h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

| আলগা প্যাঁচাল-০৪ | চিত্তবাবু জানেন…|

Posted on: 18/10/2011



| আলগা প্যাঁচাল-০৪ | চিত্তবাবু জানেন…|
-রণদীপম বসু

ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে জগন্নাথ হলে এলাম বাদাইম্যা স্বভাবের তাড়নায়। শারদীয় উৎসবের আগের সপ্তার ঘটনা। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছিলাম যে শিববাড়ি নামে পরিচিত হেরিটেজ মর্যাদার পুরনো স্থাপনাটা এখানে কোথাও ঘাপটি মেরে আছে ! কিন্তু সূত্রটা যে আসলে ততটা বিশ্বস্ত নয়, অচিরেই বুঝা গেলো এদিকওদিক উঁকিঝুকি মেরে কোথাও না পেয়ে একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করতেই। ছাত্রটি তর্জনি নির্দেশে শিববাড়ির অবস্থান যেদিকে দেখালো সেদিকে বেরোনোর গেট ছাড়া আর কিছুই দেখলাম না ! তর্জনি আকিয়ে বাঁকিয়ে সে বললো এদিকে গিয়ে ওদিকে যেয়ে সেদিকে যাবেন। কি আর করা ! তথৈবচঃ !
 .
গেট পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে স্থানীয় গোছের একজন পথিককে শিববাড়ির ঠিকানা জানেন কিনা জিজ্ঞেস করতেই তিনি উল্টো প্রশ্ন করলেন- শিববাড়ি কোথায় যাবেন ?
বললাম, শিববাড়িই।
কার কাছে ?
কাঁধে ব্যাগ, হাতে ক্যামেরা, দুপুরের কটকটে রোদে উস্কুখুস্কু দাঁড়িগোফে ঘেমেনেয়ে একাকার আমার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাতেই উত্তরে যোগ করলাম- তা তো জানি না !
এমন উত্তরে এক ঝলক আমার দিকে ফের তাকিয়ে কী বুঝলো কে জানে, বললো- আসেন আমার সাথে।
হয়তো ভেবে থাকতে পারে, নিশ্চয়ই সিস্টেমে গণ্ডগোল আছে, একা ছেড়ে দেয়া যায় না !
.
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চওড়া ফুটপাথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে সামনে ফুটপাথে শুয়ে থাকা আমার মতোই দাঁড়িগোফে একাকার অপাঙক্তেয় মনুষ্য জীবটির দিকে ক্যামেরা তাক করে ক্লিক করতেই আবার জিজ্ঞেস করলো- আপনি কি সাংবাদিক ?
নিগেটিভ ইঙ্গিতে দু’পাশে মাথা নাড়তেই নিশ্চিত হয়ে গেলো গণ্ডগোল অবশ্যই আছে। নইলে হরহামেশার এমন সাধারণ দৃশ্যের আবার ছবি তোলে নাকি কেউ ! দেখে তো ভিনগ্রহের বলেও মনে হয় না !
 .
মোড় ঘুরে আরেকটু আগাতেই স্বাভাবিক আবহের সাথে ব্যতিক্রমভাবে কটকটে লাল বা কড়া খয়েরি রঙের দেয়াল আর উঁচু চূড়াসহ গোটা মন্দির স্থাপনাটাকে আলাদাভাবে আর চিনিয়ে দেয়ার দরকার হয় না। নিজেই থেকেই বললাম- এটাই শিববাড়ি ?
হাঁ।
আচ্ছা, এই শিববাড়ির ইতিহাসটা জানার কোন উপায় আছে ?
ভেতরে ঢুকলেই ওখানে লোক আছে, তারা বলতে পারবে। আমি ওইদিকে থাকি, বলেই লোকটি চলে গেলো।
.
.
দেয়ালের গায়ে সিমেন্ট খোদাই লেখাটা সহজেই চোখে পড়ে- ‘শ্রী শ্রী বুড়াশিব ধাম’। জুতা খোলে খালি পায়ের নির্দেশনা মেনে ভেতরে ঢুকলাম। বেশ কয়েকটা ঝকঝকে তকতকে কক্ষ, এদিক সেদিক দুয়েকজনকে মোজাইক বাধানো চকচকে মেঝেতে বিশ্রামের শিথিল মেজাজে বসে থাকতে দেখা গেলো। অপরিসর সরু পেসেজ দিয়ে এগিয়ে প্রান্তবর্তি কক্ষের দিকে এগিয়ে গেলাম। এলিয়ে বসা এক মধ্যবয়েসি ভদ্রলোক একটি তরুণ যুগলকে উপদেশ দানে ব্যস্ত ছিলেন হয়তো। আমাকে দেখেও নির্বিকার তাঁকে নিজের পরিচয় দিয়ে শিববাড়ির ইতিহাস জানার আগ্রহ দেখাতেই তিনি নড়েচড়ে বসে আমার ভিজিটিং কার্ডটা উল্টেপাল্টে খুটিয়ে দেখতে লাগলেন।  হয়তো কৌতুহল নিবৃত্ত হয়নি। তাই একটা নিস্পৃহ ভঙ্গিতে বললেন- ‘আগে অনেক জায়গা ছিলো, এখন এর অনেকটাই দখল হয়ে গেছে। আপনি ওইদিকে যান, চিত্তবাবু আছেন, তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বলতে পারবেন।’ বলেই আমি যেদিক থেকে এসেছিলাম তিনি সেই দিকটাই দেখিয়ে দিলেন।
 .
.
তাঁকে দ্বিতীয় কোন প্রশ্ন না করে আমি কক্ষ থেকে বেরিয়ে ঠিক উল্টো কাজটি করলাম। মন্দিরের ভেতর এলাকার খোলা ফাঁকা স্বল্পপরিসর লনটাতে গিয়ে যতটুকু সম্ভব টপাটপ মন্দিরের কিছু ছবি তুলে নিলাম। কিন্তু লনটা এতো ছোট যে কোনভাবেই গোটা মন্দিরের ছবি এক শটে আঁটানো সম্ভব নয়। খণ্ড খণ্ড ছবি নিয়ে এরপর চিত্তবাবুর খোঁজে মন্দিরে প্রবেশের গেটের দিকে ফিরতে ফিরতে মাঝখানের বড় কক্ষটিতে স্থাপিত সাধু-সন্তের পোর্ট্রেটের ছবিও নিলাম বাইরে থেকে। গেটের কাছে ফিরেই মেঝেতে বসা দু’জনের মধ্যে সম্ভ্রান্ত গোছের ভদ্রলোককেই চিত্তবাবু ধারণা করে অত্যন্ত নিষ্টার সাথে নমস্কার জানিয়ে বললাম- আপনি কি চিত্ত বাবু ?
পুরোহিত টাইপের দ্বিতীয় ব্যক্তিটি জবাব দিলো- না, আপনি কাকে চান ?
আমি তো চিত্তবাবুকেই চাইছি, তিনি নাকি শিববাড়ির ইতিহাস জানেন !
তিনি এখন নেই। আপনার পরিচয় ?
পুনরায় নতুন করে পরিচয়পর্ব সেরে বললাম- আচ্ছা, এই শিববাড়ির ইতিহাস জানার মতো বুকলেট বা পুস্তিকা জাতীয় কিছু কি আছে ?
আছে, তবে তাও ওনার কাছেই। তিনি সন্ধ্যায় আসবেন, আপনি সন্ধ্যায় আসেন।
 .
.
তখন দুপুর গড়াচ্ছে কেবল, সন্ধ্যা মানে তো ছ’সাত ঘণ্টার ব্যাপার ! এদিকে হাঁটার ক্লান্তিতে পেট চোঁ চোঁ করছে। তারপরও কেন যেন মনে হলো, সামনে থাকলেও যেহেতু চিত্তবাবুকে চিনি না, তাই সন্ধ্যায় আসলেও চিত্তবাবুর আগমন নিশ্চিত পরের দিনে পিছিয়ে যাবে। তাই বললাম, আপনারা কি এ ব্যাপারে কিছু ধারণা দিতে পারবেন ?
নির্বিকার ভদ্রলোকটি কিছু তো বললেনই না, পুরোহিত লোকটিও মনে হয় আমাকে খুব একটা পাত্তা না দিয়েই পুনরাবৃত্তি করলেন- ‘আপনি সন্ধ্যায় আসেন !’
.
বুঝে গেলাম, আর কেউ না জানলেও ক্ষতি নেই, কেননা শিববাড়ির ইতিহাস চিত্তবাবু জানেন।
(১৭-১০-২০১১)
Advertisements

1 Response to "| আলগা প্যাঁচাল-০৪ | চিত্তবাবু জানেন…|"

এইসব দরকারি প্যাঁচাল চলুক। (Y)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 193,201 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 77 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অক্টোবর 2011
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« সেপ্টে.   নভে. »
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check
%d bloggers like this: