h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

| এটাই কি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা !

Posted on: 04/08/2011


.
| এটাই কি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা !
-রণদীপম বসু
রমজান (ramadan) মাসে আমাদের দেশে অফিস-আদালতগুলোতে লাঞ্চ-বিরতি হয় না। সে কারণে অফিসের নিজস্ব ক্যান্টিনগুলোও বন্ধ থাকে এই এক মাস। তাতে অবশ্য অমুসলিমদের জন্য খুব একটা সমস্যা হয় না এজন্যে যে, দুপুরের খাবারটা সাথে নিয়ে আসতে পারেন তাঁরা। নামাজের বিরতির সময়টাতে নিরিবিলি লাঞ্চটা সেরে নিতে পারেন। এতে অফিসের কোন আপত্তি থাকে না, বরং অন্য যে-কোন সময়ের চেয়ে অমুসলিমদের প্রতি অফিস সহকর্মিদের সহানুভূতি একটু বেশিই লক্ষ্য করা যায় তখন। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই এটা একটা শুভ লক্ষণ।
 .
আর এই শুভবোধকে সম্মান জানিয়েই অমুসলিম সহকর্মিরাও, যাঁরা নিয়মিত কেন্টিনেই লাঞ্চ করতেন বা যাঁরা সাথে খাবার নিয়ে আসতেন, এই রমজান মাসটাতে দেখা যায় এরা দুপুরের খাবার নিয়ে আসেন না, অন্তত আমার অফিসের ক্ষেত্রে যা দেখেছি এবং দেখছি। সহকর্মিদের রোজার আবহের মধ্যে থেকে খাবার গ্রহণে অনেকে হয়তো নিজে নিজে বিব্রতও বোধ করেন। তারচে বরং রমজানের সংক্ষিপ্ত অফিস-টাইম শেষে বিলম্বে হলেও একবারে বাসায় গিয়ে খাওয়ার কথাই ভাবেন এরা। তাই দুপুরের নামাজ-বিরতিতে অফিসের আশেপাশে কোন পর্দাঘেরা দোকানে হালকা নাস্তা করে নেয়াটাই তাঁদের কাছে সাচ্ছন্দ্যের মনে হয়।
 .
ঠিক এরকম একটা পরিস্থিতিতে আজ অফিস থেকে বেরিয়ে পাশের টং-দোকানটার দিকে এগিয়ে যেতেই এক বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হলো। প্রৌঢ় দোকানদারটির কোন ওজর-আপত্তি না-শুনেই পুলিশ সদস্যটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে নাকি ধরে নিয়ে যাচ্ছে তাঁকে। দীর্ঘদিনের এই টং-ব্যবসায়ী মিতভাষী লোকটির প্রতি পুলিশের এই রূঢ় আচরণে যারপর নাই বিস্মিত হলাম ! ক’বছর যাবৎ দেখছি তাঁকে। নিজে রোজা রাখেন পুরোপুরি। এই টং-দোকানে চা-পান-বিড়ি-সিগারেট আর রুটি-কলা-বিস্কুট বিক্রিই তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস। এর উপর ভিত্তি করেই কুষ্টিয়া থেকে মাইগ্রেট হওয়া লোকটি এই জন-পরিজনহীন ঢাকায় পরিবার নিয়ে বাস করেন। রমজান মাস এলে টং-দোকানটিকে ঘিরে বেশ ক’টি পর্দা ঝুলিয়ে নিরঙ্কুশ আড়াল তৈরি করে আমাদের জন্য চা-বিস্কুটের ব্যবস্থা রাখেন তিনি। অথচ তাঁকে কখনোই রোজা ভাঙতে দেখিনি আমরা।
 .
কিন্তু ঐ দোকানি রোজা রাখলেন কি রাখলেন না, আমার বক্তব্য তা নয়। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, এই পুলিশি অ্যাকশান কি রমজানের পবিত্রতা রক্ষার জন্য ? যদি তা-ই হয়, তাহলে আমি জানতে চাই- রমজানের পবিত্রতা মানে কী ? এই দোকানটির মধ্যে আর যাঁরা নাস্তারত ছিলেন, ঠিক সে অবস্থায় তাঁদেরকে অপ্রস্তুত ও বিব্রত করার অধিকার এই কর্তব্যরত (?) পুলিশকে কে দিলো ? রাষ্ট্র কি এমন কোন এলান জারি করেছে যে, এই রমজান মাসে কোন অমুসলিম নাগরিক কোন পর্দাঘেরা দোকানেও কোন খাবার খেতে পারবে না ? এরকম অভব্য একটি কাজ করার আগে ঐ পুলিশ সদস্য বা কর্মকর্তা কি ভেবে দেখার প্রয়োজন বোধ করলেন না, ওখানে তখন যাঁরা নাস্তারত ছিলেন, তাঁরা শিক্ষা-দীক্ষায় সম্মানে-পদে-রুচিতে তাঁদের চেয়ে কোন অংশে কম নন, বরং অনেক বেশিই হতে পারেন ? যাঁদের ভাবনায় এই বোধ কাজ করে না, তাঁরা নিজেদেরকে জনগণের সেবক হিসেবে দাবি করার আগে দয়া করে আরেকবার ভেবে দেখবেন কি, কোন্ যোগ্যতায় তাঁরা রাষ্ট্র-প্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ পোশাকটি গায়ে চাপাচ্ছেন ?
 .
.
অফিস শেষে ফেরার সময় দেখি সেই দোকানটি আবারো যথারীতি চলছে। পর্দার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখলাম সেই দোকানির বিষণ্ন মুখ। থানার পবিত্রতা থেকে ঘুরে আসায় এবার রমজানের পবিত্রতাও রক্ষা পেয়ে গেছে মনে হয় !
 .
ইসলাম স্বীকৃত সংযমের মাস রমজান এলেই প্রতিবারেই এরকম কিছু হুলুস্থূল কাণ্ড দেখতে হয় খাবারের দোকানগুলো নিয়ে। কোথাও হুজুরদের মিছিল, কোথাও ত্রাহি-ত্রাহি মাইকিং, কোথাও পুলিশের অতি-আগ্রহ ইত্যাদি। রীতিমতো মারমুখি অবস্থা ! রমজান তো নয়, যেন একটা সর্বগ্রাসী যুদ্ধ ! আগুন লেগে যায় বাজারে। সদাই-পত্রে হাত দিলেই মূল্যের আগুনে ফোস্কা পড়ে যায় হাতে। সীমিত আয়ের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠে কিভাবে পার করবে এই রমজানের সংযমী মাস। এইসব অরাজকতা রোধ করা, নিয়ন্ত্রণ করা মনে হয় কোন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত নয়। খররৌদ্রে ক্লান্ত অবসন্ন রিক্সাচালক শ্রমিকটি কোথায় কোন্ ঘুপচিতে কিছু খেয়ে ফেলে রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করে ফেলছে তা খুঁজে বের করা যে জাতি, গোষ্ঠি বা কর্তৃপক্ষের পবিত্র দায়িত্বের অংশ হয়ে যায়, তাদের যোগ্যতা ও সাবালকত্ব নিয়েই প্রশ্ন জাগে। কারণ সাবালক মানুষকে যে সাবালক ভাবতে পারে না, তাঁর সাবালকত্ব প্রশ্নহীন নয় এটা কি তাঁরা বোঝেন ?
 .
এসব দেখেশুনে মনে আসে আমার সেইসব রোজাদার বন্ধুদের কথা, যাঁদের পাশে বসে খাবার খেলেও নির্বিকার তাঁদের সংযমে কোন সমস্যা হয় নি কখনো, এখনো হয় না। তাঁদের কি রোজা পালন হয় না ? মনে পড়ে সব মায়েদের কথা, যাঁরা পরিপূর্ণ রোজাদারী হয়েও নিজ হাতে খাইয়ে দেন তাঁর ছোট্ট সন্তানটিকে, তাঁদের রোজা কি কবুল হবে না ? ইসলাম কী বলে ?
Advertisements

4 Responses to "| এটাই কি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা !"

কোথায় যেনো পড়েছিলাম–“তুমি কানা কে কানা বলিওনা।” এটাকে আজ রূপান্তর করে বলতে হবে–“তুমি মূর্খ কে মূর্খ বলিও না, তাতে মূর্খের কিছুই আসিবে বা যাইবে না, তুমিই বরং লাঞ্ছিত হইবে।” কেননা আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রে ‘পুলিশ’ নামক এই আজিব জীব শুধুই যে মূর্খ হয় তাহাই নহে, প্রায়শই এঁরা কান্ডজ্ঞানহীন এবং বধির হইয়া থাকে। আর পবিত্রতা খায় না মাথায় দেয় উহা যদি স্মরনেই থাকিবে তো, ‘পুলিশ’ মান থাকিবে কি?

পুলিশ জনগণের বন্ধু, এই রাষ্ট্রীয় শ্লোগানের প্রতিফলনই দেখতে চাই আমরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটা পাই না বলেই আমাদের ক্ষোভগুলো এভাবে উস্কে ওঠে। নইলে আমাদের কতো বন্ধু-পরিজনই তো পুলিশ বাহিনীতে রয়েছেন !
ধন্যবাদ রিং ভাই।

“পুলিশ” হল সবচেয়ে নিরীহ পশু। তাকে যে আদেশটা দেয়া হয়, সে কিছু না ভেবে সেটাই পালন করে। তার নিজস্ব বিচার-বুদ্ধি বা বিবেচনা কিছুই থাকেনা। যদি কারো থাকে, তবে সে পুলিশে থাকতে পারেনা।

ভাই রঙতুলি, আপনার মতামতকে সম্মান জানিয়েই বলি, একটা পেশাজীবী শ্রেণীকে এভাবে সরাসরি এতোটা তীব্র অপমানকর শব্দে বিশেষিত করা কি ঠিক হয় ? কোন ব্যক্তির অপরিণামদর্শিতার জন্য নিশ্চয়ই একটা পেশাকে আমরা হেয়ভাবে পরিচিত করাতে চাই না !
বাংলাদেশ পুলিশের অনেক অর্জন আছে, আছে বন্ধুসুলভ অনেক কাজের ইতিহাসও। পুলিশে এমন কর্মকর্তাও আছেন যাঁদের রুচিবোধ, আন্তরিকতা, সর্বোপরি দায়িত্ববোধ পুলিশেরই গর্ব করার মতো। আমার এ পোস্টটি খেয়াল করে দেখবেন, পেশাটাকে আমি সম্মান দেখাচ্ছি, কেবল পেশাটির ‘জনগণের বন্ধু’ দর্শনের সাথে খাপ খায়না এমন কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত কিছু পুলিশ সদস্যের পেশাবিরোধী খামখেয়ালিপনার বিপক্ষেই বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেছি। আসলে এগুলোরই প্রতিকার হওয়া দরকার।
পেশাজীবী হিসেবে পুলিশের অনেক কষ্টও আছে, যেগুলোর খোঁজ আমরা রাখি না। সময়-সুযোগ হলে সেগুলো নিয়েও লিখবো বৈ কি। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 182,672 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 72 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

অগাষ্ট 2011
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« জুলাই   সেপ্টে. »
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check
%d bloggers like this: