h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

তন্ত্র-সাধনা-০৭ : তন্ত্রে দীক্ষা ও অভিষেক

Posted on: 17/10/2017


11998833_594748200663238_4185119916753413662_n

তন্ত্র-সাধনা-০৭ : তন্ত্রে দীক্ষা ও অভিষেক
রণদীপম বসু

তন্ত্রে যে গুরুবাদ অত্যন্ত প্রবল, তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে উল্লেখ্য যে, শক্তিমন্ত্রের উপাসকগণের দীক্ষার সঙ্গে শাক্তাভিষেক হওয়াও কর্তব্য মনে করা হয়। কেননা পূর্ণাভিষেক ব্যতীত কুলকর্মের অধিকার হয় না। যাঁর পূর্ণাভিষেক হয়েছে তিনিই কৌলকুলার্চক। তাই বামকেশ্বরতন্ত্রে বলা হয়েছে–

অভিষেকং বিনা দেবি কুলকর্ম করোতি যঃ।
তস্য পূজাদিকং কর্ম অভিচারায় কল্প্যতে।।
অভিষেকং বিনা দেবি সিদ্ধবিদ্যাং দদাতি যঃ।
তাবৎ কালং বসেদ্ ঘোরে যাবচ্চন্দ্রদিবাকরৌ।।- (বামাকেশ্বরতন্ত্র)
অর্থাৎ : অভিষিক্ত (পূর্ণাভিষিক্ত) না হয়ে যে-ব্যক্তি কুলকর্মের অনুষ্ঠান অর্থাৎ তান্ত্রিক মতে উপাসনা করে, তার জপ-পূজাদি অভিচারস্বরূপ হয়। আর যে ব্যক্তি অভিষেক ব্যতীত দশবিদ্যার কোন মন্ত্রদীক্ষা দেয়, সে ব্যক্তি যাবৎ চন্দ্রসূর্য থাকিবে, তাবৎ কাল নরকে বাস করিবে।

     অতএব তান্ত্রিক সাধকমাত্রেই উপযুক্ত গুরুর নিকট পূর্ণাভিষিক্ত হতে হবে। আর পূর্ণাভিষেকের উপযুক্ত গুরু হলেন–

পরমহংসো গুরুণাং পূর্ণাভিষেকং সমাচরেৎ।- (কৌলার্চনচন্দ্রিকা)
অর্থাৎ : যে সাধক সাধনায় পরমহংসত্ব প্রাপ্ত হয়ে প্রকৃত সৎকৌলপদবাচ্য হয়েছেন, তিনি পূর্ণাভিষেক করবার উপযুক্ত গুরু।

 

          তন্ত্র-সাধনায় এই অভিষেককাল একটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বটে। কেননা এ-সময়ে যথাবিধি পঞ্চতত্ত্ব সহ তন্ত্র-সাধনার বিভিন্ন উপচার ও সাধনাচারের গুহ্য-প্রণালী অনুসরণ ও চর্চিত হয়ে থাকে। এবং এই পূর্ণাভিষেককালে কোন কোন গুপ্ত বিষয় বিজ্ঞাপনার্থ তন্ত্রে কতকগুলি সাঙ্কেতিক শব্দ ব্যবহৃত হয়ে থাকে– স্বয়ম্ভু কুসুম তারই একটি। শ্রদ্ধেয় অক্ষয় কুমার দত্ত মহাশয় এই সাঙ্কেতিক শব্দের কয়েকটি গুপ্তার্থ নির্দেশ করেছেন এভাবে–
(শব্দ) খপুষ্প– (অর্থ) রজস্বলা স্ত্রীলোকের রজ।
স্বয়ম্ভু পুষ্প বা স্বয়ম্ভু কুসুম– (অর্থ) রজস্বলা স্ত্রীলোকের প্রথম রজ।
কুণ্ড পুষ্প– (অর্থ) সধবা স্ত্রীলোকের রজ।
গোলক পুষ্প– (অর্থ) বিধবা স্ত্রীলোকের রজ।
বজ্র পুষ্প– (অর্থ) চণ্ডালীর রজ।

        তন্ত্রশাস্ত্রে গুপ্তার্থবোধক এরকম বহু শব্দ রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সাধারণ-দৃষ্টিতে যেসব নিরীহ শব্দ তন্ত্রচর্চায় উল্লেখ করা হয়ে থাকে তার প্রতিটিরই ভিন্ন কোন গুপ্তার্থ থাকা বিচিত্র নয়, এবং বাস্তবে তা-ই হয়েছে বলে বিজ্ঞ গবেষকদের অভিমত।

       বলা হয়ে থাকে, পূর্ণাভিষিক্ত গুরু দীক্ষা ও শাক্তাভিষেকের অধিকারী। অতএব সিদ্ধিকামী তান্ত্রিক-সাধক সাক্ষাৎ শিবতুল্য কৌলের নিকট পূর্ণাভিষিক্ত হবেন। শাক্তগণের প্রথমে দীক্ষার সাথে শাক্তাভিষেক, তারপর পূর্ণাভিষেক এবং তারপর ক্রমদীক্ষা হওয়া কর্তব্য। তাই কামাখ্যাতন্ত্রে মহাদেব বলছেন–

ক্রমদীক্ষাবিহীনস্য কলৌ ন স্যাৎ কদাচন।- (কামাখ্যাতন্ত্র)
অর্থাৎ : কলিযুগে ক্রমদীক্ষা ব্যতীত কখনোই সিদ্ধি হবে না।

এবং কামাখ্যাতন্ত্রে মহাদেবের উক্তিতে আরো বলা হচ্ছে–

যদি ভাগ্যবশাদ্দেবি ক্রমদীক্ষা চ জায়তে।
তদা সিদ্ধির্ভবেত্তস্য নাত্র কার্যা বিচারণা।।
ক্রমদীক্ষাবিহীনস্য কথং সিদ্ধিঃ কলৌ ভবেৎ।
ক্রমং বিনা মহেশানি সর্বং তেষাং বৃথা ভবেৎ।।- (কামাখ্যাতন্ত্র)
অর্থাৎ : কাহারও ভাগ্যবশে যদি ক্রমদীক্ষা হয়, তবে নিশ্চয়ই সিদ্ধিলাভ হইবে, সন্দেহ নাই। ক্রমদীক্ষা বিনা কলিযুগে কোন মন্ত্রই সিদ্ধি হইবে না এবং জপ-পূজাদি সমস্তই বৃথা হইবে।

 

          তন্ত্র-সাধকদের নিজ নিজ কল্প অনুযায়ী পূর্ণাভিষেকেরও নির্ধারিত ক্রমপ্রণালী রয়েছে। এরকম একজন তন্ত্রগুরু শ্রীমৎ স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী পরমহংসদেব তাঁর ‘তান্ত্রিকগুরু’ গ্রন্থে পূর্ণাভিষেকের একটি ক্রম বিবৃত করেছেন এভাবে–

          ‘অভিষেকের পূর্বদিন গুরু সর্ববিঘ্ন শান্তির জন্য যথাবিধি পঞ্চতত্ত্ব দ্বারা বিঘ্নরাজের পূজা করিয়া অধিবাস করিবেন এবং ব্রহ্মজ্ঞ কুলসাধকদিগকে ভোজন করাইবেন।
পরদিবস শিষ্য প্রাতঃকৃত্য সমাপনপূর্বক স্নান ও নিত্যক্রিয়াদি শেষ করিয়া জন্মাবধিকৃত পাপরাশি ক্ষয়ের জন্য তিল-কাঞ্চন উৎসর্গ করিবে। তৎপরে কৌলদিগের তৃপ্তির জন্য একটি ভোজ্য উৎসর্গ করা আবশ্যক। পরে সূর্যার্ঘ্য প্রদান করতঃ ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, নবগ্রহ ও মাতৃগণের পূজা করিয়া বসুধারা দিবে। তৎপরে কর্মের অভ্যুদয় কামনায় বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ করিবে।
তদনন্তর গুরুর নিকট গমনপূর্বক প্রণাম ও অনুমতি গ্রহণান্তে সকল উপদ্রব শান্তির নিমিত্ত এবং আয়ুঃ লক্ষ্মী, বল ও আরোগ্যপ্রাপ্তির জন্য যথাবিহিত সঙ্কল্প করিয়া বস্ত্র, অলঙ্কার, ভূষণ ও শুদ্ধির সহিত কারণদ্বারা গুরুর অর্চনা করিয়া বরণ করিবে।
অনন্তর গুরু ধূপ, দীপ প্রভৃতি নানাবিধ দ্রব্যদ্বারা সুসজ্জিত মনোহর গৃহে চার অঙ্গুলী উচ্চ, অর্ধ হস্তা করিয়া দীর্ঘ-প্রস্থ পরিমিত মৃত্তিকার বেদী রচনা করিবেন। তৎপরে ঐ গৃহে পীত, রক্ত, কৃষ্ণ, শ্বেত ও শ্যামলবর্ণ অক্ষতচূর্ণ দ্বারা সুমনোহর সর্বতোভদ্রমণ্ডল রচনা করিবেন। পরে স্ব স্ব কল্পোক্ত বিধি-অনুসারে মানস-পূজা অবধি কার্যকলাপ সমাপন করিয়া যথারীতি পঞ্চতত্ত্ব শোধন করিবে।
পঞ্চতত্ত্ব শোধন করিয়া ‘ফট্’ এই মন্ত্রে প্রক্ষালন ও দধি এবং অক্ষত দ্বারা লিপ্ত সুবর্ণ, রজত, তাম্র কিংবা মৃত্তিকানির্মিত ঘট “ওঁ” এই পাঠপূর্বক সর্বতোভদ্রমণ্ডলের উপর স্থাপন করিবেন। তৎপরে “স্ত্রীং” এই বীজমন্ত্র পাঠ করিয়া সিন্দুর দ্বারা ঐ ঘট অঙ্কিত করিবেন। অনন্তর অনুস্বার পুটিত করিয়া “ক্ষ” অবধি অকারান্ত পঞ্চাশৎ বর্ণের সহিত মূলমন্ত্র তিনবার জপ করিয়া মদিরা, তীর্থজল কিংবা বিশুদ্ধ সলিলদ্বারা ঘট পূর্ণ করিবেন। তৎপরে নবরত্ন (অভাবে সুবর্ণ) ঐ ঘটমধ্যে নিক্ষেপ করিতে হইবে। অনন্তর গুরু “ঐঁ” এই বীজমন্ত্র পাঠপূর্বক ঘটমুখে কাঁঠাল, যজ্ঞডুমুর, অশ্বত্থ, বকুল ও আম্রবৃক্ষের পল্লব স্থাপন করিবেন। পরে “শ্রীঁ হ্রীঁ” এই মন্ত্র উচ্চারণ করিয়া ফল ও আতপতণ্ডুল-সমন্বিত সুবর্ণময়, রজতময়, তাম্রময় ও মৃন্ময় শরাব পল্লবোপরি রাখিবেন। তৎপরে বস্ত্রযুগ্মদ্বারা ঐ ঘটে গ্রীবা বন্ধন করিবেন। শক্তিমন্ত্রে রক্তবস্ত্র এবং শিব ও বিষ্ণুমন্ত্রে শ্বেতবস্ত্র ব্যবহার্য। পরে “স্থাং স্থীং হ্রীঁ শ্রীঁ স্থিরীভব” এই মন্ত্র পাঠ করিয়া ঘট স্থাপন করিবেন।
তদনন্তর অন্য একটি ঘটে পঞ্চতন্ত্র স্থাপনপূর্বক নয়টি পাত্রে বিন্যাস করিবেন। রজত দ্বারা শক্তিপাত্র, স্বর্ণ দ্বারা গুরুপাত্র, মহাশঙ্খ (নরকপাল) দ্বারা শ্রীপাত্র এবং তাম্র দ্বারা অন্য পাত্র সকল নির্মাণ করিবে। মহাদেবীর পূজাতে পাষাণ, কাষ্ঠ ও লৌহনির্মিত পাত্র ব্যবহার করিতে নাই। উপরিলিখিত পাত্র প্রস্তুত করিতে অসমর্থ হইলে নিষিদ্ধ পাত্র ব্যতীত অন্য পদার্থদ্বারা পাত্র নির্মাণ করিয়া লইবে। পরে পাত্র সংস্থাপন করিয়া গুরুগণের, ভগবতীর ও আনন্দভৈরবাদির তর্পণান্তর অমৃতপূর্ণ ঘটের অর্চনা করিবে। পরে ধূপ দীপ প্রদর্শন করিয়া সর্বভূতকে বলি প্রদান করিবে। তাহার পর পীঠদেবতাদিগের পূজাপূর্বক ষড়ঙ্গন্যাস করিবে। তদনন্তর প্রাণায়াম করিয়া মহেশ্বরীর ধ্যান ও আবাহনপূর্বক যথাসাধ্য উপচারে ইষ্টদেবতার পূজা করিবে। পূজাকালীন অবস্থানুসারে আয়োজন করিতে কদাচ কৃপণতা করিতে নাই। সদ্গুরু হোম পর্যন্ত কর্ম সমাপনান্তে পুষ্প, চন্দন ও বস্ত্রদ্বারা কুমারী, কৌল ও কুলরমণীর অর্চনা করিয়া তাঁহাদিগের নিকট শিষ্যের অভিষেকজন্য অনুজ্ঞা লইবেন। অনন্তর গুরু শিষ্যদ্বারা দেবীর পূজা করাইবেন। তৎপরে পূর্বস্থাপিত ঘটোপরি “হ্রীং স্ত্রীং শ্রীং”– এই মন্ত্র জপ করিয়া–
…ঘট চালনা করিবেন। অতঃপর শিষ্য উত্তরাভিমুখে উপবিষ্ট হইলে পূর্বোক্ত ঘটমুখে সংস্থাপিত পঞ্চ-পল্লবদ্বারা কলস হইতে জল লইয়া… (নির্ধারিত) মন্ত্রে শিষ্যের মস্তকে ও অঙ্গে সিঞ্চন করিবেন।…
…এই মন্ত্রে অভিষেক করিয়া, সাধক যদি পূর্বে পশ্বাচারীর কাছে দীক্ষিত হইয়া থাকেন, তবে কৌলগুরু পুনর্বার তাঁহাকে সেই দীক্ষিত মন্ত্র এই সময় একবার শুনাইয়া দিবেন। অনন্তর গুরু, শিষ্যকে আনন্দনাথান্ত (নিজ নিজ কল্প অনুযায়ী নামান্তর ভিন্নতা থাকতে পারে) নাম প্রদান করিয়া একবার সেই নামে ডাকিবেন এবং উপস্থিত কৌলগণকে শুনাইয়া দিবেন। যথা– একজনের পূর্বে নাম ছিল দ্বারকাচরণ; পূর্ণাভিষেকের পর গুরু নাম রাখিলেন “দুর্গানন্দ নাথ”।
অতঃপর শিষ্য মন্ত্রে নিজ দেবতার পূজা করিয়া, পঞ্চতত্ত্বোপচারে গুরুর পূজা করিবে। উপস্থিত কৌলগণকেও পূজা করা কর্তব্য। পরে গুরুদেবকে যথাশক্তি রত্নাদি দ্বারা দক্ষিণান্ত করিয়া চরণ স্পর্শপূর্বক প্রণাম করিবে।…
অনন্তর গুরু কৌলদিগের অনুমতি লইয়া শুদ্ধিসম্পন্ন পরামৃতপূর্ণ পানপাত্র শিষ্যের হস্তে সমর্পণ করিবেন। তৎপরে দেবীকে স্বহৃদয়ে ধ্যান করিয়া স্রুক্-সংলগ্ন ভস্মদ্বারা শিষ্যের ভ্রূমধ্যে তিলক প্রদান করিবেন। তদনন্তর চক্রানুষ্ঠানের বিধানানুসারে পান ও ভোজন করিবেন।
এতৎসংক্রান্ত সমস্ত কার্যই অর্থাৎ সংকল্প, পূজা, হোমাদি আপন আপন কল্পোক্ত বিধানানুসারে সম্পাদন করিবে। পূর্ণাভিষিক্ত ব্যক্তি তন্ত্রোক্ত সমস্ত সাধনারই অধিকারী হইয়া থাকে। পূর্ণাভিষেক না হইলে কোনরূপ কাম্যকর্মের ফলভাগী হওয়া যায় না। বিশেষতঃ কলিকালেই এই অনুশাসন সবিশেষ কার্যকরী।…
ব্রাহ্মণেতর যে কোন জাতি যথাবিধি পূর্ণাভিষিক্ত হইলে প্রণব ও সমস্ত বৈদিক কার্যে ব্রাহ্মণের ন্যায় অধিকার প্রাপ্ত হয়।’- (নিগমানন্দ সরস্বতী / তান্ত্রিকগুরু)

         এখানে আবারও উল্লেখ করা আবশ্যক যে, উপরিউক্ত অভিষেক ক্রমের বর্ণনায় যেসব বিশেষ বিশেষ ও ক্রিয়াবাচক শব্দাদির ব্যবহার হয়েছে তার প্রায় সবগুলো কিংবা অধিকাংশই গুহ্যক্রিয়া-বিজ্ঞাপক সাঙ্কেতিক শব্দ হওয়াই অতি স্বাভাবিক এবং এগুলোর যে তন্ত্রবিহিত অন্য কোন গুপ্তার্থ থাকা মোটেও বিচিত্র নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
উপরে তন্ত্রগুরু নিগমানন্দ কর্তৃক পূর্ণাভিষেকের বর্ণনা দেয়া হলেও তন্ত্রশাস্ত্রে এই ক্রমদীক্ষার সাতটি পর্যায় রয়েছে বলে ‘তান্ত্রিকগুরু’ গ্রন্থটি থেকে জানা যায়। পর্যায়ক্রমিক এই দীক্ষাগুলো হচ্ছে– মন্ত্রদীক্ষা, শাক্তাভিষেক, পূর্ণাভিষেক, ক্রমদীক্ষা, সাম্রাজ্যদীক্ষা, মহাসাম্রাজ্যদীক্ষা ও পূর্ণদীক্ষা। এ-প্রেক্ষিতে স্বামী নিগমানন্দ বলছেন–
‘প্রথমতঃ গৃহস্থাশ্রমে অবস্থিতিপূর্বক সদ্গুরুর নিকট মন্ত্রদীক্ষায় দীক্ষিত হইয়া পশুভাবানুসারে বেদাচারদ্বারা বৈদিক কর্ম, বৈষ্ণবাচারদ্বারা পৌরাণিক কর্ম এবং শৈবাচারদ্বারা স্মার্ত কর্ম করিবে। পরে শাক্তাভিষিক্ত হইয়া দক্ষিণাচারদ্বারা সাধনা করিবে। তৎপরে পূর্ণাভিষেকান্তে গৃহাবধূত হইয়া বীরভাবানুসারে বামাচারদ্বারা যথাবিধি সাধনার উন্নতি করিবে। তৎপরে সাম্রাজ্যদীক্ষায় দীক্ষিত হইয়া বীরভাবানুসারে সিদ্ধান্তাচারে সাধনার কার্য সম্পন্ন করিবে। মহাসাম্রাজ্য-দীক্ষায় দীক্ষিত হইয়া দিব্যভাবানুসারে কুলাচারদ্বারা সাধন করিবে। তৎপরে পূর্ণ দীক্ষায় দীক্ষিত হইয়া দিব্যভাবানুসারে সাধনার চরমোন্নতি সম্পন্ন করিবে। এইরূপ সাধনকার্যদ্বারা দিব্যভাব পরিপক্ক হইলে নিষ্ক্রিয় হইয়া কাল যাপন করিবে।’- (তান্ত্রিকগুরু)

         এই উদ্ধৃতির মর্ম বুঝতে হলে তন্ত্রশাস্ত্রোক্ত ভাবত্রয় ও সপ্ত-আচার সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক। কেননা এখানে কিরকম পদ্ধতি অনুসারে ত্রিবিধ ভাব ও সপ্ত আচারের ক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে তারই আলোচনা করা হয়েছে।

(চলবে…)

[আগের পোস্ট : তন্ত্রে মন্ত্রার্থ ও মন্ত্রচৈতন্য] [*] [পরের পোস্ট : তন্ত্রে ভাবত্রয়]

 

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 207,714 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 86 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2017
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.   নভে. »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check
%d bloggers like this: