঙ্গ করে দেন। ৭।।

              বলাবাহুল্য, এই কেশীসূক্তটি ঋগ্বেদের অন্যতম অর্বাচীন পুরুষসূক্তের মতোই পরবর্তীকালের সংযোজন বলে বেদজ্ঞ পণ্ডিতেরা মনে করেন। এ প্রেক্ষিতে ডঃ জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্য হলো–
‘সূক্তটি পুরুষসূক্তের ন্যায় অপেক্ষাকৃত পরবর্তী স্তরের, এবং ইহার প্রধান বিষয়বস্তু কেশী ও মুনিগণের বর্ণনা দ্বারা বৈদিক ঋষিরা যে ঠিক কাহাদের লক্ষ্য করিয়াছেন ইহা সহজবোধ্য নহে। স্বর্গত অধ্যাপক হারাণচন্দ্র চাকলাদার মহাশয় তাঁহার এক অপ্রকাশিত রচনায় (ইহা আংশিক মুদ্রিত হইলেও পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয় নাই) এই সূক্ত প্রাচ্যদেশবাসী এক ভ্রাম্যমাণ ও তপশ্চর্যানিরত পরিব্রাজক মণ্ডলীর বৈদিক ঋষি কর্তৃক বর্ণনা বলিয়া অনুমান করিয়াছেন। সপ্তসংখ্যক অনুবাক বিশিষ্ট এই সূক্তটির দ্বিতীয় অনুবাকে মুনিগণ এইভাবে বর্ণিত হইয়াছেন– ‘(প্রায়) দিগম্বর মুনিগণ ধূলিমলিন পিঙ্গলবর্ণ বস্ত্র’ (পরিধান করেন; এই বর্ণনায় কি মুনি কর্তৃক কৌপীন পরিধানের ইঙ্গিত আছে?– মূল পদ এইরূপ– মুনয়ো বাতরশনাঃ পিশঙ্গা বসতে মলা)।’ প্রথম ও আরও কয়টি অনুবাকে কেশীকে এই মুনিগণের অন্যতম বলা হইয়াছে; কেশী (দীর্ঘকেশ বিশিষ্ট), বায়ুর সখা, দেবতাদিগের দ্বারা অনুপ্রাণিত, তপশ্চর্যার দ্বারা উন্মদিত (উন্মত্ত– উন্মদিতাঃ মৌনেয়েন), মুনি (কেশী) পূর্ব ও পশ্চিম সমুদ্রে বাস বা ভ্রমণ করেন, তিনি বিষপাত্রের দ্বারা যাহা নত হয় না এইরূপ দ্রব্যসকলকে ভগ্ন করেন, এই বিষপাত্র তিনি রুদ্রের সহিত পান করিয়াছিলেন (…পিনষ্টি স্ম কুনন্নমা। কেশী বিষস্য পাত্রেণ যদ্রুদেণাপিবৎ সহ)। দীর্ঘকেশ (জটা?) মণ্ডিত প্রায় দিগম্বর ধূলিমলিন পিঙ্গল বস্ত্রাংশ পরিহিত উন্মত্তাপূর্ণ মুনি কি পাশুপত ব্রতধারী রুদ্র-শিব পূজকদিগের পূর্বপুরুষ? এই অনুমান আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অসঙ্গত কল্পনা নাও হইতে পারে। পাশুপত সাধকদিগের ন্যায় কেশী-মুনিগণেরও তপশ্চর্যারূপ ব্রতসাধনার দ্বারা অতিপ্রাকৃত ঐশী শক্তি অর্জনের কথা এ সূক্তে বলা হইয়াছে। সর্বোপরি রুদ্রসহচর কেশী-মুনি রুদ্রের সহিত যে বিষপান করিয়াছিলেন ইহারও উল্লেখ এ সূক্তে বর্তমান। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে (৬, ৩৩) ঐতস মুনির উন্মত্ততা ও প্রলাপ ভাষণের যে আর এক দুর্বোধ্য বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, উহাও পাশুপতদিগের উন্মত্ত আচরণ ও প্রলাপ ভাষণের কথা স্মরণ করাইয়া দেয়। কিন্তু উক্তরূপ অনুমানের সাপক্ষে এইসব যুক্তি থাকিলেও, ইহা যে সর্বাংশে গৃহীতব্য এ কথা বলা যায় না। কারণ যেকালে এই সূক্ত রচিত হইয়াছিল, তখন রুদ্র-শিব দেবতা আর্যগণের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যমূলক পূর্ণ প্রতিষ্ঠালাভ করিতে পারেন নাই। এতদ্ব্যতীত সূক্তটির কোন অংশেও রুদ্রদেবতার পূজার এমন কি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পর্যন্ত নাই। ইহার শেষ চরণে মাত্র একবার রুদ্রের নাম পাওয়া যায়, তাহাও বিষপাণ প্রসঙ্গে। সায়ন এ বিষ কালকূট বিষ অর্থে গ্রহণ করেন নাই, ইহার ‘জল’ অর্থ গ্রহণ করিয়া প্রখর রশ্মিরূপ অসংখ্য জটাবিশিষ্ট সূর্যদেবতা কর্তৃক জলশোষণের ইঙ্গিত সূক্তটিতে দেখিয়াছেন। সে যাহা হউক, কেশী সূক্তের প্রকৃত অর্থ এত দুরুহ এবং অনিশ্চিত যে ইহার একরূপ ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করিয়া ইহার রচনাকালে রুদ্রপূজক গোষ্ঠীর অস্তিত্বের বিষয় নির্বিচারে স্বীকৃত হইতে পারে না। তবে এই সূক্তের শেষ চরণে রুদ্র কর্তৃক বিষ (জল?) পানের কথাই যে পৌরাণিক যুগের নীলকণ্ঠ শিব কর্তৃক কালকূট বিষপান কাহিনীর উৎস সে বিষয়ে সন্দেহ নাই।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৪৩-৪৫)

              ঋগ্বেদে রুদ্রপূজক গোষ্ঠীর উপরিউল্লিখিত সন্দেহাত্মক উল্লেখের কথা বাদ দিলে, শিবপূজক-শৈবদের অস্তিত্বের প্রথম অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট ইঙ্গিত পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী গ্রন্থেই পাওয়া যায় বলে জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেন। তাঁর মতে–
‘ইহার (পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী) চতুর্থ অধ্যায়ের একটি সূত্র (৪, ১, ১১২) ‘শিবাদিভ্যোন’ পরোক্ষভাবে শিবপূজকগণকেই বুঝাইতেছে বলিয়া মনে হয়। সূত্রের অর্থ এই যে শিবাদি শব্দের পর ‘অন’ প্রত্যয় করিয়া যে পদ নিষ্পন্ন হয় উহা দ্বারা শিব ইত্যাদির অপত্যগণকেই বুঝায়। প্রত্যয়ান্ত শৈব শব্দ অপত্যার্থে দেবতার এক ভক্ত পূজকদিগের কথাই যে বলিতেছে এ অনুমান অসঙ্গত নহে। বহু পরবর্তী কালে রচিত লিঙ্গপুরাণের একটি উক্তি এই অনুমান সমর্থন করে। শিবের লকুলীশাবতারের কথা বলিতে গিয়া, পুরাণকার লকুলীশের প্রধান চারিজন ভক্ত শিষ্য, যথা কুশিক, মিত্র, গর্গ এবং কৌরুষ্যকে তাঁহার পুত্র বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। পাণিনি ভারতের উত্তর পশ্চিম প্রান্তে সিন্ধু নদের অপর পারে গন্ধার প্রদেশের সলাতুর নামক একটি গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তাঁহার সময়ে (খৃষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে) ঐ অঞ্চলে শিবের পূজা প্রচলিত ছিল।… পাণিনির সময়ের ন্যূনাধিক এক শতাব্দী পরে পঞ্জাব প্রদেশের এক অংশে যে শৈব সম্প্রদায়ভুক্ত লোকগণ বাস করিতেন, ইহার প্রমাণ আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ সংক্রান্ত সমসাময়িক গ্রীক গ্রন্থাদি হইতে কিঞ্চিৎ পরবর্তী কালের বৈদেশিক গ্রন্থকারদিগের উদ্ধৃতি হইতে জানা যায়। কুইন্টাস কার্টিয়াস, ডিওডোরাস প্রভৃতি ঐতিহাসিকগণের উদ্ধৃতি প্রমাণ করে যে শিবি (Sibae, Siboi) নামক এক জাতি আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণকালে ঝিলাম ও চিনাব নদীর (তাঁহাদের গ্রন্থে এই দুই নদীর নাম– Hydaspes ও Acesines, সংস্কৃত বিতস্তা এবং অসিক্লীর গ্রীক রূপ) সঙ্গমস্থলের নিকট বাস করিতেন। বহু পূর্বে পণ্ডিতপ্রবর ল্যাসেন (Christini Lassen) যথার্থ অনুমান করিয়াছিলেন যে গ্রীক গ্রন্থে বর্ণিত শিবি বা শিবয় এবং মহাকাব্য ও পুরাণাদিতে লিখিত ঔশীনর শিবি ইহারা একই প্রাচীন ভারতীয় জাতিকে বুঝাইতেছে। ঋগ্বেদের সপ্তম মণ্ডলান্তর্গত অষ্টাদশ সূক্তের সপ্তম অনুবাকে অলিন, পক্থ, ভলানস, বিশানিন প্রভৃতি জাতির সহিত শিব জাতির নাম দেখা যায়।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৪৫-৪৬)
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঋগ্বেদ সূক্তের সংশ্লিষ্ট ঋকের উল্লিখিত জাতিগুলোর নামের স্থানে সায়নাচার্য যেসব বৈশিষ্ট্যসূচক অর্থাবলি ব্যবহার করে তার অর্থ নির্ধারণ করেছেন, তা কৌতুহলজনক বৈকি। সায়ণকৃত বেদটীকার সহায়তায় রমেশচন্দ্র দত্তের তর্জমায় পাঠকের কৌতুহল নিবৃত্তির সুবিধার্থে প্রথম বন্ধনীতে মূল বৈদিক জাতি-নামগুলো আবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। উক্ত ঋকটি হলো–

আ পক্থাসো ভলানসো ভনন্তালিনাসো বিষাণিনঃ শিবাসঃ।
আ যোহনয়ৎ সধমা আর্যস্য গব্যা তৃৎসুভ্যো অজগন্যুধা নৃন্ ।। (ঋগ্বেদ-৭/১৮/৭)
অর্থাৎ : হব্যসমূহের পাচক (পক্থ), ভদ্রমুখ (ভলানস), অপ্রবৃদ্ধ (ভনন্ত-অলিন) ও বিষাণহস্ত (বিষাণিন) মঙ্গলকর (শিব) ব্যক্তিগণ ইন্দ্রের স্তুতি করে। ইন্দ্র সোমপানে মত্ত হয়ে আর্যের গাভীসমূহ হিংসকগণ হতে এনেছেন, স্বয়ং লাভ করেছেন এবং যুদ্ধে মনুষ্যগণকে বধ করেছেন।

 

               কোনও কোনও পণ্ডিত মনে করেন যে এই শিব এবং শিবি এক জাতি। শিবি জাতির যে বর্ণনা উপরে উল্লিখিত গ্রীক গ্রন্থকারেরা দিয়েছেন তা থেকে মনে হয় তাঁরা শিবপূজক গোষ্ঠীভুক্ত ছিলেন। শিবিরা বন্যপশুর চর্ম পরিধান করতেন, তাঁরা দণ্ডপাণি ছিলেন, এবং তাঁদের পশুদেরকে দণ্ডাঙ্ক দ্বারা চিহ্নিত করতেন। এ বর্ণনা শিবভক্তদের যে বিবরণ মহাভাষ্যে পাওয়া যায় তার সাথে আংশিকভাবে মিলে বলে জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিমত। কেননা মহাভাষ্যে উদ্ধৃত শিবপুর বা শৈবপুর নামে এক উদীচ্য গ্রামের উল্লেখ রয়েছে। বৌদ্ধ মহামায়ূরী গ্রন্থেও শিবপুরের কথা রয়েছে। পাঞ্জাবের এ অঞ্চলের একটি নগর যে গুপ্তযুগেও শিবিপুর বলে পরিচিত ছিল তা বর্তমান সোরকোট নামক স্থানে প্রাপ্ত একটি বৃহৎ ধাতুপাত্রে উৎকীর্ণ ৮৩ গৌপ্তাব্দের একটি লেখ থেকে জানা যায় বলে জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন–
‘পাণিনির সূত্র, ‘অয়ঃশূলদণ্ডাজিনাভ্যাং ঠক্ঠঞৌ’ (৫, ২, ৭৬) এর ভাষ্যকালে পতঞ্জলিই প্রথম সুস্পষ্টভাবে শিবভক্তদিগের উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে ‘শিবভাগবত’দিগের নাম করিয়াছেন, এবং বলিয়াছেন যে পাণিনীয় সূত্রানুসারে ‘ঠক্’ ও ‘ঠঞ’ প্রত্যয় দুইটি ‘অয়ঃশূল’ ও ‘দণ্ডাজিন’ শব্দদ্বয়ের পরে প্রয়োগ করিলে এমন ব্যক্তি বিশেষকে বুঝাইবে যাঁহারা লৌহশূল দণ্ড ও অজিন (পশুচর্ম) ইত্যাদি ব্যবহারের দ্বারা স্বার্থসিদ্ধির প্রয়াস পান। পতঞ্জলি আরও বিশদভাবে এইরূপ ব্যাখ্যা করিয়াছেন যে শিবভাগবতগণই আয়ঃশূলিক অর্থাৎ লৌহত্রিশূলধারী; তিনি দণ্ডাজিনিক কথাটি বোধ হয় বাহুল্যবোধে এ স্থলে ব্যবহার করেন নাই, কিন্তু মূলসূত্রে দণ্ডজিন কথাটি থাকা হেতু শিবভাগবতরা যে দণ্ডজিনিকও (দণ্ডধারী ও পশুচর্ম পরিধানকারী) ছিলেন এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ থাকিতে পারে না। পশুচর্মে গাত্রাচ্ছাদন, লৌহত্রিশূল ও দণ্ডধারণ প্রভৃতি ক্রিয়া শিবভাগবতেরা তাঁহাদের একাত্মিকা শিবভক্তির বাহ্য রূপ বলিয়া বিবেচনা করিলেও সকলে যে তাঁহাদের এই সব ক্রিয়া সুচক্ষে দেখিতেন না ইহার সাহিত্যগত প্রমাণ বর্তমান। পতঞ্জলি নিজেই ইহার অনুমোদ করিতেন না, কারণ তিনি এ প্রসঙ্গে বলিয়াছেন যে এই জাতীয় শিবভক্তদিগের দল যে সিদ্ধি শান্ত প্রক্রিয়ার দ্বারা অন্বেষণ করা যায়, তাহা উগ্র বেগশীল অনুষ্ঠানের সাহায্যে পাইতে ইচ্ছা করেন (যো মৃদুনোপায়েনান্বেষ্টব্যানর্থান্ রভসেনান্বিচ্ছতি)। প্রখ্যাত বৈয়াকরণিক অতি অল্প কথায় শিবভাগবতদিগের বাহ্য ধর্মাচরণের রূপ সম্বন্ধে ইঙ্গিত করিয়া উহার প্রতি কটাক্ষ করিয়াছেন।… এই শিবভাগবতগণই কিঞ্চিৎ পরবর্তী কালে পাশুপত বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন; পাশুপতদিগের ধর্মাচরণ প্রণালী যে কিরূপ উগ্রবেগশীল ছিল তাহা আলোচনাকালে প্রদর্শিত হইবে। পতঞ্জলিপ্রমুখ সামাজিক ব্যক্তিগণ তাহাদিগের উগ্র পন্থার বিরোধী ছিলেন, এবং এজন্যই পতঞ্জলির পরবর্তী ভাষ্যকারেরা ‘দণ্ডাজিনিক’ শব্দের অর্থ করিয়াছেন ‘দাম্ভিক’। সে যাহাই হউক, মহাভাষ্যোক্ত শিবভাগবতদিগের বর্ণনার সহিত বৈদেশিক লেখকগণ প্রদত্ত শিবিদিগের বর্ণনার আশ্চর্য মিল দেখিতে পাওয়া যায়।’– (পঞ্চোপাসনা, পৃষ্ঠা-১৪৭-৪৮)

           শৈব-সম্প্রদায়ের মধ্যে পাশুপত সম্প্রদায়ই প্রাচীনতম হলেও পরবর্তীকালে শৈবপূজক হিসেবে আরও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কথা জানা যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, এসব শৈব-সম্প্রদায়ের দর্শনতত্ত্বে সামান্য প্রভেদ ও আরাধনা পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও এই শিবপূজকদের আচার-বিচারে অনেক ক্ষেত্রেই বাহ্যিক অভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। মহাশয় অক্ষয় কুমার দত্ত তাঁর ‘ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়’ গ্রন্থের দ্বিতীয় ভাগে শিবারাধকদের প্রসঙ্গে বলেন–
‘শৈবেরাও অন্যান্য উপাসকের ন্যায় বিশেষ বিশেষ বীজ মন্ত্রে উপদিষ্ট হন। একাক্ষর মন্ত্র ‘হৌ’। ত্র্যক্ষর মন্ত্র ‘ওঁ জুঁ সঃ’; ইহার নাম মৃত্যুঞ্জয়াত্মক মন্ত্র। চতুরক্ষর মন্ত্র ‘ঊর্ধ্বফট্’; ইহার নাম চণ্ড মন্ত্র। পঞ্চাক্ষর মন্ত্র ‘নমঃ শিবায়’। ষড়ক্ষর মন্ত্র ‘ওঁ নমঃ শিবায়’। অষ্টাক্ষর মন্ত্র ‘হ্রীঁ ওঁ নমঃ শিবায় হ্রীঁ!’ এইরূপ বিংশত্যক্ষর পর্যন্ত মন্ত্র আছে এবং মন্ত্র-বিশেষে বিশেষ বিশেষ ধ্যান ও পদ্ধতি উক্ত হইয়াছে। কৃষ্ণানন্দ-কৃত তন্ত্রসারে ও অপরাপর উপাসনাতন্ত্র-সংগ্রহে সে সমুদায়ের বিস্তারিত বৃত্তান্ত বিনিবেশিত আছে। শিবারাধনায় শরীরে বিভূতি-লেপন ও রুদ্রাক্ষ-ধারণ নিতান্ত আবশ্যক।’– (ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায় দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা-১১)
বিদ্বেন্মোদতরঙ্গিণীতে শৈবদের বেশ-ভূষা সম্পর্কে একটি বর্ণনা পাওয়া যায় এভাবে–

শ্রীমানসাবেতি জটালমৌলির্ব্যঘ্রত্বগালম্বিতমধ্যভাগঃ।
বিভূতিসংভূষিতভাস্বদঙ্গোরুদ্রাক্ষমালাকলিতোর্ধ্বদেহঃ।। (বিদ্বেন্মোদতরঙ্গিণী)
অর্থাৎ : জটা-যুক্ত, ব্যাঘ্র-চর্ম-পরিধান, বিভূতি-বিভূষিত উজ্জ্বল অঙ্গবিশিষ্ট এবং শরীরের ঊর্ধ্বভাগে রুদ্রাক্ষ-মালায় শোভিত এই শ্রীমান্ পুরুষ আগমন করিতেছেন।

               বিভূতি-লেপন হিসেবে শৈব-সম্প্রদায়ের মধ্যে ভস্ম-লেপনেরই আধিক্য দেখা যায়। তবে অক্ষয় কুমার দত্তের ভাষ্যে ‘ভারতবর্ষের দক্ষিণভাগে মাইশোর দেশের মধ্যে মলৈশ্বরবেট্ট নামক পর্বতে একরূপ শ্বেত বর্ণ মৃত্তিকা পাওয়া যায়। সে প্রদেশের শৈবেরা বিভূতির পরিবর্তে সেই মৃত্তিকা ব্যবহার করিয়া থাকেন।’ আর রুদ্রাক্ষ-ধারণ শৈবদের মধ্যে আবশ্যকীয় হিসেবেই বিবেচিত হয়। রুদ্রাক্ষ প্রসঙ্গে যোগসার-এ বলা হয়েছে–

শিখায়াং হস্তয়োঃ কণ্ঠে কর্ণয়োশ্চাপি যো নরঃ।
রুদ্রাক্ষং ধারয়েদ্ভক্ত্যা শিবলোকমবাগ্নুয়াৎ।। (যোগসার)
অর্থাৎ : শিখাতে, হস্ত-দ্বয়ে, কণ্ঠে এবং কর্ণ-যুগলে যে মনুষ্য ভক্তিপূর্বক রুদ্রাক্ষ ধারণ করেন, তিনি শিব-লোক প্রাপ্ত হন।

                এছাড়া বীরাচারী শাক্ত-সম্প্রদায়ের সুরা সেবনের মতোই শৈবদের বিশেষ করে শৈব-তান্ত্রিকদের সম্বিদা-সেবন ইষ্ট সাধনার একটি অঙ্গ-বিশেষ। সাধকদেরকে তা মন্ত্র-পূত করে ধ্যান ও স্তুতিপূর্বক পুলকিত-চিত্তে পান করতে হয়। শৈব তন্ত্রে বলা হয়েছে–

কলয়তি কবিতাং মহতীং কুরুতে স্বার্থদর্শনং পুং সাং।
অপহরতি দুরিতনিলয়ং কিং কিং ন করোতি সম্বিদুল্লাসঃ।। (প্রাণতোষিণী)
অর্থাৎ : সম্বিদুল্লাস দ্বারা মহতী কবিতার রচনা হয়, পুরুষদিগের স্বার্থ দর্শন হয়, ও পাপসমূহ নষ্ট হয়, অতএব তদ্বারা কি না হইয়া থাকে?

             শৈব-সাধনার আরেকটি অঙ্গ হলো বিজয়া অর্থাৎ গাঁজা। শৈবেরা জল-মিশ্রিত বিজয়া অর্থাৎ সিদ্ধি-পানের ন্যায় বিজয়া ধূম-পানও করে থাকেন। প্রাণতোষিণীতে বলা হয়েছে–

অনেন মনুনানেন বিজয়াধূমশোধনং।
শোধয়িত্বা পিবেদ্ধূমং ন দোষোবিদ্যতে হর।।
মন্ত্রস্তূ ক্ষ্রৌঁ ক্ষ্রৌঁ ক্ষ্রৌঁ। — (প্রাণতোষিণী)
অর্থাৎ : ক্ষ্রৌঁ ক্ষ্রৌঁ ক্ষ্রৌঁ এই মন্ত্র দ্বারা বিজয়া-ধূম শোধন করিয়া পান করিবে, মহাদেব! তাহাতে দোষ নাই।

 

              শৈবদের মধ্যে উদাসীন সম্প্রদায়ীই বেশি। তাঁরা সচরাচর প্রায় সন্ন্যাসী ও গোঁসাই বলে উক্ত হয়ে থাকে। বাঙলা-অঞ্চলে বৈষ্ণবদের প্রধান গুরুদের নাম গোঁসাই, কিন্তু ভারতের পশ্চিমোত্তর অঞ্চলে শৈব সন্ন্যাসীদেরকেই গোঁসাই বলা হয়। সেখানে সাধু-লোক বললে যেমন বৈষ্ণব উদাসীন বুঝায়, তেমনি গোঁসাই-লোক বললে শৈব উদাসীন বুঝতে হয়। কোন উদাসীন শৈব কি বৈষ্ণব, তা তিলক দেখলেই অক্লেশে জানতে পারা যায়। অক্ষয় কুমার দত্তের ভাষ্যে,– ‘বৈরাগীরা নাসা-মূল হইতে কেশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বরেখা করেন, আর শৈবেরা ললাটের বাম পার্শ্ব হইতে দক্ষিণ পার্শ্ব পর্যন্ত বিভূতি দিয়া তিনটি রেখা করিয়া থাকেন। প্রথমোক্ত তিলককে ঊর্ধ্বপুণ্ড্র ও শেষোক্ত তিলককে ত্রিপুণ্ড্র বলে।’– (ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায় দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা-১২)

            বাঙলা অঞ্চলে বিশেষত গৃহস্থদের মধ্যে শিবোপাসক প্রায় দেখাই যায় না। এখানে শক্তি-উপাসকেরই প্রাধান্য। ভারতবর্ষের দক্ষিণ ও পশ্চিম খণ্ডে শিবোপাসনার প্রচলন ছিল এবং আছে। বাঙলা অঞ্চলের গৃহস্থদের মধ্যে পৃথক শিবোপাসক প্রায় না থাকলেও শাক্তেরা শক্তি-পতি শিবের অর্চনা ও শিব-ব্রত পালন করে থাকেন। এটাই তাঁদের কর্তব্য কর্ম। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে–

আদৌ শিবং পূজয়িত্বা শক্তিপূজা ততঃ পরং।
নতুবা মূত্রবৎ সর্বং গঙ্গাতোয়ং ভবেদ্ যদি।
অতএব মহেশানি আদৌ লিঙ্গং প্রপূজয়েৎ। –(প্রাণতোষিণী-ধৃত তোড়লতন্ত্রবচন)
অর্থাৎ : অগ্রে শিব-পূজা করিয়া পরে শক্তি পূজা করিবে, নতুবা সমুদায় পূজা-দ্রব্য গঙ্গা-জল হইলেও মূত্র-সদৃশ হয়। অতএব মহেশানি! অগ্রে শিব-পূজা করিবে।

              অগ্রে শিব-পূজা করার পরামর্শের অর্থ এটাই যে, এরা বস্তুত শিবোপাসক নয়। তাঁরা যে দেবীর উপাসক, সেই দেবীর সাথে শিবের সংযোগ নিবিড় এবং দার্শনিকভাবে অদ্বয় সম্পর্কে সম্পর্কিত। ফলে শিব এখানে অনিবার্যভাবেই উপস্থিত। এজন্যেই বাঙলায় লিঙ্গ প্রতীকে শিবের উপস্থিতিমূলক যত্রতত্র অগুনতি মন্দির বা উপাসনাকেন্দ্র চোখে পড়লেও এগুলো মূলত শক্তি-উপাসনা কেন্দ্রই। এখানে শক্তিই প্রধান, শক্তিমান গৌন কিন্তু উল্লেখযোগ্য বিভা নিয়ে শক্তির সাথে দ্বৈতাদ্বৈত সম্পর্কে বর্তমান। সে যাক, তন্ত্রের তত্ত্ব-দর্শন প্রসঙ্গে অন্যত্র এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে বাঙলায় শৈবধর্মের প্রাধান্য না থাকলেও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে শিবোপাসকদের বিস্তৃতি প্রসঙ্গে শ্রদ্ধেয় অক্ষয় কুমার দত্ত বলেন–
‘এদেশীয় লোকের মধ্যে, বিশেষতঃ গৃহস্থেতে, শিবোপাসক প্রায় দৃষ্ট হয় না। দক্ষিণে দ্রাবিড় ও পশ্চিমে রাজস্থান প্রভৃতি অনেক দেশের গৃহস্থেরা শিবের উপাসক। রাজস্থানের অন্তর্গত মেওয়ার প্রদেশের ইতিহাস মধ্যে দেখিতে পাওয়া যায়, বহুকাল পূর্বাবধি তদীয় রাজবংশীয়েরা শিবের আরাধনায় প্রবৃত্ত ছিলেন। ঐ প্রদেশের মধ্যে স্থানে স্থানে উৎকৃষ্ট শিব-মন্দির ও শিবলিঙ্গ সকল বিদ্যমান আছে। তথাকার একলিঙ্গ নামক শিবের মন্দিরটি অতি বৃহৎ। তাহা শ্বেত প্রস্তরে নির্মিত ও নানারূপ চিত্র-কার্যে এরূপ পরিপূর্ণ যে, তাহার সবিশেষ বর্ণনা করা সুকঠিন। বহুশত বৎসর পূর্বাবধি মেওয়ার অঞ্চলে যে শৈব-ধর্ম প্রবলরূপ প্রচলিত হইয়া আসিয়াছে। পূর্বে এ বিষয়ের বিবরণ করা গিয়াছে। ঐ প্রদেশীয় অনেকানেক নৃপতি ও অন্যান্য ধনী ব্যক্তিরা বহুতর শিব-মন্দির নির্মাণ ও সংস্কার করাইয়া যান।’
‘ভারতবর্ষের দক্ষিণ খণ্ডেও অনেককাল পূর্বে শিবোপাসনার প্রচার ছিল…। এখনও তথায় গৃহস্থ ও উদাসীন বহু সংখ্যক শৈবের অবস্থিতি আছে। বাঙ্গালাদেশীয় গৃহস্থদিগের মধ্যে পৃথক শিবোপাসক প্রায় নাই বটে, কিন্তু শাক্তেরা শক্তি-পতি শিবের অর্চনা ও শিব-ব্রত সকল পালন করিয়া থাকেন। ইহা তাঁহাদের কর্তব্য কর্ম।’– (ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায় দ্বিতীয় ভাগ, পৃষ্ঠা-১২)
অতএব, ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রদায়গতভাবে যেসব বিভিন্ন শৈব-উপাসক ছিলো বা আছে, তারা প্রচলিত সমাজ ও জনমনে কিভাবে কতোটা প্রভাবিত করেছে তা বুঝতে হলে তাঁদের উৎপত্তি ও বিকাশ এবং উপাসক ভেদে তাঁদের আচার-বিচার ও তত্ত্ব-বিশ্বাস বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান জারি রাখা দরকার। এক্ষেত্রে প্রধান প্রধান কয়েকটি শৈব-সম্প্রদায় প্রসঙ্গে ভিন্ন ভিন্নভাবে পরিচিত হওয়াই বর্তমান আলোচনার জন্য সহায়ক হবে বলে মনে হয়।

(চলমান…)

[পূর্বের পোস্ট : পুরাণ-শাস্ত্রে শিব ও লিঙ্গ] [×] [পরের পোস্ট : পাশুপত ধর্মসম্প্রদায়]

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 412,070 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 122 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

সেপ্টেম্বর 2018
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« মার্চ    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 1 month ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements
%d bloggers like this: