h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

|আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১০ : বৈদিক দেবতা|

Posted on: 06/07/2015


148900_297648506987701_1471834747_n

| আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১০ : বৈদিক দেবতা |
রণদীপম বসু

৩.৩ : বৈদিক দেবতা

বৈদিক দেবতার সংখ্যা মোট কতো এ বিষয়ে ব্যাপক মতানৈক্য রয়েছে। এ-বিষয়ে বৈদিক কবি বা ঋষিদের সাক্ষ্যও সর্বত্র সমান নয়। একটি প্রাচীন ঋকে (ঋগ্বেদ-৩/৯/৯) দেখা যায় দেবসংখ্যা ৩৩৩৯ বলে উল্লেখ করা আছে। অবিকল এই একই শ্লোকই ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলেও (ঋগ্বেদ-১০/৫২/৬) উক্ত হয়েছে–

ত্রীণি শতা ত্রী সহস্রাণ্যগ্নিং ত্রিংশচ্চ দেবা নব চাসপর্যন্ ।
ঔক্ষণৃ ঘৃতৈরস্তৃণন্বর্হিরস্মা আদিদ্বোতারং ন্যসাদয়ন্ত।। (ঋগ্বেদ-৩/৯/৯)।
অর্থাৎ :
তিন সহস্র তিনশত ত্রিশ ও নব সংখ্যক দেবতা অগ্নির পরিচর্যা করেছেন; তাঁকে ঘৃতদ্বারা অভিষিক্ত করেছেন এবং তাঁর জন্য কুশ বিস্তার করে দিয়েছেন এবং তাঁকে হোতারূপে কুশোপরি উপবেশন করিয়েছেন। (ঋক-৩/৯/৯)।।



দেখা যায়, ঋগ্বেদের প্রতিটি সূক্ত সম্বন্ধেই একজন দেবতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ঋগ্বেদের সকল সূক্তে যাঁদের দেবতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের সকলকে ধরলেও এই সংখ্যা পাওয়া যায় না। এদিকে উক্ত ঋকের ভাষ্যে সায়ণ বলছেন, দেবসংখ্যা আসলে ৩৩; কিন্তু তাঁদের মহিমা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ-ভাবে সংখ্যাবৃদ্ধি করা হয়েছে। এ-যুক্তির গুরুত্ব যাই হোক না কেন, সায়ণের সিদ্ধান্তের পক্ষে ঋগ্বেদে অবশ্য এমন নজিরও রয়েছে যেখানে নানা জায়গায় দেবসংখ্যা ৩৩ বলেই বর্ণিত হয়েছে। যেমন–

আ নাসত্যা ত্রিভিরেকাদশৈরিহ দেবেভি র্যাতং মধুপেয়মশ্বিনা।
প্রায়ুস্তারিষ্টং নী রপাংসি মৃক্ষতং সেধতং দ্বেষো ভবতং সচাভুবা।। (ঋগ্বেদ-১/৩৪/১১)।
শ্রুষ্টীবানো হি দাশুষে দেবা অগ্নে বিচেতসঃ।
তান্রোহিদশ্ব গির্বণস্ত্রয়স্ত্রিংশতমা বহ।। (ঋগ্বেদ-১/৪৫/২)।
যে দেবাসো দিব্যেকাদশ স্থ পৃথিব্যা মধ্যেকাদশ স্থ।
অপ্সুক্ষিতো মহিনৈকাদশ স্থ তে দেবাসো যজ্ঞমিমং জুষধ্বম্ ।। (ঋগ্বেদ-১/১৩৯/১১)।
যে ত্রিংশতি ত্রয়স্পরো দেবাসো বর্হিরাসদন্ । বিদন্নহ দ্বিতাসনন্ ।। (ঋগ্বেদ-৮/২৮/১)।
যুবাং দেবাস্ত্রয় একাদশাসঃ সত্যাঃ সত্যস্য দদৃশে পুরস্তাৎ।
অস্মাকং যজ্ঞং সবনং জুষাণা পাতং সোমমশ্বিনা দীদ্যগ্নী।। (ঋগ্বেদ-৮/৫৭/২)।
অর্থাৎ :
হে নাসত্য অশ্বিদ্বয় ! ত্রিগুণ একাদশ (তেত্রিশ) দেবগণের সাথে মধুপানার্থে এখানে এসো, আমাদের আয়ু বর্ধন করো; পাপ খণ্ডন করো; বিদ্বেষীদের প্রতিষেধ করো; আমাদের সঙ্গে অবস্থান করো। (ঋক-১/৩৪/১১)।।  হে অগ্নি ! বিশিষ্ট প্রজ্ঞাসম্পন্ন দেবগণ হব্যদাতাকে ফলদান করেন; হে অগ্নি ! তোমার রোহিত নামক অশ্ব আছে এবং তুমি স্তুতিভাজন, তুমি সে ত্রয়স্ত্রিংশ (তেত্রিশ) দেবগণকে এ স্থানে নিয়ে এসো। (ঋক-১/৪৫/২)।।  যে দেবগণ, স্বর্গে একাদশ, পৃথিবীর উপরেও একাদশ, যখন অন্তরীক্ষে বাস করেন তখনও একাদশ, তাঁরা নিজ মহিমায় যজ্ঞ সেবা করেন। (ঋক-১/১৩৯/১১)।।  ত্রিংশতির পর তিন সংখ্যাযুক্ত (তেত্রিশ) যে দেবগণ বর্হিতে উপবেশন করেছিলেন; তাঁরা আমাদের জানুন এবং দু’প্রকার ধন প্রদান করুন। (ঋক-৮/২৮/১)।।  দেবগণের সংখ্যা ত্রয়স্ত্রিংশ, তাঁরা সত্য, তাঁরা যজ্ঞের সম্মুখে দৃষ্ট হন। হে দীপ্তমান অগ্নিবিশিষ্ট অশ্বিদ্বয় ! তোমরা আমার এ সোম যজ্ঞে উপস্থিত হয়ে পান কর। (ঋক-৮/৫৭/২)।।


আবার ঋগ্বেদের অন্য ঋকে দেবসংখ্যা আরো কম দেখা যায়। যেমন ঋগ্বেদের একটি অত্যন্ত অর্বাচীন ঋকে মাত্র তিন দেবতার স্তুতি করা হয়েছে–

সূর্যো নো দিবস্পাতু বাতো অন্তরিক্ষাৎ। অগ্নির্নঃ পার্থিবেভ্যঃ।। (ঋগ্বেদ-১০/১৫৮/১)।
অর্থাৎ :
সূর্য আমাদের স্বর্গের উপদ্রব হতে, বায়ু আকাশের উপদ্রব হতে এবং অগ্নি পৃথিবীর উপদ্রব হতে রক্ষা করুন।


তার মানে, দ্যুলোক বা স্বর্গের দেবতা সূর্য, অন্তরীক্ষ বা আকাশের দেবতা বায়ু, পৃথিবীর দেবতা অগ্নি। আবার দৃষ্টান্তবিশেষে মনে হয় কোনো কোনো বৈদিক কবি প্রাচীনকালে বহু দেবতাকে একই দেবতার বিভিন্ন বিকাশ বলে কল্পনা করতে চেয়েছেন। যেমন–

ইন্দ্রং মিত্রং বরুমগ্নিণত্বা মাহূরথো দিবাঃ স সুপর্ণো গরুত্মান্ ।
একং সদ্বিপ্রা বহুধা বদন্ত্যগ্নিং যমং মাতরিশ্বানমাহুঃ।। (ঋগ্বেদ-১/১৬৪/৪৬)।
অর্থাৎ :
এ আদিত্যকে মেধাবীগণ ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ ও অগ্নি বলে থাকেন। ইনি স্বর্গীয়, পক্ষ বিশিষ্ট ও সুন্দর গমনশীল। ইনি এক হলেও একে বহু বলে বর্ণনা করে। একে অগ্নি, যম ও মাতরিশ্বা বলে।


পরবর্তীকালের ব্যাখ্যাকাররাও দেবসংখ্যা বিষয়ে একমত নন। নিরুক্তকার যাস্ক’র মতে দেবতা মাত্র তিনটি–

‘তিস্র এব দেবতা ইতি নৈরুক্তা। অগ্নিঃ পৃথিবী স্থানো বায়ুরিন্দ্রো বাহন্তরীক্ষ স্থানঃ সূর্যো দ্যুঃস্থান’।। (নিরুক্ত)।
অর্থাৎ : দেবতা মাত্র তিনটি। পৃথিবীলোকের দেবতা অগ্নি, আকাশ বা অন্তরীক্ষলোকের দেবতা বায়ু বা ইন্দ্র এবং স্বর্গ বা দ্যুলোকের দেবতা সূর্য।


কিন্তু ‘যাজ্ঞিক-সম্প্রদায়ে’র দাবি হলো, দেবতা আসলে অসংখ্য– তাঁদের যত নাম তত সংখ্যা। আবার ‘আত্মবিদ্’-দের মতে– ‘এক মহান আত্মাই তাঁহার অপরিমেয় ঐশ্বর্যবলে বিভিন্ন আকৃতি পরিগ্রহ করিয়া থাকেন, বিভিন্ন ভাবে স্তুত হন’, বিভিন্ন দেবদেবী একই পরমাত্মার রূপান্তরমাত্র।
তবে প্রসঙ্গত, এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, ঋগ্বেদ একজনের রচনা নয় বা এককালের রচনাও নয়। সুদীর্ঘ যুগ ধরে বহু কবি বা ঋষি এই সুবিশাল সাহিত্য রচনা করেছিলেন; যাদের সকলের দেবদেবী সংক্রান্ত ধারণা সমান নয় বা সমান ছিলো না। তাই সামগ্রিকভাবে ঋগ্বেদ সম্বন্ধে কোনো অদ্বিতীয় সিদ্ধান্তে উপনীত হবার প্রচেষ্টাও অবান্তর হবে। তবুও ঋগ্বেদের আভ্যন্তরীণ সাক্ষ্য থেকে অন্তত এ-বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, পরবর্তীকালের কবি-বিশেষের রচনায় এমনকি এক অদ্বিতীয় দেবতার আভাস থাকলেও ঋগ্বেদের প্রধানতম অংশে বহু কবি বহুভাবে বহু দেবতারই স্তুতি করেছেন। তবে এতো দেবতার মধ্যে অনেকের স্থান এতোটাই গৌণ যে, তাদেরকে স্বভাবতই প্রধান বৈদিক দেবতা বলে ভাবা অবশ্যই ভুল হবে। যেমন ঋগ্বেদে পর্বত (ঋগ্বেদ-৩/৫৪/২০), ওষধি (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/৯৭), বনস্পতি (ঋগ্বেদ-৭/৩৪/২৩, ১০/৬৪/৮), অরণ্যানী (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/১৪৬), সোম-নিষ্কাশনের পাথর (গ্রাবন্ ও অদ্রি) (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/৭৬), এবং এমনকি তীর ধনুক প্রভৃতি নানা আয়ুধও (ঋগ্বেদ-সূক্ত-৬/৭৫) দেবতা বলে স্তুত হয়েছে। এ-বিষয়ে পুরো সূক্ত উল্লেখ না করে উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি ঋকের উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে–

শৃন্বন্তু নো বৃষণঃ পর্বতাসো ধ্রুবক্ষেমাস ইলয়া মদন্তঃ।
আদিত্যৈর্নো অদিতিঃ শৃণোতু যচ্চন্তু নো মরুতঃ শর্ম ভদ্রম্ ।। (ঋগ্বেদ-৩/৫৪/২০)।
ওষধীঃ প্রতি মোদধ্বং পুষ্পবতীঃ প্রসূবরীঃ।
অশ্বা ইব সজিত্বরীর্বীরুধঃ পারয়িষ্ণ্বঃ।। (ঋগ্বেদ-১০/৯৭/৩)।
তন্নো রায়ঃ পর্বতাস্তন্ন আপস্তদ্রাতিষাচ ওষধীরুত দ্যৌঃ।
বনস্পতিভিঃ পৃথিবী সজোষা উভে রোদসী পরি পাসতো নঃ।। (ঋগ্বেদ-৭/৩৪/২৩)।
অরণ্যান্যরণ্যান্যসৌ বা প্রেব নশ্যসি।
কথা গ্রামং ন পৃচ্ছসি ন ত্বা ভীরিব বিন্দতী।। (ঋগ্বেদ-১০/১৪৬/১)।
অপ হত রক্ষসো ভঙ্গুরাবতঃ স্কভায়ত নির্ঋৃতিং সেধতামতিম্ ।
আ নো রয়িং সর্ববীরং সুনোতন দেবাব্যং ভরত শ্লোকমদ্রয়ঃ।। (ঋগ্বেদ-১০/৭৬/৪)।
ধন্বনা গা ধন্বনাজিং জয়েম ধন্বনা তীব্রাঃ সমদো জয়েম।
ধনুঃ শত্রোরপকামং কৃণোতি ধন্বনা সর্বাঃ প্রদিশো জয়েম।। (ঋগ্বেদ-৬/৭৫/২)।
অর্থাৎ :
অভীষ্টবর্ষী মরুৎগণ এবং নিশ্চল পর্বতগণ হব্যদ্বারা হৃষ্ট হয়ে আমাদের স্তুতি শুনুন। আদিত্যগণের সাথে অদিতি আমাদের স্তুতি শুনুন। আমাদের কল্যাণকর সুখ দান করুন। (ঋক-৩/৫৪/২০)।।  হে পুষ্পবতী ফলপ্রসবকারিণী ওষধিগণ ! তোমরা রোগীর প্রতি সন্তুষ্ট হও। তোমরা ঘোটকের ন্যায় জয়শীল মৃত্তিকাতে জন্ম গ্রহণ করো, রোগীকে রক্ষা করো। (ঋক-১০/৯৭/৩)।।  পর্বতগণ আমাদের সে ধন পালন করুন। জল সকল আমাদের সে ধন পালন করুন। দানদক্ষা দেবপত্নীগণ তা পালন করুন। ওষধিগণ ও দ্যুলোক পালন করুন। বনস্পতিগণের সাথে অন্তরীক্ষ তা পালন করুন। দ্যাবাপৃথিবী আমাদের রক্ষা করুন। (ঋক-৭/৩৪/২৩)।।  হে অরণ্যানি ! তুমি যেন দেখতে দেখতে অন্তর্হিত হয়ে যাও। তুমি কেন গ্রামে যাবার পথ জিজ্ঞাসা করো না? তোমার কি একাকী থাকতে ভয় হয় না? (ঋক-১০/১৪৬/১)।।  হে প্রস্তরগণ ! কর্মবিঘ্নকারী রাক্ষসাদিকে নষ্ট করো, নির্ঋতিকে রুদ্ধ করো, দুর্মতি দূর করো, আমাদের ধন ও জন সম্পাদন করে দাও। দেবতাদের প্রীতিকর শ্লোকের স্ফূর্তি করে দাও। (ঋক-১০/৭৬/৪)।।  আমরা ধনুদ্বারা গাভী জয় করবো, ধনুদ্বারা যুদ্ধ জয় করবো, ধনুদ্বারা তীব্র মদোন্মত্ত শত্রুসেনা বধ করবো। ধনু শত্রুর কামনা নষ্ট করুক, আমরা ধনুদ্বারা সকল দিক জয় করবো। (ঋক-৬/৭৫/২)।।


অথর্ববেদের (অথর্ব-১১/৭) এক অত্যদ্ভূত দেবতার নাম উচ্ছিষ্ট। আবার ঋগ্বেদের শেষ পর্যায়ে একদিকে শ্রদ্ধা (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/১৫১), জ্ঞান (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/৭১) প্রভৃতি অমূর্ত ধারণাও দেবতা বলে স্তুত এবং অন্যদিকে গর্ভরক্ষণ (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/১৬২), যক্ষ্মারোগ-নাশ (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/১৬৩), দুঃস্বপ্ন-নাশ (ঋগ্বেদ-সূক্ত-১০/১৬৪) প্রভৃতি দৈনন্দিন পার্থিব কামনাও দেবতা বলে কল্পিত। যেমন–

প্রিয়ং শ্রদ্ধে দদতঃ প্রিয়ং শ্রদ্ধে দিদাসতঃ।
প্রিয়ং ভোজেষু যজস্বিদং ন উদিতং কৃধি।। (ঋগ্বেদ-১০/১৫১/২)।
হ্রদা তষ্টেষু মনসো জবেষু যৎ-ব্রাহ্মণাঃ সংর্যজন্তে সখায়ঃ।
অত্রাহ ত্বং বি জহুর্বেদ্যাভিরোহব্রহ্মাণো বি চরন্তু ত্বে।। (ঋগ্বেদ-১০/৭১/৮)।
যস্তে গর্ভমমীবা দুর্ণামা যোনিমাশয়ে।
অগ্নিষ্টং ব্রহ্মণা সহ নিষ্ক্রব্যাদমনীনশৎ।। (ঋগ্বেদ-১০/১৬২/২)।
অঙ্গাদঙ্গাল্লোম্নো লোম্নো জাতং পর্বণি পর্বণি।
যক্ষাং সর্বস্মাদাত্মনস্তমিদং বি বৃহামি তে।। (ঋগ্বেদ-১০/১৬৩/৬)।
অপেহি মনসম্পতেহপ ক্রাম পরশ্চর।
পরো নির্ঋৃত্যা আ চক্ষ্ববহুধা জীবতো মনঃ।। (ঋগ্বেদ-১০/১৬৪/১)।
অর্থাৎ :
হে শ্রদ্ধা ! যে দান করে তুমি তার প্রিয়কার্যের অনুষ্ঠান করো, যে দান করতে ইচ্ছা করেছে, তাকেও সন্তুষ্ট করো। যারা ভোজন করায়, যজ্ঞ করে, তারা প্রীতি লাভ করুক। হে শ্রদ্ধা ! আমার এ কথাটি রক্ষা করো। (ঋক-১০/১৫১/২)।।  যখন অনেক স্তোতা একত্র হয়ে মনের ভাব সমস্ত হৃদয়ে আলোচনা পূর্বক অবধারিত করতে প্রবৃত্ত হন তখন কোন কোন ব্যক্তির কিছুই জ্ঞান জন্মে না। কেউ কেউ স্তোত্রজ্ঞ বলে পরিচিত হয়ে সর্বত্র বিচরণ করেন। (ঋক-১০/৭১/৮)।।
হে নারি ! যে মাংসভোজী রাক্ষস অথবা যে রোগ বা উপদ্রব তোমার যোনি আক্রমণ করে, রাক্ষসনিধনকারী অগ্নি স্তোত্রের সাথে মিলিত হয়ে সে সমস্ত বিনাশ করুন। (ঋক-১০/১৬২/২)।।  প্রত্যেক অঙ্গ, প্রত্যেক লোম, শরীরের প্রত্যেক সন্ধি স্থান, তোমার সর্বাঙ্গের মধ্যে যে কোন স্থানে যক্ষ্মা-ব্যাধি জন্মেছে, আমি তথা হতে তাকে তাড়াচ্ছি। (ঋক-১০/১৬৩/৬)।।  হে দুঃস্বপ্নদেবতা ! তুমি মনকে অধিকার করেছো; তুমি সরে যাও, পালাও, দূর স্থানে গিয়ে বিচরণ করো। অতিদূরে যে নির্ঋতি দেবতা আছেন, তাঁকে গিয়ে বলো, যে জীবিত ব্যক্তির বিস্তর মনোরথ অতএব তিনি কেন মনোরথ ভঙ্গ করেন। (ঋক-১০/১৬৪/১)।।


অতএব দেবজ্ঞানে এসব প্রাকৃতিক বিষয়ের স্তুতি থাকলেও স্বভাবতই প্রধান বৈদিক দেবতা বললে এদের কথা ভাবা খুবই ভুল হবে। এক্ষেত্রে প্রাচীন আচার্যদের শ্রেণীবিভাগ অনুসরণ করেই আধুনিক বিদ্বান-গবেষকরা ঋগ্বেদের প্রধান দেবতাদের তিন ভাগে ভাগ করেছেন–  (ক) দ্যুলোক বা স্বর্গের দেবতা, (খ) অন্তরীক্ষ বা আকাশের দেবতা এবং (গ) পৃথিবীর দেবতা।

এখানে বলে রাখা আবশ্যক, বৈদিক সমাজের স্বরূপ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘ভারতীয় দর্শন’ গ্রন্থে বৈদিক সাহিত্যের বেশ কিছু তথ্য নির্দেশসহ বৈদিক দেবতাদের বৈশিষ্ট্য নির্ণয়ে আকর্ষণীয় পর্যালোচনা করেছেন। বর্তমান বৈদিক দেবতা সম্পর্কিত আলোচনার ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর ধারা অনুসরণ বিষয় পর্যালোচনায় অনেকটা সহায়ক হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আমরা সে-চেষ্টাও করবো।

(চলবে…)
[ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত]

[আগের পর্ব : বৈদিক সাহিত্যে পার্থিব সম্পদের কামনা] [*] [পরের পর্ব : দ্যুলোক বা স্বর্গের দেবতা]

[ চার্বাকের খোঁজে অধ্যায়সূচি ]

Advertisements

1 Response to "|আর্য-সংস্কৃতি ও বৈদিক-যুগ-১০ : বৈদিক দেবতা|"

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 440,961 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 124 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

জুলাই 2015
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« জুন   আগস্ট »
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

  • গ্রন্থ : ইয়োগা (স্বাস্থ্য ও যৌগিক ব্যায়াম, রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৯)... https://t.co/SpIL5tcLTi 4 months ago
  • ছবি : একান্নবর্তী সংসারের নতুন-পুরনো সদস্যরা... https://t.co/7HJBdUekkd 1 year ago
  • গ্রন্থ : টিপলু (কিশোর গল্প, দ্যু প্রকাশন, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/zID65r8q97 1 year ago
  • গ্রন্থ : ছড়া-কবিতার ঝুল-বারান্দায় (ছোট কবিতা প্রকাশন, জানুয়ারি-২০১৮) https://t.co/Goy6tNtWr0 1 year ago
  • গ্রন্থ : নাস্তিক্য ও বিবিধ প্রসঙ্গ (রোদেলা প্রকাশনী, ফেব্রুয়ারি-২০১৮) https://t.co/ECvpDneHSe 1 year ago
Protected by Copyscape Web Plagiarism Check

Flickr Photos

Advertisements
%d bloggers like this: