h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা

| যে ডায়েরীটা…|০২|

Posted on: 14/09/2009


prokashoniblog_1209575869_1-prokashoniblog_1209574948_9-Kobita_PIC

যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…(০২)
-রণদীপম বসু


তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)

রূপা, মানুষের ভাষা এতো বেশি অক্ষম যে, তুমিই বুঝালে আমাকে। এই বুকটাতে এতো বেশি কথা জমে আছে, প্রচণ্ড ভারে ফেটে যেতে চায় ; বিশ্বাস করো, খুব কষ্ট হয়, খুব ! তাই তো ফিরে ফিরে তোমার কাছেই যেতে চাই, হালকা হবো বলে। কথার ফুলঝুরি ছোটাবো বলে, বুকের পাথরটাকে গলিয়ে ঝরণা করবো বলে। প্রচণ্ড ইচ্ছা নিয়ে যাই, তোমাকে কোলে বসিয়ে উন্মাদ আদরে আদরে যুবকের গল্প বলবো, এবং সেই মেয়েটির গল্প শুনবো, যা আমার আজো শোনা হয়নি। অথচ এমনই নিয়তি আমার, কিছুই বলা হয় না, বুকটা হঠাৎই অবরুদ্ধ হয়ে ওঠে, ভাষা অক্ষম আর কণ্ঠ নির্বাক হয়ে যায়। তোমার দিকে চেয়ে আমি কেমোন হয়ে যাই। রূপা, বিশ্বাস করো, আমি মরিয়া হয়ে ওঠি, কিছু বলতে চাই- বলিও বটে। তবে এ কথা সে কথা নয়। খেই হারিয়ে কী বলতে কী যে বলে ফেলি অসংলগ্ন, যার অর্থ আমি নিজেও বুঝি না। হয়তো এর কোন অর্থই নাই। তুমি কী মনে করো জানি না, কিন্তু যখন ফিরে আসি, মনে মনে সঙ্কোচে মরে যাই ছুঁড়ে দেয়া এসব হালকা আর অসংলগ্ন কথার জন্য। আমার জন্মান্ধ চোখকে ক্ষমা করো রূপা, সে তোমাকে, একান্ত তোমাকেই দেখতে চায় বলে এমন পলকহীন চেয়ে থাকে তোমার চোখের তারায়। সে কী দেখে, জানি না আমি। হয়তো তোমার চোখের আয়নায় নিজেকেই ফিরে ফিরে দেখে।

এবার সেই যুবকের গল্প শুনো। যুবকটি এভাবেই মেয়েটির বিষণ্ন মুখের দিকে চেয়ে থাকে অপলক। ঐ বিষণ্নতার উৎস খুঁজে বেদনায় নীল হয়ে ওঠে নিজে নিজে। তাঁর কষ্ট সে নিতে চায় বলে সে নিজের কষ্টও ছুঁড়ে দেয় ওর দিকে। মেয়েটি কিন্তু তা বুঝলো না। ভাবলে হয়তো, এ যুবক ক্ষণভঙ্গুর ; কষ্ট ধারণ করার ক্ষমতা যার নাই একেবারেই, সে কিনা যোগ্যতার বড়াই করে ? মেয়েটির মৃদু ভর্ৎসনায় সম্বিৎ ফিরে পায় সে। তাই তো ! কষ্ট সইতে না পারলে এমোন বন্ধুর পথে এসেছো কেন ? অতঃপর যুবক গুটিয়ে নেয় নিজকে এই গভীর কষ্টের এমোন হাস্যকর হালকা প্রকাশ থেকে। আর বলতে পারে না যে, মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে সে শুধু কাঁদতে চায়। শুধু কাঁদতে, গুমরে গুমরে। যেখানে কোন কথা নেই, ভাষারা নীরব, স্পর্শে ঘ্রাণে আর উপলব্ধ অনুভূতির প্রগাঢ়তায় পরস্পর জারিত হয়ে চিনে নেবে একে অন্যকে। পৃথিবীর সব ভাষা নুয়ে পড়ে জানাবে তাদের অনন্ত কৃতজ্ঞতা।

না রূপা, থাক ওই যুবকের গল্প। এটা বলে যাওয়া সত্যি কঠিন। যেখানে ভাষারা নতজানু, সেখানে বুঝে নেয়া ছাড়া অন্য কোন পথ কি আর খোলা থাকে ? বলতে যাওয়া বা শুনতে চাওয়া যে তার প্রতি অবিচারই হবে, হয়তো মেয়েটির প্রতিও তাই।

আচ্ছা রূপা বলবে কি, মেয়েটির ওই কষ্টের উৎস কোথায় ? তাঁর গল্প তো তুমিই জানো। তাঁর কষ্ট কি এই যুবক ? না কি অন্য কিছু ? চেহারায় আড়ম্বরে কোনভাবেই যার কোন সমৃদ্ধি নেই, তাকে কেনই বা এই মেয়ে তাঁর নিজের কষ্ট বানাতে যাবে ? নিজের মধ্যে কোন সুন্দর কিছু আদৌ আছে কি না যুবক জানে না। জানে শুধুই এটুকুই, মেয়েটির সমস্ত সুন্দরের আলোকে সে আলোকিত। তাইতো তার চোখে সে মেয়ে কোন মেয়ে নয়, কেবলই কুয়াশা। হয়তোবা জ্বলতে থাকা এক নিঃসঙ্গ মঙ্গল-দীপ !

[০১][*][০৩]

[somewherein]

Advertisements
ট্যাগ সমুহঃ

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

রণদীপম বসু


‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।...’
.
.
.
(C) Ranadipam Basu

Blog Stats

  • 205,464 hits

Enter your email address to subscribe to this blog and receive notifications of new posts by email.

Join 85 other followers

Follow h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা on WordPress.com

কৃতকর্ম

সিঁড়িঘর

দিনপঞ্জি

সেপ্টেম্বর 2009
রবি সোম বুধ বৃহ. শু. শনি
« আগস্ট   অক্টো. »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

Bangladesh Genocide

1971 Bangladesh Genocide Archive

War Crimes Strategy Forum

লাইভ ট্রাফিক

ক’জন দেখছেন ?

bob-contest

Blogbox
Average rating:

Create your own Blogbox!

হরপ্পা কাউন্টার

Add to Technorati Favorites

গুগল-সূচক

টুইট

Protected by Copyscape Web Plagiarism Check
%d bloggers like this: